Tag: যুক্তরাষ্ট্র

  • দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, সম্ভাব্য দীর্ঘ সংঘাত মোকাবিলায় তাদের কাছে উন্নত ও নতুন ধরনের অস্ত্র মজুত রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

    বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও তা মোকাবিলার জন্য ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে এসব নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

    নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

    আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। সেগুলো এখনো পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সময়ে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

    ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ঘোষণা

    এ বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ‘খাইবার’ নামের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের নতুন সক্ষমতার একটি বড় প্রদর্শন।

    পারমাণবিক ইস্যুতে ব্যর্থ সংলাপ

    এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানযুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা চলেছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সেই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সমান্তরাল অভিযান চালায়।

    ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানা গেছে।

    আগের সংঘাতের চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার

    আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল, তার তুলনায় এবার ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি শক্তিশালী। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

  • ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে আগের মন্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন অবস্থান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; যতদিন প্রয়োজন, ততদিন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শেষ হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

    যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত

    তবে সেই বক্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকে ভিন্ন বার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ জানান, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই যুদ্ধ প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
    তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করা নয়।

    তার ভাষায়, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও সীমিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রে হামলার আশঙ্কা

    ইরানে সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এমন ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

    ইতিমধ্যে নিহত মার্কিন সেনা

    ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের বাস্তবতা হলো প্রাণহানি ঘটে এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সংঘাতে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হচ্ছেন।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কয়েকটি দেশে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

    ইরান:
    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    ইসরায়েল:
    ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জেরুজালেমের কাছে বেইত শেমেস শহরে ১ মার্চের হামলায় নিহত ৯ জনও রয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

    লেবানন:
    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাহরাইন:
    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত হন।

    কুয়েত:
    ইরানের হামলায় কুয়েতে দুই সেনাসদস্যসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ওমান:
    ওমানের রাজধানী মাস্কটের উপকূলের কাছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে গোলাবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত:
    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী:
    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    সিরিয়া:
    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েদা শহরের একটি ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

    ইরাক:
    ইরাকে ইরানের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন মিলিশিয়া সদস্য, একজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

    তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    এবিএনএ: শ্রীলঙ্কা উপকূলে সংঘটিত এক হামলায় নিজেদের নৌসেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ‘ইহুদিবাদী শক্তির’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ২০তম হামলা পরিচালনা করেছে।

    ইরানের দাবি, এই হামলা উৎসর্গ করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় নিহত নৌসেনাদের স্মরণে। ওই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় তেহরান।

    তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে নিহত নৌসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। যদিও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে তিন দেশ থেকে দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদি আরব, ওমান ও সাইপ্রাসে কর্মরত মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে পাঠানো নোটিশে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

    রিয়াদে হামলার পর সতর্কবার্তা

    রিয়াদ-এ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আক্রমণ ঘটতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ওমান ও সাইপ্রাসেও নিরাপত্তা উদ্বেগ

    ওমানসাইপ্রাস-এ পাঠানো বার্তায় সংক্ষেপে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

    সোমবার সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিনে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুকম বন্দরেও একাধিক ড্রোন আক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও পড়ছে। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ওয়াশিংটন।

  • মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    এবিএনএ:ভারতে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে ডুবে গেছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডেনা। শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৮৭ জন নৌসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও ৬২ জনের খোঁজ মেলেনি।

    ইরানের এই ফ্রিগেট চলতি বছরের মিলান ২০২৬ মহড়ায় অংশ নিতে ভারতের জলসীমায় আসে। এর আগেও ২০২৪ সালে একই মহড়ায় যোগ দিয়েছিল জাহাজটি। মহড়া শেষ করে নিজ দেশে ফেরার পথে এই বিপর্যয় ঘটে।

    মহড়ার লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট

    ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘মিলান’ মহড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক সামুদ্রিক আয়োজন। এতে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী অংশ নিয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা, সমন্বিত অভিযান ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুশীলন করে। হারবার ও সি-ফেজে সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মতো জটিল মহড়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    প্রকাশ্যে এলো বিস্ফোরণের ভিডিও

    ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি সাদাকালো ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে, যা সাবমেরিনের পেরিস্কোপ থেকে ধারণ করা। ভিডিওতে দূরে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সামরিক অভিযানের এমন তাৎক্ষণিক চিত্র প্রকাশের ঘটনা বিরল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    অনুসরণ করছিল কি সাবমেরিন?

