Tag: ভেনেজুয়েলা

  • ট্রাম্পের হুমকিতে অনড় হাভানা: ‘কিউবা কারও নির্দেশে চলে না’—দিয়াজ-কানেলের কড়া জবাব

    ট্রাম্পের হুমকিতে অনড় হাভানা: ‘কিউবা কারও নির্দেশে চলে না’—দিয়াজ-কানেলের কড়া জবাব

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিয়েছে কিউবা। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কিউবা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—কোনো বিদেশি শক্তির চাপ বা নির্দেশ তারা গ্রহণ করবে না।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কিউবাকে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার সহায়তায় টিকে ছিল, যা এখন আর অব্যাহত থাকবে না।

    এই বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, কিউবা মুক্ত ও সার্বভৌম দেশ। আমাদের কী করা উচিত, তা বাইরের কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায় কিউবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর থেকেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ তেল কিউবায় যেত, তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দেশটিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

    মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিউবান নাগরিকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি উঠেছে। কিউবার দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে তাদের অন্তত ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    এদিকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকেও কিউবা নিয়ে কঠোর বক্তব্য আসছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো চুক্তির শর্ত বা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রকাশ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–কিউবা সম্পর্ককে আরও সংঘাতমুখী করে তুলছে।

  • চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: কিউবাকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেরি হলে কিউবাকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর বিনিময়ে কিউবা ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে এসেছে, যা এখন আর চলবে না।

    ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কিউবার দিকে আর কোনো তেল কিংবা অর্থ প্রবাহিত হবে না—সবকিছু শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। তিনি কিউবান নেতৃত্বকে ‘খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের চুক্তি বা কী পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

    এদিকে কিউবা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের সময় তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তাদের ‘সাহসী যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্মান জানানোর ঘোষণা দেন।

    ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানে ওই কিউবানদের অধিকাংশই নিহত হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার আর আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এখন দেশটির পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ এই হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিউবান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

  • রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    রুশ তেলের বিকল্প খুঁজছে ভারত? ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত

    এবিএনএ: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন কৌশলগত সমীকরণের আভাস মিলছে। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক নতুন মোড়ে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

    তবে এই তেল বাণিজ্য প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে পুরো লেনদেনের ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর নজরদারি থাকবে।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি প্রকাশ করে আসছিল। নয়াদিল্লিকে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিকবার কূটনৈতিক চাপও দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলকে বিকল্প হিসেবে সামনে এনে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতার পথ খুলে যায়। এর আওতায় কয়েক কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর হাতে যাবে না। বরং একটি নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই অর্থ দেশটির জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

    ভারতের জন্য এই প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশটির পরিশোধনাগারগুলো ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে অভ্যস্ত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কয়েক বছর ধরে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও একসময় ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম বড় ক্রেতা।

    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা শুধু নিজেদের নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর কাছেও ভেনেজুয়েলার তেল পৌঁছে দিতে চায়। তবে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কেউ তেল পরিবহনের চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস।

  • মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সম্প্রতি একটি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য।

    ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাচাদো জানান, গত অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “তখনই আমি বিশ্বাস করেছিলাম, তিনি এই পুরস্কারের উপযুক্ত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।”

    ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন মাচাদো। তিনি বলেন, “৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে একটি অনন্য দিন হয়ে থাকবে। এটি শুধু আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ।”

    নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাচাদোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একত্র করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন।

    তবে মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক দেশ এই ঘটনাকে আগ্রাসন, বলপ্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন। নোবেল পাওয়ার পর মাদুরো তাঁকে কটাক্ষ করে ‘ডাইনি’ বলেও আখ্যা দেন।

    ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন, মাদুরোর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।

    এদিকে, মাচাদো কবে ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডেলসি রদ্রিগেজ। শপথগ্রহণের পর তিনি মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • মাদুরো গ্রেপ্তারের খবরে তেলবাজারে ধস, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকলেন সোনার দিকে

    মাদুরো গ্রেপ্তারের খবরে তেলবাজারে ধস, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকলেন সোনার দিকে

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্পষ্ট পতন দেখা গেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

    খবরে বলা হয়, গত শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। পরে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই তেলবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা দ্রুত কেটে যায়।

    জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও বিশ্বের অন্যান্য উৎপাদক দেশগুলো থেকে সরবরাহ বাড়িয়ে সেই ঘাটতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব। ফলে বাজারে আতঙ্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং তেলের দাম কমতির দিকে গেছে।

    তবে তেলের দরপতনের বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোনা ও রুপাসহ মূল্যবান ধাতুর দাম। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে এসব ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ায় এর দাম একদিনেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রুপার দামও প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    এবিএনএ: এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে বিদেশি সরকার পরিবর্তনের কৌশল, যা ‘রেজিম চেঞ্জ’ নামে পরিচিত। গবেষণায় উঠে এসেছে, এই নীতির ফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়েছে বিপর্যয়কর।

    জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ডাউন্স তাঁর গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ১৮১৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ১২০ বার বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল।

    সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এই তালিকায় দেশটির ৩৬তম সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে একের পর এক দেশে হস্তক্ষেপ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও সহিংসতায় ডুবে গেছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফরেন ইমপোজড রেজিম চেঞ্জ’। গবেষণা অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্তত ২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালায় ধারাবাহিকভাবে তিনটি সরকার উৎখাতের ঘটনাও এর বড় উদাহরণ।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত ব্যর্থতা ইরাক ও আফগানিস্তান। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে দেশটি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ায় সুন্নি ও শিয়া গোষ্ঠীর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার ফল হিসেবে উত্থান ঘটে আইএসের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর।

    অন্যদিকে, দুই দশকের যুদ্ধ ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর শেষ পর্যন্ত তালেবানের হাতেই আফগানিস্তানের ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।

    ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে লাখো মানুষ শরণার্থী হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন করে বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    অধ্যাপক ডাউন্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেজিম চেঞ্জ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো—সরকার পতনের পর সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেঙে পড়া এবং বিদেশি শক্তির সমর্থিত নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা না থাকা।

    ইতিহাস বলছে, বিভক্ত সমাজ ও দুর্বল গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকা দেশগুলোতে রেজিম চেঞ্জ কখনোই স্থিতিশীলতা বয়ে আনে না। ইরাক, লিবিয়া কিংবা ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই প্রমাণ।

  • ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    এবিএনএ: লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ভয়াবহ চমক তৈরি করেছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    ডেল্টা ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, যা সাধারণত গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহৃত হয়। জানা গেছে, একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে অভিযানের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের সফল সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং তাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হয়েছেন।

    ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে এই হামলাকে ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। বিষয়টি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে আগেই যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে অভিযানের পর সরাসরি ভেনেজুয়েলার ভেতরে এই হামলা চালানো হয়।

    এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, ট্রাম্প সেই গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “আমরা দেশের মাদক সন্ত্রাস বন্ধ করতে মার্কিন শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।”

    গত সপ্তাহে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক নিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    তবে ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, “না, আমরা কোনো সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না,”— এমন উত্তরই দেন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, যখন তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে যাত্রা করছিলেন।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য এটি বড় হুমকি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “মিয়ামি হেরাল্ডে প্রকাশিত তথাকথিত সূত্রভিত্তিক সংবাদ সম্পূর্ণ ভুয়া।”

    এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়া দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত।”

  • নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ। এবছর নোবেল কমিটি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল প্রদান করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি উদ্যোগে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে আসছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে তার প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশাসন বেশ প্রচারণাও চালিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটির মন গলাতে পারেননি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে এবং বিশ্বে শান্তি আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মানবিকতা ও ইচ্ছাশক্তি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। কিন্তু নোবেল কমিটি রাজনীতিকে শান্তির চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”

    নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছে, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকার জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছে, মাচাদো বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতীক।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেন, ট্রাম্পের মতো নেতাই আসল শান্তির দূত। সম্প্রতি গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ভূমিকা রাখার দাবি করে ট্রাম্প নিজেকে শান্তির নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

    যদিও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলেননি, তবে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গাজা চুক্তি উদযাপনের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

    অতীতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার নেতৃত্বেই বিশ্বের আটটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে। তার ভাষায়, “নোবেল পুরস্কার আমার প্রাপ্য, কিন্তু তারা সেটি আমাকে দেবে না। তারা সবসময় এমন কাউকে পুরস্কৃত করে, যে আসলে কিছুই করেনি।”

    নোবেলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারি। ট্রাম্প জানুয়ারি মাসেই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন।