Tag: মধ্যপ্রাচ্য সংকট

  • ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে আগের মন্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন অবস্থান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; যতদিন প্রয়োজন, ততদিন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শেষ হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

    যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত

    তবে সেই বক্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকে ভিন্ন বার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ জানান, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই যুদ্ধ প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
    তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করা নয়।

    তার ভাষায়, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও সীমিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রে হামলার আশঙ্কা

    ইরানে সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এমন ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

    ইতিমধ্যে নিহত মার্কিন সেনা

    ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের বাস্তবতা হলো প্রাণহানি ঘটে এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সংঘাতে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

  • আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান থেকে আমিরাতের দিকে মোট ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

    তার দাবি, নিক্ষেপ করা অধিকাংশ অস্ত্রই আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভূপাতিত করা হয়, ১৩টি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হানে। পাশাপাশি আটটি ড্রোন ও আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিরোধ করা হয়েছে।

    হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।

    মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনও আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমিরাত সংরক্ষণ করে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের এই বিস্তার উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

  • বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল। ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর বরাতে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। সেখানে ঘাঁটির ভেতরে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

    বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত এই মার্কিন বিমানঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১ মার্চ থেকে ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এতে কমান্ড সেন্টার ও প্রশাসনিক ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ইরানি সূত্রের দাবি।

    তবে হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা পাল্টা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    এবিএনএ: ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার তৃতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে তেহরান। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বহু দেশে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের ভেতরের চিত্র

    রাজধানী **তেহরান**সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি বেড়েছে। মধ্যাঞ্চলের সানান্দাজ শহরেও হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তার

    ভোরের দিকে আবুধাবি ও **দোহা**য় বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। কাতার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার এয়ারওয়েজ সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
    এদিকে ওমান উপকূলে একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত-এ মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়; শোধনাগারের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এসেছে। বাহরাইন বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে হামলার পর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

    ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানে তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। মার্কিন পক্ষ হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানে উত্তাপ

    সংঘাতের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন-এর রাজধানী **বৈরুত**সহ বিভিন্ন এলাকায়; বিমান হামলায় বহু হতাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। **সিরিয়া**তে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেসামরিকরা আহত হয়েছেন। জর্ডান আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    ভূমধ্যসাগরে নতুন মাত্রা

    ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস-এ অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। রয়্যাল এয়ার ফোর্স পরিচালিত আক্রোতিরি ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমিত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব ইসরায়েলে: বেইত শেমেশে নিহত ৯, বহু আহত

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডব ইসরায়েলে: বেইত শেমেশে নিহত ৯, বহু আহত

    এবিএনএ: ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের বেসামরিক এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার রাতে বেইত শেমেশ শহরে আঘাত হানলে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

    ঘটনার পরপরই ইসরায়েলের জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা মেগান ডেভিড অ্যাডম উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের বের করতে উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। গুরুতর আহতদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো যাচাই করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় বেসামরিক প্রাণহানি বাড়ছে—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও তীব্র হচ্ছে।

    সংঘাতের উত্তাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অবিলম্বে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

  • কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত: প্রাণ গেল ১ জনের, আহত অন্তত ৩২—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত: প্রাণ গেল ১ জনের, আহত অন্তত ৩২—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের হামলায় কুয়েতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। কুয়েতের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববারের হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে; আহতদের বড় অংশই বিদেশি নাগরিক।

    কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, শনিবার ও রোববারের ধারাবাহিক হামলায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি বিভাগগুলোতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে।

    ইরান দাবি করছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-কে ঘিরে উত্তেজনার কথাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। পাল্টা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।

    এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রাণহানির খবর মিলেছে। ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ জানিয়েছে, সেখানে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন; অন্যরা নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিক।

    আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বহু ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছে; এর একটি অংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

    অন্যদিকে, সংঘাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত: আটকে পড়া যাত্রীদের রাত কাটানোর ব্যবস্থা নেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়

    মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত: আটকে পড়া যাত্রীদের রাত কাটানোর ব্যবস্থা নেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জেরে ঢাকা থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু যাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য রাত কাটানোর ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শনিবার রাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি সহায়তার জন্য বিমানবন্দরের নির্ধারিত ডেস্ক ও লাউঞ্জে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    বিমান চলাচলে হঠাৎ স্থগিতাদেশে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা। সন্ধ্যার পর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত যাত্রী অনিশ্চয়তায় অপেক্ষা করছেন। অনেকে জানাচ্ছেন, কতদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তারা বিমানবন্দরেই থাকবেন নাকি অস্থায়ীভাবে কোথাও আশ্রয় নেবেন—এ নিয়ে দ্বিধায় আছেন।

