Tag: নির্বাচন কমিশন

  • নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ: দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুক্রবার বিশেষ দোয়ার আহ্বান ইসির

    নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ: দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুক্রবার বিশেষ দোয়ার আহ্বান ইসির

    এবিএনএ: গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনায় আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজনের অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার জন্যও কমিশন ধন্যবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

    ইসি জানায়, দেশের অব্যাহত শান্তি ও উন্নতি কামনায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর সব মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় কমিশন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

  • ঘরে বসেই ভোটের ফল জানুন মুহূর্তে: ইসির নতুন অ্যাপে মিলছে লাইভ আপডেট

    ঘরে বসেই ভোটের ফল জানুন মুহূর্তে: ইসির নতুন অ্যাপে মিলছে লাইভ আপডেট

    এবিএনএ: বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চালু করেছে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার ও সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল এবং নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য রিয়েল-টাইমে দেখতে পারবেন।

    যেভাবে ব্যবহার করবেন অ্যাপটি

    ১) অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল
    অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর এবং আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ স্টোরে গিয়ে Smart Election Management BD লিখে সার্চ করুন। ডাউনলোড শেষে অ্যাপটি ইনস্টল করে খুলুন।

    ২) লগইন দরকার কি না
    সাধারণভাবে ফলাফল দেখতে লগইনের প্রয়োজন নেই। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য, ভোটার স্ট্যাটাস বা ইভিএম–সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে লগইন করতে হতে পারে।

    ৩) ফলাফল দেখার ধাপ

    • নির্বাচন ও এলাকা নির্বাচন: হোম স্ক্রিন থেকে ‘ইলেকশন রেজাল্টস/ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনে গিয়ে জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা বা ইউনিয়ন নির্বাচন বেছে নিন। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করুন।

    • কেন্দ্রভিত্তিক লাইভ আপডেট: প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হলে ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে আপডেট হয়। প্রার্থী বা দলভিত্তিক ভোটসংখ্যা ও শতাংশ দেখা যায়।

    • গ্রাফ ও চার্টে উপস্থাপনা: ফলাফল গ্রাফ/চার্টে দেখানো হয়, ফলে এগিয়ে থাকা প্রার্থী বা দলের অবস্থান এক নজরেই বোঝা যায়। লাইভ আপডেটে ধাপে ধাপে অগ্রগতিও দেখা যায়।

    ইসির এই উদ্যোগের ফলে ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা বাড়বে, বিভ্রান্তি কমবে এবং ভোটাররা দ্রুত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাবেন—সবকিছুই নিজের স্মার্টফোনে।

  • ভোট শেষ হতেই ফল জানতে চায় দেশ, বিলম্বে ‘ভ্রান্তি ছড়াতে পারে’—ইসিকে সতর্ক করলেন তারেক রহমান

    ভোট শেষ হতেই ফল জানতে চায় দেশ, বিলম্বে ‘ভ্রান্তি ছড়াতে পারে’—ইসিকে সতর্ক করলেন তারেক রহমান

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল দ্রুত ঘোষণা না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ভোট প্রদান ও কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখার পর গুলশানে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি দ্রুত ফল প্রকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    তারেক রহমান বলেন, ভোটাররা তাদের দেওয়া ভোটের ফল দ্রুত জানতে চান। ফল ঘোষণায় অযথা বিলম্ব হলে নানা গুজব ও ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দ্রুত ও পরিষ্কারভাবে ফল প্রকাশ জরুরি।

    তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার অনুরোধ জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

    তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল মেনে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে ভোটে কারচুপি বা ফল নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সতর্ক করেন।

    সবশেষে তারেক রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে।

  • রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: একযোগে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু

    রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: একযোগে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু

    এবিএনএ: রাত পোহালেই বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে ২৯৯টি আসনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে সাধারণ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা সংবিধান সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেবেন। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত রয়েছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এটি প্রথম সাধারণ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয় ৫ জানুয়ারি, বাছাই শেষ হয় ৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় ছিল, পরে জোটের প্রার্থীদের জন্য কিছু ব্যতিক্রম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫০টি রাজনৈতিক দল এবং ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় ও ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আসনভিত্তিক হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন। প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে, ১১ দলীয় জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যথাক্রমে ২৫৮ জন প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

