Tag: নির্বাচন কমিশন

  • “শাপলা নিষিদ্ধ হলে ধানের শীষও অবৈধ”— নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ সারজিস আলমের!

    “শাপলা নিষিদ্ধ হলে ধানের শীষও অবৈধ”— নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ সারজিস আলমের!

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম নির্বাচন কমিশনের প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, যদি শাপলা প্রতীক হিসেবে অনুমোদন না পায়, তবে ধানের শীষ প্রতীককেও অবৈধ ঘোষণা করতে হবে।

    বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম বলেন, “শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়, বরং জাতীয় প্রতীকের অংশ। একইভাবে ধানের শীষ, পাটপাতা কিংবা তারা—এসবও জাতীয় প্রতীকের অংশ। যদি একটিকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে বাতিল করা হয়, তাহলে অন্যগুলোকে বৈধ রাখা যায় না।”

    তিনি আরও বলেন, “জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলার প্রতীক হতে কোনো আইনগত বাধা নেই। কারণ, জাতীয় ফল কাঁঠাল ইতোমধ্যেই একটি মার্কা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদি মার্কা দেখেই ভয় পান, তাহলে সেটা আগেই বলে দিন!”

    এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, যেখানে সম্ভাব্য প্রতীক হিসেবে শাপলা ছাড়াও আরও দুটি প্রতীকের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নীতিগতভাবে শাপলাকে তপশিলভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে এটি প্রতীক হিসেবে অনুমোদিত নয়।

    সারজিস আলমের বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পোস্ট ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যেসব দল দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় প্রতীকের অংশবিশেষকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

  • “যাদের ভোটে হার নিশ্চিত, তারাই আনুপাতিক নির্বাচনের বুলি কপচায়” — সালাহউদ্দিন আহমদ

    “যাদের ভোটে হার নিশ্চিত, তারাই আনুপাতিক নির্বাচনের বুলি কপচায়” — সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তারাই সংখ্যানুপাতিক বা পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নির্বাচন চায়— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করার কৌশল হিসেবে পিআর নির্বাচনের দাবিকে আখ্যায়িত করেন।

    তিনি বলেন, “যারা বলছে নির্বাচন করবো না, কমিশন ঠিক না, পরিস্থিতি ঠিক না—তারা আসলে নির্বাচন নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ জামানত নিয়ে চিন্তিত। আমরা যখন বলি বিচার চাই, সংস্কার চাই—তারা তখন বলে, বিচার বিলম্বিত করছো। অথচ তারাই নির্বাচনে এলে জামানত রাখার অবস্থায় নেই।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ এনসিপি নেতাদের দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, “এই পিআর নির্বাচনের ধুয়ো যারা তুলে, তারা কি আদৌ জানেন সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন কীভাবে কাজ করে? শুধু বলছেন জনগণ নাকি তা চায়—আসলে নিজেরাই জানেন না এর প্রকৃতি।”

    তিনি আরও বলেন, “চেতনার কথা এখন আর বিক্রি করে লাভ নেই। চেতনা শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভাষ্য ছিল। এখন সময় গণতন্ত্রের। জুলাইয়ে স্বাধীনতার জন্য শুধু আপনারা নন, বিএনপির নেতাকর্মীরাও জীবন দিয়েছে।”

    আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত অনেকেই এখন সংস্কারের নাম করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়—এমন মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, “দিনশেষে খেয়ে-দেয়ে সন্ধ্যায় বিদায় নেয়, আর আমাদের ওপর খোঁটা দেয়। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে বিনা ভোটে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা যাবে না।”

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যতই দেরি হোক, গণতন্ত্রের পথে ফিরতেই হবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলন হবে, দাবি একটাই—সংস্কার করে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করুন।”

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি স্পষ্ট করে দিল যে, আনুপাতিক নয়—তারা জনগণের ভোটে নির্ভর করে প্রকৃত নির্বাচন চায়, যেখানে প্রতিযোগিতা হবে স্বচ্ছ, আর ফলাফল নিরপেক্ষ।

  • সংসদ নির্বাচনে নতুন ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, ডিসি-এসপি কমিটি বাতিল ও ইভিএম বাদ

    সংসদ নির্বাচনে নতুন ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, ডিসি-এসপি কমিটি বাতিল ও ইভিএম বাদ

    এবিএনএ: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার ‘ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি, যেখানে বাদ পড়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), ইউএনও এবং ওসির সমন্বয়ে গঠিত পূর্বের ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ কমিটি। এবার ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দায়িত্ব থাকবে এককভাবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতে।

    নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ বা পুনর্বিন্যাসে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা থাকছে না। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা।

    পূর্ববর্তী ২০২৩ সালের নীতিমালায় জেলা পর্যায়ে ডিসি ও এসপিদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হতো। তবে সেই প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

    গত ২১ মে, নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশনের পঞ্চম সভায় নতুন এই নীতিমালাটি অনুমোদন পায়। সভা শেষে কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, “কমিটিভিত্তিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের পুরো বিষয়টি এবার নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যেহেতু এবারের নির্বাচনে ইভিএম থাকছে না, তাই ইভিএম সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাতিল করা হয়েছে।”

    নতুন নীতিমালায় নির্ধারিত হয়েছে, প্রতিটি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র এবং গড়ে ৫০০ পুরুষ ও ৪০০ নারী ভোটারের জন্য পৃথক ভোটকক্ষ থাকবে।

    এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

  • গণমাধ্যমে আস্থার সংকট কেন বাড়ছে? দলীয় প্রভাব ও বিভক্ত সাংবাদিকতার দিকে আঙুল বিশিষ্টজনদের

    গণমাধ্যমে আস্থার সংকট কেন বাড়ছে? দলীয় প্রভাব ও বিভক্ত সাংবাদিকতার দিকে আঙুল বিশিষ্টজনদের

    এবিএনএ:  রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উঠে এলো সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ। ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও আইনি কাঠামো’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন—দলীয় লেজুড়বৃত্তি, বিভক্ত সাংবাদিক সমাজ এবং রাজনৈতিক প্রভাব সংবাদপত্রের ওপর মানুষের আস্থা হ্রাসের মূল কারণ।

    দলীয় সাংবাদিকতা আস্থার অন্তরায়

    সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর আয়োজনে এই আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে সংবাদপত্র একটি নির্দিষ্ট দলের সেবা করে গেছে। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানের পরও সেই ধারা থেকে বের হতে পারেনি অনেক গণমাধ্যম।

    জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জিল্লুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “গত ১৫ বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ভুয়া মামলা করেছে। ৫ আগস্টের পরে পুলিশের নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে, তারা বাধ্য হয়েছে মামলা নিতে।”

    তিনি অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা নিজেরা বিভক্ত বলেই প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট শক্তিশালী হয়নি, এমনকি তাঁকেও ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে গুজব ছড়ানো হয়।

    ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করছে সাংবাদিকদের একাংশ

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “আগে সাংবাদিকরা দাসসুলভ আচরণ করে সুবিধা নিয়েছেন—প্লট, তদবির, নিয়োগ সবই হয়েছে। এখন যারা মব তৈরি করছে, তারা আসলে চাপ প্রয়োগের দল।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকার কারও লেখালেখিতে হস্তক্ষেপ করছে না, কিন্তু মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

    নির্বাচনে গণমাধ্যমের ব্যর্থতা নিয়ে তির্যক মন্তব্য

    বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান, বলেন, “গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। গণমাধ্যম যদি সঠিক ভূমিকা পালন করত, তাহলে সেগুলো ঠেকানো যেত। গণতন্ত্র রক্ষায় মিডিয়ার ভূমিকা সবার ওপরে।”

    সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের অভাব ও বিভক্তি

    জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, “সাংবাদিকরা নিজেরাই বিভক্ত, এখন কেউ কাউকে প্রেস ক্লাবে ঢুকতে দেয় না। আগে বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ লাগানো হতো, এখন বলা হয় স্বৈরাচার সমর্থক। সাংবাদিক সমাজ ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হয়েছে।”

    তিনি বলেন, “তথ্য মন্ত্রণালয় ও ডিএফপি এখনো ভুয়া সার্কুলেশন দেখে বিজ্ঞাপন দেয়। এটি বন্ধ না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা থেকেই যাবে।”

    উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে

    এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাংবাদিক এম এ আজিজ, ড. শহিদুল আলম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক পারভেজ করিম আব্বাসী, বিশ্লেষক ড. জাহেদ-উর রহমান, সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির, ববি হাজ্জাজ, মুক্তাদির রশীদ, জায়মা ইসলামপারভিন এফ চৌধুরী প্রমুখ।

  • রাজধানীর উত্তরা থেকে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা গ্রেফতার

    রাজধানীর উত্তরা থেকে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা গ্রেফতার

    এবিএনএ:  রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদাকে।


    রবিবার (২২ জুন) সন্ধ্যার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

    এই বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সাবেক সিইসি নুরুল হুদার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। মামলা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে গ্রেফতারের পর তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন। তার সময়ে একাধিক বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা নিয়ে তখন বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়েছিল।

    তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ধরন, সময়কাল এবং অভিযোগের বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

  • তিন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে বিএনপি, রোববারই শুরু

    তিন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে বিএনপি, রোববারই শুরু

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামি রোববার তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দলটি অভিযোগ করেছে, এসব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং কমিশনের ভূমিকা ছিল পক্ষপাতদুষ্ট।

    শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দশম (২০১৪), একাদশ (২০১৮) ও দ্বাদশ (২০২৪) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী তিনজন সিইসি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

    📍 মামলার প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া:

    রোববার সকালে একটি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রথমে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যাবে মামলার আবেদনপত্রের একটি অনুলিপি জমা দিতে। পরে, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শেরে বাংলানগর থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার আবেদন করবেন তারা।

    প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তার সঙ্গে থাকবেন আরও দুইজন সদস্য।

    ⚖️ কারা মামলার আওতায় আসছেন?

    • কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ – দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিইসি (২০১৪)

    • কেএম নূরুল হুদা – একাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনাকারী সিইসি (২০১৮)

    • কাজী হাবিবুল আউয়াল – সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বাদশ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (২০২৪)

    বিএনপির অভিযোগ, এই তিনজনের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনেই ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

    📌 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

    বিএনপির এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে আসছে, যখন নতুন সরকার গঠনের পর আন্তর্জাতিক মহলও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    তবে সরকারপক্ষ এখনও এই মামলা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিএনপি মনে করে, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


    এই মামলার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানো ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে আরও জোরালো অবস্থানে যেতে চায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • ডাকসু নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ: দায়িত্বে থাকছেন ১০ শিক্ষক

    ডাকসু নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ: দায়িত্বে থাকছেন ১০ শিক্ষক

    এবিএনএ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পুরোদমে। এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবার রিটার্নিং কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ জন করা হয়েছে। নেতৃত্বে রয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, যিনি প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ডাকসু সংবিধানের ৮(এফ) ধারা অনুযায়ী উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

    বাকি নয়জন রিটার্নিং কর্মকর্তার তালিকায় রয়েছেন—

    • ড. এ এস এম মহিউদ্দিন (মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ),

    • ড. গোলাম রব্বানী (সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট),

    • ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক (তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ),

    • ড. কাজী মারুফুল ইসলাম (উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ),

    • ড. নাসরিন সুলতানা (স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট),

    • ড. মো. শহিদুল ইসলাম (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ),

    • ড. তারিক মনজুর (বাংলা বিভাগ),

    • ড. এস এম শামীম রেজা (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ),

    • এবং সহযোগী অধ্যাপক শারমীন কবীর (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট)।

    প্রসঙ্গত, পূর্ববর্তী ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৬। এবার সেটি বাড়িয়ে ১০ জন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যাতে নির্বাচন পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।

    বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এই ঘোষণাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ডাকসু নির্বাচন কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে সবার কাছে।

  • নির্বাচনে রেফারির ভূমিকা পালন করবে ইসি, প্রত্যয় জানালেন সিইসি

    নির্বাচনে রেফারির ভূমিকা পালন করবে ইসি, প্রত্যয় জানালেন সিইসি

    এবিএনএ:

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    রবিবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঈদ পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিইসি। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সভায় কমিশনের চার সদস্য, ইসি সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সিইসি বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছি। বাকিগুলো সমন্বিতভাবে শেষ করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতিকে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া।”

    তিনি আরও জানান, “সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বারবার বলে আসছে—আমরা একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। এই ঘোষণার পেছনে আমাদের ওপর আস্থাই বড় প্রমাণ।”

    কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “রমজানেও আপনারা অঙ্গীকার করেছিলেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। আজ আবার সেই শপথের পুনরাবৃত্তি করুন—কোনো দলের অনুসারী না হয়ে, কেবল আইন মেনে ও ন্যায়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করুন।”

    পূর্ববর্তী ইসি কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার কথা স্বীকার করে সিইসি বলেন, “আমরা অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। এবার নির্বাচন কমিশন আরও সঠিক পথে এগোবে।”

    সবশেষে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “আমরা একটি রেফারির মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করব। রাজনৈতিক দলগুলো যার যার মতো মাঠে খেলবে। আমরা শুধু নিশ্চিত করব, মাঠটা সবার জন্য সমান ও ন্যায্য থাকে। এই লক্ষ্যে আমরা বদ্ধপরিকর।”

  • ২০২৬ সালের এপ্রিলেই জাতীয় নির্বাচন! জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার বড় ঘোষণা

    ২০২৬ সালের এপ্রিলেই জাতীয় নির্বাচন! জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার বড় ঘোষণা

    এবিএনএ:

    জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় জানালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি। ভাষণের শুরুতেই তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং সকল বয়সের নাগরিকের প্রতি শুভকামনা প্রকাশ করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জনগণের জানার অধিকার রয়েছে যে নির্বাচন কবে হবে। আমরা ইতোমধ্যেই বলেছিলাম ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬–এর মধ্যে নির্বাচন হবে। আজ জানাতে চাই, নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমভাগে অনুষ্ঠিত হবে।”

    তিনি বলেন, বিগত ইতিহাস প্রমাণ করে, দেশে প্রতিটি বড় রাজনৈতিক সংকটের মূল ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন। এই ধরনের প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা দখলের ফলেই দেশে ফ্যাসিবাদ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন মাথাচাড়া দেয়। তাই একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ভবিষ্যতের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে জনগণের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে।”

    তিনি আরও জানান, বিচার, সংস্কার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ম্যান্ডেট নিয়েই তারা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে সর্বোচ্চ ভোটার ও প্রার্থীর অংশগ্রহণ থাকবে এবং যা জাতির জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। নির্বাচন কমিশন শিগগিরই রোডম্যাপ প্রকাশ করবে।”

  • ভোটারদের নিয়ে নিজেই শপথ নেব: মেয়র পদে হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

    ভোটারদের নিয়ে নিজেই শপথ নেব: মেয়র পদে হুঁশিয়ারি ইশরাক হোসেনের

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রপদে শপথ গ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নতুন মোড় নিয়েছে। বিএনপি নেতা ও ডিএসসিসির নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষিত ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, সরকার যদি দ্রুত শপথ গ্রহণের সুযোগ না করে, তবে তিনি নিজেই ঢাকার ভোটারদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করে চেয়ারে বসবেন এবং শপথ নেবেন।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন ইশরাক।

    তিনি বলেন, “নগর ভবন কিভাবে চলবে সেটা ঠিক করবে ঢাকাবাসী, কোনো অনির্বাচিত উপদেষ্টা বা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবেই আমি দায়িত্ব পালন করবো।”

    ইশরাক আরও অভিযোগ করেন, “মেয়র পদে শপথে বিলম্ব করে সরকার জনগণের রায় অস্বীকার করছে। এটা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।”

    এ নিয়ে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সমর্থকরা। ফলে ডিএসসিসির হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তোলে বিএনপি। ইশরাক হোসেন সে সময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

    তবে ওই গেজেট ও রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়, যা আদালত খারিজ করে দেয় ২২ মে। পরে ‘লিভ টু আপিল’ দাখিল করা হলে ২৯ মে আদালত তা নিষ্পত্তি করে বলে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে স্বাধীন।

    এই অবস্থায় বিএনপি ও ইশরাক হোসেনের দাবি—গেজেট প্রকাশের পর আর বিলম্বের সুযোগ নেই, অবিলম্বে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।