Tag: ইরান যুদ্ধ

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের কাছে পর্যাপ্ত নাও থাকতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে—সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলেও ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সহজ হবে না। তবুও মার্কিন প্রশাসন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা বিমান হামলার কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র দ্রুত কমে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কংগ্রেস সদস্যদের এক বন্ধদ্বার বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কিছু স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে আসছে যে, ইরান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো আলোচনার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

    বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    তবে তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এই ইস্যুতে গত এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত জুনে, যখন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ইরানের সরকারি দপ্তর, সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। বোমা হামলার প্রথম দিন একটি স্কুলে আঘাত হানলে ১৬৮ জন কিশোরীর মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই চালানো হয়েছিল।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ডানপন্থী নেতাদের সম্মেলন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকান সামিট’-এ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অভিযানে ইরানের বহু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের নৌ ও বিমান সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও টেলিযোগাযোগেও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোমা হামলা চললেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো শেষ পর্যন্ত তাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণের দিকেই অগ্রসর হতে পারে।

  • ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে আগের মন্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন অবস্থান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; যতদিন প্রয়োজন, ততদিন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শেষ হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

    যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত

    তবে সেই বক্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকে ভিন্ন বার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ জানান, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই যুদ্ধ প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
    তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করা নয়।

    তার ভাষায়, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও সীমিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রে হামলার আশঙ্কা

    ইরানে সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এমন ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

    ইতিমধ্যে নিহত মার্কিন সেনা

    ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের বাস্তবতা হলো প্রাণহানি ঘটে এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সংঘাতে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।