ইরানে ভয়াবহ সহিংসতা: বিক্ষোভে পুড়ল অর্ধশতাধিক মসজিদ, ধ্বংস ১৮০ অ্যাম্বুলেন্স

এবিএনএ: অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে উত্তাল ইরান এখন গভীর অস্থিরতার মুখে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী সহিংস রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান সরকার। সাম্প্রতিক সহিংসতায় অর্ধশতাধিক মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং অন্তত ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

সোমবার তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভের নামে যেসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা ইরানি সমাজ ও সংস্কৃতির পরিপন্থী। তার ভাষায়, “কোনো প্রকৃত ইরানি নাগরিক কখনো মসজিদে আগুন দিতে পারে না।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিক্ষোভকারীরা কেবল সরকারি ভবন নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবার যানবাহনকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। সম্প্রতি তেহরানের আবুজার মসজিদে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মুখোশধারীদের ভাঙচুর করতে দেখা যায়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ৯ জানুয়ারি ওই মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এদিকে সহিংসতার বিপরীতে সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে আয়োজিত সমাবেশে তারা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জবাবে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তবে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রয়োজনে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেল সচল রয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *