Tag: কূটনীতি

  • মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    এবিএনএ: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মেলোনির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে এবং তিনি ভেবেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর সাহসী অবস্থান থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তা দেখেননি।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির একটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মেলোনির কাছ থেকে ভিন্ন ধরনের দৃঢ়তা প্রত্যাশা করেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক অবস্থান দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

    ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প তার সমালোচনা করেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে পোপের অবস্থান দুর্বল। এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। তিনি বলেন, ক্যাথলিক বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে এভাবে সমালোচনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    মেলোনির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইরান প্রশ্নে অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

  • ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি না আসায় চুক্তিহীনভাবে বৈঠক শেষ হয়।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া বৈঠক রাতভর চলার পর রোববার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মূল ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য কাটেনি। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি তোলে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। এই দুই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ইরানকে জানানো হয়।

    তবে ইরানি প্রতিনিধিরা এসব শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পাল্টা দাবি জানান, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও জোর দেন তারা।

    দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়া তারা এই পদক্ষেপ নেবে না।

    বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা। পারমাণবিক ইস্যু দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক থেকে কোনো সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক মেরুকরণ

    মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
    ইরান যুদ্ধের ধাক্কা শুধুমাত্র তেহরান, তেলআবিব বা ওয়াশিংটনের দেয়ালেই আটকে নেই, এ যুদ্ধ যেমন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, একই সাথে এর আঁচ লেগেছে পুরো বিশ্বের রাজনীতিতেও। প্রথাগত পশ্চিমা মিত্রদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর দেশগুলো যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করলে তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে পড়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ। পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই তীব্র যে বিগত ৩০ মার্চ জি-৭ জরুরি বৈঠকে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে “সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে এখন যুদ্ধ শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববাজারে, জ্বালানি থেকে কৃষি কীটনাশক, কূটনীতি থেকে মিত্র-জোটের রাজনীতি সবদিকে। এরচেয়েও বড় মেরুকরণ এসেছে পশ্চিমা-নির্ভর রাষ্ট্রগুলোর সামরিক সহায়তা, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা, ও পশ্চিমা-জোট সঙ্গী দেশগুলোর রাজনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিমালাতে।

    যুদ্ধের ফলে প্রথম মেরুকরণ এসেছে ইউরোপীয় দেশগুলোয়। বিশেষত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নির্ভরশীলতা ও সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তার ধারণা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। অবশ্য ন্যাটোকে এমন ভঙ্গুর ও অবিশ্বস্ত জোট করে তোলার পেছনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই দায়ী। ইরান যুদ্ধের আগে থেকেই ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, “এই (ইউক্রেন) যুদ্ধ আমাদের নয়, এটা বাইডেনের যুদ্ধ।” একইসাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিকে ওভাল অফিসে ডেকে নিয়ে লাইভ মিটিংয়ে রীতিমতো অপমান করেছিলেন তিনি। যা আটলান্টিকের জোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য ছিলো সতর্কতা সংকেত ও ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের শুরু। একই সাথে গ্রীনল্যাণ্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বিতর্কিত আচরণ ন্যাটোকে ওয়াশিংটন থেকে অনেকাংশেই বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ট্রাম্পের এমন অনির্ভরযোগ্য আচরণের ফলে, ইরান যুদ্ধের শুরুতেই স্পেন প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে মার্চের ৩ তারিখে ঘোষণা দেয় তারা এই যুদ্ধে তারা অংশগ্রহণ করবে না; একই দিন ট্রাম্প স্পেনকে পাল্টা হুমকি দেন, স্পেনের সাথে সকল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার। কিন্তু, স্পেনের সাথে সুর মিলিয়ে পরদিনই ইতালি ও যুক্তরাজ্যও যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেয়। ফলে মার্কিন-ইউরোপীয়, বিশেষত ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সাথে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক দূরত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। যুদ্ধের এক মাস পর, এপ্রিলের এক তারিখ ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে কোনপ্রকার সামরিক সহায়তা দেবে না, একই সাথে যুদ্ধের প্রয়োজনে কোন আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটিও ব্যবহার করতে দেবে না। একই পথে হাঁটছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যও। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সহায়তা না পেয়ে ট্রাম্প ‘যুক্তরাজ্যের সহায়তার দরকার নেই’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। আদতে, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে ইউরোপে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে দ্বিগুণ। আমদানি নির্ভর ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর বেশিরভাগই রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল। তাই ওয়াশিংটনকে যুদ্ধে সহায়তা করার চেয়েও ঘরোয়া-রাজনীতি, অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ সহ নানা ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিত্রতা বজায় রাখার চেয়েও জরুরি হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘসময়ের মিত্রদের এমন সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট বার্তা দেয় ন্যাটো আর কোন নিছক পশ্চিমা মূল্যবোধের জোট নয়, বরং তা ক্রমেই শর্তসাপেক্ষ, লেনদেনমুখী এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমীকরণে ঢুকে পড়ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কানি বলেছেন, ইরানে হামলা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক, যদিও কানাডা ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায়; তবুও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণ কে কানাডা সমর্থন করে না। এর আগে ট্যারিফ ইস্যুতে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক উদারবাদ বা ইন্টারন্যাশনাল লিবারেল ওয়ার্ল্ড অর্ডার বলতে আর কিছু নেই। আমরা নতুন একটি বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করছি।

    ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে ইউরোপীয় ও প্রতিবেশী মিত্রদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, তখন ট্রাম্প ভেবেছিলেন দীর্ঘদিনের এশীয় মিত্র জাপানের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা হয়তো পাবেন। কিন্তু জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ট্রাম্পের বৈঠক সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, একই সাথে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে পার্ল হার্বার আক্রমণকে মনে করিয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলেছেন ট্রাম্প। জাপান, এশীয় বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশ যার ৯০% তেলই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আসে। এক অর্থে, জাপানের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের মতো। তিনি ভেবেছিলেন, হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে জাপান হয়তো সহায়তা করবে। কিন্তু, জাপান এরপর দিনই ২মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ‘চাইনিজ ইউয়ান’ ব্যবহার করে নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালীন সময়ের সকল কূটনৈতিক বৈঠকের প্যাটার্ন দেখলে একট বিষয় স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি কোয়ার্সিভ বা জবরদস্তিমূলক কূটনীতি পছন্দ করেন। ইরান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রত্যেকটা মিত্রদেরকে তিনি ভেবেছিলেন জবরদস্তি করে পাশে আনবেন, কিন্তু তার একটি কূটনৈতিক বৈঠকও সফল হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নের ক্ষেত্রে, জবরদস্তিমূলক কূটনীতিকে কখনই কোন স্বাস্থ্যকর বা ভালো কূটনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কারণ, এই ধরনের কূটনীতি দূর্বল রাষ্ট্র ও বশ্যতা স্বীকার করবে এমন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এতোটাও রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া নয় যে জবরদস্তির মাধ্যমে ট্রাম্পের বশ্যতা স্বীকার করবে, এমনকি জাপানও নয়।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ চেষ্টা ছিলো চীনের প্রতি সাহায্য চাওয়া, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ মার্চ ট্রাম্প প্রকাশ্যে চীনকে হরমুজ প্রণালী খুলতে সহায়তার আহ্বান জানান। কিন্তু, বেইজিং সরাসরি কোন সামরিক, রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি না দিলেও, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেয়নি। বেইজিংয়ের তরফ থেকে ২৬শে মার্চ শান্তি-আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানানো হয়। পরবর্তীতে, চীন-পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগ্যে এপ্রিলের ১ তারিখ যুদ্ধ-বিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া ও শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি আসেনি।

    অন্যদিকে, যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ প্রতিহত করতে যতটা সরব তার ছিটেফোঁটাও আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে দেখায়নি। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলেমান আল আকিলী। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিত্র হয়েও আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সকল চিন্তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে। আরবদের নিয়ে নয়।” শুধু যে আরব রাষ্ট্রগুলোই বিশ্বাসঘাতকতা বা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তাই না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধে মিসাইল ইন্টারসেপ্টর এর পরিমাণ কমে যাওয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন নিয়োজিত থাকা ‘থাড ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম’ কে কোরিয়া থেকে সরিয়ে এনে ইরান যুদ্ধে কাজে লাগিয়েছে। ফলে আরবদের পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়া, যে রাষ্ট্র দীর্ঘদিন মার্কিনীদের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল ছিলো তারাও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

    আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী এতো ব্যাপক আকারে রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখছে বিশ্ব। বিগত পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় ধরে সারাবিশ্বে মোড়লপনা চালিয়ে আসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভরসা যোগ্য কোন মিত্র বা বন্ধুরাষ্ট্র নয় তা ইরান যুদ্ধে সকলেই টের পেয়েছে। এ যেন ইরানিয়ান প্রবাদেরই প্রতিফলন, “আমেরিকা যার বন্ধু, তার শত্রুর প্রয়োজন নেই।”

    শিক্ষার্থী
    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

    সিনিয়র ফরেন পলিসি এনালিস্ট
    ইয়ুথ পলিসি ফোরাম।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    এবিএনএ: ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সাফল্য সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে, যেন মার্কিন বাহিনী পিছিয়ে পড়ছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তবতা বিকৃত করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ ও বিমান শক্তির বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেলবাহী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কোনো সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি, যারা ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য প্রচার করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যের ভিন্নতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এমন বক্তব্য সামনে আসছে। এতে সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত আরও বিভক্ত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

  • ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠক: সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, যুদ্ধের পর নতুন মোড়

    ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠক: সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, যুদ্ধের পর নতুন মোড়

