Tag: মধ্যপ্রাচ্য সংকট

  • ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর ঘিরে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন হলে জাহাজগুলোকে মাঝপথে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর বন্দরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরান জানায়, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।

    এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি হামলার নির্দেশ নয়। বরং প্রথমে কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। যদি তেহরান অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরবর্তী ধাপে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, হরমুজ অবরোধে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে। তবে কোন দেশগুলো এতে অংশ নেবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    তিনি আরও বলেন, ইরানে এখনো যেসব লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ বক্তব্যকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

    ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যে টোল আরোপের কথা বলছে তা চাঁদাবাজির শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ ইরানকে অর্থ প্রদান করবে সেগুলোকে আটক করা হতে পারে।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সেই ব্যর্থ আলোচনার পরপরই হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন ট্রাম্প।

  • ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি না আসায় চুক্তিহীনভাবে বৈঠক শেষ হয়।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া বৈঠক রাতভর চলার পর রোববার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মূল ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য কাটেনি। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি তোলে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। এই দুই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ইরানকে জানানো হয়।

    তবে ইরানি প্রতিনিধিরা এসব শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পাল্টা দাবি জানান, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও জোর দেন তারা।

    দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়া তারা এই পদক্ষেপ নেবে না।

    বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা। পারমাণবিক ইস্যু দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক থেকে কোনো সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠক: সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, যুদ্ধের পর নতুন মোড়

    ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠক: সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, যুদ্ধের পর নতুন মোড়

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা। এবার আর কোনো মধ্যস্থ বার্তা নয়—দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি বসে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজছেন। আলোচনায় পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখছেন।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা সরাসরি সংলাপে অংশ নেন। এতে আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অপরদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। দুই পক্ষের সঙ্গে আরও কয়েকজন শীর্ষ কূটনীতিকও অংশ নিয়েছেন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর টানা ৪০ দিন উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও শুরু থেকেই তা ছিল নড়বড়ে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

    এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। তিনি জানান, সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মুখোমুখি বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার। তারা ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ উত্তেজনার পর এই সরাসরি আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। তবে আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে।

  • ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুরুতে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। বিশেষ করে NATO সদস্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখানোয় ওয়াশিংটন অস্বস্তিতে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা প্রস্থান কৌশল না থাকায় এখন চাপে পড়েছে হোয়াইট হাউস। সাবেক কূটনীতিক Aaron David Miller মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের মতে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য। কিন্তু মিত্রদের অনীহা এবং আন্তর্জাতিক চাপ এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। যদিও স্থলযুদ্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন—তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের ভেতরে জনমত তার বিপক্ষে যেতে পারে।

    অন্যদিকে, হঠাৎ করে ‘বিজয় ঘোষণা’ দিয়ে সরে আসার কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ইরান আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা। বর্তমানে ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক কৌশল অব্যাহত রেখেছে।

    সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক—সব দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

  • রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ-এ জরুরি বৈঠকে বসেন আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

    ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    বৈঠকের আগে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

    এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদের বৈঠকে কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    বৈঠক থেকে ইরানের প্রতি চারটি প্রধান আহ্বান জানানো হয়—
    প্রথমত, সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে।
    দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
    তৃতীয়ত, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
    চতুর্থত, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া বৈঠকে লেবাননে ইসরাইলি হামলারও সমালোচনা করা হয়েছে এবং তা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরানি হামলা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার দাবি ওঠে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে।

    পরবর্তীতে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জর্ডান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ রাডার কেন্দ্রগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কুয়েতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি

    কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে হামলার ফলে একাধিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ের পাশের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এছাড়া ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত অন্তত ছয়টি স্যাটেলাইট রাডোম ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্প বুহরিং এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

    শুয়াইবা বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর ছয়জন রিজার্ভ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    বাহরাইনে নৌবহরের সদরদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত

    বাহরাইনের রাজধানী মানামার জুফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে রাডার ডোম, গুদামঘর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত

    আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সামরিক কম্পাউন্ড, রাডার ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে জেবেল আলী বন্দরের মার্কিন নৌ স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কাতারের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

    কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে পরিচিত, সেখানেও একাধিকবার হামলা হয়েছে। একটি বড় বিস্ফোরণে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকারী রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জর্ডানে গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস

    জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি ধ্বংস হওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

    জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের অন্তত ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।

    সৌদি আরবেও হামলার প্রভাব

    সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হলেও একটি রাডার সাইটে আগুন ধরে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলা

    ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি এবং উত্তর ইরাকের ইরবিল বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাগদাদের ভিক্টোরিয়া বেসেও ড্রোন আক্রমণের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। শারজাহ ও দুবাইয়ের কয়েকটি বেসামরিক এলাকায়ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষতি হয়েছে।

    আরও হামলার লক্ষ্যবস্তু

    ওমানের দুকম বন্দরে থাকা মার্কিন নৌ স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাইপ্রাসের আক্রোটিরি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

    একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি সামরিক, কূটনৈতিক এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর প্রায় অর্ধেকের সমান।

    হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪০ জনের মতো আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক হাব, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে অকার্যকর করে দেওয়া।

  • ইরানের ড্রোন হামলায় আবু ধাবির শিল্পাঞ্চলে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

    ইরানের ড্রোন হামলায় আবু ধাবির শিল্পাঞ্চলে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী Abu Dhabi-তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানে আবু ধাবির Ruwais Industrial City এলাকায়। এতে শিল্পাঞ্চলের একটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।

    আবু ধাবির সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোনের আঘাতে শিল্পাঞ্চলের একটি স্থাপনায় আগুন লাগে। আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তবে এই হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

    অন্যদিকে UAE Ministry of Defence জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশিরভাগ হামলাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর থেকে ইরানি বাহিনী নিয়মিতভাবে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে।

    এ ধরনের হামলার ফলে Qatar, Kuwait, United Arab Emirates এবং Bahrain-এ হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

  • ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর আরও বড় সামরিক আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দশ দিন পর মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হতে পারে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা Dan Caine বলেন, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নির্দেশে চলমান অভিযানে অংশ নিয়ে যেসব মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

    তিনি জানান, বর্তমান অভিযানে তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনী। প্রথমত, সম্ভাব্য হামলার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে যেন ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আঘাত হানতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

    জেনারেল কেইন আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যে মাত্রায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছিল ইরান, এখন তা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ইরানের মাইন স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই যাবে এবং ইরানের তথাকথিত ‘পারমাণবিক চাপ’ মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।

    এর আগে প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি Strait of Hormuz-এ তেল পরিবহন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানবে।

    বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হেগসেথ বলেন, সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সতর্ক। কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

    ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত—এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন—এমন খবরের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধটি কতদিন চলবে বা কখন শেষ হবে—সে সিদ্ধান্ত মূলত প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আকাশপথে ধাক্কা: সোমবারও বাতিল ১৮ ফ্লাইট, বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আকাশপথে ধাক্কা: সোমবারও বাতিল ১৮ ফ্লাইট, বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আকাশপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর জেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বহু ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে।

    রোববার (৮ মার্চ) একদিনেই ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একইসঙ্গে সোমবার (৯ মার্চ) নির্ধারিত আরও ১৮টি ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ঢাকা থেকে এসব দেশের গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, আকাশপথে এই অচলাবস্থার কারণে গত কয়েক দিনে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
    ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। রোববার (৮ মার্চ) আবারও ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার যেসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে তার মধ্যে কুয়েতগামী ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার শারজাহগামী ৬টি, বাহরাইনের গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসের ৪টি ফ্লাইট রয়েছে।

    সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২০টি। এতে করে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

    বিমানবন্দর সূত্র বলছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।