Tag: ভূরাজনীতি

  • ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    এবিএনএ : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক পর পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১৯৬৭ সাল থেকে জোটটির সদস্য থাকা দেশটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

    সৌদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়েছে। যদিও বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার দিকে কেন্দ্রীভূত।

    উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তোষ

    দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের নির্ধারিত তেল উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল আমিরাত। দেশটির অভিযোগ, এই সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছিল না, যা সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ওপেকে থাকার যৌক্তিকতা আর দেখছিল না আবুধাবি।

    আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি আরবকে এতদিন জোটটির নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, আর উৎপাদন সীমা নিয়ে আমিরাত এটিকে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখত।

    নেতৃত্বের দূরত্বও স্পষ্ট

    সাম্প্রতিক এক উপসাগরীয় সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে ওপেক ছাড়ার ঘোষণা—এই দুটি ঘটনাকে কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়ছে।

    ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সময়ে আমিরাত আরও কিছু আন্তর্জাতিক জোট বা সংগঠন থেকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    পুরনো দ্বন্দ্ব আরও জোরালো

    ইতোমধ্যে সুদান ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। তার সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমিরাতের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    এবিএনএ:হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আসার পর তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। রসিকতার সুরে তারা বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টে জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস ব্যঙ্গ করে জানায়, তারা নাকি ‘চাবি হারিয়ে ফেলেছে’। একই ধরনের পোস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের কূটনৈতিক মিশন মন্তব্য করে, ‘চাবি ফুলের টবের নিচে রাখা—শুধু বন্ধুদের জন্য খোলা।’ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি চালু না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও মিলছে।

    এদিকে ইরান পাল্টা সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালানোর কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।

    চলমান উত্তেজনায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  • ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে ইরানচীন-এর মধ্যে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনাবেচার সম্ভাব্য সমঝোতা। একাধিক কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি সিএম–৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। এমন সময়েই এই আলোচনা জোরালো হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম–৩০২ কম উচ্চতায় ও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম, যা জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে। এই অস্ত্র যুক্ত হলে ইরানের নৌ-আক্রমণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং উপসাগরীয় জলপথে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে।

    সূত্রগুলো জানায়, গত জুনে ইসরাইল–ইরান সীমিত উত্তেজনার পর থেকেই আলোচনা নতুন গতি পায়। এই প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেইজিং সফর করেছেন। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে, দাম কত এবং সরবরাহের সময়সূচি—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।

    এদিকে হোয়াইট হাউস ও বেইজিং—উভয় পক্ষের কাছেই মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    চুক্তিটি কার্যকর হলে এটি হবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন-এর উন্নত জাহাজ-বিধ্বংসী প্রযুক্তি ইরানে সরবরাহের বড় উদাহরণ। জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই এমন লেনদেন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব-বিস্তারের টানাপোড়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। বিমানবাহী রণতরী USS Abraham LincolnUSS Gerald R. Ford-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং তেহরানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী।

  • নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে অন্তত তিনজন উপদেষ্টা নির্বাচন পেছানোর নানা কৌশলে সক্রিয় ছিলেন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরেকজন উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল পরিস্থিতিনির্ভর; তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা রেখে সময় পার করেছেন বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই গোষ্ঠীর কৌশলের অংশ হিসেবে মব সন্ত্রাসকে উসকে দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে চাপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল।

    শুরুর দিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। পরে সংস্কারের বিস্তৃত প্রস্তাব সামনে এলে দ্রুত ভোটের পথ থেকে তিনি সরে আসেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে—এই সংস্কার-আলোচনার আড়ালে ক্ষমতার সময় বাড়ানোর হিসাব-নিকাশ ছিল, যেখানে তিন উপদেষ্টার চাপ বড় ভূমিকা রাখে।

    উপদেষ্টাদের যুক্তি ছিল, দ্রুত ভোট হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে এবং অপ্রত্যাশিত শক্তি সুবিধা নিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই যুক্তির পেছনে ছিল নিজেদের প্রভাব দীর্ঘায়িত করা এবং নির্দিষ্ট শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কৌশল। জনচাপ ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার চাপও সিদ্ধান্ত বদলে প্রভাব ফেলে।

