Tag: মধ্যপ্রাচ্য সংকট

  • চুক্তিতে না এলে ইরানের জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’, আলোচনার আগেই ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    চুক্তিতে না এলে ইরানের জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’, আলোচনার আগেই ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    তবে আলোচনার আগেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির জন্য ‘ভয়াবহ কিছু’ অপেক্ষা করছে।

    ইরান প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং একই সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। তার ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে তা হবে ইতিবাচক, কিন্তু ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি ইরানের জন্য ভালো হবে না।

    এদিকে প্রশ্ন উঠেছে—এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ঠিক কী চাইছে? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি প্রধান দাবি তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম মজুদ শূন্যে নামিয়ে আনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং হুতি, হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা।

    ইরান এসব শর্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। দেশটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত বা স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে তারা রাজি নয়।

    এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া তথ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান প্রয়োজনে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার পথেও যেতে পারে। ফলে তুরস্কে আসন্ন বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরদারি ও উত্তেজনা দুইই বাড়ছে।

  • ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইউরেনিয়াম মজুদ শূন্য, মিসাইল শক্তিতেও লাগাম দাবি

    ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইউরেনিয়াম মজুদ শূন্য, মিসাইল শক্তিতেও লাগাম দাবি

    এবিএনএ: ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় সামরিক হামলার ঝুঁকি এড়ানো যাবে না।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করতে চায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং সেই সীমার বাইরে কোনো নতুন মিসাইল উৎপাদন নিষিদ্ধ করা। পাশাপাশি দেশটির ইউরেনিয়াম মজুদ সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবিগুলো নিয়ে বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে এসব শর্ত মেনে নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সম্মতির সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে।

    আলজাজিরা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো দিচ্ছে, ইরান তা মানার কাছাকাছিও নেই। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে, যা সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো করছে।

    অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে প্রয়োজনে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও স্পষ্ট করেছে দেশটি।

  • সমুদ্রের তলদেশে লুকানো শত শত মিসাইল! যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়ে গোপন সুড়ঙ্গ প্রকাশ করল ইরান

    সমুদ্রের তলদেশে লুকানো শত শত মিসাইল! যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়ে গোপন সুড়ঙ্গ প্রকাশ করল ইরান

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নতুন বার্তা দিল ইরান। দেশটি প্রথমবারের মতো সমুদ্রের তলদেশে থাকা তাদের গোপন মিসাইল সুড়ঙ্গের তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো হামলা হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকবে না।

    বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নৌ শাখার প্রধান আলীরেজা তাঙসিরি পানির নিচে অবস্থিত একটি মিসাইল সুড়ঙ্গ পরিদর্শন করছেন। সেখানে সারিবদ্ধভাবে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ক্রুস মিসাইল।

    নৌ কমান্ডার তাঙসিরি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে অবস্থানরত বিদেশি নৌবহর মোকাবিলায় সমুদ্রের নিচে বিস্তৃত মিসাইল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। এসব সুড়ঙ্গে শতাধিক নয়, বরং কয়েকশ মিসাইল মজুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষায়, এসব মিসাইল প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে ‘কাদের ৩৮০ এল’ নামের মিসাইলগুলোতে আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আঘাতের মুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারে।

    এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরান যদি বড় ধরনের হামলা এড়াতে চায়, তবে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই মিসাইল সুড়ঙ্গ প্রকাশ এবং ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর হুমকি— দুই মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

  • ইরানের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল যুদ্ধবহর, আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    ইরানের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল যুদ্ধবহর, আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান যদি নতুন করে হামলা এড়াতে চায়, তাহলে দ্রুত আলোচনায় এসে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।

    ট্রাম্প বলেন, ইরানকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে আরও কঠোর ও ভয়াবহ।

    তার ভাষায়, “একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর এখন ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এর নেতৃত্বে থাকা বহরটি ভেনেজুয়েলায় পাঠানো ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ রণতরীর নেতৃত্বাধীন নৌবহরের চেয়েও বড়।”

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত এবং পরিস্থিতি দাবি করলে দ্রুত ও মারাত্মক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।

    উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, তখনকার অভিযানে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি এবারও আলোচনায় না আসে, তাহলে পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ। সময় প্রায় শেষ। সমাধানের সুযোগ এখনও আছে, কিন্তু দেরি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

    এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    এবিএনএ: ইরানের বর্তমান ইসলামিক সরকার চরম চাপে রয়েছে এবং তাদের ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে—এমনই মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। এসব গোপন তথ্য সরাসরি জানানো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের পতনের পর এই প্রথমবার ইরানের শাসনব্যবস্থা এতটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, জনসমর্থন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে এই তথ্য জানানো হয়, যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নতুন করে বিবেচনা করছেন। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। মাঝখানে কিছুটা নরম অবস্থান নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার আগ্রাসী কৌশলে ফিরেছেন ট্রাম্প।

    মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জনঅসন্তোষ বেড়েছে, যা সরকারকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যেগুলোতে টোমাহকসহ আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • ইরান ইস্যুতে হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের: সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত কেন?

    ইরান ইস্যুতে হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের: সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত কেন?

