Tag: কূটনীতি

  • চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    এবিএনএ: চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও তার সফরসঙ্গীদের এক অস্বাভাবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেইজিং ত্যাগের আগে চীনের দেওয়া সব উপহার, স্মারক এবং ব্যবহৃত অস্থায়ী ফোন ফেলে রেখে তবেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের সময় ব্যবহৃত তথাকথিত ‘বার্নার ফোন’ বা অস্থায়ী মোবাইল ডিভাইসও ধ্বংস করে ফেলা হয়। এমনকি চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া ব্যাজ, পরিচয়পত্র, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র ও বিভিন্ন স্মারকও সঙ্গে নেয়া হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা ও সাইবার নজরদারির আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে সফরের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীন সফরে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রেই রেখে যান। সম্ভাব্য হ্যাকিং বা তথ্য চুরির ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

    সফরের সময় চীনা কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য অস্থায়ী ফোন সরবরাহ করেছিল, যাতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ডিভাইসগুলোও ধ্বংস করা হয়।

    বেইজিং বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিভিন্ন সামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত এমন নিরাপত্তা প্রটোকল দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এবার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতির আশা করলেও বাস্তবে সীমিত কয়েকটি সমঝোতার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি হয়নি। বিশেষ করে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনা সংক্রান্ত আলোচনা ছাড়া বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে United StatesChina-এর সম্পর্ক বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সফর এবং সফর শেষে নেয়া নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

  • শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফরের প্রথম পূর্ণ দিবসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সারাদিন ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বৈঠককে শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং এটিকে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ানকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে তাদের স্বাগত জানাতে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন।

    রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন ও চীনা জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বহু বছরের বন্ধন ও সহযোগিতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, উন্নয়ন এবং সফলতার মতো অনেক অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। তার ভাষায়, “দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্ব নতুন এক রূপ পেতে পারে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    উল্লেখ্য, গত নয় বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    এবিএনএ: ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির জনগণ চলমান সংকট অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া এমন সব উদ্যোগ নেবে যাতে ইরান ও গোটা অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মস্কো ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে।

    এছাড়া বিরোধ কমানোর অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাবও পুনরায় উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

    বৈঠকে পুতিন জানান, তিনি সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া ও ইরান ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান।

    বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি মস্কোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    এবিএনএ: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার আভাস পাওয়া গেছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্রগুলো বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উত্তেজনা কমাতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    সামরিক পর্যায়েও যোগাযোগের ইঙ্গিত

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারি সূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    আগের বৈঠক ফলহীন

    দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে উত্তেজনা বাড়ে এবং আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে পড়ে।

    নতুন বৈঠক ঘিরে প্রস্তুতি

    দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের প্রতিনিধিদল না আসায় আলোচনা স্থগিত হয়। তেহরান জানায়, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না।

    আবারও আশার আলো

    তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে শিগগিরই নতুন করে আলোচনা হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

    কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছালে নতুন করে সংলাপের পথ খুলতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর আসতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ সুগম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির আশা

    ইসলামাবাদভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটা সম্ভব”—যা কূটনৈতিক মহলে আশার সঞ্চার করেছে।

    যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

    এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরান যদি একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবুও আপাতত সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই সংযত অবস্থান বজায় রেখেছে, যা আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।

    তাদের মতে, উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য থাকলেও বাস্তবে কোনো পক্ষই নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়ায়নি। এতে করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং আলোচনার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

    নতুন সমাধানের পথে আশাবাদ

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় অংশ নেওয়া ছাড়া তেহরানের সামনে অন্য কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানকে প্রতিনিধি পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

    মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি সম্ভব। তবে সে জন্য দ্রুত আলোচনায় অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে যাদের সঙ্গে সমঝোতা সহজ নয়, তবুও আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প এটিকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বরং পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সময় খুবই সীমিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় এলে ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, পাকিস্তান কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান প্রত্যাশা করছে।

    তিনি আরও বলেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দ্রুত শেষ হতে চলেছে। ফলে ইরানের সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থানের ওপর।

  • ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি—না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি—না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে “আজই” একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তবে এই ফোনালাপের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘আজ’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে সেটিও পরিষ্কার নয়। তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    এদিকে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর বা আলোচনায় প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি তেহরান। পাকিস্তানের একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নতুন দফার সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। তাদের মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।

    এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই যোগাযোগ হয়।

    সামগ্রিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

  • চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি আগের চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ও গুলি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতির মুখে ফেলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেহরান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার।

    ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হতে পারে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রোববারও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

  • লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    এবিএনএ: লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। আলোচনার পর দুই দেশ নির্দিষ্ট সময় থেকে ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ঘোষণায় লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি, যদিও ইসরায়েলের সঙ্গে মূল সংঘাত এই গোষ্ঠীকে ঘিরেই চলছে।

    ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, দুই নেতার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নির্ধারিত সময় থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ধারাবাহিকতায় স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্বকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা লেবানন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন।

    এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত থামাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি সফল হলে এটি তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে এবং এতে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

    চীনের সঙ্গে সমঝোতার দাবি

    পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    তিনি আরও বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথই বেশি কার্যকর। তবে প্রয়োজনে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ভিন্ন তথ্য নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। আবার অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শনাক্তে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    চীনের অবস্থান

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।