Tag: অন্তর্বর্তী সরকার

  • স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্পে অন্তর্বর্তী সরকার : বললেন প্রধান উপদেষ্টা

    স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্পে অন্তর্বর্তী সরকার : বললেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    রবিবার ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস: লেটস ব্রেক ইট ডাউন’—এই প্রতিপাদ্য হেপাটাইটিস নির্মূলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।”

    তিনি আরও বলেন, দেশে লিভার রোগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা, চিকিৎসা নিতে বিলম্ব এবং নানা সামাজিক কুসংস্কার দায়ী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪.৪ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস-বি এবং ০.৬ শতাংশ হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত।

    প্রতিবছর হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তবে এই রোগগুলো প্রতিরোধযোগ্য। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এসব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে হাসপাতালের মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনলাইন ও মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষের সমন্বিত প্রয়াসই এই লক্ষ্য অর্জনের চাবিকাঠি হবে বলে মনে করেন তিনি।

    হেপাটাইটিসকে নীরব ঘাতক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ রোগ মোকাবেলায় শুধু সরকার নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। তিনি গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করে তার বার্তা শেষ করেন।

  • নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার সংগঠিত হচ্ছে এবং ক্ষমতা ফিরে পেতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তার আহ্বান—আর বিলম্ব নয়, দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

    শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের যে রূপ আমরা অতীতে দেখেছি, সেটি আবার ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের রুখে দিতে হলে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।”

    মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারাই এখন রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়। তারা ক্ষমতার লোভে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভয়ংকর আকার নিচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমরা সংস্কারের কথা বলেছি, প্রস্তাবও দিয়েছি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। আর এই দায়িত্ব এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।”

    ফখরুল বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। যদি হাতছাড়া হয়, তবে দেশ আবার অনেক পিছিয়ে যাবে। প্রতিবার আন্দোলনে তরুণদের প্রাণ যাবে, সেটি হতে দেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন ও আত্মত্যাগে প্রস্তুত।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে যারা আছেন, তারা যেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন ব্যবস্থার রূপরেখা দেন। সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে, যেন কোনোভাবেই আর ফ্যাসিবাদের কাছে দেশকে ছেড়ে না দিতে হয়।”

  • গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, হয়ে যাচ্ছে মবতন্ত্র: নয়াপল্টনে সালাহউদ্দিনের হুঁশিয়ারি

    গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, হয়ে যাচ্ছে মবতন্ত্র: নয়াপল্টনে সালাহউদ্দিনের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  “আমরা ডেমোক্রেসি চেয়েছিলাম, কিন্তু দেশে যেন এখন মবক্রেসি চলছে”—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, “জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজ তা ভেঙে পড়ছে। সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতায় গোটা দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক অরাজক পরিস্থিতি।”

    তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরও আমরা আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু এখন সেই গণআন্দোলনের শক্তিকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে দমন করা হচ্ছে।”

    সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চক্রান্ত করছে, তাদের যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় মদত না দেওয়া হয়। সময় এসেছে প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে ফেরার।”

    এই বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    নয়াপল্টনের রাজপথে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীরা হাতে পোস্টার, ব্যানার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো ঘুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফিরে আসে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের মন্তব্য ও আন্দোলন আগাম দিনগুলোতে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই সমালোচনার কী ধরনের জবাব দেয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে রক্ষা করা হয়।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি

    গোপালগঞ্জে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আজ বুধবার রাত ৮টা থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার পুরো এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যায় প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে এবং জনসাধারণের চলাচলে থাকবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) এর পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ, হামলা ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ।

    কারফিউ চলাকালীন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।

    এর আগে এনসিপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকরা আক্রান্ত হন এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

    এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘গোপালগঞ্জে সংঘটিত হামলা ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তরুণদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করা তাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।’’

    সরকার আরও জানায়, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে এবং এ ধরনের সহিংসতা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার।


    👉 গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি প্রশাসনের নজরদারিতে। কারফিউ চলাকালীন নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না: কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

    গোপালগঞ্জে সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না: কড়া বার্তা অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দেওয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। হামলাকারীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, “গোপালগঞ্জে আজ যে সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তরুণ নাগরিকদের একটি শান্তিপূর্ণ বার্ষিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা, তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হামলা চালানো, এটি শুধু মৌলিক অধিকার হরণ নয়, বরং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর সরাসরি আঘাত।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির সদস্যরা ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সরাসরি আক্রমণ চালায়।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “হামলাকারীদের অনেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”

    সরকার সেনাবাহিনী ও পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছে, “এই সহিংসতা থামাতে যেভাবে বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, তা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি সেই সাহসী তরুণদেরও অভিনন্দন জানাই যারা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তাদের বার্ষিক কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে।”

    সবশেষে বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। আইন নিজের পথে চলবে এবং অপরাধীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য উপযুক্ত শাস্তি পাবেই।”

  • সরকারই বলুক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত迟 কেন: প্রশ্ন তারেক রহমানের

    সরকারই বলুক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত迟 কেন: প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন—এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে।” শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জুলাই মাসে সংঘটিত অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এ সভায় তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আমরা বারবার বলেছি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন হয়নি, সেটা সরকার ব্যাখ্যা করুক।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “যেসব ইস্যুর কোনো ভিত্তি নেই, সেগুলোকে ঘিরেই এখন অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভেতরেও আগের সরকারের দোসররা রয়ে গেছে, যারা এখনো নানা বাধা সৃষ্টি করছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যারা ব্যাহত করতে চায়, তাদের একটি অদৃশ্য চক্র সক্রিয় রয়েছে। কারা এই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলছে—আমরা জানি, জনগণও জানে।”

    তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে দায়িত্ব আপনাদের দেওয়া হয়েছে, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের বিচার—এগুলো কোনো দলের নয়, গোটা দেশের স্বার্থের প্রশ্ন।”

    সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নিহতদের স্বজন ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সকলে দ্রুত বিচারের দাবি জানান এবং সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • রাজা চার্লসের সঙ্গে মুখোমুখি অধ্যাপক ইউনূস, বাকিংহাম প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে রাজপ্রাসাদে আলোচনার ঝলক

    রাজা চার্লসের সঙ্গে মুখোমুখি অধ্যাপক ইউনূস, বাকিংহাম প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে রাজপ্রাসাদে আলোচনার ঝলক

    এবিএনএ:

    ব্রিটেন সফরের সময় ঐতিহাসিক এক সৌজন্য সাক্ষাৎ হলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসে।

    সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিশেষ মুহূর্তের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে রাজা চার্লস ও অধ্যাপক ইউনূসকে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপে মগ্ন দেখা যাচ্ছে।

    বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছালে রাজা চার্লস নিজেই অধ্যাপক ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানান। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য নির্মূল এবং পৃথিবীকে টেকসইভাবে রক্ষা করার জন্য ড. ইউনূসের ‘তিন শূন্যের’ আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, রাজা চার্লস বহুদিন ধরেই অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে আসছেন। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম হোক কিংবা সমাজকল্যাণে সামাজিক উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই ব্রিটিশ রাজা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি আরও জানান, রাজা চার্লস এক সময় ড. ইউনূসের একটি গ্রন্থের ভূমিকাও লিখেছিলেন, যা দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির মনের মিল ও মূল্যবোধের অভিন্নতার প্রমাণ।

    এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শুধু দুই দেশের বন্ধুত্বের ইঙ্গিত নয়, বরং বিশ্বব্যাপী শান্তি, মানবতা ও টেকসই উন্নয়নের দিশাও দেখায়।

  • ২০২৬ সালের এপ্রিলেই জাতীয় নির্বাচন! জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার বড় ঘোষণা

    ২০২৬ সালের এপ্রিলেই জাতীয় নির্বাচন! জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার বড় ঘোষণা

    এবিএনএ:

    জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় জানালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি। ভাষণের শুরুতেই তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং সকল বয়সের নাগরিকের প্রতি শুভকামনা প্রকাশ করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জনগণের জানার অধিকার রয়েছে যে নির্বাচন কবে হবে। আমরা ইতোমধ্যেই বলেছিলাম ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬–এর মধ্যে নির্বাচন হবে। আজ জানাতে চাই, নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমভাগে অনুষ্ঠিত হবে।”

    তিনি বলেন, বিগত ইতিহাস প্রমাণ করে, দেশে প্রতিটি বড় রাজনৈতিক সংকটের মূল ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন। এই ধরনের প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা দখলের ফলেই দেশে ফ্যাসিবাদ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন মাথাচাড়া দেয়। তাই একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ভবিষ্যতের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে জনগণের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে।”

    তিনি আরও জানান, বিচার, সংস্কার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ম্যান্ডেট নিয়েই তারা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে সর্বোচ্চ ভোটার ও প্রার্থীর অংশগ্রহণ থাকবে এবং যা জাতির জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। নির্বাচন কমিশন শিগগিরই রোডম্যাপ প্রকাশ করবে।”

  • ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং এর পরে সময়ক্ষেপণের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধান সংশোধন ছাড়া যেসব নির্বাচন-সম্পর্কিত সংস্কার দরকার, তা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই বাস্তবায়নযোগ্য। তাই জাতীয় নির্বাচন পেছানোর মতো কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন কোনো সংস্কার দেখছি না যা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে না। বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই ডিসেম্বরের মধ্যেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আমাদের প্রস্তাবও সেটাই।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন জানান, “আজকের আলোচনায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়। প্রধান উপদেষ্টা সেই প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে আশাবাদী।”

    জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব দলে সব বিষয়ে একমত হওয়া নাও হতে পারে, সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং ধীরে ধীরে একটি ব্যাপক ভিত্তির ঐক্য তৈরি করা সম্ভব হবে।”

    বিএনপি প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আজাদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।


  • আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে: টোকিওতে প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার

    আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে: টোকিওতে প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ,টোকিও, জাপান:


    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের জুনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    ড. ইউনূস বলেন, “কোনো ধরনের অজুহাত বা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আগামী জুনের মধ্যেই দেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এ লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নির্বাচন প্রস্তুতিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।”

    তিনি আরও জানান, “আমাদের তিনটি অগ্রাধিকার—সংবিধানসম্মত সংস্কার, বিচারহীনতার অবসান এবং একটি সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন আয়োজন। এগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা অগ্রগতি অর্জন করেছি।”

    জাপান সফরে পৌঁছে তিনি আরও বলেন, “গত দশ মাসে জাপান আমাদের পাশে থেকেছে। আমি এ সফরকে কৃতজ্ঞতা সফর হিসেবে দেখছি। জাপানের সহায়তা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।”

    তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য আবশ্যক উল্লেখ করে বলেন, জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

    এ সময় জাপানি সংসদ সদস্যরা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষর জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। আগামী আগস্টের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সেপ্টেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করা হচ্ছে। এতে জাপান হবে বাংলাদেশে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।

    রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গারা অন্য দেশে যেতে চাইছে না। তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়, এটাই সংকটের অনন্য দিক।” তিনি তাদের প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় সহায়তা কামনা করেন।

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।