আন্তর্জাতিক

‘পৃথিবীর কোথাও আর নিরাপদ নও’—ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

ধারাবাহিক হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর পাল্টা বার্তা তেহরানের, সংঘাতে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে

এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারিতে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে বিশ্বের কোনো স্থানই ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে না।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ইরানের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুপক্ষের ব্যক্তিরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। এমনকি পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র কিংবা পর্যটন এলাকাও তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সম্প্রতি ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক বড় ধরনের হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারান।

এরপর একাধিক হামলায় দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।

সবশেষ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার জবাব হিসেবেই তেহরান এবার কঠোর বার্তা দিয়েছে।

পরমাণু ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

চলমান এই সংঘাত এখন রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৪৪৪ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২০৪ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে লেবাননেও ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button