Tag: জুলাই সনদ

  • ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রুলকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাজনৈতিক বিষয় আদালতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায়ের চেষ্টা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    হাইকোর্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনা, সংবিধান সংস্কার সভার শপথ, গণভোটের প্রশ্ন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে দলটি বলছে, সরকার যদি পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি হবে।

    মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক পরিসরেই হওয়া উচিত। অতীতে বিভিন্ন ইস্যু আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির যে নজির তৈরি হয়েছে, তার ফল ইতিবাচক হয়নি; বরং তা জাতীয় অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও স্থবিরতা ডেকে এনেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের আচরণে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পিতভাবে রিট দায়ের করিয়ে পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব খাটানো হলে তা হবে দ্বিমুখী আচরণ এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালতকে ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পুরোনো কৌশল পরিহার করা জরুরি। দেশবাসী মনে করে, জনগণ ও জুলাই সনদকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যেকোনো প্রয়াস জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ থেকে সরে এসে সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই হতে পারে টেকসই পথ।

  • বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে এই ভাষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণ প্রদান করবেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

    সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলমান প্রশাসনিক সংস্কার, নির্বাচন প্রস্তুতি ও জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দেশের জনগণের প্রতি বার্তা দেবেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের অবস্থান ও আগাম করণীয় বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

    জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যে সারা দেশের নজর থাকবে বৃহস্পতিবার দুপুরে।

  • জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে জামায়াতসহ আট দলীয় জোট। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি বা গণভোটের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না আসায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নেয় দলগুলো।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হবে, যেখানে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি এবং নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হবে। তবে সেই আলোচনায় ইতিবাচক ফল না এলে আট দলের জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

    নেতারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিতে জনগণের প্রত্যাশা রক্ষায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তবে সরকারের নীরবতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও কঠোর হবে।

  • সব দলের ক্ষোভ একজায়গায়: সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা

    সব দলের ক্ষোভ একজায়গায়: সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা

    এবিএনএ:  স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই বিপ্লবের পর যে অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছিল, সেই সরকারের বিরুদ্ধে এখন উঠেছে তীব্র অভিযোগের ঝড়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার সম্পর্কে বিরোধী দলগুলো বলছে— জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে তারা।

    প্রথমদিকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য দল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১৫ মাসের ব্যবধানে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্যসহ একাধিক রাজনৈতিক দল সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সরকার ও কমিশন উভয়ই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন বিলম্বিত করার চক্রান্ত চলছে।”

    জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আর দেরি করলে সরকার জনআস্থা হারাবে। এখনই বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।”

    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেন, “যে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, তার কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা বৃথা। দেশের সংকট কাটাতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

    এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখা যাবে না। অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক মনে করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা আমাদের সমর্থনের পরিসীমায় পড়ে না।”

    আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বাংলাদেশে বারবার স্বৈরাচার পতনের পর নতুন স্বৈরাচারের জন্ম হয়—এটাই আমাদের রাজনৈতিক দুর্ভাগ্য।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সতর্ক করে বলেন, “জুলাই সনদের নামে রাজনীতিতে বিভাজন বাড়ছে। এই বিভক্তি থাকলে নির্বাচনের সময়সূচি ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই বিপ্লবের পর গড়ে ওঠা ঐক্য আজ ভেঙে পড়ছে। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দলটি এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপি কমিশনের সুপারিশকে ইতিবাচক বলে দাবি করছে।

    এই বিভক্ত অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘না’ লিখে পোস্ট দিচ্ছেন, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় ব্যস্ত।

    ফলে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। যদিও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “যে সিদ্ধান্তই হোক, নির্বাচন ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই হবে।”

    তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, “জুলাই সনদ ইস্যুর সমাধান না হলে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।”

    সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতি এখন নতুন মোড়ে—প্রায় সব দল সরকারের বিরুদ্ধে একজোট, অথচ নির্বাচনের পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে।

  • বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ:  ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’কে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষায়, “বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেটি আসলে ‘নোট অব চিটিং’। এর মাধ্যমে তারা ১৮ কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তরুণ সমাজ তাদের সেই অপচেষ্টা বুঝে ফেলেছে।”

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচন কোন পথে?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি এখন দেশের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদের রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ যে ঐক্যের পথে হাঁটছিল, বিএনপি সেই পথ থেকে সবাইকে সরাতে চাইছে। দেশের মানুষ এখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছে— যেন তিনি দ্রুত জুলাই সনদের সুপারিশ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে শুরু করে পিএসসি পর্যন্ত সব জায়গায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিচ্ছে। “ওরা চায় ভাইয়াগিরি চলুক, ছোট ভাইয়েরা যেন চাকরি পায় দলের কলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ পিএসসি গঠনের—এটাই ছাত্র সমাজের দাবি,” বলেন তিনি।

    এনসিপি নেতা আরও বলেন, “বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ভেটো দিয়েছে, অথচ একসময় তারাই এই ব্যবস্থার দাবিদার ছিল। দেশের বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবিতেই যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা তারা ভুলে গেছে।”

    তিনি বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি খোলাখুলি সংস্কারের বিরোধিতা করে, আর জামায়াত ভণ্ডামি করে সংস্কারের পক্ষে কথা বলে কিন্তু আসলে বিপক্ষে অবস্থান নেয়।” তাঁর দাবি, “জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর চাচ্ছে নিজেদের আসন বাড়ানোর কৌশল হিসেবে।”

    নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা শাপলা প্রতীক চাই এবং সেটিতেই নির্বাচন করবো। শাপলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “কমিশন যদি অবৈধভাবে তালিকা তৈরি করে, তবে আমরা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, ডা. তাসনিম জারা, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানসহ নেতৃবৃন্দ।

  • ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এটা জনগণের সঙ্গে যেমন প্রতারণা, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা। এই পরিস্থিতিতে একে কোনোভাবেই ঐক্য বলা যায় না। তাহলে কমিশনটি গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?”