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান থেকে ভারত পর্যন্ত যাত্রাপথে মার্কিন সাবমেরিনটি গোপনে আইরিস ডেনা-কে নজরদারিতে রেখেছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে এক দেশের নৌবাহিনীর অন্য দেশের জাহাজকে অনুসরণ করা অস্বাভাবিক নয়।

    এই ঘটনার পর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্রতর হওয়ায় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত আরও জোরদার করা হবে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তার ভাষায়, “শত্রুপক্ষকে ধারাবাহিক ও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সামরিক অভিযান থামার কোনো লক্ষণ নেই।

    এদিকে তেহরান ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশ নিলে তা সরাসরি যুদ্ধঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সমন্বিত পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক জোটের অংশ হিসেবেই দেখা হবে।

    ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় সম্ভাব্য “প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার কথা উল্লেখ করার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা আসে।

    অন্যদিকে সংঘাতে ইরানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

  • বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল। ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর বরাতে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। সেখানে ঘাঁটির ভেতরে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

    বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত এই মার্কিন বিমানঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১ মার্চ থেকে ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এতে কমান্ড সেন্টার ও প্রশাসনিক ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ইরানি সূত্রের দাবি।

    তবে হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা পাল্টা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    এবিএনএ: ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার তৃতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে তেহরান। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বহু দেশে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের ভেতরের চিত্র

    রাজধানী **তেহরান**সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি বেড়েছে। মধ্যাঞ্চলের সানান্দাজ শহরেও হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তার

    ভোরের দিকে আবুধাবি ও **দোহা**য় বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। কাতার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার এয়ারওয়েজ সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
    এদিকে ওমান উপকূলে একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত-এ মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়; শোধনাগারের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এসেছে। বাহরাইন বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে হামলার পর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

    ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানে তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। মার্কিন পক্ষ হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানে উত্তাপ

    সংঘাতের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন-এর রাজধানী **বৈরুত**সহ বিভিন্ন এলাকায়; বিমান হামলায় বহু হতাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। **সিরিয়া**তে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেসামরিকরা আহত হয়েছেন। জর্ডান আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    ভূমধ্যসাগরে নতুন মাত্রা

    ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস-এ অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। রয়্যাল এয়ার ফোর্স পরিচালিত আক্রোতিরি ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমিত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।

  • ট্রাম্পের নতুন শুল্কে মোড় ঘুরল বৈশ্বিক বাণিজ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

    ট্রাম্পের নতুন শুল্কে মোড় ঘুরল বৈশ্বিক বাণিজ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’কে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানবিরোধী ও আইনগতভাবে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস–এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কযুদ্ধ বড় ধাক্কা খেলেও বাংলাদেশসহ বহু দেশের জন্য প্রশ্ন রয়ে গেছে—চুক্তির ভবিষ্যৎ তাহলে কী হবে?

    এই রায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের জন্যও শুল্কনীতি বড় উদ্বেগের কারণ। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ভিন্ন আইনি পথ ধরে আবার ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। প্রাথমিক হিসাবে বাংলাদেশের ওপর ধার্য শুল্ক ১৯ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নামছে—এটি আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন শুল্ক আরোপের ভিত্তি হিসেবে ট্রাম্প যে ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করছেন, তাতে ১৫০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমমান, কর্মপরিবেশ, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স ও বাণিজ্য আচরণ যাচাই করে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি ছাড় দীর্ঘমেয়াদে উল্টো চাপ হয়ে ফিরতে পারে। এদিকে আদালতের রায়ে আগের পাল্টা শুল্ক-ভিত্তিক চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নে পড়লেও হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, শুল্ক কাঠামো বদলালেও বাণিজ্য চুক্তির অন্যান্য শর্ত বহাল থাকবে।

    ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের পর বাংলাদেশের ওপর উচ্চহারে পাল্টা শুল্ক বসানো হয়েছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ কাঠামোয় শুল্ক ১৯ শতাংশে নামানো হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দেয় বাংলাদেশ—যা দেশীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের একাংশ ‘অসম ও চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ শুল্কে বাংলাদেশি পোশাকের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্ডার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল—এতে রপ্তানিখাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলাদেশের জন্য আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও এখনই পুরোনো চুক্তি পুনরালোচনায় যাওয়ার সময় নয়। বরং আগামী ১৫০ দিনের মূল্যায়নপর্ব মাথায় রেখে শ্রমিকের কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, পরিবেশগত মান রক্ষা ও কমপ্লায়েন্সে বাস্তব উন্নতি দেখানোই হবে কৌশলগত প্রস্তুতি। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজন বাড়াতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি যে কোনো সময় বড় ধাক্কা দিতে পারে।

    সব মিলিয়ে, আদালতের রায়ে ট্রাম্পের আগের শুল্ক কাঠামো নড়বড়ে হলেও নতুন আইনি পথে শুল্ক বহাল থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। সামনে কূটনৈতিক দরকষাকষি, অভ্যন্তরীণ সংস্কার আর বাজার-বৈচিত্র্য—এই তিন দিকেই সমান মনোযোগ দিতে হবে বাংলাদেশকে।