Tag: জুলাই সনদ

  • জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে উঠছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও গণভোটের সময় নির্ধারণে এক বছরের আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকও শেষ হয়েছে সমাধান ছাড়াই।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দীর্ঘ আট ঘণ্টার বৈঠকে দলগুলো মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়। বিএনপি, কিছু নিবন্ধিত দল ও নতুন নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী ও কয়েকটি ছোট দল নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানায়। তবে প্রশ্নের ভাষা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিরোধ থেকেই গেছে।

    কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও বিশেষজ্ঞদের মতামত মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারে পাঠানো হবে। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এদিকে, নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়া এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সচিব শূন্য, মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলাজনিত সংকট এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনআস্থার ঘাটতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কর্মকর্তাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের বক্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা বলেছে, “অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।” রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনকে ঘিরে রহস্যময় ভূমিকা নিচ্ছে। তারা বারবার নিজেদের অবস্থান বদল করছে। প্রথমে তারা জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে রাজি থাকলেও, সর্বশেষ বৈঠকে তারা নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি জানিয়েছে। দলের প্রতীক ‘শাপলা’ নিয়েও জটিলতা সমাধান হয়নি।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ অবস্থায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র একাধিকবার সঙ্কটে পড়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণ পথ খুঁজে নিয়েছে। এবারও তা সম্ভব, যদি দলগুলো সংলাপের টেবিলে ফিরে আসে।” তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু অনিশ্চিতই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি বয়ে আনতে পারে।

  • গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    এবিএনএ:  জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। সাত মাসব্যাপী সংলাপের পরও বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের শেষ দিনে আলোচনায় কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াত চায় নভেম্বরে এবং এনসিপি নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষপাতী।

    ঐকমত্য ছাড়াই শেষ সংলাপ

    রাত ১১টায় সংলাপ শেষ হয় কোনো ঐকমত্য ছাড়াই। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে সরকারকে সুপারিশ পাঠানো হবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে গণভোট আয়োজন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিএনপি ও অন্যান্য দলের অবস্থান

    বিএনপি চায়, জনগণের অনুমোদনপ্রাপ্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত সংসদের ওপর বাধ্যতামূলক হোক, তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সংবিধান সংস্কার সভা বানানোর প্রস্তাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে।

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, নির্বাচনের আগে গণভোট করা উচিত, যাতে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। দলটির নায়েবে আমির ডা. তাহের বলেন, “একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে, বরং আগে গণভোট হলে তা বেশি স্বচ্ছ হবে।”

    এনসিপিও তাদের অবস্থান বদলে এখন নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলও একই দাবি জানিয়েছে।

    কমিশনের ভাবনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

    ঐকমত্য কমিশন মনে করছে, গণভোটে একাধিক প্রশ্ন না রেখে কেবল একটি প্রশ্ন রাখা হবে—জনগণ জুলাই সনদ অনুমোদন করছেন কিনা। একাধিক প্রশ্ন রাখলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

    কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারকে চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠাবে এবং দলগুলোকে অবহিত করবে। এরপর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের সময় নিয়ে এই অচলাবস্থা ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতের ভিন্ন অবস্থান রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও জটিল করছে।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখতে সংস্কার জরুরি। এখন সময় এসেছে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার।”

  • অক্টোবরেই বিএনপির প্রার্থীদের সবুজ সংকেত: তরুণদের প্রাধান্য ও ঐক্যের বার্তা স্থায়ী কমিটির

    অক্টোবরেই বিএনপির প্রার্থীদের সবুজ সংকেত: তরুণদের প্রাধান্য ও ঐক্যের বার্তা স্থায়ী কমিটির

    এবিএনএ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে গতি আনছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অক্টোবরের মধ্যেই অধিকাংশ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে ‘সবুজ সংকেত’।

    সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে জানানো হয়, প্রতিটি আসনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এখন থেকে তরুণ ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, “প্রতি আসনে বহু প্রার্থী থাকলেও দল এমন প্রার্থী বেছে নিচ্ছে যারা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য।” তিনি আরও জানান, তারেক রহমান নিজেই মনোনয়ন প্রক্রিয়া তদারক করছেন এবং দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে।

    এবারের নির্বাচনে প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটারের মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি জেন-জি প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও সমর্থন নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও এসেছে বৈঠকে।

    গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত
    বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজনের প্রস্তাব সমর্থন করেছে বিএনপি স্থায়ী কমিটি। নেতারা মনে করেন, সংবিধানের ধারা অনুযায়ী এখন রেফারেন্ডামের জন্য আলাদা সংশোধন প্রয়োজন নেই। পরবর্তী সংসদ ‘হ্যাঁ-না’ ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে আলাদা গণভোট চাইলেও বিএনপি মনে করে, তা আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ এতে সময়ক্ষেপণ ও নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার নির্দেশ
    স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। এর প্রতিকারে তারা ফ্যাক্টচেক ও তথ্যভিত্তিক প্রচারণা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    দলীয় ঐক্যে জোর
    বৈঠকে আগামী নির্বাচনে ঐক্য ধরে রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। নেতারা বলেন, একজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও অন্যরা যাতে ক্ষুব্ধ বা নিষ্ক্রিয় না হন, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, যেসব নেতাকে সাংগঠনিক কারণে বহিষ্কার করা হয়েছিল কিন্তু পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, তাদের দলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

  • ঢাকায় সাত দলের যুগপৎ আন্দোলন: পিআর নির্বাচনের ফয়সালা গণভোটেই চাই জামায়াত ও চরমোনাই

    ঢাকায় সাত দলের যুগপৎ আন্দোলন: পিআর নির্বাচনের ফয়সালা গণভোটেই চাই জামায়াত ও চরমোনাই

    এবিএনএ:  রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতটি রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীর) পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য গণভোট দাবি করে। একই সঙ্গে অপর পাঁচ দলও জুলাই সনদের সাংবিধানিক বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়।

    পুরানা পল্টন, গুলিস্তান ও প্রেস ক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের কারণে বিকেলজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, অফিস শেষে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জামায়াত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করে, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সমাবেশে বলেন, “এখনই জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার সময়। সাংবিধানিক আদেশ অথবা গণভোট ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি সতর্ক করে দেন, বিদ্যমান কাঠামোয় নির্বাচন হলে আবার ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে।

    অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, জনগণ যদি গণভোটে পিআরকে সমর্থন না করে তবে তাদের দল এই দাবিতে অনড় থাকবে না। তবে বিএনপির সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি জনতার ওপর আস্থা থাকে, তবে গণভোটে যেতে আপত্তি কোথায়?”

    খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ সতর্ক করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় বিপর্যয় অনিবার্য।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান দ্রুত সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে সনদকে বৈধতা দেওয়ার জন্য।

    আজ বিভাগীয় শহরগুলোতে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে সাত দল।

  • পিআর নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিল চরমোনাই পীরের দল

    পিআর নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিল চরমোনাই পীরের দল

    এবিএনএ: প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) নির্বাচনের দাবিকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    তিনি জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আন্দোলনের মূল দাবি—জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল–প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, গণহত্যার বিচার এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের বিচার।

    এর আগে জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং অন্য একটি খেলাফতপন্থী অংশও একই তারিখে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের প্রক্রিয়া আরও জোরালো হয়েছে। তবে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও নেজামে ইসলাম পার্টি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্মে না গিয়ে আলাদা অবস্থান বজায় রেখেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করীম বলেন, “ইসলামী দলগুলো এখন একত্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। জনগণের ভোটকে এক বাক্সে আনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি।

    চরমোনাই পীর জাতীয় পার্টিকে ‘ভারতীয় আধিপত্যের প্রকাশ্য এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তারা প্রতিটি ভুয়া নির্বাচনে অংশ নিয়ে অবৈধ সরকারকে বৈধতা দিয়েছে। এবারও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।”

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কার ছাড়া জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আর নির্বাচনের পর সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি জনগণ আর বিশ্বাস করে না। তাই এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

  • বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ফল মেলেনি, সাত দল নিয়ে নতুন কৌশলে জামায়াত

    বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ফল মেলেনি, সাত দল নিয়ে নতুন কৌশলে জামায়াত

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দলের অবস্থান ভিন্ন থাকায় আলোচনায় কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।

    গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপাড়ায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি ও নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তারা ছাড় দিতে রাজি নয়।

    এর আগে জামায়াত ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও খেলাফত মজলিসসহ সাত দলের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব দল ঘোষণা দিয়েছে—জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে, বিএনপি-জামায়াত বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াত এখন সাত দল নিয়ে সমন্বিতভাবে এগোচ্ছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ কার্যকর করতে হলে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হবে এবং পিআর পদ্ধতিতে সংসদ গঠন করতে হবে।

    এদিকে বিএনপি বলছে, সংবিধানের ঊর্ধ্বে কোনো দলিল হতে পারে না। আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বন্ধ হলে তা নাগরিক অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হবে। দলটি জানায়, যেসব সংস্কার কার্যকরে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন, তা নতুন সংসদেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কার করে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ উভয় জায়গাতেই পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি জানায়।

    সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বরফ না গলাতে জামায়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টা করছে। এর আগে লন্ডনে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছিলেন। এবারও তারা মনে করছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি-জামায়াত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে বিরোধী রাজনীতির মধ্যে নতুন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের চিত্রকে আরও জটিল করে তুলবে।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে বিভ্রান্তিকর ও অপরিপক্ব বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতি আশা করেছিল আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু এখনো নির্বাচনের ধরন ও পদ্ধতি স্পষ্ট নয়।”

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনায় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হতো। এরপর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল।”

    জামায়াতের মতে, এভাবে অসম্পূর্ণ ও দ্ব্যর্থক পরিকল্পনা জনগণকে বিভ্রান্ত করবে এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করবে।

  • জুলাই সনদ উপেক্ষা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল: এনসিপি

    জুলাই সনদ উপেক্ষা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল: এনসিপি

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি জানায়, নির্বাচন আয়োজন ইতিবাচক হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে রোডম্যাপ প্রকাশকে তারা সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছে।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব লিখিত বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জনগণ সংস্কার ও বিচার প্রত্যাশা করেছিল। সেই লক্ষ্যেই সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। কমিশন থেকে প্রণীত জুলাই সনদের খসড়া ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে এবং এনসিপিও নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কিন্তু খসড়ায় সনদ বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া না থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ছয়টি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হলেও তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে গণপরিষদ নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সভার প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু এসব আলোচনার মাঝেই একতরফাভাবে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। যদিও দলটি বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি মেনে নিয়েছে, তবে আশা করেছিল নির্বাচনী রোডম্যাপের আগে সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা স্পষ্ট হবে।

    এনসিপির মতে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা ছাড়া নির্বাচন প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। আরিফুল ইসলাম আদীব সতর্ক করে বলেন, “সংস্কার কার্যক্রম চূড়ান্ত না হলে নির্বাচনকালীন সংকটের দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপি নির্বাচন বিরোধী নয়; বরং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। তবে সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

  • সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্ন পথে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

    সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্ন পথে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে একমত হতে পারছে না। বিএনপি জানিয়েছে, নতুন সংসদ গঠনের পরই সংস্কার কার্যকর করতে হবে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চায় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ গঠন করে তা বাস্তবায়ন করা হোক। আর জামায়াতে ইসলামী জোর দিচ্ছে গণভোট অথবা রাষ্ট্রপতির ঘোষণার ওপর।

    শনিবার জামায়াত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে, জনগণের ভোট বা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ছাড়া এই সংস্কার পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। এর আগে, গত বুধবার বিএনপি জানায় জুলাই সনদকে তারা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল মনে করে, তবে সংসদকেই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখতে চায়।

    এনসিপি এর বিপরীতে বলছে, জুলাই সনদকে গাইডিং প্রিন্সিপাল হিসেবে ধরে গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখন করতে হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল এখনও মতামত দেয়নি, তবে তারা নির্বাচনের আগে সনদ কার্যকর করার দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    ঐকমত্য কমিশনের ছয়টি পৃথক কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিক দফায় সংলাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি সুপারিশে সব দলের ঐকমত্য হলেও বাকিগুলোতে তীব্র মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি, দুদক ও অন্যান্য নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির অবস্থানে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।

    জুলাই সনদের খসড়ায় বলা হয়েছে, এর প্রাধান্য থাকবে সংবিধানের ওপরে এবং আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে বিএনপি এতে আপত্তি জানিয়েছে, কারণ তাদের মতে সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বিপরীতে জামায়াত বলছে, জনগণের অভিপ্রায়কে ভিত্তি করে সনদ ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ আইনি মর্যাদা পেয়েছে।

    রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভিন্নমতের কারণে সনদ বাস্তবায়নের পথ আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু হতে পারে।

  • ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    ‘জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন নয়’—সরকারকে হুঁশিয়ারি চরমোনাই পীরের

    এবিএনএ: সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই আগের নিয়মে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”

    মঙ্গলবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

    রেজাউল করীম অভিযোগ করে বলেন, “পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, সেটিই সর্বনাশের মূল কারণ। কালো টাকা, মাস্তানি ও সন্ত্রাস বন্ধের একমাত্র সমাধান পিআর পদ্ধতি।”

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি নির্বাচনের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের পর এ ধরনের প্রতিশ্রুতিতে জনগণ আর আস্থা রাখবে না।

    সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমদ বিএনপির উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—“সনদ আইনি স্বীকৃতি পেলে আপনাদের আপত্তি কোথায়?” আর প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঘোষণা দেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন।”

    এ সময় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “একদিকে বলছেন সংস্কার না হলে দেশ পুরোনো ধারায় ফিরে যাবে, অন্যদিকে সনদের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত না করেই নির্বাচন ঘোষণা দিয়েছেন। জনগণ জানতে চায়, কার চাপে এই সিদ্ধান্ত?”

    সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে থাকবে এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।