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের বই ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এর আগের দিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। তবে ফখরুলের দাবি, কমিশন সদস্যদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    তিনি বলেন, “আমরা শুনেছিলাম কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভিন্নমতগুলোও সুপারিশে যুক্ত করা হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেগুলো একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উপেক্ষা ঐক্যের পরিপন্থী।”

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই অর্জনগুলো জাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বরং বিভক্তি ক্রমেই বাড়ছে। এই বিভক্তি কারা সৃষ্টি করছে এবং কেন, তা গভীরভাবে ভাবতে হবে।”

    প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আপনি জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এখন আপনার দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই নির্বাচনই হতে হবে জাতির সংকট সমাধানের পথ।”

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু এবং লেখক-সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ।

  • ‘একটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে’— মন্তব্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের

    ‘একটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে’— মন্তব্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব)-এর আয়োজনে “চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের যে স্রোত তৈরি হয়েছে, সেটি দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌঁছে দিতে হবে। এখন সময় এসেছে মানসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমাদের দেশে এমন একটি দল আছে যারা জুলাই সনদে স্বাক্ষরের পথ খুঁজছে। তাদের কিছু শর্ত ও দাবি রয়েছে, তবে আমি আশাবাদী— আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসবে। জুলাই সনদকে আইনি কাঠামো দিতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এটি বাতিলের দাবি তুলতে না পারে।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পরিবর্তনের মূল শিক্ষা হলো জ্ঞান, মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও গবেষণামুখী করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য শিক্ষকদের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    বিএনপি নেতা আরও যোগ করেন, “কর্মসংস্থান শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং তরুণদের আত্মনির্ভর হতে হবে। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণ যেভাবে পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, সেই স্পৃহা বজায় রাখতে হবে।”

    ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও বিএনপি নেতা ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর প্রমুখ।

    সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন সংস্কারের প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সময়োপযোগী কারিকুলাম ও কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

  • সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সংঘর্ষ, গাড়ি ও বাসে ভাঙচুর

    সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সংঘর্ষ, গাড়ি ও বাসে ভাঙচুর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুক্রবার দুপুরে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সরিয়ে দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

    দুপুর সোয়া একটার দিকে ঘটনাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা সংসদ এলাকা থেকে বেরিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তারা পুলিশের গাড়ি, ট্রাক ও বাসে ভাঙচুর চালান।

    টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে থমথমে পরিস্থিতি

    পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আশপাশের জনসাধারণ আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে।

    এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সংসদের দক্ষিণ গেটের সামনের সড়কে ও তাবু এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    সংসদ এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে

    দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পুলিশ পুরো সংসদ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও আশপাশের এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালায়।

    অন্যদিকে খামারবাড়ি সড়কেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সেখানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

    সংঘর্ষের সূত্রপাত

    এর আগে সকাল ১০টার দিকে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত’ সদস্যরা বিভিন্ন দাবিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো ও আহতদের স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা প্রয়োজন।

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সংসদ এলাকা এক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। যদিও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে, তবু উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ প্রমাণ করে রাজনৈতিক ঐক্যের পাশাপাশি সামাজিক সংলাপ ও সহনশীলতার প্রয়োজন এখন আরও বেশি বেড়েছে।

  • প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ঘোষণা: ফেব্রুয়ারিতেই হবে উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন

    প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ঘোষণা: ফেব্রুয়ারিতেই হবে উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।

    বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠকে, যেখানে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়, সেখানে তিনি এই নিশ্চয়তা দেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা এমন এক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যেখানে মানুষ আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে যাবে। এর জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমরা সেটি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।”

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ইউনূস আরও বলেন, “আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন, এখন সরকারের দায়িত্ব সেই সনদের ভিত্তিতে একটি উৎসবমুখর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। যদি আমরা সেটি করতে না পারি, তবে সনদটির গুরুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জুলাই সনদের মূল লক্ষ্যই ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। তাই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে সেই সনদের নীতি অনুসরণ করা হবে।”

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    এবিএনএ:  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে তারা সম্মত, তবে এতে দলের আপত্তিগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক।

    বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর মানে এটি সঙ্গে সঙ্গে আইনি কাঠামো পাবে—এমন নয়। পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদেরকেই সনদটির আইনি বৈধতা দিতে হবে। কারণ এই সনদের আইনি ভিত্তি সংসদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সনদে স্বাক্ষর করব, তবে আমাদের মতবিরোধ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো অবশ্যই নথিভুক্ত থাকতে হবে। সবাই যদি একমত হতো, তাহলে আলোচনার প্রয়োজনই পড়ত না।”

    বিএনপির এই নেতা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে এবং তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। পরে ঐকমত্য কমিশন সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাবও দেবে বলে জানান তিনি।