    পর্দার আড়ালে নিয়মিত বৈঠক, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশি কূটনৈতিক মহলে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে উপদেষ্টাদের প্রভাব একসময় এতটাই বেড়ে যায় যে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন। লন্ডনে হওয়া বৈঠককে কেন্দ্র করে নির্বাচনমুখী হওয়ার প্রক্রিয়া এগোলেও তা ভেস্তে দিতে নানা মহলের তৎপরতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে।

    দেশের ভেতর থেকেও নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই—এমন চাপ আসতে থাকে। তবু নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা থামে না। প্রশাসনিক শৈথিল্য ও সহিংসতার ঘটনায় সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ কয়েকটি ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরিতে পৌঁছানো নিয়ে রহস্যের কথাও উঠে আসে।

    রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো শুরু থেকেই নির্বাচনমুখী অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সেনাবাহিনী সতর্ক ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নানা আলামত দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে—উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিদেশ সফরে গিয়ে কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন, জনমত জরিপ প্রভাবিত করার চেষ্টাও হয়েছে।

    নির্বাচনের দিনেও নির্দিষ্ট আসনের দিকে নজর ছিল একটি গোষ্ঠীর। তবে ফলাফল আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে তারা। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে—নির্বাচন বিলম্বের পেছনে কেবল প্রশাসনিক অজুহাত নয়, ছিল ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ ও পর্দার আড়ালের রাজনীতি।

  • দিল্লির দৃষ্টিতে তারেক রহমান: নতুন অধ্যায়ের শুরু, নাকি কৌশলগত অনিশ্চয়তা?

    দিল্লির দৃষ্টিতে তারেক রহমান: নতুন অধ্যায়ের শুরু, নাকি কৌশলগত অনিশ্চয়তা?

    এবিএনএ: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় এবং দলের নেতৃত্বে তারেক রহমান সামনে আসা—এই পরিবর্তনকে দিল্লি কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-তে বিশ্লেষক চন্দ্রশেখর শ্রীনিভাসন বিষয়টি নানা দিক থেকে পর্যালোচনা করেছেন।

    বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ফেরার পর প্রথম জনসমাবেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর বিখ্যাত উক্তির ছায়ায় নিজের রাজনৈতিক রূপরেখার ইঙ্গিত দেন। এতে দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে—তারেক রহমানের ‘পরিকল্পনা’ আসলে কী এবং তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে।

    বিএনপির জয়ের পর দ্রুতই দিল্লির প্রতিক্রিয়া আসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানান—যা কূটনৈতিক ভাষায় একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশকে ঘিরে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যে কৌশলগত টানাপোড়েন রয়েছে, এই শুভেচ্ছা বার্তা সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    দিল্লির দৃষ্টিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে। ভারত আশঙ্কা করছে, নতুন নেতৃত্ব যদি দিল্লির তুলনায় বেইজিং ও ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। সেই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনমনে গড়ে ওঠা ভারতবিরোধী মনোভাবও দিল্লির ভাবনার তালিকায় আছে।

    বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ থাকছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সুফল মেলে। তাই দিল্লি এখন নতুন সরকারের কূটনৈতিক দিকনির্দেশনার দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছে।

    আগের শাসনামলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশের নেতৃত্ব পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি গড়তে আগ্রহী বলে বিশ্লেষকদের মত। তারেক রহমান ভারতের স্বার্থকে সম্মান করার ইঙ্গিত দেওয়ায় দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এক ধরনের অপেক্ষামান মনোভাব তৈরি হয়েছে—দেখা যাক, কথার প্রতিফলন নীতিতে কতটা আসে।

    সব মিলিয়ে দিল্লির কাছে এটি এখন ‘অপেক্ষার খেলা’। সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—সহযোগিতার নতুন অধ্যায় নাকি কৌশলগত সতর্কতা—তা নির্ভর করবে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

  • ভারত-ইসরায়েল ও পাকিস্তান-সৌদি নতুন চুক্তি: ভূরাজনীতিতে কার লাভ, কার সংকেত?

