Tag: যুক্তরাষ্ট্র

  • গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ‘সীমা অতিক্রম’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় লেসকুরে স্পষ্টভাবে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসী বা দখলমূলক উদ্যোগ নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।

    লেসকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিশ্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

    বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারের কিছু বেশি। জনসংখ্যার সিংহভাগই ইনুইট জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত হলেও এটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং এর বাসিন্দারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন।

    ভৌগোলিকভাবে আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় গ্রিনল্যান্ড বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। তবে ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দ্বীপটির নিচে বিপুল পরিমাণ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে।

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ না নিলে চীন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে—যা ওয়াশিংটনের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

    এই বক্তব্যের পরই ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

  • যুদ্ধ নয় সংযমের বার্তা: ইরানে হামলা না করার আশ্বাস, পাল্টা আঘাত থেকেও বিরত থাকতে বললেন ট্রাম্প

    যুদ্ধ নয় সংযমের বার্তা: ইরানে হামলা না করার আশ্বাস, পাল্টা আঘাত থেকেও বিরত থাকতে বললেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই—এমন বার্তা তেহরানকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় যেন কোনো পাল্টা হামলা না হয়, সে বিষয়ে সংযম দেখাতে ইরানকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

    পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে তিনি ট্রাম্পের এই বার্তা পান।

    ইরানি রাষ্ট্রদূত জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা থেকে স্পষ্ট—ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চায় না। বরং বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আরও কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মোঘাদাম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার ইরানের জনগণের রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ চলাকালে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে এবং ধর্মীয় স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বলেও জানান তিনি।

    সম্প্রতি ইরান নিয়ে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিলেও গত রাতে অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা দেখান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান মনে করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত থাকলেও ইরানের নেতৃত্ব তা পুরোপুরি বিশ্বাস করবে না। আলজাজিরাকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাসে আস্থা রাখা ইরানের জন্য সহজ নয়।

  • হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হলে শুধু নিজ ভূখণ্ড নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে তেহরান এমন প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান, সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলের ভৌগোলিক এলাকা ইরানের দৃষ্টিতে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ও কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে। এক নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।

    নাসিরজাদেহ আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলায় সহযোগিতা করা কোনো দেশকেও ছাড় দেওয়া হবে না; তারাও ইরানের প্রতিরোধের আওতায় আসবে।

    তিনি দাবি করেন, গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষে সৃষ্ট ক্ষতি ইতোমধ্যে পুষিয়ে নিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দেশটির সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হুমকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

  • ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    এবিএনএ: ইরানের চলমান বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারে। তখন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও বর্তমানে ইরানে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ নিশ্চিত নন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপেক্ষা ও অনুমানের মধ্যেই সময় কাটছে।

    রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি একাধিক কঠোর বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন। মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে তাকে বিস্তারিত অবহিত করবেন বলে জানা গেছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের ‘সাফল্য’ ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তিনি সেই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইরান প্রশ্নেও সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

    এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এবার সরাসরি হামলা, লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ কিংবা সাইবার ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী গোপন অভিযানের মতো বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হবে ইরানের শাসন কাঠামোকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করা। তবে ভেনেজুয়েলার মতো দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা ইরানের ক্ষেত্রে কম।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান ভেনেজুয়েলার মতো রাষ্ট্র নয়। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও সংকট সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একজন নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালালেই পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

    ট্রাম্প সম্প্রতি ১৯৮০ সালে ইরানে ব্যর্থ মার্কিন অভিযানের উদাহরণ টেনে সতর্কতার কথাও বলেছেন। সেই অভিযানের ব্যর্থতা শুধু সামরিক ক্ষতিই নয়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করেছিল। ওই অভিজ্ঞতা এখনো ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছায়া ফেলছে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক উইল টডম্যানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শাসন পরিবর্তনের চেয়ে ইরানের আচরণে প্রভাব ফেলতে চায়। এর মধ্যে পারমাণবিক আলোচনায় ছাড় আদায়, দমনপীড়ন বন্ধ এবং সংস্কারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ খোলার চেষ্টা থাকতে পারে।

    ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে আলোচনায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, প্রকাশ্য বক্তব্য ও গোপন বার্তার মধ্যে ফারাক রয়েছে। এ কারণে কূটনীতি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    তবে বিক্ষোভে রক্তপাত অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক উদ্যোগ দুর্বলতার বার্তা দিতে পারে বলেও মত রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, সীমিত সামরিক অভিযান বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগাতে পারে এবং শাসকদের জন্য কঠোর সতর্কতা হয়ে উঠবে। আবার একই সঙ্গে এটি শাসনব্যবস্থাকে আরও ঐক্যবদ্ধও করতে পারে।

    এই সব ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ট্রাম্পের হুমকিতে অনড় হাভানা: ‘কিউবা কারও নির্দেশে চলে না’—দিয়াজ-কানেলের কড়া জবাব

    ট্রাম্পের হুমকিতে অনড় হাভানা: ‘কিউবা কারও নির্দেশে চলে না’—দিয়াজ-কানেলের কড়া জবাব

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিয়েছে কিউবা। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কিউবা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—কোনো বিদেশি শক্তির চাপ বা নির্দেশ তারা গ্রহণ করবে না।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কিউবাকে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার সহায়তায় টিকে ছিল, যা এখন আর অব্যাহত থাকবে না।

    এই বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, কিউবা মুক্ত ও সার্বভৌম দেশ। আমাদের কী করা উচিত, তা বাইরের কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায় কিউবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর থেকেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ তেল কিউবায় যেত, তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দেশটিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

    মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিউবান নাগরিকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি উঠেছে। কিউবার দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে তাদের অন্তত ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    এদিকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকেও কিউবা নিয়ে কঠোর বক্তব্য আসছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো চুক্তির শর্ত বা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–কিউবা সম্পর্ককে আরও সংঘাতমুখী করে তুলছে।

  • চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: কিউবাকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেরি হলে কিউবাকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর বিনিময়ে কিউবা ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে এসেছে, যা এখন আর চলবে না।

    ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কিউবার দিকে আর কোনো তেল কিংবা অর্থ প্রবাহিত হবে না—সবকিছু শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। তিনি কিউবান নেতৃত্বকে ‘খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের চুক্তি বা কী পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

    এদিকে কিউবা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের সময় তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তাদের ‘সাহসী যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্মান জানানোর ঘোষণা দেন।

    ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানে ওই কিউবানদের অধিকাংশই নিহত হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার আর আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এখন দেশটির পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ এই হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিউবান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

  • রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    এবিএনএ: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন কৌশলগত সমীকরণের আভাস মিলছে। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন মোড়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

    তবে এই তেল বাণিজ্য প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে পুরো লেনদেনের ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর নজরদারি থাকবে।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছিল। নয়াদিল্লিকে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিকবার কূটনৈতিক চাপও দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলকে বিকল্প হিসেবে সামনে এনে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতার পথ খুলে যায়। এর আওতায় কয়েক কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর হাতে যাবে না। বরং একটি নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই অর্থ দেশটির জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

    ভারতের জন্য এই প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশটির পরিশোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে অভ্যস্ত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েক বছর ধরে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও একসময় ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম বড় ক্রেতা।

    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা শুধু নিজেদের নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর কাছেও ভেনেজুয়েলার তেল পৌঁছে দিতে চায়। তবে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কেউ তেল পরিবহনের চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস।

  • মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সম্প্রতি একটি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য।

    ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাচাদো জানান, গত অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “তখনই আমি বিশ্বাস করেছিলাম, তিনি এই পুরস্কারের উপযুক্ত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।”

    ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন মাচাদো। তিনি বলেন, “৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে একটি অনন্য দিন হয়ে থাকবে। এটি শুধু আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ।”

    নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাচাদোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একত্র করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন।

    তবে মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক দেশ এই ঘটনাকে আগ্রাসন, বলপ্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন। নোবেল পাওয়ার পর মাদুরো তাঁকে কটাক্ষ করে ‘ডাইনি’ বলেও আখ্যা দেন।

    ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন, মাদুরোর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।

    এদিকে, মাচাদো কবে ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডেলসি রদ্রিগেজ। শপথগ্রহণের পর তিনি মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • ট্রাম্পের প্রকাশিত তালিকায় চমক: যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পরিবার নির্ভর করছে সরকারি সহায়তায়

    ট্রাম্পের প্রকাশিত তালিকায় চমক: যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পরিবার নির্ভর করছে সরকারি সহায়তায়

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর অর্ধেকের বেশি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশিত এক তালিকায়। এতে দেখা যায়, দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের ৫৪ শতাংশেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করছে।

    স্থানীয় সময় রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের অভিবাসী পরিবার নিয়ে এ তালিকা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের নাম থাকলেও ভারতের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেন ভারতের তথ্য রাখা হয়নি, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসাভাড়া সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দিয়ে থাকে।

    প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, সহায়তা গ্রহণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ভুটানের অভিবাসী পরিবার—যাদের ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি সহায়তা পায়। এরপর রয়েছে ইয়েমেন (৭৫ দশমিক ২ শতাংশ) এবং সোমালিয়া (৭১ দশমিক ৯ শতাংশ)।

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারগুলোই সবচেয়ে বেশি সহায়তা গ্রহণ করছে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে আফগানিস্তানের অভিবাসী পরিবারের ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানের ৪০ দশমিক ২ শতাংশ এবং নেপালের ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার সরকারি সহায়তা পাচ্ছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    এবিএনএ: এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে বিদেশি সরকার পরিবর্তনের কৌশল, যা ‘রেজিম চেঞ্জ’ নামে পরিচিত। গবেষণায় উঠে এসেছে, এই নীতির ফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়েছে বিপর্যয়কর।

    জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ডাউন্স তাঁর গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ১৮১৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ১২০ বার বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল।

    সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এই তালিকায় দেশটির ৩৬তম সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে একের পর এক দেশে হস্তক্ষেপ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও সহিংসতায় ডুবে গেছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফরেন ইমপোজড রেজিম চেঞ্জ’। গবেষণা অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্তত ২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালায় ধারাবাহিকভাবে তিনটি সরকার উৎখাতের ঘটনাও এর বড় উদাহরণ।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত ব্যর্থতা ইরাক ও আফগানিস্তান। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে দেশটি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ায় সুন্নি ও শিয়া গোষ্ঠীর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার ফল হিসেবে উত্থান ঘটে আইএসের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর।

    অন্যদিকে, দুই দশকের যুদ্ধ ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর শেষ পর্যন্ত তালেবানের হাতেই আফগানিস্তানের ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।

    ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে লাখো মানুষ শরণার্থী হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন করে বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    অধ্যাপক ডাউন্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেজিম চেঞ্জ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো—সরকার পতনের পর সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেঙে পড়া এবং বিদেশি শক্তির সমর্থিত নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা না থাকা।

    ইতিহাস বলছে, বিভক্ত সমাজ ও দুর্বল গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকা দেশগুলোতে রেজিম চেঞ্জ কখনোই স্থিতিশীলতা বয়ে আনে না। ইরাক, লিবিয়া কিংবা ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই প্রমাণ।