Tag: যুক্তরাষ্ট্র

  • ইরানের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল যুদ্ধবহর, আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    ইরানের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল যুদ্ধবহর, আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান যদি নতুন করে হামলা এড়াতে চায়, তাহলে দ্রুত আলোচনায় এসে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।

    ট্রাম্প বলেন, ইরানকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে আরও কঠোর ও ভয়াবহ।

    তার ভাষায়, “একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর এখন ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এর নেতৃত্বে থাকা বহরটি ভেনেজুয়েলায় পাঠানো ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ রণতরীর নেতৃত্বাধীন নৌবহরের চেয়েও বড়।”

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত এবং পরিস্থিতি দাবি করলে দ্রুত ও মারাত্মক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।

    উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, তখনকার অভিযানে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি এবারও আলোচনায় না আসে, তাহলে পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ। সময় প্রায় শেষ। সমাধানের সুযোগ এখনও আছে, কিন্তু দেরি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

    এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    এবিএনএ: ইরানের বর্তমান ইসলামিক সরকার চরম চাপে রয়েছে এবং তাদের ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে—এমনই মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। এসব গোপন তথ্য সরাসরি জানানো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের পতনের পর এই প্রথমবার ইরানের শাসনব্যবস্থা এতটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, জনসমর্থন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে এই তথ্য জানানো হয়, যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নতুন করে বিবেচনা করছেন। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। মাঝখানে কিছুটা নরম অবস্থান নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার আগ্রাসী কৌশলে ফিরেছেন ট্রাম্প।

    মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জনঅসন্তোষ বেড়েছে, যা সরকারকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যেগুলোতে টোমাহকসহ আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে আমিরাতের আকাশসীমা, স্থলভূমি কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো হামলায় পরোক্ষ বা লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না দেশটি।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন নিবিড় নজর রাখছে। এসব বক্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    যদিও আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, তবু এই বিষয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি হলো এই আল-ধাফরা ঘাঁটি।

    আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম পথ।

    উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমন করলেও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও, আমিরাত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের কোনো অভিযানে তারা অংশ নেবে না।

  • মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী কেন? সময় এলে কারণ বুঝবে ইরান: কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী কেন? সময় এলে কারণ বুঝবে ইরান: কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও রণতরী মোতায়েনের পেছনের কারণ সময় হলেই ইরান জানতে পারবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি। ইরান যদি বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন না আনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও স্পষ্ট করে জানান তিনি।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুকাবি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুমকি দেন, তা বাস্তবায়ন করতেই পরিচিত। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের ঘোষণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

    এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবহর। এতে আধুনিক যুদ্ধবিমান, রণতরী ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ইরানকে লক্ষ্য করে এত বড় সামরিক প্রস্তুতির কারণ জানতে চাইলে মাইক হুকাবি বলেন, “যখন জানার উপযুক্ত সময় আসবে, তখন ইরান নিজেই বুঝে নেবে কেন এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চারটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার আগেও ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার এমন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

    হুকাবির ভাষায়, “গত গ্রীষ্মে ইরান কার্যত দেখেছে, ট্রাম্প যা বলেন—তা তিনি করে দেখান।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে ইউরেনিয়াম মজুদ বা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।

    এদিকে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তা কঠোরভাবে দমন করা হয়। সে সময় ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে যুদ্ধের কাছাকাছি পৌঁছালেও পরে ট্রাম্প জানান, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়ায় আপাতত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    মাইক হুকাবি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইরান যদি আবার বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসির আদেশ দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

  • ভারতবিরোধিতা আছে, কিন্তু মার্কিন প্রশ্নে নীরবতা কেন? রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘিরে ফরহাদ মাজহার

    ভারতবিরোধিতা আছে, কিন্তু মার্কিন প্রশ্নে নীরবতা কেন? রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘিরে ফরহাদ মাজহার

    এবিএনএ: দেশের সব রাজনৈতিক দলই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মাজহার। তার মতে, অনেক রাজনৈতিক শক্তি ভারতবিরোধী বক্তব্যে সরব হলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রশ্নে তারা নীরব ভূমিকা পালন করে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল—দেশজুড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের করণীয়।

    আলোচনায় ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ মাজহার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, গাজায় তথাকথিত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ পাঠানোর বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি দেখা যায়নি।

    ফরহাদ মাজহার বলেন, “জামায়াত যদি গাজায় এই বাহিনী পাঠানোর বিরোধিতা না করে, তাহলে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের একটি নীতিগত সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই যে অবস্থান নিয়েছে, সেটি বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে—এটাকে আমি অত্যন্ত অশুভ সংকেত হিসেবে দেখি।”

    যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইন কার্যত অকার্যকর। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণই সেই বাস্তবতার স্পষ্ট উদাহরণ।

    তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে সংযুক্ত। ভারতবিরোধী বক্তব্য শোনা গেলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিবাদ খুব কমই দেখা যায়।”

    আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল।

  • ইরান ইস্যুতে হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের: সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত কেন?

