Tag: নির্বাচন কমিশন

  • নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র থানায় জমার সরকারি নির্দেশ

    নির্বাচনী নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র থানায় জমার সরকারি নির্দেশ

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বৈধ অস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিকটবর্তী থানায় জমা দিতে হবে।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ নির্দেশনায় উপসচিব আবেদা আফসারী স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীরা কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র বহন বা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে পারবেন না।

    তবে নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তাদের অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারদের ক্ষেত্রে ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই আদেশ অমান্য করলে দ্য আর্ম অ্যাক্ট ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি মহলের মতে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন ক্রমেই একপেশে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার (১৯ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে। সরকার সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেই পরিবেশ এখনও দৃশ্যমান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে সংবিধান ও আইন স্পষ্ট থাকলেও নির্বাচন কমিশন ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের—নির্বাচন কমিশনের নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে মব তৈরি, আগাম প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে কমিশনের আচরণ পক্ষপাতমূলক হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।

    গণভোটের পক্ষে প্রচারণাকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক না থাকলেও নির্বাচন কমিশন তা বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পোস্টার, ফেস্টুন, শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আগের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো এবারও দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি এনসিপির প্রার্থীদের শো-কজ নোটিশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

    এনসিপির নেতারা বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা স্পষ্ট করে জানান, কোনো পরিকল্পিত বা ইঞ্জিনিয়ারড নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের মানুষ ২০০৮ সালের মতো নয়, বরং ১৯৯১ সালের মতো অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

  • তিন দফা দাবিতে অনড় ছাত্রদল, সোমবার সকালেই ইসির সামনে ফের ঘেরাও কর্মসূচি

    তিন দফা দাবিতে অনড় ছাত্রদল, সোমবার সকালেই ইসির সামনে ফের ঘেরাও কর্মসূচি

    এবিএনএ: ব্যালট পেপারে অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ছাত্রদল। তবে সোমবার সকাল থেকেই আবারও কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

    রোববার রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, সোমবার বেলা ১১টা থেকে পুনরায় ইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

    তিনি বলেন, রোববার সকাল থেকে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুরো কর্মসূচি ছিল সুশৃঙ্খল এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    রাকিব আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু মহল আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সেগুলো তাদের নিজস্ব মতামত। আমাদের মূল তিনটি দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অবগত রয়েছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কমিশন সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি অভিযোগ করেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশন ভবনে এসে একাধিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। বিষয়টি ইসির নজরে আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন প্রভাব খাটাতে না পারে, সে বিষয়ে কমিশন সতর্ক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

    তিনি জানান, রোববারের মতো ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে শেষ করা হলেও সোমবার আবারও তা শুরু হবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, ২২ জানুয়ারির পর যদি কোনো ষড়যন্ত্র বা কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তাহলে ছাত্রদল তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

    এর আগে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

    কর্মসূচির কারণে নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়।

    ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সরাসরি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

    ছাত্রদলের উত্থাপিত তিন দফা অভিযোগ হলো—পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে ইসির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়া এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি।

  • প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    এবিএনএ: দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গুরুতর শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নষ্ট হলে জনগণের কাছে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. তাহেরের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার একযোগে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা প্রস্তুত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো দেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।

    জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিরোধিতা তারা করেন না। তবে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে জামায়াত আমিরের ক্ষেত্রেও একই আচরণ প্রত্যাশিত। তা না হলে প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরনের বৈষম্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে কমিশন দায় এড়াতে পারবে না। এতে নির্বাচনী মাঠের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।

    ডা. তাহের জানান, এসব উদ্বেগ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন কার্যকর ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। তবে তার আশপাশের কিছু উপদেষ্টা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

    এদিকে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াত নেতা জানান, প্রধান উপদেষ্টা মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ বিতর্ক: প্রতীকের অবস্থান নিয়ে যা জানাল নির্বাচন কমিশন

    পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ বিতর্ক: প্রতীকের অবস্থান নিয়ে যা জানাল নির্বাচন কমিশন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর অবস্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ক্রমধারাই অনুসরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, কমিশনের কাছে যে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই পোস্টাল ব্যালটে দল ও প্রতীকগুলো সাজানো হয়েছে।

    এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ধানের শীষ প্রতীকটি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালটের মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে। দলটির নেতাদের দাবি, ব্যালট ভাঁজ করলে এই প্রতীক অনেক সময় ভোটারের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। এ কারণে বিদেশে পাঠানো হয়নি—এমন পোস্টাল ব্যালট সংশোধনের দাবিও তোলে বিএনপি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, পোস্টাল ব্যালট পুনর্মুদ্রণ বা সংশোধনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। কমিশনের সভায় আলোচনা করেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এই বিতর্ককে ঘিরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দুই ব্যাংকের আপিল

    চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দুই ব্যাংকের আপিল

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছে দুটি ব্যাংক। একইসঙ্গে ওই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীও পৃথকভাবে আপিল করেছেন।

    রোববার নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক এশিয়া ও ট্রাস্ট ব্যাংক আলাদাভাবে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন জমা দিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এসব আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় যাচাই-বাছাই শেষে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। তবে পরে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে।

    জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাবি করেন, আদালতের দেওয়া এক আদেশে আসলাম চৌধুরীকে ঋণখেলাপি ঘোষণা থেকে বিরত রাখা হলেও শর্ত হিসেবে ১৩টি ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওই শর্ত থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ব্যাংক এশিয়ার ঢাকা করপোরেট অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। একই অভিযোগে ট্রাস্ট ব্যাংকও পৃথক আবেদন জমা দিয়েছে।

  • ইসিতে প্রথম দিনে ৫২ প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর, ১৫ আবেদন বাতিল

    ইসিতে প্রথম দিনে ৫২ প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর, ১৫ আবেদন বাতিল

    এবিএনএ: নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রথম দিন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) শুনানি সম্পন্ন করেছে। আজ শনিবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৭০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫২ জনের আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে।

    ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, “আজ ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল আবেদনের শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ জনের আপিল নামঞ্জুর হয়েছে, আর ৩ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও বিবেচনাধীন।”

    এ বছর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্বারা মোট ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। এই বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আপিল গ্রহণ শুরু হয়েছিল ৫ জানুয়ারি এবং শেষ হয়েছে ৯ জানুয়ারি।

    শুনানি কার্যক্রম আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রোববার ৭১–১৪০ নম্বর, সোমবার ১৪১–২১০ নম্বর এবং মঙ্গলবার ২১১–২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

  • নির্বাচন সামনে রেখে কড়া নজরদারি: মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসাতে তালিকা চাইল সরকার

    নির্বাচন সামনে রেখে কড়া নজরদারি: মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসাতে তালিকা চাইল সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে যেসব মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তালিকা দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ জন্য কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত মাদ্রাসাগুলোর নাম, সংখ্যা ও পূর্ণ ঠিকানা প্রয়োজন। আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে সব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্ধারিত ই-মেইলে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া তালিকা প্রেরণের ক্ষেত্রে সমন্বয় নিশ্চিত করতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • মনোনয়ন ফিরে পেতে শেষ দৌড়: চার দিনে ইসিতে জমা পড়ল ৪৬৯ আপিল, শুক্রবার শেষ হচ্ছে আবেদন

    মনোনয়ন ফিরে পেতে শেষ দৌড়: চার দিনে ইসিতে জমা পড়ল ৪৬৯ আপিল, শুক্রবার শেষ হচ্ছে আবেদন

    এবিএনএ: রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করছেন। গত চার দিনে কমিশনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র।

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপিল আবেদনের শেষ সময় শুক্রবার। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর শনিবার থেকেই আপিলের শুনানি কার্যক্রম শুরু হবে।

    কমিশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুনানিকালে প্রতিদিন গড়ে ৭০টি করে আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসিতে দায়ের করা সব আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দিনে ৪২টি, দ্বিতীয় দিনে ১২২টি, তৃতীয় দিনে ১৩১টি এবং চতুর্থ দিনে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ১৭৪টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। শেষ দিনে আরও আবেদন জমা পড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আপিল শুনানি সম্পন্ন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া যায়।

  • প্রতীক পাওয়ার আগেই প্রচারণা? ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কড়া বার্তা ইসির

    প্রতীক পাওয়ার আগেই প্রচারণা? ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কড়া বার্তা ইসির

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করে প্রচারণা শুরু করা যাবে। এর আগে প্রচারণা চালালে তা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের আওতায় পড়বে।

    এছাড়া নির্বাচন কমিশন জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে হবে। এই সময়সীমা কঠোরভাবে মানতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে ইসি।

    নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে আচরণবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়ে কমিশন বলেছে, কোনো ধরনের ব্যত্যয় হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।