Tag: নির্বাচন কমিশন

  • ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ইসি, আদেশের কপি হাতে পেল কমিশন

    ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ইসি, আদেশের কপি হাতে পেল কমিশন

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আদালতের দেওয়া আদেশের অনুলিপি হাতে পেয়েছে। এই আদেশ পর্যালোচনা করে আগামীকাল (রবিবার) কমিশনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে শপথ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আদালতের আদেশের অনুলিপি আমরা হাতে পেয়েছি। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে কমিশনে আলোচনা হবে।”

    এর আগে বিকেলে আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “ইশরাক হোসেনের বিষয়েও আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, কালকের বৈঠকে আদেশের সারসংক্ষেপ ও আইনি দিক বিবেচনা করে গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এর আগে, ২৯ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক আবেদনের নিষ্পত্তি করে ইশরাক হোসেনের শপথ নিতে আর বাধা নেই বলে পর্যবেক্ষণ দেয়। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি রয়েছে।

    শীর্ষ আদালত আরও বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী ইসি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও তারা আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে, যা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যত্যয়। বরং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল ইসিকে সহযোগিতা করা, বাধা নয়।

    সবমিলিয়ে, আদালতের রায়ের আলোকে এখন সবার নজর ইসির আগামী দিনের পদক্ষেপের দিকে। ইশরাক হোসেন কবে নাগাদ শপথ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে সম্ভাব্য ঘোষণা আসতে পারে আগামীকাল।

  • ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    ইশরাকের মেয়র শপথে আর কোনো বাধা নেই, হাইকোর্টে রিট খারিজ

    এবিএনএ: 

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ ও শপথে বিরত রাখার আবেদন সংক্রান্ত রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    এ রায়ের ফলে, ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

    উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ছাত্র ও জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এরপর অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    পরে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২৭ মার্চের রায়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে দেওয়া ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে। আদালত ১০ দিনের মধ্যে এ গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেয়, যা ২৭ এপ্রিল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

    তবে একইদিনেই গেজেট ও শপথ গ্রহণ বন্ধে দুটি আইনি নোটিশ দিয়ে আপিলের ঘোষণা দেন রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ নামে দুই ব্যক্তি। এরপর মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট করেন। এতে গেজেট ও রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শপথ বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

    আদালতে আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও কায়সার কামাল যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার এখতিয়ার কেবল মামলার বিবাদী পক্ষের, যেমন সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের। অন্য কেউ রিট দায়ের করতে পারেন না, তাই এই রিট আইনত অযোগ্য।

    দুই পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন নির্ধারণ করে আদালত এবং রিট আবেদন খারিজ করে দেন।

    এর ফলে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথের আর কোনো আইনি বাধা রইল না। ইতোমধ্যে তার সমর্থকেরা মৎসভবন ও কাকরাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে দ্রুত শপথ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • ইশরাককে মেয়র ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, শপথ না নেওয়ার আবেদন

    ইশরাককে মেয়র ঘোষণার রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, শপথ না নেওয়ার আবেদন

    এবিএনএ:  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথগ্রহণ ঠেকাতে এবং তাকে মেয়র ঘোষণা করা রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে।

    বুধবার মো. মামুনুর রশিদ নামে একজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী আকবর আলী রিট আবেদন করেন। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে বিষয়টি শুনানির জন্য তোলা হবে।

    রিট আবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যেন ইশরাক হোসেনকে শপথ পাঠ না করায় এবং একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে প্রতারণা জালিয়াতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    এর আগে গত ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণের নতুন মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। অথচ তার আগেই দুই নাগরিকের পক্ষে এক আইনজীবী নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়ে গেজেট প্রকাশ শপথ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।

    মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিজয়ী হন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম পূর্বঘোষিত ফল বাতিল করে ইশরাককে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

    এই রায়ের পর ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে মতামত চায় এবং মাত্র পাঁচ দিন পরেই, ২৭ এপ্রিল গেজেট জারি করা হয়।

    নতুন রিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—এই রায় গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া কতটা আইনগতভাবে সঠিক হয়েছে, এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার।

    আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। শপথ গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, বিষয়টি এখন পুরোপুরি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।