Tag: নির্বাচন কমিশন

  • যাচাই-বাছাই শেষ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকছেন ১,৮৪২ বৈধ প্রার্থী

    যাচাই-বাছাই শেষ: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকছেন ১,৮৪২ বৈধ প্রার্থী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই শেষে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। ইসির তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হলেও জমা পড়ে ২ হাজার ৫৬৮টি। যাচাই শেষে এর মধ্যে ১,৮৪২টি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

    অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ৩০৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন, বাতিল হয়েছে ১৩৩ জনের মনোনয়ন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৈধ ১৩৮ এবং বাতিল ৫৬টি। রাজশাহী অঞ্চলে ১৮৫ জন বৈধ হলেও ৭৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    খুলনা অঞ্চলে ১৯৬ জন প্রার্থী বৈধ হয়েছেন, অবৈধ হয়েছেন ৭৯ জন। বরিশাল অঞ্চলে বৈধ প্রার্থী ১৩১ জন এবং বাতিল ৩১ জন। সিলেট অঞ্চলে ১১০ জন বৈধ ও ৩৬ জন অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

    ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৯৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেলেও ১১২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। কুমিল্লা অঞ্চলে বৈধ প্রার্থী ২৫৯ জন, বাতিল হয়েছে ৯৭ জনের। রংপুর অঞ্চলে বৈধ ২১৯ ও বাতিল ৫৯ জন। ফরিদপুর অঞ্চলে ৯৬ জন বৈধ এবং ৪৬ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

    এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনের তিনটি মনোনয়নপত্র কোনো যাচাই ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

  • মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপর আপিল দাখিল ও নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত ছিল। এদিন বিভিন্ন আসনে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৮৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হলো—বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির আরও আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    হলফনামায় ভুল ও অসংগতি, তথ্যে গরমিল, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এবং ঋণখেলাপির অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    চট্টগ্রাম: তিনটি আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাকের) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যা। এর মধ্যে এরশাদ উল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার, আহমদ কবির, খেলাফত মজলিসের আফরাফ বিন ইয়াকুব এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের। চট্টগ্রাম- ৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জাতীয় পার্টির এমএ ছালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াহেদুল মাওলা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বগুড়া: জেলার তিনটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। এর মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে দুইজন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চারজন এবং বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গরমিল থাকায় বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার।

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকতা জানান, হলফনামায় নোটারি পাবলিকের আইনজীবীর স্বাক্ষর ছিল ২৮ তারিখ কিন্তু প্রার্থী হিসেবে মান্নার স্বাক্ষর ছিল ২৯ তারিখে। তাতে প্রতীয়মান হয়েছে প্রার্থী নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর করেননি। স্বাক্ষর করার নিয়ম নোটারি পাবলিকের সামনে। তবে ‌আপিল করার সুযোগ আছে বলেও তিনি জানান।

    বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন– জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু।

    বগুড়া-১ আসনে মোট সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা। বগুড়া-৩ আসনে মোট পাঁচ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান আলী তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    যশোর: জেলার আরও দুটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নিজাম উদ্দিন অমিতের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যশোর-৪ আসনে (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুব, দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুবের নামে ঢাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। তাই তাঁর প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেয় ব্যাংক।

    কক্সবাজার: কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলা। এর মধ্যে একটি মামলার যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    কুমিল্লা : জেলার ছয়টি আসনে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– কুমিল্লা-১ আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ ইফতেকার আহসান, জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক, কাজী ওবায়েদ ও আবু জায়েদ আল মাহমুদ। কুমিল্লা-২ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আব্দুস সালাম, কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমিজ উদ্দিন ও মনোয়ার হোসেন। কুমিল্লা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামানের। কুমিল্লা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল করিম এবং খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন। কুমিল্লা-৫ আসনে সিপিবির আবদুল্লাহ আল কাফি। কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদের কামরুন নাহার সাথী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুনুর রশিদ।

    গাইবান্ধা: পাঁচটির মধ্যে দুটি আসনের আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার, মোস্তফা মহসিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রমজান আলী ও জাতীয় পার্টির মাহফুজুল হক সরদার। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে সিপিবির প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মাজেদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযম।

    মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, সিপিবির শ ম কামাল হোসেন, লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা ও খেলাফত মজলিসের নুর হোসাইন নুরানী।

    বরিশাল: তিনটি আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী ও বরিশাল-৬ আসনে মুসলিগ লীগের আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়পত্র স্থগিত হয়েছে।

    খুলনা: জেলার দুটি আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীসহ আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আরা পারভীন (ইয়াসিন), খুলনা-৬ আসনে একই দলের প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল বিশ্বাস।

    কুড়িগ্রাম:  জেলার চারটি আসনের দুটিতে গতকাল এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মনোনয়নপত্র স্থগিত হয়েছে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের।

    পাবনা: পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির দুই বিদ্রোহী নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন খায়রুন নাহার খানম মিরু ও হাজি ইউনুস আলী। এদিকে গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রস্তাবক ও সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিককে ডিবি আটক করেছে। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এই অভিযোগ করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    রংপুর: জেলার দুটি আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাসদের আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডলের। রংপুর-৪ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– স্বতন্ত্র শাহ্‌ আলম বাশার, জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) আব্দুস ছালাম।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ছয়টির মধ্যে তিনটি আসনে ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও মো. কাজী জাহাঙ্গীর।

    টাঙ্গাইল: আটটির মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদ। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার হোসেন সাগর, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র আইরিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম তালুকদার ও মো. আব্দুল হালিম মিঞা।

  • সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বন্যা: ৫১ দলে ২,৫৬৯ জন, কে কত আসনে লড়ছে?

    সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বন্যা: ৫১ দলে ২,৫৬৯ জন, কে কত আসনে লড়ছে?

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে নেমেছেন।

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, দলীয় প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ৯০ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৮৭ জন। এ ছাড়া একজন প্রার্থী রয়েছেন অনিবন্ধিত দলের পক্ষ থেকে।

    দলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৩৩১ জন, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ জন, জাতীয় পার্টি ২২৪ জন, গণঅধিকার পরিষদ ১০৪ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ৪৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের ৬৮ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন, এবি পার্টি ৫৩ জন এবং জনতার দল থেকে ২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।

    গতকাল নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এসব তথ্য জানান। তবে মনোনয়ন জমার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোন দল থেকে ঠিক কতজন দলীয় ও কতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন—তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তখনও প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

    বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া পিডিপি, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।

    নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

    ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনি প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

    এদিকে, পোস্টাল ভোটের জন্য ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৫২ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

    প্রবাসী ভোটার, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে পোস্টাল ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

  • নির্বাচনী দৌড়ে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা: কাল শেষ হচ্ছে মনোনয়ন দাখিল, ফরম নিয়েছেন ২৭৮০ প্রার্থী

    নির্বাচনী দৌড়ে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা: কাল শেষ হচ্ছে মনোনয়ন দাখিল, ফরম নিয়েছেন ২৭৮০ প্রার্থী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৩১ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রোববার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

    ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

    মনোনয়ন যাচাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি।

    উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে আপিল সংক্রান্ত সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা: সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসলো বিএনপির প্রতিনিধি দল

    নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা: সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসলো বিএনপির প্রতিনিধি দল

    এবিএনএ: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৈঠকে বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি, কমিশনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিএনপির পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

    বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • দেশে ফেরার দুই দিনের মাথায় ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান, নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় বার্তা বিএনপির

    দেশে ফেরার দুই দিনের মাথায় ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান, নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় বার্তা বিএনপির

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে জানিয়েছে দলটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পরপরই ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করবেন তিনি।

    এর আগে বিকেল তিনটার দিকে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসে। প্রতিনিধি দলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ অংশ নেন।

    দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

    নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সে কারণেই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আগাম আলোচনা করেছে বিএনপি।

    তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও ভোটার হওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির কৌশলগত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

  • নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব তথ্য নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

    এর আগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবও অংশ নেন। এর আগে একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা তফসিল ঘোষণার পর তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে ইসির প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

  • সংসদ নির্বাচনের সূচিতে বদল: তফসিলের গুরুত্বপূর্ণ তারিখে আংশিক সংশোধন আনল ইসি

    সংসদ নির্বাচনের সূচিতে বদল: তফসিলের গুরুত্বপূর্ণ তারিখে আংশিক সংশোধন আনল ইসি

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলে আংশিক সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও তথ্য সংশোধন করে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    শনিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে সংশোধিত এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এতে মূলত তিনটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।

    সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১-এর দফা (১) অনুযায়ী জাতীয় সংসদ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন সদস্য নির্বাচনের সময়সূচি সংবলিত গেজেটে সংশোধন আনা হয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ গেজেটের ১৩৩০৫ পৃষ্ঠায় সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের অধীন উল্লেখিত কিছু শব্দ ও চিহ্ন বাতিল করা হয়েছে। একই পৃষ্ঠায় মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত ২১–২৭ পৌষ (৫–১১ জানুয়ারি), সোমবার থেকে রবিবার সময়সীমার পরিবর্তে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১–২৫ পৌষ (৫–৯ জানুয়ারি), সোমবার থেকে শুক্রবার।

    অন্যদিকে, গেজেটের ১৩৩০৬ পৃষ্ঠায় আপিল নিষ্পত্তির তারিখেও সংশোধন আনা হয়েছে। আগে নির্ধারিত ২৮ পৌষ–৪ মাঘ (১২–১৮ জানুয়ারি), সোমবার থেকে রবিবার সময়ের পরিবর্তে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ পৌষ–৪ মাঘ (১০–১৮ জানুয়ারি), শনিবার থেকে রবিবার।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন কার্যক্রমকে আরও সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী করতে এসব সংশোধন আনা হয়েছে।

  • জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কূটনীতিকদের আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের সর্বশেষ প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়।

    এ সময় জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন দেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক অংশ নেন।

  • সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১৫ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

    প্রধান অতিথি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।

    জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন—ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বানও জানান তিনি। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম এবং রাউজান থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)।যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।