Tag: যুক্তরাষ্ট্র

  • মাদুরো একা নন: সাদ্দাম থেকে নোরিগা—যেসব রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

    মাদুরো একা নন: সাদ্দাম থেকে নোরিগা—যেসব রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কোনো নজির নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের আটক করেছে ওয়াশিংটন।

    ১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ পানামায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিগাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিনিদের নিরাপত্তা ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নোরিগা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হলেও পরে ওয়াশিংটনবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    ম্যানুয়েল নোরিগা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে তাকে ইউরোপ হয়ে ফের পানামায় পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত নিজ দেশেই কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

    এরপর ২০০৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের আরেক অধ্যায় রচিত হয়। ইরাক আক্রমণের নয় মাস পর মার্কিন সেনারা দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে। গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ তুলে ইরাকে সামরিক অভিযান চালানো হলেও এসব দাবির পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    তিকরিতের একটি গোপন আশ্রয়স্থল থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ইরাকের আদালতে বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০৬ সালে ফাঁসি কার্যকর হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে—যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত স্বার্থে প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক পথে রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করে না। মাদুরোর আটক সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন।

  • ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    এবিএনএ: লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ভয়াবহ চমক তৈরি করেছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    ডেল্টা ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, যা সাধারণত গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহৃত হয়। জানা গেছে, একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে অভিযানের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের সফল সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং তাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হয়েছেন।

    ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে এই হামলাকে ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। বিষয়টি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে আগেই যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে অভিযানের পর সরাসরি ভেনেজুয়েলার ভেতরে এই হামলা চালানো হয়।

    এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • মাঝ-আকাশেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: যুক্তরাষ্ট্রে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই উড়োজাহাজ, নিহত পাইলট

    মাঝ-আকাশেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: যুক্তরাষ্ট্রে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই উড়োজাহাজ, নিহত পাইলট

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে মাঝ আকাশে ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। হ্যামন্টন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের ওপর আকাশে দুটি ছোট উড়োজাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন এবং অপরজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের পর একটি উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত পাক খেতে খেতে নিচে পড়ে যায় এবং আগুন ধরে যায়। পরে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজ দুটি ছিল এনস্ট্রম এফ-২৮এ এবং এনস্ট্রম ২৮০সি মডেলের। প্রতিটি উড়োজাহাজে কেবল একজন করে পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অপর পাইলটকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    দুর্ঘটনাস্থলের কাছের একটি ক্যাফের মালিক সাল সিলিপিনো জানান, নিহত ও আহত দুই পাইলটই নিয়মিত তার ক্যাফেতে আসতেন। তিনি বলেন, “আমি নিজেই তাদের উড্ডয়ন করতে দেখেছি। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি উড়োজাহাজ ঘুরতে শুরু করে, তারপর আরেকটিও নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ।”

    হ্যামন্টনের বাসিন্দা ড্যান ডেমশেক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি জিম থেকে বের হওয়ার সময় বিকট শব্দ শুনে আকাশের দিকে তাকান এবং উড়োজাহাজ দুটিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরতে দেখেন।

    প্রায় ১৫ হাজার জনসংখ্যার শহর হ্যামন্টন নিউ জার্সির আটলান্টিক কাউন্টিতে অবস্থিত, যা ফিলাডেলফিয়া থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।

    এই দুর্ঘটনার কারণ জানতে এফএএ ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাইলটদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং তারা একে অপরকে সময়মতো দেখতে পেয়েছিলেন কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে।

  • তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

    তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ: তাইওয়ানের কাছে বিপুল অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের এক সপ্তাহের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল চীন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০টি কোম্পানি ও ১০ জন শীর্ষ নির্বাহীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

    চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে দ্বীপটিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস এবং বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস ইউনিট।

    এছাড়া আন্দুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা পামার লাকিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন নির্বাহীকেও কালো তালিকাভুক্ত করেছে চীন। এসব ব্যক্তির চীনে প্রবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দেশটিতে থাকা তাদের সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত চীনের বিদেশি নিষেধাজ্ঞা বিরোধী আইনের পরিপন্থী। তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহে জড়িত মার্কিন কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোর মধ্যেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদন দেয়। আটটি পৃথক চুক্তিতে এর মোট মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা তাইপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহ বলে জানানো হয়েছে।

    এই প্যাকেজে রয়েছে স্বচালিত হাউইটজার, হিমার্স রকেট লঞ্চার, ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম, লয়টারিং ড্রোন ও অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় জানায়, তাইওয়ান ইস্যু দেশটির মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি অতিক্রম অযোগ্য লাল রেখা। এই বিষয়ে উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের সঙ্গে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন, বিনিয়োগ কিংবা সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে বেইজিং ওয়াশিংটনকে ‘ওয়ান-চায়না নীতি’ মেনে চলা এবং তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে—এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    এবিএনএ: বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা।

    মঙ্গলবার দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেঙ্গা ও সিডনি কামলাগার-ডোভ। তাঁদের সঙ্গে চিঠিতে আরও সই করেন কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন ও টম আর সুওজি। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে আইনপ্রণেতারা বলেন, জাতীয় সংকটের এই সময়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে ড. ইউনূসের এগিয়ে আসাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

    তাঁরা উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিফলনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাজনৈতিক মতাদর্শের সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকার প্রতি সমর্থন থাকলেও একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া মৌলিক মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    মার্কিন আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় সক্রিয় করলে এসব লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড ‘আমাদেরই চাই’—বিশেষ দূত নিয়োগের পর ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি

    গ্রিনল্যান্ড ‘আমাদেরই চাই’—বিশেষ দূত নিয়োগের পর ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আবারও কঠোর ও বিতর্কিত অবস্থান নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বীপটির জন্য বিশেষ দূত হিসেবে লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে নিয়োগ দেওয়ার পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি তাদের “অবশ্যই প্রয়োজন”।

    বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখতে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ। তাঁর এমন মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক আলোড়ন।

    ডেনমার্কের অংশ হলেও আধা-স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কোপেনহেগেন। ডেনিশ সরকার জানিয়েছে, বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে তারা ওয়াশিংটনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে।

    গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স–ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডবাসীর। তিনি ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জনগণের মতামতকে সম্মান করার আহ্বান জানান।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখাই তাঁর দায়িত্ব। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ নাগরিকই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিপক্ষে।

    ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ইউরোপ আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার, নতুন নৌপথের নিয়ন্ত্রণ এবং খনিজ সম্পদের দখল নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। বরফ গলে যাওয়ায় এই অঞ্চলটি এখন বৈশ্বিক শক্তিগুলোর জন্য নতুন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

    উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা এখনও কৌশলগতভাবে সক্রিয়।

    এর আগে চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস–প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক–এ যুক্তরাষ্ট্র তাদের কনস্যুলেট পুনরায় চালু করে। বর্তমানে ইউরোপের একাধিক দেশ ও কানাডারও সেখানে সম্মানসূচক কনস্যুলেট রয়েছে।

  • যুদ্ধ অবসানে নতুন আশার ইঙ্গিত, রাশিয়া–ইউক্রেন বৈঠক ফলপ্রসূ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

    যুদ্ধ অবসানে নতুন আশার ইঙ্গিত, রাশিয়া–ইউক্রেন বৈঠক ফলপ্রসূ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

    এবিএনএ: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। ফ্লোরিডার মায়ামিতে হওয়া এসব বৈঠককে ‘গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

    বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, রোববার মায়ামিতে পৃথকভাবে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি, ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এবং রাশিয়ার আলোচকরা। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই মূল আলোচনা পরিচালিত হয়।

    স্টিভ উইটকফ জানান, বৈঠকে কিয়েভ, ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে একটি সমন্বিত কৌশলগত অবস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ-এর সঙ্গে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যৎ আলোচনার সময়সূচি, ধাপভিত্তিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে পক্ষগুলোর মতামত কাছাকাছি আনার চেষ্টা করা হয়।

    এর আগের দিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন উইটকফ। তবে রাশিয়ার শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ মন্তব্য করেছেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো এখনো শান্তির পথ সুগম করছে না।

    অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনাকে ইতিবাচক বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, অগ্রগতি দ্রুত হলেও প্রকৃত শান্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।

    এদিকে আলোচনার মধ্যেই মস্কোতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন রুশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ। রাশিয়ার তদন্ত সংস্থা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে এবং এর পেছনে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইউক্রেন।

  • ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ:  ফিলিস্তিনের পাসপোর্টধারী নাগরিকসহ আরও সাতটি দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক যাচাই, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং তথ্য বিনিময়ে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় ও জননিরাপত্তা সুরক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এর আগেও গত নভেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। ওই তালিকায় আফগানিস্তান, মিয়ানমার, কিউবা, ইরান, হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    পরে ৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও সম্প্রসারণ করে অন্তত ৩২টি দেশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নতুন করে যুক্ত দেশগুলোর নাম তখন প্রকাশ করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং সাতটি দেশের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়, যা এখনো বহাল আছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১৫টি দেশের ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে নাইজেরিয়াও রয়েছে।

    ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর পর এসব সিদ্ধান্ত আরও কঠোর হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে—এমন এক নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ‘কোর-৫’ নামে একটি নতুন শক্তিকেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা করছেন—এমন জল্পনা ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

    মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি নথিতে এই ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রস্তাবিত এই জোট কার্যত ইউরোপপ্রধান জি৭ এবং আদর্শভিত্তিক প্রচলিত পশ্চিমা জোটগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কোর-৫ ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি থাকবে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। জি৭-এর আদলে নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ইস্যুতে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। প্রাথমিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

    যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বিকল্প বা গোপন নথির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে—এই ধারণা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপকে এই জোটের বাইরে রাখার ভাবনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, এতে রাশিয়ার প্রভাব ইউরোপে আরও জোরদার হতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কোর-৫ বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত চীন নীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।

    সব মিলিয়ে, কোর-৫ জোট আপাতত আলোচনার স্তরেই থাকলেও, এই ধারণা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে আন্তর্জাতিক মহলকে।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিন–দূত বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

    ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিন–দূত বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

    এবিএনএ: ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নতুন গতি পাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আলোচনার টেবিলে থাকবে যুদ্ধ থামাতে হোয়াইট হাউস প্রস্তুত করা শান্তি পরিকল্পনা।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে বৈঠকটি স্থানীয় সময় দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আলোচনায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারও যোগ দিতে পারেন। ইউক্রেন সংশ্লিষ্ট শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই দিনের এক সম্মেলনে ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তারা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিকল্পনাটিকে কার্যকর বলে মনে করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও বলেছেন, “আমরা বেশ আশাবাদী।”

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের আস্থা ধরে রাখতে ব্যস্ত। ইউরোপীয় দেশগুলো শঙ্কা প্রকাশ করেছে—মার্কিন খসড়া পরিকল্পনা ইউক্রেন ও ইউরোপের মতামত উপেক্ষা করে হয়ে উঠতে পারে মস্কোর দাবির প্রতিফলন।

    ইউক্রেনের আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বৈঠকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে, যদিও বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে যেগুলোর ওপর আরও কাজ করা প্রয়োজন। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছেন, সেখানেই উমেরভের কাছ থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতির ব্রিফিং নেবেন তিনি।

    এদিকে আইএসডব্লিউ-এর সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর গত মাসেই রুশ বাহিনী ইউক্রেন যুদ্ধে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় বৈঠকটিকে আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।