Tag: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

  • উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ইরান। লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

    তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রণালিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করছে তেহরান।

    ইরানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান।

    তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    এর আগে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত বন্ধ হওয়াকে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

    গত ৭ এপ্রিল ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিলেও লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় তখন প্রণালিটি কার্যত সীমিত রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পরই প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • ট্রাম্প আবারো শুল্ক বাড়ালেন: বিশ্বের দেশগুলোর আমদানি পণ্যে এবার ১৫% কর কার্যক্রম শুরু

    ট্রাম্প আবারো শুল্ক বাড়ালেন: বিশ্বের দেশগুলোর আমদানি পণ্যে এবার ১৫% কর কার্যক্রম শুরু

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বজনীন আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের সকল দেশের পণ্য আমদানি করার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বেড়ে গিয়েছে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১০% পারস্পরিক শুল্কটি বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প আবার নতুন করে ১০% শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দেন। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ঘোষণা করেন, এই শুল্ক আরও বাড়িয়ে বর্তমানে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে লেখেন, “আজ থেকে বিশ্বের সব দেশের ওপর আমদানি শুল্ক ১০% থেকে ১৫% করা হলো। বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যিকভাবে অসম মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ দিয়ে এসেছে এবং এর বিচার হয়নি। এখন থেকে কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী এই শুল্ক কার্যকর হবে।”

    যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন এটি স্থায়ীকরণ এবং যথাযথ আইনগত বৈধতা দিতে কাজ করবে।

    গত বছর ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইনের (IEEPA) আওতায় বিশ্বের সব দেশের পণ্য আমদানি করার ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সেই সময় ওই সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে।

    মুলত সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের আগে ট্রাম্পের উচিত ছিল কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া—এটিও রায় দিতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করে। এই রায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যাপক ব্যবহারকে সীমিত করা হয় এবং এখন নতুনভাবে ১৫% শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা ব্যবস্থার পথে ইউরোপ?

    গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা ব্যবস্থার পথে ইউরোপ?

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ)। এ পরিস্থিতিতে ইইউর বিশেষ ব্যবস্থা ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা এসিআই সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন জোটটির একাধিক শীর্ষ নেতা। ইউরোপে এর আগে কখনও এই ব্যবস্থার ব্যবহার হয়নি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সম্মতি না পেলে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের ওপর ধাপে ধাপে বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এসব দেশ বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্কের আওতায় রয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সামরিক মহড়ায় সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার এই শুল্কহুমকির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই ইইউর সভাপতি দেশ সাইপ্রাস রোববার ব্রাসেলসে রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি সমন্বিত ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছেন এবং এসিআই কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি টেন্ডারে প্রবেশ সীমিত করা বা সেবা খাতে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

    জার্মানির সংসদের বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বের্ন্ড লাঙ্গে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রি-নিউ ইউরোপ গোষ্ঠীর প্রধান ভ্যালেরি হায়ারও প্রকাশ্যে একই দাবি তুলেছেন। জার্মান প্রকৌশল শিল্প সংগঠনও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

    তবে কয়েকজন ইইউ কূটনীতিক মনে করছেন, এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের শুল্কহুমকিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, ইতালি এখন পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে কোনো সেনা পাঠায়নি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। তার ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ব্রিটেনের অবস্থান স্পষ্ট এবং অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা এড়ানোই সবার লক্ষ্য।

    এই শুল্কহুমকির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েকটি সীমিত বাণিজ্য চুক্তিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    এরই মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভিন্ন বার্তা দিতে দক্ষিণ আমেরিকার মেরকোসুর জোটের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপ শুল্ক নয়, ন্যায্য বাণিজ্য এবং বিচ্ছিন্নতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে।

  • রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    এবিএনএ: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন কৌশলগত সমীকরণের আভাস মিলছে। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন মোড়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

    তবে এই তেল বাণিজ্য প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে পুরো লেনদেনের ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর নজরদারি থাকবে।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছিল। নয়াদিল্লিকে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিকবার কূটনৈতিক চাপও দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলকে বিকল্প হিসেবে সামনে এনে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতার পথ খুলে যায়। এর আওতায় কয়েক কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর হাতে যাবে না। বরং একটি নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই অর্থ দেশটির জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

    ভারতের জন্য এই প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশটির পরিশোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে অভ্যস্ত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েক বছর ধরে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও একসময় ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম বড় ক্রেতা।

    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা শুধু নিজেদের নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর কাছেও ভেনেজুয়েলার তেল পৌঁছে দিতে চায়। তবে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কেউ তেল পরিবহনের চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস।

  • মোংলা সমুদ্র বন্দরে নতুন দিগন্ত: ৯ মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

    মোংলা সমুদ্র বন্দরে নতুন দিগন্ত: ৯ মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

    মাসুদ রানা,মোংলা,এবিএনএ: মোংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছে বর্তমান সরকার। বন্দরকে আধুনিক ও বিশ্বমানের নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রে রুপান্তিত করতে গ্রহন করা হয়েছে ৯টি বড় মেঘা প্রকল্প।

    তা থেকে ৪টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, এরই মধ্যে নতুন করে ২টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আরো ৩টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের বহুমুখী টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজে আসবে। ব্যাবসাযীদের হবে লাভজনক ও ব্যাবসা বান্ধব প্রতিষ্ঠান, রাজস্ব আয় দিয়ে জাতীয় অর্তনীতিতেও আঞ্চলিক কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে উঠবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা, এ বন্দরকে আধুনিকায়ন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৫ হাজার ৬০৬ কোটি ৪১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যায় মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয় এবং বন্দরের চ্যানেল সংরক্ষন ড্রেজিং নামের ২টি মেঘা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্প দুটি শেষ হলে পন্য খালা-বোঝাই ও সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটারে জাহাজ বন্দর চ্যানেল দিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারবে অনায়াসে। ফলে এক কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন পন্য আমদানী-রফতানী ও চার লক্ষ টিইউজ কওেন্টইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

    এছাড়া পূর্বের গ্রহন করা ৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যায় মোংলা বন্দরের সহায়ক জলযান সংগ্রহ, পশুর চ্যানেলে ইনারবার ড্রেজিং, আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট ও ২টি অসম্পুর্ন জেটি নির্মান নামে ৪টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। বন্দরকে আরো গতিশীল করতে নতুন করে ৩টি বড় প্রকল্প একনেকে অনুমমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে “পশুর চ্যানেল শাসন ও সম্প্রসারণের জন্য সমীক্ষা”, “ট্রেলিং সাকশন হপার ও কাটার সাকশন ৩টি ড্রেজার ক্রয়” ও উন্নয়ন সেবা সহায়ক ২টি মুরিং বোট সংগ্রহ করা” প্রকল্প।

    প্রকল্পগুলো শেষ হলে চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষা, পন্য বোঝাই জাহাজ দ্রæত ভিরানো ও ত্যাগ করা, বন্দরের কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, ষ্টিভিডরস ও শ্রেমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশী অন্যা বন্দরগুলো সাথে প্রতিযোগীতা মুলক বন্দর, আধুনিক ও বিশ্বমানের নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রে রুপান্তিত হবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য অর্থ ও পরিচালক প্রশাসন-(উপ সচিব) কাজী আবেদ হোসেন বলেণ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও তেল নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জাহাজ ও আশপাশের শিল্পকারখানাগুলোর বর্জ্য পরিবেশবান্ধব উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। এটি সমুদ্রদূষণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ‘মারপল কনভেনশন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেলকে দূষণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। বাকি চারটি প্রকল্পের নির্মাণকাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। চলমান এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জরুরি সেবা ও কার্যকর পরিচালনার জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ, পশুর চ্যানেলের ‘ইনার বার’ এলাকায় ৮.৫ মিটার গভীরতা অর্জনের লক্ষ্যে ড্রেজিং করা, যাতে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজগুলো ওই চ্যানেল দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারে। তিনি আরও বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো ববস্তবায়নের পর জেটিতে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০টি জাহাজের পন্য হ্যান্ডিলিং করা সম্ভব হবে। ফলে জাহাজের পন্য খালাস-বোঝাই সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।

    বন্দর সুত্রে জানায়, বর্তমানে মোংলা বন্দরে জাহাজজট নেই। ফলে বন্দর ব্যবহারকারীরা ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। গাড়ি আমদানিকারকদের জন্য বিশেষ সুবিধা, সাতটি কনটেইনার ইয়ার্ড। এছাড়া ৩৮টি সহায়ক জলযান (যেমন-টাগবোট,পাইলট বোট, সার্ভে বোট, ড্রেজার) রয়েছে। আন্তর্জাতিক ‘শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস)’কোড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল এবং সহজলভ্য সড়ক, রেল ও নৌ-পথে পণ্য পরিবহনের ব্যাপক সুযোগও রয়েছে মোংলা বন্দরে। বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক সক্ষমতা হলো ১,৫০০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং, এক কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন কার্গো, ১ লাখ টিইইউ কনটেইনার এবং ২০ হাজার গাড়ি হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা রয়েছে মোংলা বন্দরে।

    এছাড়া জেটিতে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানোর সক্ষমতা, ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলে পানির ওপরে ভাসমান নৌযান সংকেত যন্ত্র ও টাওয়ার দিয়ে রাত-দিন নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, বিদেশি জাহাজের জন্য ৪৯টি নির্ধারিত বার্থিং পয়েন্ট, ১৩৪টি আধুনিক কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্র, নিরাপদ সংরক্ষণ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে, যার আওতায় অনুমতি, বিল, ইনডেন্টিং, যন্ত্রপাতি বুকিং ও পেমেন্ট একই জায়গায় করতে পারছে ব্যাবসাযীরা।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে মোংলা বন্দরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে নেপাল, ভুটান, চীন ও ভারতের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোর আগ্রহের কারণে বন্দরের ওপর চাপ বাড়ছে। এজন্য এর সসম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারের গ্রহন করা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে মোংলা বন্দর হবে বিশ্বের বানিজ্যিক বাজারে পরিবেশ বান্ধব ও অন্য বন্দরের সাথে প্রতিযোগীতা মুলক সমুদ্র বন্দন।

    নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একশ ১৪ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যায় ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও তেল নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন, যা উদ্ভাদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

     

  • ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রে নতুন শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের ঘোষণা, বিশ্ববাজারে শঙ্কা

    ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রে নতুন শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের ঘোষণা, বিশ্ববাজারে শঙ্কা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ওষুধ, ভারী ট্রাক এবং গৃহস্থালি আসবাবপত্রের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদকদের সুরক্ষা দেবে এবং বিদেশি প্রতিযোগিতা রুখতে সহায়ক হবে।

    বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প তার সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। ঘোষণায় বলা হয়, কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা না গড়ে তুললে তাদের উৎপাদিত ওষুধ আমদানিতে শতভাগ শুল্ক বসানো হবে।

    এছাড়া ভারী ট্রাকে ২৫ শতাংশ, রান্নাঘর ও বাথরুমের ক্যাবিনেটে ৫০ শতাংশ এবং আগামী সপ্তাহ থেকে সোফা ও অন্যান্য গদিযুক্ত আসবাবপত্রে ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি পণ্য আমদানির কারণে স্থানীয় শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, পিটারবিল্ট ও ম্যাক ট্রাকসের মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলো এ নীতির মাধ্যমে উপকৃত হবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো শুরু থেকেই নতুন শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ভারী ট্রাকের যন্ত্রাংশের বড় অংশ আমদানি হয় মেক্সিকো, কানাডা, জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও জাপান থেকে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও শুল্ক আরোপ শিল্পখাতে খরচ বাড়াবে এবং উৎপাদন ব্যাহত করবে।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্স হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিল যে দেশীয়ভাবে এসব যন্ত্রাংশ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। তবুও প্রশাসন তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থে কার্যকর হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষত কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দীর্ঘদিনের অংশীদার দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্যিক পথ খুঁজে নিতে পারে।

    ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী যে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করবে এবং শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পথ খুলে দেবে। তবে বাস্তবে এই নীতির ফলে আমেরিকার বাজারে কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখনো গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।

  • ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিকস জোটে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন—যে কোনো দেশ যদি ‘আমেরিকাবিরোধী’ নীতির অংশ হিসেবে ব্রিকসে যোগ দেয়, তাহলে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।

    সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন,
    “যে কোনো দেশ ব্রিকসের আমেরিকাবিরোধী নীতিতে অংশ নেবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে চাইলে বাড়তি ১০% শুল্ক গুণতে হবে। কোনও ব্যতিক্রম থাকবে না।”

    যদিও ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেননি, তিনি ব্রিকসের কোন নীতিকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ বলে চিহ্নিত করছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি ব্রিকসের বিস্তৃতি ও মার্কিন ডলারের বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার কিংবা জ্বালানি বাণিজ্যে ডলার নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগই হয়তো ট্রাম্পের উদ্বেগের কারণ।

    ব্রিকস কী ও কেন বিতর্কে?

    ২০০৯ সালে গঠিত ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) সম্প্রতি আরও ছয়টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া। এই সম্প্রসারণকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বিকল্প জোট গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

    বিশেষ করে রাশিয়া-চীন নেতৃত্বাধীন এই জোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্য কমাতে কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে ট্রাম্পের এই হুমকি মূলত ব্রিকসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধেই একটি কৌশলগত অবস্থান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে বজায় রাখবে—তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আবার ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যদি কঠোর বাণিজ্যনীতি কার্যকর করেন, তাহলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

    শেষ কথা:
    ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণ ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—এই অবস্থানে ব্রিকসভুক্ত এবং সম্ভাব্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।

  • ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ১২ মার্কিন রাজ্যের আইনি লড়াই

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ১২ মার্কিন রাজ্যের আইনি লড়াই

    এবিএনএ: 

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্য। প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে শুল্ক আরোপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে তারা ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

    নিউ ইয়র্ক, ইলিনয়, ওরেগনসহ মোট ১২টি ডেমোক্রেটিক-শাসিত রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)-এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, যা তার সাংবিধানিক ক্ষমতা লঙ্ঘন করে।

    তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প “জাতীয় জরুরি অবস্থা” ঘোষণার মাধ্যমে একচেটিয়াভাবে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তন করে দেশীয় শিল্পকে রক্ষার অজুহাতে বহির্বিশ্ব থেকে পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছেন।

    ⚖️ আদালতে শুনানি শুরু:

    ম্যানহাটন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল মামলার শুনানি শুরু করেছে। মামলাকারী রাজ্যগুলোর যুক্তি, মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি নয় বরং এটি একটি অর্থনৈতিক ইস্যু, যা ‘জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমদানির তুলনায় রফতানি কম হওয়া দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় শিল্পখাতের জন্য হুমকি তৈরি করছে, যা জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করেছে।

    📌 পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

    এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল শুল্কনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের রায় আগামী সপ্তাহে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে একই আদালতে ক্ষুদ্র ব্যবসা সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি আদালত রাজ্যগুলোর পক্ষে রায় দেয়, তবে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে শুল্ক আরোপের পথ কঠিন হয়ে পড়বে।

  • শুল্কযুদ্ধের ধাক্কা: আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি মার্চ মাসে

    শুল্কযুদ্ধের ধাক্কা: আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি মার্চ মাসে

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শুল্কযুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বাণিজ্য দপ্তর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চে আমেরিকার মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ দশমিক বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক ১৯৯২ সালের পর থেকে একক মাসে সর্বোচ্চ ঘাটতির রেকর্ড। ফেব্রুয়ারিতে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১২৩.২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাত্র এক মাসেই বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৭.৩ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় মার্কিন আমদানিকারকেরা আগেভাগেই পণ্যের জোগান বাড়িয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউস জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর স্থগিত রেখেছে, তবু বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার তাগিদে ব্যবসায়ীরা আগেই পণ্য আমদানি করে ফেলেছেন।

    মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৪১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ২৭৮ দশমিক বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতির ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে তীব্র উল্লম্ফন দেখা গেছে। মার্চ মাসে এই খাতে আমদানি বেড়েছে ২২ দশমিক বিলিয়ন ডলার, যা সামগ্রিক ঘাটতি বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল মার্চ মাসে ঘাটতি দাঁড়াবে আনুমানিক ১৩৭.৬ বিলিয়ন ডলার। বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি হয়েছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এই নতুন পরিসংখ্যান মার্কিন শুল্ক নীতির ফলাফল বিশ্ববাজারে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।