    এই প্রথম বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না। ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী মানবতাবিরোধী ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কারণে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত।

    নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিটিভি ও বেতারে সব দলের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী ভাষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি, মিছিল ও জনসভা বন্ধ। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

    প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রথমবার ভোট দিতে পারছেন। ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ই-কেওয়াইসি ও ফেসিয়াল ভেরিফিকেশন ব্যবহার করে জাল ভোট রোধ করা হয়েছে।

    সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ৪২ হাজার ৭৭৯ প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫ হাজার কর্মকর্তা নিয়োজিত।

    নির্বাচন কমিশন ২ হাজার ৯৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে, ভোট ও সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য। প্রতি উপজেলা ও থানায় অন্তত দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।

    ৪২ হাজার ৭৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৪০% ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে ঢাকার ১৫টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তার জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

    এবছর সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী মোতায়েন, যার মধ্যে সেনা, নৌসদস্য, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্য অন্তর্ভুক্ত। ইউএভি, ড্রোন ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে রিয়েল-টাইম নজরদারি করা হবে।

    দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভোট পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ৮১টি দেশি সংস্থা ও ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষক এবং ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন।

    নির্বাচনকে ঘিরে যানবাহনের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভোটের সমস্ত সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে গেছে এবং ভোট কর্মকর্তারা অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ ১৮ মাসের সংস্কার ও প্রস্তুতির পর দেশজুড়ে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন। কালকের ভোটগ্রহণ নির্ধারণ করবে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

  • রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক দল ও প্রতীকের উপস্থিতিতে ভোট হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্যমতে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫০টি নিবন্ধিত দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২০২৮ জন প্রার্থী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

    ভোটাররা এবার ব্যালটে দেখতে পাবেন ১১৯টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ পরিচিত প্রতীকের পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে—যা নির্বাচনী ইতিহাসে আরেকটি ব্যতিক্রমী সংযোজন।

    নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বর্জনের চিত্র
    বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি ভোটে নেই। নিবন্ধিত আরও আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ইসির তালিকা অনুযায়ী সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী নেই।

    ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যেখানে ২৮টি দল ও ৬৯টি প্রতীক ছিল, সেখানে এবারের অংশগ্রহণ ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ—যা ভোটের মাঠকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

    প্রার্থী বিন্যাস ও দলীয় শক্তিমত্তা
    ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লায় ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙলে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
    এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদের ট্রাকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তেতে ৬৫ জন, বাসদের মইয়ে ৩৯ জন, খেলাফত মজলিসের রিকশায় ৩৪ জন, এনসিপির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির ঈগলে ৩০ জনসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

    ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের কথা বললেও চূড়ান্ত তালিকায় জাসদের ছয়জন প্রার্থীর নাম দেখা যাচ্ছে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

    সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে ফিরে দেখা
    স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বারবার বদলেছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নানা সময় বর্জন, বিতর্ক ও অংশগ্রহণের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।

    সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক দল, প্রতীক ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

  • ভোটের আগেই জেনে নিন নিজের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র—ইসির ৪ সহজ পদ্ধতি এক নজরে

    ভোটের আগেই জেনে নিন নিজের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র—ইসির ৪ সহজ পদ্ধতি এক নজরে

    এবিএনএ: আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিজের ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা জানা যাবে বলে জানিয়েছে ইসি।

    ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবাগুলো ব্যবহার করে ভোটাররা কেন্দ্র খুঁজে নিতে পারবেন আগেভাগেই। এতে ভোটের দিন সময় বাঁচবে এবং বিভ্রান্তি কমবে।

    পদ্ধতি–১: Smart Election Management BD অ্যাপ
    প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে Smart Election Management BD অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন। ড্যাশবোর্ডে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের নাম-ঠিকানা দেখা যাবে।

    পদ্ধতি–২: ১০৫ হটলাইন
    যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোন থেকে ১০৫ নম্বরে কল করুন। অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ জানালে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সেবা চালু থাকবে।

    পদ্ধতি–৩: ১০৫-এ এসএমএস
    মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ফরম্যাটে তথ্য লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে।

