Tag: যুক্তরাষ্ট্র

  • ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান: এক আইনেই বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র

    ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান: এক আইনেই বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র

    এবিএনএ: ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন আইনকে কেন্দ্র করে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। গত জুলাইয়ে পাস হওয়া ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে অভিবাসন নীতিকে নতুন করে সাজিয়ে আরও কঠোর কাঠামোতে নিয়ে যান তিনি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আইনি অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং আর্থিক সংকট।

    আইনের নতুন সংশোধনীতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরিত অর্থের ওপর ‘রেমিট্যান্স কর’ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে আশ্রয়ের সব আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে ১৯টি দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পর্যালোচনা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠিন করা হয়েছে। দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, ইরান, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, লিবিয়া, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, মিয়ানমারসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ।

    কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ‘বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ নির্বাসন অভিযান’ পরিচালনার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়াই অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও নির্বাসন কার্য সম্পাদন করা হচ্ছে।

    আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কার্যক্রম এখন কেবল অভিবাসন আইনেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা সীমান্ত সুরক্ষা, কাস্টমস এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৬৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে আইসিই গ্রেপ্তার বা নজরদারিতে রেখেছে। এমনকি বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিং হাউস।

    ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক কৌশলের সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার হরণের শামিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শতাব্দি প্রাচীন এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট ব্যবহার করে ট্রাম্প অভিবাসন নীতিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই লাখ ইউক্রেনীয় অভিবাসী এখন আইনি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। তাদের কাজের অনুমতি নবায়নে দেরি হওয়ায় অনেকেই চাকরি ও বসবাসের অধিকার হারিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি কর্মী থেকে শুরু করে শিক্ষক, ডিজাইনার, শিক্ষার্থীরাও এখন অনিশ্চয়তায়।

    মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে এখন জরুরি অবস্থা কার্যকর। সান দিয়াগোসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় আগে যে দৃশ্যগুলো দেখা যেত, ট্রাম্পের কঠোর নীতির পর তা এখন প্রায় অদৃশ্য। সীমান্ত পার হওয়ার ঝুঁকি কমলেও মানবিক সংকট বেড়েছে বহুগুণ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের একটি বড় পরীক্ষা।

  • ইরাক আগ্রাসনের নেপথ্যের স্থপতি ডিক চেনি আর নেই

    ইরাক আগ্রাসনের নেপথ্যের স্থপতি ডিক চেনি আর নেই

    এবিএনএ: ইরাক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি আর নেই। দীর্ঘদিন নিউমোনিয়া ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগে সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চেনি দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যা ও ফুসফুসজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

    ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডিক চেনি। তার আগে, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জর্জ বুশ সিনিয়রের অধীনে প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

    রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে চেনি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া, তিনি দীর্ঘ সময় হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    নাইন-ইলেভেন হামলার পর চেনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অন্যতম নকশাকার। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের পেছনেও ছিল তাঁর দৃঢ় সমর্থন ও কৌশলগত ভূমিকা।

    ডিক চেনির মৃত্যুতে মার্কিন রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটল। বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর বিতর্কিত কিন্তু প্রভাবশালী ভূমিকা আজও আলোচিত।

  • বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে পারমাণবিক উত্তেজনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—আসলে কোন দেশের হাতে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র?

    আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীতে মোট নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল। এর মধ্যে পারমাণবিক শক্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে রাশিয়া।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হাতে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯টি ওয়ারহেড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০। এরপর চীন (৬০০), ফ্রান্স (২৯০), যুক্তরাজ্য (২২৫), ভারত (১৮০), পাকিস্তান (১৭০), ইসরায়েল (৯০) ও উত্তর কোরিয়া (৫০)।

    এসআইপিআরআই জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিবছর দেশটি গড়ে ১০০টির বেশি নতুন ওয়ারহেড তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন অনুমান করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের হাতে থাকবে অন্তত ১ হাজার পারমাণবিক অস্ত্র।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পুরোনো কিছু ওয়ারহেড সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেললেও, সেগুলো এখনো পুনরায় সচল করা সম্ভব বলে জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’।

