Tag: ইরান যুদ্ধ

  • ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।

    কংগ্রেসে কী জানানো হয়েছে?

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বক্তব্য দেন পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জামের পেছনে খরচ হয়েছে।

    তবে এই ব্যয়ের বিস্তারিত কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির সংস্কার বা পুনর্গঠনের খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যয়ের খাত ও ক্ষয়ক্ষতি

    হার্স্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই সংঘাতে রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই তথ্য প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব জানতে চাওয়া হচ্ছিল।

    আগের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য

    উল্লেখ্য, গত মাসে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। বর্তমান হিসাব সেই তুলনায় অনেক বেশি, যা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ৭ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।

    এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অর্থনীতি ও জনমত

    যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

    এদিকে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ নিয়ে জনগণের সমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন।

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক মেরুকরণ

    মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
    ইরান যুদ্ধের ধাক্কা শুধুমাত্র তেহরান, তেলআবিব বা ওয়াশিংটনের দেয়ালেই আটকে নেই, এ যুদ্ধ যেমন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, একই সাথে এর আঁচ লেগেছে পুরো বিশ্বের রাজনীতিতেও। প্রথাগত পশ্চিমা মিত্রদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর দেশগুলো যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করলে তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে পড়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ। পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই তীব্র যে বিগত ৩০ মার্চ জি-৭ জরুরি বৈঠকে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে “সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে এখন যুদ্ধ শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববাজারে, জ্বালানি থেকে কৃষি কীটনাশক, কূটনীতি থেকে মিত্র-জোটের রাজনীতি সবদিকে। এরচেয়েও বড় মেরুকরণ এসেছে পশ্চিমা-নির্ভর রাষ্ট্রগুলোর সামরিক সহায়তা, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা, ও পশ্চিমা-জোট সঙ্গী দেশগুলোর রাজনীতি ও পররাষ্ট্র নীতিমালাতে।

    যুদ্ধের ফলে প্রথম মেরুকরণ এসেছে ইউরোপীয় দেশগুলোয়। বিশেষত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নির্ভরশীলতা ও সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তার ধারণা অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। অবশ্য ন্যাটোকে এমন ভঙ্গুর ও অবিশ্বস্ত জোট করে তোলার পেছনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই দায়ী। ইরান যুদ্ধের আগে থেকেই ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, “এই (ইউক্রেন) যুদ্ধ আমাদের নয়, এটা বাইডেনের যুদ্ধ।” একইসাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিকে ওভাল অফিসে ডেকে নিয়ে লাইভ মিটিংয়ে রীতিমতো অপমান করেছিলেন তিনি। যা আটলান্টিকের জোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য ছিলো সতর্কতা সংকেত ও ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের শুরু। একই সাথে গ্রীনল্যাণ্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বিতর্কিত আচরণ ন্যাটোকে ওয়াশিংটন থেকে অনেকাংশেই বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ট্রাম্পের এমন অনির্ভরযোগ্য আচরণের ফলে, ইরান যুদ্ধের শুরুতেই স্পেন প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে মার্চের ৩ তারিখে ঘোষণা দেয় তারা এই যুদ্ধে তারা অংশগ্রহণ করবে না; একই দিন ট্রাম্প স্পেনকে পাল্টা হুমকি দেন, স্পেনের সাথে সকল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার। কিন্তু, স্পেনের সাথে সুর মিলিয়ে পরদিনই ইতালি ও যুক্তরাজ্যও যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেয়। ফলে মার্কিন-ইউরোপীয়, বিশেষত ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সাথে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক দূরত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। যুদ্ধের এক মাস পর, এপ্রিলের এক তারিখ ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে কোনপ্রকার সামরিক সহায়তা দেবে না, একই সাথে যুদ্ধের প্রয়োজনে কোন আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটিও ব্যবহার করতে দেবে না। একই পথে হাঁটছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যও। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সহায়তা না পেয়ে ট্রাম্প ‘যুক্তরাজ্যের সহায়তার দরকার নেই’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। আদতে, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে ইউরোপে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে দ্বিগুণ। আমদানি নির্ভর ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর বেশিরভাগই রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল। তাই ওয়াশিংটনকে যুদ্ধে সহায়তা করার চেয়েও ঘরোয়া-রাজনীতি, অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ সহ নানা ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিত্রতা বজায় রাখার চেয়েও জরুরি হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘসময়ের মিত্রদের এমন সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট বার্তা দেয় ন্যাটো আর কোন নিছক পশ্চিমা মূল্যবোধের জোট নয়, বরং তা ক্রমেই শর্তসাপেক্ষ, লেনদেনমুখী এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমীকরণে ঢুকে পড়ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কানি বলেছেন, ইরানে হামলা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক, যদিও কানাডা ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায়; তবুও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণ কে কানাডা সমর্থন করে না। এর আগে ট্যারিফ ইস্যুতে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক উদারবাদ বা ইন্টারন্যাশনাল লিবারেল ওয়ার্ল্ড অর্ডার বলতে আর কিছু নেই। আমরা নতুন একটি বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করছি।

    ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধে ইউরোপীয় ও প্রতিবেশী মিত্রদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, তখন ট্রাম্প ভেবেছিলেন দীর্ঘদিনের এশীয় মিত্র জাপানের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা হয়তো পাবেন। কিন্তু জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ট্রাম্পের বৈঠক সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, একই সাথে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে পার্ল হার্বার আক্রমণকে মনে করিয়ে দিয়ে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলেছেন ট্রাম্প। জাপান, এশীয় বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশ যার ৯০% তেলই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আসে। এক অর্থে, জাপানের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের মতো। তিনি ভেবেছিলেন, হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে জাপান হয়তো সহায়তা করবে। কিন্তু, জাপান এরপর দিনই ২মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ‘চাইনিজ ইউয়ান’ ব্যবহার করে নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালীন সময়ের সকল কূটনৈতিক বৈঠকের প্যাটার্ন দেখলে একট বিষয় স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি কোয়ার্সিভ বা জবরদস্তিমূলক কূটনীতি পছন্দ করেন। ইরান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রত্যেকটা মিত্রদেরকে তিনি ভেবেছিলেন জবরদস্তি করে পাশে আনবেন, কিন্তু তার একটি কূটনৈতিক বৈঠকও সফল হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অধ্যয়নের ক্ষেত্রে, জবরদস্তিমূলক কূটনীতিকে কখনই কোন স্বাস্থ্যকর বা ভালো কূটনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কারণ, এই ধরনের কূটনীতি দূর্বল রাষ্ট্র ও বশ্যতা স্বীকার করবে এমন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এতোটাও রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া নয় যে জবরদস্তির মাধ্যমে ট্রাম্পের বশ্যতা স্বীকার করবে, এমনকি জাপানও নয়।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ চেষ্টা ছিলো চীনের প্রতি সাহায্য চাওয়া, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ মার্চ ট্রাম্প প্রকাশ্যে চীনকে হরমুজ প্রণালী খুলতে সহায়তার আহ্বান জানান। কিন্তু, বেইজিং সরাসরি কোন সামরিক, রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি না দিলেও, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেয়নি। বেইজিংয়ের তরফ থেকে ২৬শে মার্চ শান্তি-আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহবান জানানো হয়। পরবর্তীতে, চীন-পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগ্যে এপ্রিলের ১ তারিখ যুদ্ধ-বিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া ও শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি আসেনি।

    অন্যদিকে, যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ প্রতিহত করতে যতটা সরব তার ছিটেফোঁটাও আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে দেখায়নি। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলেমান আল আকিলী। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিত্র হয়েও আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সকল চিন্তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে। আরবদের নিয়ে নয়।” শুধু যে আরব রাষ্ট্রগুলোই বিশ্বাসঘাতকতা বা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তাই না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধে মিসাইল ইন্টারসেপ্টর এর পরিমাণ কমে যাওয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন নিয়োজিত থাকা ‘থাড ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম’ কে কোরিয়া থেকে সরিয়ে এনে ইরান যুদ্ধে কাজে লাগিয়েছে। ফলে আরবদের পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়া, যে রাষ্ট্র দীর্ঘদিন মার্কিনীদের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল ছিলো তারাও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।

    আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী এতো ব্যাপক আকারে রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখছে বিশ্ব। বিগত পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় ধরে সারাবিশ্বে মোড়লপনা চালিয়ে আসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ভরসা যোগ্য কোন মিত্র বা বন্ধুরাষ্ট্র নয় তা ইরান যুদ্ধে সকলেই টের পেয়েছে। এ যেন ইরানিয়ান প্রবাদেরই প্রতিফলন, “আমেরিকা যার বন্ধু, তার শত্রুর প্রয়োজন নেই।”

    শিক্ষার্থী
    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

    সিনিয়র ফরেন পলিসি এনালিস্ট
    ইয়ুথ পলিসি ফোরাম।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    এবিএনএ: ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সাফল্য সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে, যেন মার্কিন বাহিনী পিছিয়ে পড়ছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তবতা বিকৃত করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ ও বিমান শক্তির বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেলবাহী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কোনো সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি, যারা ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য প্রচার করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যের ভিন্নতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এমন বক্তব্য সামনে আসছে। এতে সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত আরও বিভক্ত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

  • ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমাতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। দেশটি ঘোষণা দিয়েছে, ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

    সোমবার স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাদ্রিদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে স্পেন তার আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

