Tag: ভারত

  • সরকারি নির্দেশনায় পশ্চিমবঙ্গে গরুর বাজারে অস্থিরতা

    সরকারি নির্দেশনায় পশ্চিমবঙ্গে গরুর বাজারে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে গরুর বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন সরকারি বিধিনিষেধের কারণে কোরবানির পশু কেনাবেচা অনেকটাই কমে গেছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন গরু মোটাতাজাকরণে জড়িত খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

    স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর মুসলিম ক্রেতাদের একটি বড় অংশ গরু কেনায় আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী, যারা দীর্ঘ সময় ধরে ঈদ উপলক্ষে গরু লালন-পালন করেছেন।

    এ পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বক্তব্য দেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী Agnimitra Paul। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari এবং দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত তথ্য মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে বহু খামারি গরু মোটাতাজা করেন এবং এই মৌসুমে বড় ধরনের ব্যবসা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সরকারি নির্দেশনার কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সম্প্রতি রাজ্য সরকার একটি নির্দেশনা জারি করে জানায়, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি পশুর বয়সসংক্রান্ত শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর থেকেই কোরবানির পশুর বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ঈদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পশু বাণিজ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, বন্ধ হলো জুমার নামাজ

    ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, বন্ধ হলো জুমার নামাজ

    এবিএনএ: ভারতের মধ্যপ্রদেশে বহু বছর ধরে বিতর্কিত একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের ধার এলাকায় অবস্থিত কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে ভোজশালা মন্দিরের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের ফলে সেখানে মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটিতে প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র ও দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এটিকে মন্দির হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

    মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ

    এর আগে ২০০৩ সালে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (এএসআই)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে সেখানে মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করতে পারতেন। একইসঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও পূজার সুযোগ পেতেন।

    তবে সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর এখন থেকে সেখানে কেবল হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি বিজয় কুমার শুকলা ও অলোক অস্তি তাদের রায়ে বলেন, তদন্ত ও জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোজশালাটি মূলত সরস্বতী দেবীর উপাসনালয় এবং শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

    আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, বর্তমানে লন্ডনের একটি জাদুঘরে থাকা সরস্বতী দেবীর মূর্তি সেখানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

    দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি

    হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এই স্থাপনাটি প্রাচীনকালে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতী মন্দির ছিল। তাদের মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয় হওয়ায় অন্য কোনো ধর্মীয় কার্যক্রম সেখানে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়।

    অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায় বলছে, কয়েকশ বছর ধরে স্থানটি কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

    ২০২৪ সালের জরিপের পর নতুন রায়

    ধর্মীয় বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ওই স্থাপনায় জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেয়। জরিপকারী দল দাবি করে, স্থাপনাটির বিভিন্ন কাঠামো ও নিদর্শন পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।

    এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সর্বশেষ রায় দিয়েছে আদালত।

    নতুন মসজিদের জন্য জমি চাওয়ার পরামর্শ

    রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে।

    এদিকে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ভারতের ধর্মীয় রাজনীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

  • সুর থেমে গেল, ইতিহাস রইল: কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সংগীতজগতে

    সুর থেমে গেল, ইতিহাস রইল: কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সংগীতজগতে

    এবিএনএ: ভারতের প্রখ্যাত ও কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    শিল্পীর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আশা ভোঁসলে। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রোববার দুপুরে তিনি মারা যান।

    ১৯৩৩ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সঙ্গীতপ্রাণ মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তার বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও মঞ্চ ব্যক্তিত্ব। পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় আশার। কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার বড় বোন।

    কৈশোরে পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর ‘মঙ্গেশকর’ পদবি পরিবর্তন করে ‘ভোঁসলে’ গ্রহণ করেন। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; ১৯৬০ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বলিউডের খ্যাতিমান সুরকার ও গায়ক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আশা ভোঁসলে।

    সঙ্গীতজীবনে তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি কোনো এক ধারায়। শাস্ত্রীয়, আধুনিক, গজল, পপ, ক্যাবারে—সব ধরনের গানে সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। হিন্দি, বাংলা, মারাঠিসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

