Tag: ক্ষেপণাস্ত্র

  • বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    এবিএনএ:বহু বছর ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি। তিনি বলেন, ইরান এখনো তার সব কৌশলগত সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজন হলে নতুন ‘কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।

    হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। তার দাবি, বর্তমানে বহু জাহাজ ওই প্রণালির আশপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইরানি জাহাজগুলোও বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বোরুজের্দি বলেন, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে তেহরান আপস করবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

    এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

    পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন এবং ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

  • মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র ইরান নিজেই এবং তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।

    বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের শেষ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইরান তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে।

    ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে। তবে তেহরানের দৃষ্টিতে এসব উদ্যোগ বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল। তিনি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনাকে ‘প্রতারণামূলক’ উল্লেখ করে বলেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতা ছিল না এবং পরে তারা সামরিক হামলা চালায়।

    এবার একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা নতুন প্রস্তাবকেও ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ শর্ত

    ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে—

    ১. শত্রুপক্ষকে সব ধরনের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
    ২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
    ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
    ৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

    ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই শর্তগুলো আগের আলোচনায় উত্থাপিত দাবির সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

    তিনি আরও বলেন, ইরান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ করবে—যুক্তরাষ্ট্রের সময়সূচি বা চাপে নয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রায় ৮০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

  • ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে অস্বস্তিতে ইসরায়েল—গোপন চুক্তির শর্তে বাড়ছে নতুন শঙ্কা

    ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে অস্বস্তিতে ইসরায়েল—গোপন চুক্তির শর্তে বাড়ছে নতুন শঙ্কা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প যেকোনও চুক্তিতে ইসরায়েলের স্বার্থ বিবেচনায় রাখবেন, তবুও সম্ভাব্য সমঝোতার খুঁটিনাটি নিয়ে সংশয় কাটছে না।

    রামাল্লাহ থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ধারণা করা হচ্ছে—ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ছাড় দিতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এর আগে এক মাসের জন্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ। এটি কি তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, নাকি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে দেওয়া হবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। পাশাপাশি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও বড় একটি অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

    ইসরায়েল জানতে চাইছে, ভবিষ্যতে ইরান কি নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে না—এমন নিশ্চয়তা কতটা পাওয়া সম্ভব? একই সঙ্গে, তারা আশঙ্কা করছে ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব বিষয় এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে তারা চায়, যেকোনও চুক্তির আগে প্রয়োজন হলে ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর মতো সময় যেন হাতে থাকে।

  • ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Israel-এ আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৯ জনে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে Iran এবং United States-এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে টানা ২১ দিন আলোচনা চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালিয়ে ইরানে হামলা শুরু করে।

    এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei, নিরাপত্তা কর্মকর্তা Ali Larijani এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার Mohammad Pakpour। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংঘাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা জোরদার করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

  • যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পারমাণবিক হুমকি’ তালিকায় পাকিস্তান—তুলসি গ্যাবার্ডের সতর্কবার্তায় চাঞ্চল্য

    যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পারমাণবিক হুমকি’ তালিকায় পাকিস্তান—তুলসি গ্যাবার্ডের সতর্কবার্তায় চাঞ্চল্য

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ঝুঁকি তৈরি করছে এমন দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তানের নামও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। বুধবার (১৮ মার্চ) মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

    বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে গ্যাবার্ড জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম। এসব প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, এসব দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে আন্তঃমহাদেশীয় সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা বোঝার চেষ্টা করছে, যাতে নিজেদের অস্ত্র উন্নয়নে তা কাজে লাগানো যায়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, আগামী দশকে এই হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বর্তমানের প্রায় ৩ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নীতির ধারাবাহিকতা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক সুজা নওয়াজের মতে, অতীতেও পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত ভারতের সঙ্গে সামরিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে নয়।

    দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সাধারণত পাকিস্তানকে নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেও এই ধরনের মূল্যায়ন তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে এককভাবে নয়, অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গ্যাবার্ড আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য বড় হুমকি। প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মির অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতা দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    ইরান প্রসঙ্গে গ্যাবার্ড বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কিছুটা চাপে থাকলেও তেহরান এখনো সক্রিয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।

    শুনানিতে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মাইকেল বেনেট-এর মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেনেট।

  • ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে ইরানচীন-এর মধ্যে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনাবেচার সম্ভাব্য সমঝোতা। একাধিক কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি সিএম–৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। এমন সময়েই এই আলোচনা জোরালো হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম–৩০২ কম উচ্চতায় ও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম, যা জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে। এই অস্ত্র যুক্ত হলে ইরানের নৌ-আক্রমণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং উপসাগরীয় জলপথে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে।

    সূত্রগুলো জানায়, গত জুনে ইসরাইল–ইরান সীমিত উত্তেজনার পর থেকেই আলোচনা নতুন গতি পায়। এই প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেইজিং সফর করেছেন। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে, দাম কত এবং সরবরাহের সময়সূচি—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।

    এদিকে হোয়াইট হাউস ও বেইজিং—উভয় পক্ষের কাছেই মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    চুক্তিটি কার্যকর হলে এটি হবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন-এর উন্নত জাহাজ-বিধ্বংসী প্রযুক্তি ইরানে সরবরাহের বড় উদাহরণ। জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই এমন লেনদেন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব-বিস্তারের টানাপোড়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। বিমানবাহী রণতরী USS Abraham LincolnUSS Gerald R. Ford-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং তেহরানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী।

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ইসরায়েলের ওপর ইরান ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। বুধবার ইসরায়েলি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে শুরু করে ইরান এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে শত শত ড্রোন, যার অধিকাংশই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

    এই হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৮০০ জনেরও বেশি। এছাড়া প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে অন্তত ৩ হাজার ৮০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

    অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। তেহরানের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক বিশ্বসংস্থা দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তাল, এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মোসাদের সদর দপ্তরে আগুন

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মোসাদের সদর দপ্তরে আগুন

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেগুলোয় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর সদরদপ্তরে আগুন দেখা যাচ্ছে।

    ইরানের রেভ্যলুউশনারি গার্ডকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থাটি বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে আক্রান্ত মোসাদ। সংবাদ সংস্থাটি টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে বলেছে, ‘সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স ফাইটাররা একটি কার্যকর অভিযানে সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রে আঘাত করেছে।’

    মোসাদ কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি। এ সব বিষয়ে সরকারি যে বিধিনিষেধ আছে তাতে ইসরায়েলের সংবাদ মাধ্যম কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে পারে না।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের শহর হার্জলিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। উপকূলীয় শহরটিতে অবস্থিত একটি ‘স্পর্শকাতর’ স্থান নিশানা করা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ‘স্পর্শকাতর’ স্থান বলতে সাধারণত কোনো সামরিক বা কৌশলগত স্থানের ইঙ্গিত দেয়।

    গত শুক্রবার ইরানের ওপর এক নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ পরমাণু বিজ্ঞানী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত হন। তেহরান দাবি করেছে, হামলায় ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। এরপর শনিবার রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছিল ইসরায়েল ও ইরান। এতে উভয় দেশেই বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সেদিনই ইরান মোট ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলে। অন্তত ২২টি এলাকায় আঘাত হেনেছে এই মিসাইল ও ড্রোন। এখনো দুই পক্ষা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।  দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।