Tag: ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাইফায় ভবন ধ্বংস, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাইফায় ভবন ধ্বংস, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার

    এবিএনএ: ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা শহরে একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের উদ্ধার অভিযানের পর ভবনের নিচ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। প্রথম ধাপে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া দুইজনকে বের করে আনলেও তাদের শরীরে প্রাণের কোনো স্পন্দন পাওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এর কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা আরও একজনের মরদেহ শনাক্ত করেন, যিনি প্রায় ৪০ বছর বয়সী একজন পুরুষ। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। হামলার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর শেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

    হামলার পর প্রথমদিকে চারজন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল এবং ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকাজে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। এখন পর্যন্ত নিহতদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মতে, ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া ৭৮ ও ৩৮ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১০ মাস বয়সী এক শিশুও আহত হয়েছে। শিশুটি মাথায় আঘাত পেয়েছে বলে জানা গেছে।

    হাইফার একটি হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গুরুতর আহত ওই বৃদ্ধের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার স্ত্রীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

  • ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চেচেন প্রজাতন্ত্রের নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত বাহিনীর ঘোষণা। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তারা ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কাদিরভ-সমর্থিত এই বাহিনী চলমান সংঘাতকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করছে। তাদের ভাষায়, এটি ‘ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই’, যেখানে তারা ইরানের প্রতিরক্ষায় অবস্থান নিতে চায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলা কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলি স্থাপনা ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি।

    এদিকে, এই সংঘাতে অন্য দেশের সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এটিকে সরাসরি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

  • মধ্যরাতে উত্তাল আকাশ—ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানের শক্তি প্রদর্শন

    মধ্যরাতে উত্তাল আকাশ—ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানের শক্তি প্রদর্শন

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়েছে IranIsrael। শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলের একাধিক অঞ্চলে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

    Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এসব হামলার সময় রাজধানী Jerusalemসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

    সামরিক সূত্রের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। আইডিএফ জানায়, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানতে দেওয়া হয়।

    একই সময় লেবানন সীমান্ত থেকেও উত্তর ইসরায়েলের দিকে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও বেশ কয়েকটি খোলা জায়গায় গিয়ে পড়ে।

    আইডিএফ আরও জানায়, নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংকেত পাওয়ার পর উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়া শফেলা অঞ্চল এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকাতেও সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতে অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার সংঘটিত এই হামলার তথ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ঘাঁটির অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব

    রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে দুই হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছেন, যারা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সমন্বয় কার্যক্রমে কাজ করেন।

    এই ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিচালনা করা হয়, যা আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সংঘাতের পটভূমি

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

    এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলও সমন্বিতভাবে অভিযান চালায়।

    এই অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    পাল্টা হামলায় ইরান

    এর জবাবে ইরানও একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তেহরান।

    সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—এই দেশগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    আগের হামলার রেশ

    এর আগে মার্চের শুরুতেও একই ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, যেখানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। পরে তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে চলা সংঘাতে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। একই সঙ্গে বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে।

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত Israel ভূখণ্ডে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

    রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, এত বড় আকারের হামলার পরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এদিকে শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

    অন্যদিকে, চলমান সংঘাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় হওয়া জরুরি।

    তিনি আরও জানান, কিছু দেশ ইতোমধ্যে সমর্থন জানাতে শুরু করেছে, তবে এই সংঘাতে কার্যকর ফল পেতে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

  • ‘পৃথিবীর কোথাও আর নিরাপদ নও’—ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

    ‘পৃথিবীর কোথাও আর নিরাপদ নও’—ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারিতে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে বিশ্বের কোনো স্থানই ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে না।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ইরানের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুপক্ষের ব্যক্তিরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। এমনকি পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র কিংবা পর্যটন এলাকাও তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    সম্প্রতি ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক বড় ধরনের হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারান।

    এরপর একাধিক হামলায় দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।

    সবশেষ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার জবাব হিসেবেই তেহরান এবার কঠোর বার্তা দিয়েছে।

    পরমাণু ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

    চলমান এই সংঘাত এখন রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৪৪৪ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২০৪ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে লেবাননেও ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরানি হামলা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার দাবি ওঠে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে।

    পরবর্তীতে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জর্ডান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ রাডার কেন্দ্রগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কুয়েতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি

    কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে হামলার ফলে একাধিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ের পাশের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এছাড়া ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত অন্তত ছয়টি স্যাটেলাইট রাডোম ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্প বুহরিং এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

    শুয়াইবা বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর ছয়জন রিজার্ভ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    বাহরাইনে নৌবহরের সদরদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত

    বাহরাইনের রাজধানী মানামার জুফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে রাডার ডোম, গুদামঘর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত

    আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সামরিক কম্পাউন্ড, রাডার ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে জেবেল আলী বন্দরের মার্কিন নৌ স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কাতারের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

    কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে পরিচিত, সেখানেও একাধিকবার হামলা হয়েছে। একটি বড় বিস্ফোরণে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকারী রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জর্ডানে গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস

    জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি ধ্বংস হওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

    জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের অন্তত ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।

    সৌদি আরবেও হামলার প্রভাব

    সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হলেও একটি রাডার সাইটে আগুন ধরে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলা

    ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি এবং উত্তর ইরাকের ইরবিল বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাগদাদের ভিক্টোরিয়া বেসেও ড্রোন আক্রমণের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। শারজাহ ও দুবাইয়ের কয়েকটি বেসামরিক এলাকায়ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষতি হয়েছে।

    আরও হামলার লক্ষ্যবস্তু

    ওমানের দুকম বন্দরে থাকা মার্কিন নৌ স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাইপ্রাসের আক্রোটিরি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

    একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি সামরিক, কূটনৈতিক এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর প্রায় অর্ধেকের সমান।

    হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪০ জনের মতো আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক হাব, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে অকার্যকর করে দেওয়া।

  • ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পরপরই তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। কোথায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    আইডিএফ দাবি করেছে, নিক্ষিপ্ত বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষ বা সাব-মিউনিশনের অংশ কিছু স্থানে পড়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    এদিকে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, যেসব এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে, সেখানকার বাসিন্দারা আপাতত আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে পারেন। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রের নিকটেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

    ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান থেকে আমিরাতের দিকে মোট ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

    তার দাবি, নিক্ষেপ করা অধিকাংশ অস্ত্রই আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভূপাতিত করা হয়, ১৩টি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হানে। পাশাপাশি আটটি ড্রোন ও আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিরোধ করা হয়েছে।

    হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।

    মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনও আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমিরাত সংরক্ষণ করে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের এই বিস্তার উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

  • ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    এবিএনএ: ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার তৃতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে তেহরান। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বহু দেশে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের ভেতরের চিত্র

    রাজধানী **তেহরান**সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি বেড়েছে। মধ্যাঞ্চলের সানান্দাজ শহরেও হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তার

    ভোরের দিকে আবুধাবি ও **দোহা**য় বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। কাতার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার এয়ারওয়েজ সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
    এদিকে ওমান উপকূলে একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত-এ মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়; শোধনাগারের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এসেছে। বাহরাইন বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে হামলার পর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

    ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানে তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। মার্কিন পক্ষ হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানে উত্তাপ

    সংঘাতের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন-এর রাজধানী **বৈরুত**সহ বিভিন্ন এলাকায়; বিমান হামলায় বহু হতাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। **সিরিয়া**তে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেসামরিকরা আহত হয়েছেন। জর্ডান আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    ভূমধ্যসাগরে নতুন মাত্রা

    ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস-এ অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। রয়্যাল এয়ার ফোর্স পরিচালিত আক্রোতিরি ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমিত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।