    অভাব-অনটনের সময় পরিবারকে সহায়তা করতে খুব অল্প বয়সেই গান গাওয়ার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন আশা। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজে বাল’-এ গান গেয়ে চলচ্চিত্র সংগীতে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান।

    সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য জীবদ্দশায় বহু সম্মাননায় ভূষিত হন আশা ভোঁসলে। ২০০০ সালে তিনি পান ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। এছাড়া ২০০৮ সালে তাকে দেওয়া হয় ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ।

    হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর প্রকাশের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি শিল্পীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রার্থনা পূরণ হয়নি।

    আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা অসংখ্য গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে যাবে।

  • একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সমর্থনের কথা জানানো হয়।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাকিস্তানি বাহিনী যে নির্মম অভিযান চালিয়েছিল, তা ছিল ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়। সেই সময় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং নারীদের ওপর সংঘটিত হয় ব্যাপক নির্যাতন।

    শরণার্থী সংকট ও মানবিক বিপর্যয়

    এই দমন-পীড়নের ফলে লাখো মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। ভারতের মতে, ওই সময়ের মানবিক বিপর্যয় শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।

    তবে ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনো ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তাই বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার চাইছে, সে দাবিকে ভারত পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

    অপারেশন সার্চলাইট: ইতিহাসের কালো অধ্যায়

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। নয় মাসব্যাপী এই দমন-পীড়নের অবসান ঘটে ১৬ ডিসেম্বর, যখন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

    এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং দুই লাখের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রচেষ্টা

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই হত্যাযজ্ঞকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও আইনসভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমর্থনও বাড়ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতি আদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য

    প্রতি বছর ২৫ মার্চ বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করা হয়।

    সরকারপ্রধান এক বার্তায় বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা কখনো ভোলার নয়।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে নতুন গতি আসতে পারে।

  • তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    এবিএনএ: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

    সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে পেট্রলের শুল্ক ১৩ টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায় এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ভোক্তা নাকি কোম্পানি—কে বেশি উপকৃত?

    এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক সরাসরি কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে দেশে জ্বালানির দাম স্থির রাখা হয়েছিল।

    এর ফলে এসব কোম্পানি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। শুল্ক কমানোর মাধ্যমে সেই ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    পটভূমি: কেন এই সিদ্ধান্ত

    গত বছর সরকার জ্বালানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে চাপ তৈরি হয়। তবুও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো থেকে বিরত থাকতে সরকার দাম বাড়ায়নি।

    ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, সরকারের সামনে দুটি পথ ছিল—একটি হলো জ্বালানির দাম বাড়ানো, অন্যটি হলো আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে জনগণকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। সরকার দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সরবরাহ পরিস্থিতি

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

    তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস

    ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

    সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে অন্তত এক মাস কোনো সংকট ছাড়াই সরবরাহ বজায় রাখা যাবে।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আপাতত বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে জ্বালানির দাম।

  • কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: গিরিখাতে পড়ে প্রাণ গেল ১০ ভারতীয় সেনার

    কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: গিরিখাতে পড়ে প্রাণ গেল ১০ ভারতীয় সেনার

    এবিএনএ: ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০ জন সেনা সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দোদা জেলার পাহাড়ি এলাকায় একটি সামরিক যান সড়ক থেকে ছিটকে গভীর গিরিখাতে পড়ে যায়। নিহত ও আহত সবাই ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য।

    স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সেনারা একটি অভিযানের অংশ হিসেবে বুলেটপ্রুফ ক্যাসপির গাড়িতে করে দোদা জেলার দিকে যাচ্ছিলেন। ভাদেরওয়া-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের খান্নি এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

    দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আহত সেনাদের দ্রুত বিমানে করে নিকটবর্তী সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মিরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহত সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  • রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    এবিএনএ: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন কৌশলগত সমীকরণের আভাস মিলছে। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন মোড়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

    তবে এই তেল বাণিজ্য প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে পুরো লেনদেনের ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর নজরদারি থাকবে।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছিল। নয়াদিল্লিকে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিকবার কূটনৈতিক চাপও দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলকে বিকল্প হিসেবে সামনে এনে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতার পথ খুলে যায়। এর আওতায় কয়েক কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর হাতে যাবে না। বরং একটি নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই অর্থ দেশটির জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