    বিভিন্ন এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী ফ্লাইটে টিকিট রিশিডিউলের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ভিসার মেয়াদ নিয়ে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি ও চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।

    সরকারি সূত্র জানায়, যাত্রীদের অস্থায়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় খাবার ও প্রাথমিক সহায়তা দিতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আকাশপথ নিরাপদ হলেই ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • ইরানে আগে আঘাত ইসরাইলের—তাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ? ট্রাম্প উপদেষ্টাদের কৌশল ফাঁস

    ইরানে আগে আঘাত ইসরাইলের—তাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ? ট্রাম্প উপদেষ্টাদের কৌশল ফাঁস

    এবিএনএ: ইরানকে লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইসরাইল যেন প্রথম আঘাত হানে—এমন কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ মহলে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-র বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি অংশ মনে করছে, ইসরাইল আগে হামলা করলে পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্র-এর জড়ানো রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক সুবিধাজনক হবে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। সে ক্ষেত্রে মিত্রদেশের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানে গেলে দেশটির ভেতরে জনসমর্থন আদায় সহজ হবে—এমন হিসাব কষছেন ট্রাম্প শিবিরের কিছু নীতিনির্ধারক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আগে ইসরাইল আঘাত হানলে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।

    পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান ইস্যুতে আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে আশঙ্কা—শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাত এড়ানো নাও যেতে পারে। সম্ভাব্য দৃশ্যপটে তেহরানে যৌথভাবে মার্কিন-ইসরাইল হামলার কথাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

    এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রসঙ্গে বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—ইরাক আক্রমণের পর থেকে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি মোতায়েন রয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন করে সংঘাত ছড়ালে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে।

    প্রতিবেদনে উদ্বেগের জায়গাটিও তুলে ধরা হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অস্ত্র ও মনোযোগ ব্যস্ত হয়ে পড়লে চীন সুযোগ নিয়ে তাইওয়ান ইস্যুতে আগ্রাসী অবস্থান নিতে পারে। পাশাপাশি, ইরানে বড় পরিসরে হামলা হলে তেহরান নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

    একাধিক সূত্র বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হলে তা শুধু ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। ফলে ট্রাম্প শিবিরের ভেতরে “আগে ইসরাইল, পরে যুক্তরাষ্ট্র”—এই কৌশল নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবতায় তা কতটা এগোয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

  • গাজা পুনর্গঠনে বৈশ্বিক উদ্যোগ—ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক আজ

    গাজা পুনর্গঠনে বৈশ্বিক উদ্যোগ—ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক আজ

    এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সভাপতিত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই বৈঠকে গাজার ভবিষ্যৎ কাঠামো, মানবিক সহায়তা প্রবাহ, পুনর্গঠন তহবিলের পরিমাণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ—এসব ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হামাসের অস্ত্রসমর্পণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার প্রশ্নটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।

    সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অবস্থিত United States Institute of Peace-এর নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে যুক্ত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই প্রতিষ্ঠানেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক তহবিল গঠনের ঘোষণা আসতে পারে বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত তহবিলের মধ্যে উপসাগরীয় আরব মিত্রদের অবদান উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে United Arab EmiratesKuwait প্রত্যেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    তবে বোর্ড অব পিসে ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও ফিলিস্তিনি পক্ষের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই নতুন প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি United Nations-এর কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। কয়েকটি দেশ থেকে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে শান্তি রক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বোর্ড অব পিসের এই প্রথম বৈঠক শুধু গাজার পুনর্গঠন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • যুদ্ধ বাধলে আর থামবে না—যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    যুদ্ধ বাধলে আর থামবে না—যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আর কোনো যুদ্ধবিরতির সুযোগ থাকবে না। বুধবার এক বক্তব্যে ইরানের প্রভাবশালী নেতা মোহসিন রেজাই বলেন, আলোচনার পথ বেছে নেওয়াই যুক্তিসংগত; তবে সংঘাত চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি হবে দীর্ঘস্থায়ী।

    সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক হয়। আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ছিল মূল এজেন্ডা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও আলোচনায় আনতে চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে কড়া হুমকি দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘খুব কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরোক্ষ আলোচনার পাশাপাশি প্রকাশ্য হুমকি-ধমকির এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সমঝোতার পথে অগ্রগতি না হলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।