ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত
সিএম–৩০২ কেনা নিয়ে বেইজিং–তেহরানের আলোচনা জোরালো; পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবহরের জন্য বাড়তে পারে ঝুঁকি


এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে ইরান ও চীন-এর মধ্যে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনাবেচার সম্ভাব্য সমঝোতা। একাধিক কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি সিএম–৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। এমন সময়েই এই আলোচনা জোরালো হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম–৩০২ কম উচ্চতায় ও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম, যা জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে। এই অস্ত্র যুক্ত হলে ইরানের নৌ-আক্রমণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং উপসাগরীয় জলপথে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে।
সূত্রগুলো জানায়, গত জুনে ইসরাইল–ইরান সীমিত উত্তেজনার পর থেকেই আলোচনা নতুন গতি পায়। এই প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেইজিং সফর করেছেন। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে, দাম কত এবং সরবরাহের সময়সূচি—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।
এদিকে হোয়াইট হাউস ও বেইজিং—উভয় পক্ষের কাছেই মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে এটি হবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন-এর উন্নত জাহাজ-বিধ্বংসী প্রযুক্তি ইরানে সরবরাহের বড় উদাহরণ। জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই এমন লেনদেন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব-বিস্তারের টানাপোড়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln ও USS Gerald R. Ford-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং তেহরানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী।