    ভারতের জন্য এই প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশটির পরিশোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে অভ্যস্ত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েক বছর ধরে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও একসময় ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম বড় ক্রেতা।

    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা শুধু নিজেদের নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর কাছেও ভেনেজুয়েলার তেল পৌঁছে দিতে চায়। তবে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কেউ তেল পরিবহনের চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস।

  • বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে—এমন এক নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ‘কোর-৫’ নামে একটি নতুন শক্তিকেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা করছেন—এমন জল্পনা ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

    মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি নথিতে এই ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রস্তাবিত এই জোট কার্যত ইউরোপপ্রধান জি৭ এবং আদর্শভিত্তিক প্রচলিত পশ্চিমা জোটগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কোর-৫ ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি থাকবে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। জি৭-এর আদলে নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ইস্যুতে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। প্রাথমিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

    যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বিকল্প বা গোপন নথির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে—এই ধারণা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপকে এই জোটের বাইরে রাখার ভাবনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, এতে রাশিয়ার প্রভাব ইউরোপে আরও জোরদার হতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কোর-৫ বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত চীন নীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।

    সব মিলিয়ে, কোর-৫ জোট আপাতত আলোচনার স্তরেই থাকলেও, এই ধারণা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে আন্তর্জাতিক মহলকে।

  • মক্কা–মদিনা মহাসড়কে ওমরাহযাত্রীদের বহনকারী বাসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত সংখ্যা বেড়ে ৪৫

    মক্কা–মদিনা মহাসড়কে ওমরাহযাত্রীদের বহনকারী বাসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত সংখ্যা বেড়ে ৪৫

    এবিএনএ: সৌদি আরবে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে ওমরাহযাত্রীদের বহনকারী একটি বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বাসটির সঙ্গে একটি ডিজেল ট্যাংকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রী মারা যান। ভারতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে পৌঁছেছে।

    রিয়াদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হায়দরাবাদ শহরের পুলিশ কমিশনার ভি. সি. সাজ্জনার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং ওই বাসে হায়দরাবাদের বহু নাগরিক ছিলেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বাসটিতে মোট ৪৬ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে মাত্র একজন জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।

    এদিকে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে ভারতীয় পুলিশ জানায়, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে জানান, মদিনাগামী বাস দুর্ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস ও জেদ্দায় কনস্যুলেট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

    মোদি তাঁর শোকবার্তায় আরও লিখেছেন, “মদিনার পথে ভারতীয় ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে যাওয়া বাস দুর্ঘটনার খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

  • দিল্লির লালকেল্লার পাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮: আতঙ্কে রাজধানী

    দিল্লির লালকেল্লার পাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮: আতঙ্কে রাজধানী

    এবিএনএ:  ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

    চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় চারপাশের মানুষ আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। বিস্ফোরণের মুহূর্তেই ধীরগতিতে চলা একটি গাড়ি মুহূর্তের মধ্যেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আশেপাশে পার্ক করা ২২টি গাড়িও ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় গাড়িটির ভেতরে যাত্রী ছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে ছিন্নভিন্ন দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটি ছিল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ, যা সিগন্যালের কাছে হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে গেছে।”

    বিস্ফোরণের পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ডেপুটি চিফ ফায়ার অফিসার এ কে মালিক জানান, “আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রাত ৭টা ২৯ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।”

    এ ঘটনায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের কমিশনার ও এনআইএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং পুরো ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।

    বিস্ফোরণের পর দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, জয়পুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। উল্লেখ্য, আজ সকালেই দিল্লির কাছের ফরিদাবাদে প্রায় ২৯শ’ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। আগামীকাল বিহারে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে বাড়ছে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ।

    মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত ১৭ শতকের ঐতিহ্যবাহী লালকেল্লা প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের গন্তব্যস্থল। এমন ঐতিহাসিক স্থানের কাছে এই বিস্ফোরণ ভারতের রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।