    ইরান ইস্যুতে হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের: সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত কেন?

    এবিএনএ:  ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এমন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে না।

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিচার বিভাগ ৮৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ—এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশটির প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধসহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনা মোতায়েন করে।

    বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থনের বার্তা দেন। গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় ৯০০ আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তিনি প্রকাশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন।

    পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার মুখে ইরান সরকার সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখে। তখন এই সিদ্ধান্তের জন্য ইরানকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প।

  • অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উত্তাল রাজপথ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

    অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উত্তাল রাজপথ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। মঙ্গলবার দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অভিবাসনপন্থি সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে তার অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে এক মার্কিন নারীকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামানো এবং ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়াও নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলের মতো ছোট শহরগুলোতেও শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘নো আইসিই, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের বিষয়ে তারা ভোটারদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট সমর্থন পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক।

    ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ‘নো হেইট, নো ফিয়ার, রিফিউজিস আর ওয়েলকাম হিয়ার’ স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে হাই স্কুল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘স্টপ আইসিই টেরর’ সমাবেশে অংশ নেন।

    ইন্ডিভিজিবল, ৫০৫০১সহ বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও তৃণমূল আন্দোলনকারীরা এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। টেক্সাসের এল পাসোর একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রে ছয় সপ্তাহে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এই বিক্ষোভ এখন সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলের মতো পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা ব্যবস্থার পথে ইউরোপ?

    গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা ব্যবস্থার পথে ইউরোপ?

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ)। এ পরিস্থিতিতে ইইউর বিশেষ ব্যবস্থা ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা এসিআই সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন জোটটির একাধিক শীর্ষ নেতা। ইউরোপে এর আগে কখনও এই ব্যবস্থার ব্যবহার হয়নি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সম্মতি না পেলে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের ওপর ধাপে ধাপে বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এসব দেশ বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্কের আওতায় রয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটোর সামরিক মহড়ায় সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার এই শুল্কহুমকির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই ইইউর সভাপতি দেশ সাইপ্রাস রোববার ব্রাসেলসে রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি সমন্বিত ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছেন এবং এসিআই কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি টেন্ডারে প্রবেশ সীমিত করা বা সেবা খাতে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

    জার্মানির সংসদের বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বের্ন্ড লাঙ্গে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রি-নিউ ইউরোপ গোষ্ঠীর প্রধান ভ্যালেরি হায়ারও প্রকাশ্যে একই দাবি তুলেছেন। জার্মান প্রকৌশল শিল্প সংগঠনও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

    তবে কয়েকজন ইইউ কূটনীতিক মনে করছেন, এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের শুল্কহুমকিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, ইতালি এখন পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে কোনো সেনা পাঠায়নি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। তার ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ব্রিটেনের অবস্থান স্পষ্ট এবং অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা এড়ানোই সবার লক্ষ্য।

    এই শুল্কহুমকির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েকটি সীমিত বাণিজ্য চুক্তিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    এরই মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভিন্ন বার্তা দিতে দক্ষিণ আমেরিকার মেরকোসুর জোটের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপ শুল্ক নয়, ন্যায্য বাণিজ্য এবং বিচ্ছিন্নতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে।

  • ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    এবিএনএ: ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পরিস্থিতির অন্যতম ‘অপরাধী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

    শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবেই জড়িত। তার অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দিয়ে দেশজুড়ে রক্তপাত ঘটিয়েছে।

    খামেনির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। তিনি বলেন, এই সহিংসতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন নয়, বরং বহিরাগত শক্তির পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোর দিকে আঙুল তুলছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে।

    খামেনি তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই পরিস্থিতিকে সীমান্তের বাইরে সামরিক সংঘাতে রূপ দিতে চায় না। তবে দেশি বা বিদেশি যেকোনো অপরাধীকে শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

    এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারে কিংবা কোন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদল গ্রিনল্যান্ড সফর করে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা।

    ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’—দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না।

    গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি ও সামরিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্ব।

    এই অবস্থায় ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ একাধিক দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত আকারে সামরিক ‘রেকি মিশন’ শুরু করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিগগিরই আকাশ, স্থল ও নৌবাহিনীর সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আজা কেমনিৎস বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে ও বিপক্ষে আলাদা বিল উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না—কারণ তিনি যা বলেন, সেটাকেই বাস্তব পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন।