যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পারমাণবিক হুমকি’ তালিকায় পাকিস্তান—তুলসি গ্যাবার্ডের সতর্কবার্তায় চাঞ্চল্য
সিনেট শুনানিতে চীন-রাশিয়া-ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ


এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ঝুঁকি তৈরি করছে এমন দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তানের নামও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। বুধবার (১৮ মার্চ) মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে গ্যাবার্ড জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম। এসব প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, এসব দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে আন্তঃমহাদেশীয় সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা বোঝার চেষ্টা করছে, যাতে নিজেদের অস্ত্র উন্নয়নে তা কাজে লাগানো যায়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, আগামী দশকে এই হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বর্তমানের প্রায় ৩ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নীতির ধারাবাহিকতা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক সুজা নওয়াজের মতে, অতীতেও পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত ভারতের সঙ্গে সামরিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে নয়।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সাধারণত পাকিস্তানকে নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেও এই ধরনের মূল্যায়ন তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে এককভাবে নয়, অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্যাবার্ড আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য বড় হুমকি। প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মির অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতা দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরান প্রসঙ্গে গ্যাবার্ড বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কিছুটা চাপে থাকলেও তেহরান এখনো সক্রিয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।
শুনানিতে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মাইকেল বেনেট-এর মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেনেট।




