রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?
মিসাইল ও ড্রোন হামলার নিন্দা, আত্মরক্ষার অধিকার জোরালো—ইরানকে ৪ দফা সতর্কবার্তা


এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ-এ জরুরি বৈঠকে বসেন আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বৈঠকের আগে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদের বৈঠকে কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।
বৈঠক থেকে ইরানের প্রতি চারটি প্রধান আহ্বান জানানো হয়—
প্রথমত, সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
চতুর্থত, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া বৈঠকে লেবাননে ইসরাইলি হামলারও সমালোচনা করা হয়েছে এবং তা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।