    এর আগে থেকেই স্পেন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো বলে জানা গেছে।

    এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে এখন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো জানান, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা কোনো সংঘাতে সমর্থন না দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন। তার অবস্থান স্পষ্ট—এ ধরনের যুদ্ধে স্পেন কোনোভাবেই অংশ নিতে চায় না।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সব মিলিয়ে, স্পেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ইরান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    এবিএনএ:  ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনবে এবং শেষ পর্যন্ত সরে আসবে।

    সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, কেউ চাইলে বলতে পারেন—এই লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়ে গেছে।

    তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামরিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি করতে আরও কিছুদিন অভিযান চালানো হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র চায় ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

    এর আগে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশটি এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল কৌশল।

    যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি এটিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাদের মিশন শেষ করে ফিরবে।

    ভ্যান্স আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে দীর্ঘদিন অবস্থান করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং যত দ্রুত সম্ভব অভিযান গুছিয়ে নিয়ে দেশটি সরে আসবে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন সামরিক অর্জন নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপ এড়াতেও দ্রুত কৌশল বদল করছে।

  • ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুরুতে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। বিশেষ করে NATO সদস্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখানোয় ওয়াশিংটন অস্বস্তিতে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা প্রস্থান কৌশল না থাকায় এখন চাপে পড়েছে হোয়াইট হাউস। সাবেক কূটনীতিক Aaron David Miller মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের মতে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য। কিন্তু মিত্রদের অনীহা এবং আন্তর্জাতিক চাপ এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। যদিও স্থলযুদ্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন—তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের ভেতরে জনমত তার বিপক্ষে যেতে পারে।

    অন্যদিকে, হঠাৎ করে ‘বিজয় ঘোষণা’ দিয়ে সরে আসার কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ইরান আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা। বর্তমানে ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক কৌশল অব্যাহত রেখেছে।

    সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক—সব দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

  • রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ-এ জরুরি বৈঠকে বসেন আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

    ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    বৈঠকের আগে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

    এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদের বৈঠকে কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    বৈঠক থেকে ইরানের প্রতি চারটি প্রধান আহ্বান জানানো হয়—
    প্রথমত, সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে।
    দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
    তৃতীয়ত, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
    চতুর্থত, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া বৈঠকে লেবাননে ইসরাইলি হামলারও সমালোচনা করা হয়েছে এবং তা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

  • ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর আরও বড় সামরিক আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দশ দিন পর মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হতে পারে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা Dan Caine বলেন, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নির্দেশে চলমান অভিযানে অংশ নিয়ে যেসব মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

    তিনি জানান, বর্তমান অভিযানে তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনী। প্রথমত, সম্ভাব্য হামলার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে যেন ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আঘাত হানতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

    জেনারেল কেইন আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যে মাত্রায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছিল ইরান, এখন তা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ইরানের মাইন স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই যাবে এবং ইরানের তথাকথিত ‘পারমাণবিক চাপ’ মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।

    এর আগে প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি Strait of Hormuz-এ তেল পরিবহন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানবে।

    বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হেগসেথ বলেন, সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সতর্ক। কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

    ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত—এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন—এমন খবরের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধটি কতদিন চলবে বা কখন শেষ হবে—সে সিদ্ধান্ত মূলত প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।

  • ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের সময়কাল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

    রোববার টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—ইরানকে ঘিরে এই সামরিক অভিযান আর কতদিন চলতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি অনেকটাই পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর সঙ্গে তার নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে শেষ সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়েই তা জানানো হবে। সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

    এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আশা করছেন চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরদিনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেন, সংঘাত ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    ব্যর্থ কূটনীতি, শুরু সামরিক অভিযান

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময় ইসরায়েলও নিজস্ব সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম Operation Roaring Lion

    পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত প্রায় দশ দিন ধরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।

  • ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, বাইরের শক্তির মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা বদলানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

    রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বার্ষিক সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ধরনের ‘কালার রেভল্যুশন’ বা পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারবে না। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

    ওয়াং ই বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধের কোনো ইতিবাচক ফল নেই এবং শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী সমাধানও সম্ভব নয়। বরং সামরিক সংঘাত মানুষের মধ্যে ঘৃণা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দেয়।

    তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার এই অঞ্চলের মানুষেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শক্তিশালী হওয়া মানেই যে সব সময় সঠিক হওয়া—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকে আবার ‘জঙ্গলের আইনের’ দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে শক্তিই সবকিছু নির্ধারণ করে। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এতটাই দৃঢ় যে বাহ্যিক হামলার মাধ্যমে তা দ্রুত ভেঙে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

    সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই হত্যার ঘটনায়ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন ওয়াং ই।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি সব পক্ষকে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।