Tag: নির্বাচন কমিশন

  • আইনশৃঙ্খলার বড় সংকট নেই, বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে: নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সিইসি

    আইনশৃঙ্খলার বড় সংকট নেই, বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে: নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সিইসি

    এবিএনএ: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশে বড় ধরনের কোনো অবনতি ঘটেনি। সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনাকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে তরুণ ভোটারদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে এবং এগুলো নতুন কিছু নয়।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন খুনখারাবি বা হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এগুলো দিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতিকে খারাপ বলা যাবে না।” তিনি অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আগেও ছিল।

    নির্বাচন ঘিরে শঙ্কা প্রসঙ্গে সিইসি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের কোনো দ্বিধা নেই। কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সবার সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি গণমাধ্যম ও জনমনে থাকা উদ্বেগ দূরে সরিয়ে রাখার আহ্বান জানান।

    সিইসি আরও জানান, সম্প্রতি শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীগুলো নির্বাচনের আগ পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রস্তুত রয়েছে বলে কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে।

    তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হতে যাচ্ছে। কারণ প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি, কারাবন্দি, দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিজ এলাকায় না থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

    একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন সিইসি। তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

    নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

    এবিএনএ: বাংলাদেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ ও বিক্ষোভ তত বাড়তে পারে।

    দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া কর্মসূচিতেও হঠাৎ সংঘর্ষ বা সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নাগরিকদের আশপাশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা, নিয়মিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অনুসরণ করা, ভিড়পূর্ণ এলাকা পরিহার করা এবং অপ্রয়োজনীয় চলাচল সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • মনোনয়ন জমা দিতে হবে নিজ হাতে: রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনায় বদলে গেল প্রক্রিয়া

    মনোনয়ন জমা দিতে হবে নিজ হাতে: রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনায় বদলে গেল প্রক্রিয়া

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন জমা গ্রহণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থীদের নিজ হাতে রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সরাসরি উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    শুক্রবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে জানানো হয়—মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে প্রার্থী, প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ডাক, ই-মেইল বা প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ থাকছে না।

    পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনারসহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় জেলা প্রশাসকরা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও), যাঁরা সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাঁরা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রতিটি আসনে রিটার্নিং অফিসার দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন। এতে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন, সময় ও স্থানসহ ইসির ঘোষিত পূর্ণ সময়সূচি থাকবে। সরকারি ছুটিসহ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ ও গ্রহণ করা হবে।

    নির্বাচনী এলাকাগুলোর দর্শনীয় স্থানে গণবিজ্ঞপ্তি টাঙানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রের সঙ্গে এ গণবিজ্ঞপ্তির নমুনা পাঠিয়েছে ইসি।

    আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর।

  • তপশিল ঘোষণায় আশ্বস্ত বিএনপি: ‘গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে’—মির্জা ফখরুল

    তপশিল ঘোষণায় আশ্বস্ত বিএনপি: ‘গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে’—মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ঘোষিত তপশিল বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে—সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত এবং জনগণকে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিইসির তপশিল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “তপশিল ঘোষণায় আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”

    তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তারিখ ঘোষণা হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে—এটি দেশের রাজনীতিতে বড় একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ফখরুল আরও বলেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে এবং সব প্রার্থী এ প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর করতে সহযোগিতা করবেন।

    বিএনপি মহাসচিব মনে করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের দিন।”

  • জোট করলেও একক প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

    জোট করলেও একক প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট গঠন করা হলেও প্রতিটি দলকে তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ করতে হবে—হাইকোর্ট এমন নির্দেশনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন।

    হাইকোর্ট জানায়, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলীয় প্রতীক পরিবর্তনের সুযোগ নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্ব স্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধানের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন আদালত। ফলে জোট করলেও প্রতিটি দলকে নিজ নিজ প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

    রিটের পক্ষের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম; তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও দলীয় প্রতীকের বাধ্যবাধকতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করে এনডিএম। রিটে যুক্তি দেওয়া হয়, জোটভুক্ত দলগুলোর ভোটে একক প্রতীক ব্যবহারে বাধা থাকায় আরপিওর সংশোধিত বিধানটি বাতিল করা উচিত।

    জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর মহাসচিব মোমিনুল ইসলাম রিটটি দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর সরকার আরপিও সংশোধন করে জানায়—নিবন্ধিত একাধিক দল জোট গঠন করলেও প্রত্যেককে নিজ নিজ প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

  • একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ১২ ফেব্রুয়ারিতে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

    একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ১২ ফেব্রুয়ারিতে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

    এবিএনএ: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৫ সালের জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ তফসিল প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

    মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই ও প্রচারণার সময়সূচি

    সিইসি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর
    মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
    রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, আর এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি
    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, এবং ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ।

    এ ছাড়া ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে প্রচারণা চলবে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত—অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত

    ভোটগ্রহণ ও ব্যালট বিবরণ

    ভোট নেওয়া হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত—এ বছর ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
    জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদাকালো, আর গণভোটের ব্যালট নির্ধারিত হয়েছে গোলাপি রঙের। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের বর্ষপূর্তির আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে জাতীয় নির্বাচন।

    পরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সিদ্ধান্ত হয়। ১৩ নভেম্বর নিশ্চিত করা হয়—জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

  • বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    এবিএনএ: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর ফলে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পূর্বের মতোই বহাল থাকছে।

    গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট রায়ে বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ইসি আপিল করেছিল।

    আদালতে ইসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। গাজীপুর-৬ আসনের প্রার্থীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাদল, মুস্তাফিজুর রহমান খান ও বেলায়েত হোসেন। অন্যদিকে বাগেরহাটের রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

    বাগেরহাটে বহুদিন ধরে চারটি আসনেই নির্বাচন হয়ে আসছে।

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: সদর ও কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল ও মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইসির চূড়ান্ত গেজেটে একটি আসন কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করা হয়। এতে বাগেরহাট-৪ আসনটি বাদ দিয়ে গাজীপুর-৬ আসন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি এবং ২০১৮ সালে বাগেরহাট-১ থেকে বিএনপির প্রার্থী মো. শেখ মাসুদ রানা।

    গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই ইসি ও গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. সালাহ উদ্দিন সরকার আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।

    আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এখন বাগেরহাটে আগের মতো চারটি আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • সরকারি পদে থাকলে নির্বাচন নিষিদ্ধ: কঠোর বার্তা নির্বাচন কমিশনের

    সরকারি পদে থাকলে নির্বাচন নিষিদ্ধ: কঠোর বার্তা নির্বাচন কমিশনের

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকারের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনরত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। শুধু প্রার্থী হওয়াই নয়, নির্বাচনী প্রচারণাতেও তাঁরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবেন—এমন মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

    মঙ্গলবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আসন বিন্যাস, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তালিকা, এবং নির্বাচন সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা—সবকিছুই প্রস্তুত রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

    তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সেলসহ প্রায় ২০ ধরনের নির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

    নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সরকারি পদে থেকে কেউ যদি প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, তবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগও থাকছে না। সুতরাং সরকারি পদধারীদের জন্য নির্বাচন ও প্রচারণা—দুটিই নিষিদ্ধ।

  • জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টাকে বিস্তারিত অবহিত করলেন সিইসি

    জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুতি: প্রধান উপদেষ্টাকে বিস্তারিত অবহিত করলেন সিইসি

    এবিএনএ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের অগ্রগতি, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

    সিইসির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদও। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

    বৈঠকে সিইসি জানান, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসন—সব পক্ষের সহযোগিতায় নির্বাচনী পরিবেশ ইতোমধ্যেই অনুকূল হয়ে উঠেছে।

    ইসির প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকার কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “জাতির প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে ইসিই চালকের আসনে আছে। আমাদের লক্ষ্য একটি নিখুঁত নির্বাচন উপহার দেওয়া, যা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক নজির তৈরি করবে।”

    এ ছাড়া সিইসি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতার জন্য প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জনগণ ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে শুরু করেছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশে উৎসবমুখর আমেজ তৈরি করেছে।

  • নির্বাচন প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন, তফসিল কবে—এখনো চূড়ান্ত নয়: ইসি সচিবের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

    নির্বাচন প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন, তফসিল কবে—এখনো চূড়ান্ত নয়: ইসি সচিবের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে ভোটের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, তা এখনো নির্ধারণে আসেনি বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই)-এ সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান। কর্মশালাটি আয়োজন করে ইউএনডিপি ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।

    ইসি সচিব বলেন, “সকালে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘ মিটিং হয়েছে। সেখানে ভোট আয়োজনের লজিস্টিক, নিরাপত্তা, কর্মকর্তা প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।’’
    তিনি আরও বলেন, “ইসি কতটুকু প্রস্তুত—এই প্রশ্নের উত্তর একটাই, আমরা এখন শতভাগ প্রস্তুত।”

    তবে নির্বাচনকালীন সবচেয়ে প্রত্যাশিত অংশ ‘তফসিল’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এখনো পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”

    কর্মশালায় ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২’, ‘আচরণবিধিমালা ২০০৮’ ও ‘নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন ১৯৯১’-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেন আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঠিক ভূমিকা নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিসম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।