Tag: ভারত

  • আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৩০০

    আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৩০০

    এবিএনএ:

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমানটির ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিঞ্জরাপু।

    মন্ত্রী এক্স (পূর্বে টুইটার) এ জানান, “দুর্ঘটনার ২৮ ঘণ্টার মধ্যে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করেছে। এটি তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় অগ্রগতি।”

    তবে ঠিক কতগুলো ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। সাধারণত, বিমানে দুটি ব্ল্যাকবক্স থাকে—একটি ককপিটের সব কথোপকথন রেকর্ড করে, আর অন্যটি বিমানটির উচ্চতা, গতি, ও অবস্থানসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করে।

    এ দুর্ঘটনাকে ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিমানে থাকা ২৪২ আরোহীর মধ্যে ২৪১ জনই প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায়, যখন জানা যায় বিমানটি আহমেদাবাদের বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়ে, যেখানে আরও অন্তত ৫০ জন নিহত হন।

    বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে এএআইবি। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভারতের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহতদের প্রতি গভীর শোক জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

  • আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ২৪২ জনের কেউ বাঁচেনি, কাঁপছে ভারত

    আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা: ২৪২ জনের কেউ বাঁচেনি, কাঁপছে ভারত

    এবিএনএ:

    ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ঘটে গেল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে বিজে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ওপর। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু—সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত ২০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে অচেনা হয়ে গেছে।

    এই উড়োজাহাজটি লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ফ্লাইটে ছিলেন ২১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, ১১ জন শিশু ও ২ নবজাতকসহ মোট ২৪২ জন। তাদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ ও ১ জন কানাডীয় নাগরিক ছিলেন।

    আহমেদাবাদের মেঘানি অঞ্চলে অবস্থিত চিকিৎসকদের হোস্টেলের ডাইনিং হলে দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে বিধ্বস্ত হয় ফ্লাইটটি। ওই সময় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যানটিনে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রাণ হারান, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

    চোখে জল এনে দেওয়া দৃশ্যে হোস্টেলের ছাদে আটকে পড়ে বিমানের পেছনের অংশ, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে দগ্ধ দেহাবশেষ ও বিমানের বিভিন্ন টুকরো। দুর্ঘটনার তোলা ছবিতে দেখা যায়, ক্যানটিনের টেবিলজুড়ে খাবারের থালা-গ্লাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

    এ ঘটনাটি ২০১৩ সালে প্রথম উড়ানভর্তি এই ড্রিমলাইনারের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৪ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে যুক্ত হওয়া এই উড়োজাহাজের এমন পরিণতি অনেকের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত।

    এদিকে দুর্ঘটনার প্রভাবে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রাক-মার্কেট লেনদেনে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম এক দিনে ৮ শতাংশ কমে ১৯৬.৭৫ ডলারে নেমে আসে।

    এর ফলে বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার সিরিজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এর আগে ড্রিমলাইনার সিরিজে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কোনো রেকর্ড ছিল না, তবে এর ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজ অতীতেই বেশ কিছু মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

    এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই তৈরি করেছে গভীর শোক ও উদ্বেগ। তদন্ত শুরু হয়েছে, আর গোটা দেশ এখন অপেক্ষা করছে এর প্রকৃত কারণ জানার জন্য।

  • চিকেন নেকে রাফাল ও এস-৪০০ মোতায়েন, পূর্ব সীমান্তে ভারতের জোরালো সামরিক প্রস্তুতি

    চিকেন নেকে রাফাল ও এস-৪০০ মোতায়েন, পূর্ব সীমান্তে ভারতের জোরালো সামরিক প্রস্তুতি

    এবিএনএ :

    ভারত তার পূর্ব সীমান্তে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ করিডরে রাফাল যুদ্ধবিমান ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এটি বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চীনের কাছাকাছি হওয়ায় অঞ্চলটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, নয়াদিল্লি এখন তার কৌশলগত মনোযোগ পশ্চিম সীমান্ত থেকে সরিয়ে পূর্বাঞ্চলের দিকে কেন্দ্রীভূত করছে। বিশেষ করে চীন সীমান্তে বাড়তি উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, “পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। জাতীয় স্বার্থে যা করণীয়, তা করতে আমরা প্রস্তুত।”

    এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিলিগুড়ি করিডরে দ্রুত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠাতে রাস্তাঘাট, টানেল ও রেল সংযোগ উন্নত করার কাজ চলছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এমন একটি সময়ে এই প্রস্তুতি নিচ্ছে যখন চীন-ভারত সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে এবং পূর্ব সীমান্তে চীনের আগ্রাসী অবস্থানের জবাবে ভারত পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এই পদক্ষেপ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াবে এবং পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

  • ছত্তিশগড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৭ মাওবাদী নিহত, উত্তপ্ত বনাঞ্চল

    ছত্তিশগড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৭ মাওবাদী নিহত, উত্তপ্ত বনাঞ্চল

    এবিএনএ: 

    ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে আবারও রক্তাক্ত সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মাওবাদী অধ্যুষিত বনাঞ্চল। বুধবার (২১ মে) নারায়ণপুর জেলার ঘন জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২৭ জন মাওবাদী বিদ্রোহী

    রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডোদের অংশগ্রহণে চালানো হয় এ অভিযানের পরিকল্পনা। গভীর গোপনীয়তায় পরিচালিত এই অভিযানে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

    🔥 দীর্ঘদিনের সশস্ত্র লড়াইয়ে ফের রক্তপাত:

    মাওবাদীদের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াই দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন মাওবাদী যোদ্ধা, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ মানুষ।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ছত্তিশগড়সহ ভারতের মধ্যাঞ্চলের খনিজসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের দাবিতে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহে নতুন করে সহিংসতা বেড়ে যাচ্ছে।

    🧨 মাওবাদী আন্দোলনের পটভূমি:

    মাওবাদী বিদ্রোহের সূচনা হয় ১৯৬৭ সালে, চীনা বিপ্লবী নেতা মাও সেতুংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। এই গোষ্ঠী নিজেদের ‘নকশাল’ নামেও পরিচিত করে এবং বলছে, তারা বঞ্চিত আদিবাসীদের হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

    ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্রোহ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এক সময় ভারতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডে ১৫-২০ হাজার সশস্ত্র মাওবাদীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল।

    🚨 বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া:

    বুধবারের সংঘর্ষে নিহতদের পরিচয় এখনও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানের পর জঙ্গলে ব্যাপক তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও, বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষক এটিকে বড়সড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

    তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধুমাত্র সামরিক অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়— দরকার রাজনৈতিক সংলাপ এবং আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা।

  • কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    এবিএনএ: 

    কাশ্মীর সীমান্তে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর নতুন করে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত পাকিস্তান। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং সৈন্যরা তাদের পূর্ববর্তী শান্তিকালীন অবস্থানে ফিরে যাবে।

    পাকিস্তানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টানা চার দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ হারায় অন্তত ৭০ জন। নয়াদিল্লি হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

    এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘোষিত আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ফলে সীমান্তে ড্রোন, বিমান, কামান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ হয় এবং বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে।

    পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের মধ্যেই সব সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে।”

    ভারতের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানায়, কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘেঁষা অঞ্চলসহ সীমান্ত এলাকার অতিরিক্ত সেনা কমানো নিয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

  • কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    এবিএনএ:  কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার জেরে সীমান্তে শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন, যার মধ্যে পাকিস্তানে প্রাণ গেছে ২৬ জনের এবং ভারতে ১৫ জনের।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের চালানো বিমান হামলায় পাকিস্তানের ছয়টি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। তিনি জানান, “ভারতের বর্বরোচিত হামলা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”

    এই হামলার জবাবে বুধবার ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং মেন্ধার এলাকায় পাকিস্তান চালায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, ঘটনায় ভারতে মারা গেছেন ১৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং আহত হয়েছেন ৪৩ জন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সারা রাত ধরে গোলার শব্দে আতঙ্কে ঘুমাতে পারেননি তারা। পুঞ্চের একজন স্থানীয় সাংবাদিক জামরুদ মুঘল জানান, “রাতভর বড় বড় বিস্ফোরণ হচ্ছিল। মানুষ ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। হাসপাতাল এখন আহত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ।”

    গোলার আঘাতে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দু’দেশের সেনারা প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।

    এই ঘটনাগুলি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কাশ্মীর ইস্যুকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের উত্তপ্ত সম্পর্কের দিকে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে দুই দেশ

    যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে দুই দেশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান কৌশলগত উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ১৩১ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে, যা ‘ফরেন মিলিটারি সেলস’ পদ্ধতির অধীনে বাস্তবায়ন হবে।

    চুক্তিটি মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও উপস্থাপন করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সহায়তার ফলে ভারতের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অনেক গুণ বাড়বে। পাশাপাশি ভারত-আমেরিকার কৌশলগত বোঝাপড়া আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

    স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই সামরিক সহায়তা কেবল ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইন্দো-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়, বরং সামরিক কৌশলগত ভারসাম্যের একটি শক্ত ভিত্তিও তৈরি করবে।

    এ বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি দুই দেশের যৌথ সামরিক কৌশলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।