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা। এবার আর কোনো মধ্যস্থ বার্তা নয়—দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি বসে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজছেন। আলোচনায় পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখছেন।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা সরাসরি সংলাপে অংশ নেন। এতে আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অপরদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। দুই পক্ষের সঙ্গে আরও কয়েকজন শীর্ষ কূটনীতিকও অংশ নিয়েছেন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর টানা ৪০ দিন উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও শুরু থেকেই তা ছিল নড়বড়ে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

    এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। তিনি জানান, সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মুখোমুখি বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার। তারা ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ উত্তেজনার পর এই সরাসরি আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। তবে আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা আমিরাতের, ‘কার ওপর ভরসা করা যায়’ নতুন করে ভাবছে আবুধাবি

    মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা আমিরাতের, ‘কার ওপর ভরসা করা যায়’ নতুন করে ভাবছে আবুধাবি

    এবিএনএ: ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বলছে, ভবিষ্যতে কোন দেশের ওপর নির্ভর করা যাবে— তা এখন নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে, যার প্রভাব পড়ে কয়েকটি আরব দেশে।

    এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় কোন দেশগুলো প্রকৃত সহযোগী— তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমিরাত এখন এমন একটি অর্থনৈতিক ও আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যা দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আবুধাবি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশ স্বাগত জানালেও আমিরাত এ বিষয়ে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ও ভিত্তি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে না।

    পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে আমিরাত, যাতে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও না বাড়ে।

  • যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, তবুও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র—ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

    যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, তবুও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র—ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

    এবিএনএ: লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি জটিল হলেও এই আলোচনা বাতিল করার সম্ভাবনা খুব কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতাকে আরও কার্যকর করতে আগ্রহী। সে কারণে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও আলোচনা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট।

    পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের। তিনি ইউরোপ সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফিরে এখন পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    এদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে জেডি ভান্স জানিয়েছেন, লেবানন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তার মতে, এই কারণে আলোচনা বন্ধ হওয়া উচিত নয়।

    তিনি আরও বলেন, যদি ইরান আলোচনায় অংশ না নেয়, তাহলে সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায়।

    মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা নিয়ে মিসর ও পাকিস্তানও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে আলাপে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে উত্তেজনা কমতে পারে, তবে মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

  • ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির জবাব তেহরানের: ‘ভীত নয় ইরান, প্রতিরোধে প্রস্তুত’

    ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির জবাব তেহরানের: ‘ভীত নয় ইরান, প্রতিরোধে প্রস্তুত’

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি সভ্যতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার জবাবে দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, এমন হুমকিতে ইরান ভয় পায় না এবং তাদের অবস্থান অটল থাকবে।

    মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে ইরানি সভ্যতা নানা সংকট ও শত্রুতার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা টিকে থেকেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের ওপরই আস্থা রাখছে তেহরান।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি সভ্য জাতির সাংস্কৃতিক শক্তি ও ন্যায্য লক্ষ্যের প্রতি বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত বর্বর শক্তির যুক্তিকে পরাজিত করবে। নিজেদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে না নিয়ে বরং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য হামলার মুখে এসব স্থাপনায় ‘মানবঢাল’ তৈরির অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আক্রমণের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

    তেহরান জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো যোগাযোগে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামনে এখন কার্যত দুটি পথ—সমঝোতায় যাওয়া অথবা সংঘাতে জড়ানো। এমন অবস্থায় দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিরোধের অবস্থানেই রয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে ‘সমানুপাতিক জবাব’ দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর করা যুদ্ধবিরতির দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং এই সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য।

    বুধবার ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, দেশটির প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর তেহরান প্রতিনিধি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-ও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তাদের লক্ষ্য কোনো অস্থায়ী সমাধান নয়। বরং চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায় তেহরান।

    বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই ইরান এই অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত বলেও বারবার জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলে প্রতিপক্ষ নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে।

    অন্যদিকে, Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠছে।

  • একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সমর্থনের কথা জানানো হয়।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাকিস্তানি বাহিনী যে নির্মম অভিযান চালিয়েছিল, তা ছিল ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়। সেই সময় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং নারীদের ওপর সংঘটিত হয় ব্যাপক নির্যাতন।

    শরণার্থী সংকট ও মানবিক বিপর্যয়

    এই দমন-পীড়নের ফলে লাখো মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। ভারতের মতে, ওই সময়ের মানবিক বিপর্যয় শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।

    তবে ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনো ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তাই বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার চাইছে, সে দাবিকে ভারত পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

    অপারেশন সার্চলাইট: ইতিহাসের কালো অধ্যায়

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। নয় মাসব্যাপী এই দমন-পীড়নের অবসান ঘটে ১৬ ডিসেম্বর, যখন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

    এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং দুই লাখের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রচেষ্টা

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই হত্যাযজ্ঞকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও আইনসভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমর্থনও বাড়ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতি আদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য

    প্রতি বছর ২৫ মার্চ বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করা হয়।

    সরকারপ্রধান এক বার্তায় বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা কখনো ভোলার নয়।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে নতুন গতি আসতে পারে।