    গত সপ্তাহে রাশিয়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এমনকি পানির নিচে চলা এক ড্রোনও পরীক্ষা করেছে দেশটি, যা উপকূলীয় শহরে তেজস্ক্রিয় সুনামি তৈরি করতে পারে। পুতিনের দাবি, এই ড্রোন শনাক্ত বা প্রতিরোধ করা কার্যত অসম্ভব।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আমেরিকার পরীক্ষাগুলো পারমাণবিক বিস্ফোরণ নয়, বরং অস্ত্রের প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা যাচাইয়ের অংশ। তিনি বলেন, “এগুলোকে আমরা বলি ‘নন-ক্রিটিক্যাল এক্সপ্লোশন’, অর্থাৎ যেখানে প্রকৃত পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ঘটানো হয় না।”

    এই মুহূর্তে বিশ্ব যেন আবারও ঠান্ডা যুদ্ধের ছায়ায় দাঁড়িয়ে—যেখানে পারমাণবিক শক্তির প্রতিযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

  • ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, ট্রাম্প সেই গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “আমরা দেশের মাদক সন্ত্রাস বন্ধ করতে মার্কিন শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।”

    গত সপ্তাহে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক নিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    তবে ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, “না, আমরা কোনো সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না,”— এমন উত্তরই দেন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, যখন তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে যাত্রা করছিলেন।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য এটি বড় হুমকি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “মিয়ামি হেরাল্ডে প্রকাশিত তথাকথিত সূত্রভিত্তিক সংবাদ সম্পূর্ণ ভুয়া।”

    এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়া দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত।”

  • ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ:  ৩৩ বছর পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরছে ওয়াশিংটন।

    বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প এই নির্দেশ জারি করেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অন্য দেশগুলো যখন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও সমান ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, “রাশিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে এবং চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাবে।” তবে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দেননি। এতে স্পষ্ট নয় যে, তিনি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষার কথা বলেছেন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লাইট টেস্টের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৪৫ সালে। সেই থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশটি মোট ১,০৩২টি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। একই বছর তারা সর্বশেষ পরীক্ষা চালায় এবং পরে সিটিবিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কখনও তা অনুমোদন করেনি।

    বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, চীনের পারমাণবিক ভান্ডার গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে চীনের হাতে প্রায় ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০টির কাছাকাছি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

    বিশ্বে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্দোতে প্রথম ২০ কিলোটন শক্তির বোমা পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। একই বছরের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতি ঘটে।

    এবার ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই পথেই হাঁটছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: “মোদি দেখতে সুন্দর, কিন্তু তিনি একজন খুনি!”

    ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: “মোদি দেখতে সুন্দর, কিন্তু তিনি একজন খুনি!”

    এবিএনএ: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ায় এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন,

    “প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর মানুষদের একজন। তাকে দেখে মনে হয় যেন আপনি তাকে পিতার মতো ভালোবাসতে চাইবেন। কিন্তু মোদি হলেন একজন খুনি, অত্যন্ত কঠোর মানুষ।”

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।


    ট্রাম্প বর্তমানে এশিয়া সফরে রয়েছেন এবং এপেক সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া গেছেন। ওই সফরের অংশ হিসেবে তিনি ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন,

    “আমি সেই যুদ্ধ থামিয়েছিলাম। আমি দুই দেশকেই অনুরোধ করেছিলাম যুদ্ধ বন্ধ করতে, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এরপর আমি জানাই, যুদ্ধ চললে আমরা তাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করব না। শেষ পর্যন্ত তারা আমার কাছে এসে যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ করে।”


    তিনি আরও বলেন,

    “আমি ভারতের সঙ্গে বড় একটি বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মোদির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। তারা দুজনই শক্তিশালী মানুষ, কিন্তু তখন পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছিল।”

    ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত হওয়ায় পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।
    তিনি বলেন,

    “আমি মোদিকে বলেছিলাম—যুদ্ধ চালালে কোনো চুক্তি হবে না। পরে পাকিস্তানকেও একই কথা বলেছি। দুদিনের মধ্যেই তারা যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়।”

  • ট্রাম্পের পরমাণু ধ্বংসের দাবিতে খামেনির কটাক্ষ: ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন’

    ট্রাম্পের পরমাণু ধ্বংসের দাবিতে খামেনির কটাক্ষ: ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন’

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করেছে—এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘স্বপ্নের মতো কল্পনা’ আখ্যা দিয়ে খামেনি বলেন, “এমন দাবি বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। স্বপ্ন দেখতেই থাকুন!”

    সোমবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে খামেনি আরও বলেন, “ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে—এই কথা বলা নিছক এক মনগড়া গল্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য কেবল তাদের মানসিক কল্পনার বহিঃপ্রকাশ।”

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কী করা হবে বা হবে না—এই নির্দেশ দেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে কে দিয়েছে?”

    খামেনির এই প্রতিক্রিয়া আসে এমন সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, আর তেহরান তা ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে দাবি করছে।

    ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী একযোগে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানসহ গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে। এসব অভিযানে স্টেলথ বোমার ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তার দাবি।

    তবে ইরান সে দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত এবং ট্রাম্পের বিবৃতি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়।

    এদিকে, হামলার পর ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে ২৪ জুন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে সংঘাত আপাতত থেমে যায়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই কটাক্ষ শুধু ট্রাম্পকেই নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধেও এক প্রতীকী প্রতিক্রিয়া।

  • ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    ট্রাম্পের দাবির জবাবে ভারতের কড়া ব্যাখ্যা: “মোদির সঙ্গে কোনো ফোনালাপই হয়নি”

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার ঝড়। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ হয়েছে এবং মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এমন কোনো ফোনালাপই হয়নি।

    সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমার জানা মতে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে কোনো ফোনালাপ হয়নি।”

    ট্রাম্পের দাবি ছিল, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির বিষয়টি শিগগিরই বন্ধ করবে ভারত এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে মোদির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তবে নয়াদিল্লি জানায়, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু ভারত তার নিজস্ব জ্বালানি স্বার্থ ও ভোক্তা নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন।

    ভারত বর্তমানে রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনে আগ্রাসনের খরচ জোগাচ্ছে। তাই ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ভারত, চীন ও জাপান রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করুক, যাতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়।

    তবে দিল্লির বার্তা পরিষ্কার—ভারতের জ্বালানি নীতি ভারতের স্বার্থেই নির্ধারিত হবে, বাইরের চাপ নয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে মিসরে পৌঁছালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে মিসরে পৌঁছালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সামনে রেখে মিসরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার বিকেলে ইসরায়েল সফর শেষ করে তিনি মিসরের শার্ম আল-শেখে অবতরণ করেন।

    এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ২০ জন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

    সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই সফরকে বিশ্লেষকরা অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

    শার্ম আল-শেখে এই সম্মেলনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সম্মেলনে ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সফর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    এবিএনএ:  দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে মিসরে। এই বৈঠকে অংশ নিয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি দল, যার মাধ্যমে নতুন করে শান্তির আশার আলো দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

    আজ সোমবার আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, হামাসের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাসিত নেতা খলিল আল-হায়া, যিনি সম্প্রতি কাতারে ইসরায়েলি হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান। এই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক সোমবার মিশর পৌঁছান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

    সূত্র জানায়, ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হামাস এর কিছু শর্তে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল।

    ট্রাম্প হামাসের ইতিবাচক সাড়া স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত, এবং হামাসও সেটি প্রমাণ করেছে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে গাজায় বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানান, যদিও তেল আবিব এখনো তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।

    আলোচনার স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত শার্ম আল-শেখ, যেখানে প্রতিনিধিরা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। মিসরের কূটনৈতিক এক কর্মকর্তা জানান, এবার ধাপে ধাপে নয়, বরং একবারেই চূড়ান্ত একটি চুক্তির দিকে এগোতে চান তারা।

    অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবিসি নিউজকে বলেন, “এই আলোচনা সপ্তাহ নয়, বরং দিনের মধ্যেই ফল দিতে হবে। আমরা দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চাই।”

    বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বৈঠক গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে—যদি উভয় পক্ষই সমঝোতার পথে এগিয়ে আসে।