    এবিএনএ:  ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এমন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে না।

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিচার বিভাগ ৮৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ—এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশটির প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধসহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনা মোতায়েন করে।

    বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থনের বার্তা দেন। গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় ৯০০ আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তিনি প্রকাশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন।

    পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার মুখে ইরান সরকার সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখে। তখন এই সিদ্ধান্তের জন্য ইরানকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প।

  • হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হলে শুধু নিজ ভূখণ্ড নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে তেহরান এমন প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান, সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলের ভৌগোলিক এলাকা ইরানের দৃষ্টিতে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ও কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে। এক নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।

    নাসিরজাদেহ আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলায় সহযোগিতা করা কোনো দেশকেও ছাড় দেওয়া হবে না; তারাও ইরানের প্রতিরোধের আওতায় আসবে।

    তিনি দাবি করেন, গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষে সৃষ্ট ক্ষতি ইতোমধ্যে পুষিয়ে নিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দেশটির সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হুমকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

  • ইরানে বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কী? সরকারের নীরবতায় ছড়াচ্ছে ভয়াবহ ‘প্রোপাগান্ডা’

    ইরানে বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কী? সরকারের নীরবতায় ছড়াচ্ছে ভয়াবহ ‘প্রোপাগান্ডা’

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিক্ষোভে প্রকৃত কতজন নিহত হয়েছেন—এ বিষয়ে ইরান সরকারের নীরবতা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    সরকারিভাবে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ধরনের দাবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে এবং সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইরানে চলমান সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি সরকারি কর্মকর্তার বরাত দেওয়া হলেও, তার পরিচয় বা পদবি উল্লেখ না থাকায় তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম একই সূত্রে খবরটি প্রচার শুরু করে। ফলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে আলোচনা আরও তীব্র হয়।

    এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ আরও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে ধরে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাতেই অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। পোর্টালটি দাবি করেছে, নিরাপত্তা সংস্থা, হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের পরিবারের বক্তব্য বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।

    এর আগে মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’ এক প্রতিবেদনে জানায়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইরানি চিকিৎসক দাবি করেছেন—এক রাতেই তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরান সরকার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, বিক্ষোভকারীরা ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ করেছে। তার দাবি, কোনো প্রকৃত ইরানি নাগরিক কখনও মসজিদে হামলা চালাতে পারে না।

    ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ইসফাহান প্রদেশেই ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন প্রাদেশিক গভর্নর আলী আহমাদি।

    তিনি আরও জানান, সশস্ত্র দাঙ্গায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুও নিহত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহানের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি মসজিদে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    এছাড়া পার্শ্ববর্তী ফার্স প্রদেশে দাঙ্গায় অন্তত ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহীদ ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা। পুলিশ স্পেশাল ইউনিট কমান্ডার জেনারেল মাসুদ মোদাক্কও জানিয়েছেন, সংঘর্ষে তার ইউনিটের আটজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারি নীরবতা ও বিপরীতমুখী আন্তর্জাতিক দাবির কারণে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যযুদ্ধ ও প্রোপাগান্ডার অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে।

  • ইরানে ভয়াবহ সহিংসতা: বিক্ষোভে পুড়ল অর্ধশতাধিক মসজিদ, ধ্বংস ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স

    ইরানে ভয়াবহ সহিংসতা: বিক্ষোভে পুড়ল অর্ধশতাধিক মসজিদ, ধ্বংস ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স

    এবিএনএ: অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে উত্তাল ইরান এখন গভীর অস্থিরতার মুখে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী সহিংস রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান সরকার। সাম্প্রতিক সহিংসতায় অর্ধশতাধিক মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং অন্তত ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

    সোমবার তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভের নামে যেসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা ইরানি সমাজ ও সংস্কৃতির পরিপন্থী। তার ভাষায়, “কোনো প্রকৃত ইরানি নাগরিক কখনো মসজিদে আগুন দিতে পারে না।”

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিক্ষোভকারীরা কেবল সরকারি ভবন নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবার যানবাহনকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। সম্প্রতি তেহরানের আবুজার মসজিদে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মুখোশধারীদের ভাঙচুর করতে দেখা যায়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৯ জানুয়ারি ওই মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    এদিকে সহিংসতার বিপরীতে সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে আয়োজিত সমাবেশে তারা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়।

    এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জবাবে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

    তবে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রয়োজনে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেল সচল রয়েছে।

  • “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চলেছে— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি ঘিরে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি দিলেন ধোঁয়াশাপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর।

    এক সাংবাদিক জানতে চান, “যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে?”
    এর জবাবে ট্রাম্প বলেন,
    “আমি এ বিষয়ে কিছু বলছি না… আপনি কি সত্যিই ভাবছেন যে আমি এমন প্রশ্নের জবাব দেব?”

    তিনি আরও বলেন,
    “আপনি জানেন না আমি কী করব। আমি হামলা চালাতেও পারি, নাও চালাতে পারি। কেউ জানে না আমি আসলে কী করতে যাচ্ছি।”
    এই বক্তব্যে যেন উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢাললেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্প আরও বলেন,
    “ইরান এখন অনেক সমস্যায় আছে। তারা আলোচনা করতে চায়। আমি আগেই বলেছিলাম— কেন তারা আগেই আমার সঙ্গে বসেনি? এত প্রাণহানি, এত ধ্বংসের আগেই তো আলোচনার সুযোগ ছিল। তারা যদি দুই সপ্তাহ আগে কথা বলত, তাহলে তাদের একটা দেশ থাকত।”

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সম্ভাবনা এড়িয়ে না গিয়ে বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন। তাঁর কথায় রয়েছে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ছায়া, যা পরমাণু উত্তেজনার সময় আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।