    ভারত-ইসরায়েল ও পাকিস্তান-সৌদি নতুন চুক্তি: ভূরাজনীতিতে কার লাভ, কার সংকেত?

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি অস্থিরতার মধ্যেই নতুন সমীকরণ তৈরি করছে ভারত-ইসরায়েল ও পাকিস্তান-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক চুক্তি। একদিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা জোট—এই দুই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘বাইল্যাটেরাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে ভারত। এর লক্ষ্য হলো দুই দেশের ব্যবসায়িক আস্থা বৃদ্ধি, রপ্তানি ও বিনিয়োগে গতি আনা এবং ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ করিডর (আইএমইসি) সচল রাখা। এই করিডরকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের পাল্টা বাণিজ্য রুট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে চুক্তিটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে।

    অন্যদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি সরকার। ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স প্যাক্ট’ নামে এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা বহন করছে।

    পাকিস্তান অতীতে সৌদির কাছ থেকে বড় আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল। আর এখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর হলো। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একক নিরাপত্তা ভরসা হিসেবে দেখার নীতি থেকে সরে এসে সৌদি নতুন অংশীদার খুঁজছে।

    অন্যদিকে ভারত-ইসরায়েল চুক্তি ইসরায়েলকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে কিছুটা স্থিতি এনে দেবে, আর ভারত বাড়াবে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহযোগিতা। একইসঙ্গে পাকিস্তান-সৌদি চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

    দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন চুক্তিগুলো কেবল বাণিজ্য বা সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

  • এসসিও সম্মেলনে করমর্দন ও হাসিতে শি–পুতিন–মোদির শক্ত বার্তা

    এসসিও সম্মেলনে করমর্দন ও হাসিতে শি–পুতিন–মোদির শক্ত বার্তা

    এবিএনএ:  বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনের সময়েই এক ভিন্ন দৃশ্য উপহার দিল সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলন। চীনের তিয়ানজিনে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনে ক্যামেরাবন্দি হলো তিন প্রভাবশালী নেতার করমর্দন ও হাসিমুখ—চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন পুতিন ও মোদি। দু’জন একসঙ্গে হাত ধরে ঢুকেই এগিয়ে যান শি জিনপিংয়ের দিকে। মুহূর্তেই তৈরি হয় এক আন্তরিক পরিবেশ। তিন নেতা করমর্দন করেন, হাসিমুখে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। অনুবাদকসহ ঘিরে থাকা কর্মকর্তাদের মাঝেও তাদের উষ্ণ সম্পর্ক চোখে পড়ে। আলোচনার এক পর্যায়ে পুতিন হেসে ওঠেন, আর মোদিও অট্টহাসিতে সাড়া দেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি একটি ভিডিও প্রচার করেছে যেখানে দেখা যায়, পুতিন ও মোদি যখন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। টিভি সম্প্রচারে তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেও দেখানো হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দৃশ্য নিছক সৌজন্য নয়, বরং তা বহন করছে বড় রাজনৈতিক বার্তা। শি-পুতিনের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্ব রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো এক নতুন জোটের। আর মোদির উপস্থিতি দেখিয়েছে, ভারতও এই ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চায়।

    ভারতের তক্ষশিলা ইনস্টিটিউশনের ইন্দো-প্যাসিফিক স্টাডিজের প্রধান মনোজ কেওয়ালরামানি বলেন, “কোনো সম্মেলনের ভেতরের ছোট ছোট দৃশ্য কখনো কখনো বড় বার্তা দেয়। এবারও তাই হয়েছে। হোয়াইট হাউসকে বুঝতে হবে তাদের নীতিই অন্য দেশগুলোকে বিকল্প মঞ্চে ঠেলে দিচ্ছে।”

    এ সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশ অংশ নিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা বাণিজ্য যুদ্ধই আজ একাধিক দেশকে এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে এবং চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।