রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কাঠামোয় ভেনেজুয়েলার তেল ভারতের বাজারে আনার পরিকল্পনা; বদলাতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সমীকরণ


এবিএনএ: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন কৌশলগত সমীকরণের আভাস মিলছে। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন মোড়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
তবে এই তেল বাণিজ্য প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে পুরো লেনদেনের ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর নজরদারি থাকবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছিল। নয়াদিল্লিকে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিকবার কূটনৈতিক চাপও দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলকে বিকল্প হিসেবে সামনে এনে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতার পথ খুলে যায়। এর আওতায় কয়েক কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর হাতে যাবে না। বরং একটি নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই অর্থ দেশটির জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
ভারতের জন্য এই প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশটির পরিশোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে অভ্যস্ত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েক বছর ধরে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও একসময় ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম বড় ক্রেতা।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা শুধু নিজেদের নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর কাছেও ভেনেজুয়েলার তেল পৌঁছে দিতে চায়। তবে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কেউ তেল পরিবহনের চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস।