    পদ্ধতি–৪: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট
    ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনু থেকে অনুসন্ধান করা যাবে। এলাকা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে, অথবা এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সরাসরি নিজের তথ্য পাওয়া যাবে। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রের অবস্থান, দূরত্ব ও যাওয়ার পথও দেখা যাবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আগেই নিজের তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

  • ভোটের আগমুহূর্তে অনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতার ছায়া: জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিএনপির

    ভোটের আগমুহূর্তে অনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতার ছায়া: জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিএনপির

    এবিএনএ: নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থসহ জামায়াত নেতার আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, নির্বাচনের আগে এ ধরনের অর্থ বহন ও বিতরণের চেষ্টা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি ভোট কেনার ইঙ্গিত দেয়।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়ে যারা মাঠে নেমেছে, তাদের পক্ষ থেকে অর্থের প্রলোভন দেখানো চরম ভণ্ডামির উদাহরণ।

    ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের দাবি
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সম্ভাব্য জাল ভোটের আশঙ্কা তুলে ধরে ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। মাহদী আমিন বলেন, কিছু এলাকায় ধর্মীয় পোশাক ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের মর্যাদা ও পর্দার প্রতি সম্মান রেখেই সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি বা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মিল রেখে মুখমণ্ডলের প্রয়োজনীয় অংশ যাচাই করা উচিত। এ কাজ নারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা নারী এজেন্টের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

    সৈয়দপুর বিমানবন্দর প্রসঙ্গ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ
    তিনি বলেন, টানা কয়েক দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির থাকার পরও বিপুল অঙ্কের অর্থ বহনের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু সৈয়দপুর নয়, ঢাকা-১৫, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আর্থিক লেনদেনের খবর বিএনপি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    এছাড়া অভিযোগ করা হয়, কিছু এলাকায় ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর ও ভোটার আইডির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিএনপির দাবি, ধর্মীয় আবেগ বা অর্থের প্রলোভন দেখিয়েও ভোটারদের বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়নি।

    সহিংসতা ও জাল সিলের অভিযোগ
    বিএনপির নেতারা আরও বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে দেশীয় অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী জড়ো করা হচ্ছে। বগুড়ার নন্দীগ্রামে সংঘর্ষে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার আহত হওয়ার ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানান তারা। লক্ষ্মীপুরে জাল সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির জবানবন্দি উল্লেখ করে দলটি দাবি করে, পরিকল্পিতভাবে ভুয়া সিল তৈরির প্রক্রিয়া চলছিল।

    ভোটার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান
    আগামীকালের নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটারদের সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায় বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে দলটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

  • কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে মোড় নেবে—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জুড়ে রয়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে হিন্দু ভোটার রয়েছেন আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। খ্রিষ্টান ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার, বৌদ্ধ ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা কয়েক দশ হাজারের মতো। নির্বাচন ঘিরে একদিকে যেমন ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও কাটেনি।

    সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রশ্নকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভোটের দিন জানমালের সুরক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

    সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়—সব রাজনৈতিক দলেরই সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। যে দল বা প্রার্থী এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেবে, তার পক্ষেই সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

    এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশন বলছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

  • ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    এবিএনএ: গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হয়।

    এবার ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। সে হিসেবে ৪৮ ঘণ্টা আগের সময়সীমা দাঁড়ায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা। ওই সময়ের মধ্যেই পোস্টার, মাইকিং, সভা-সমাবেশসহ প্রার্থীদের সব প্রচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে প্রায় ২০ দিন প্রচারের সুযোগ পেয়েছিলেন প্রার্থীরা।

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র।

    দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকে প্রার্থী ২৫৮ জন। জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়ছে ২২৯ জন প্রার্থী। জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৯৮ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে রয়েছেন ৩২ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ‘ফুটবল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৬ জন।

  • ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিলে আটক! নির্বাচনের দিন ইসির কড়া নিষেধাজ্ঞা

    ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিলে আটক! নির্বাচনের দিন ইসির কড়া নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন বহনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা নির্দেশনায় রোববার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিষয়টি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের ভেতরে সাধারণভাবে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

    তবে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কয়েকটি পক্ষকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুই সদস্য মোবাইল বহন করতে পারবেন।

    নির্বাচন কমিশনের মতে, কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত রাখা, গুজব ও অনিয়ম ঠেকানো এবং ভোটগ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।