Tag: নির্বাচন কমিশন

  • আদালত পলাতক ঘোষণা করলেই প্রার্থী হওয়ার অধিকার নেই: সংশোধিত আরপিওয় নতুন বিধান

    আদালত পলাতক ঘোষণা করলেই প্রার্থী হওয়ার অধিকার নেই: সংশোধিত আরপিওয় নতুন বিধান

    এবিএনএ: উপদেষ্টা পরিষদ বৃহস্পতিবার চূড়ান্তভাবে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুমোদন করেছে, যাতে আদালত যদি কাউকে পলাতক ঘোষণা করে—তাহলে ওই ব্যক্তি আর কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্টিত ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, সংশোধিত আরপিওতে পলাতক ঘোষণাকে নির্বাচনী অযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিচার চলাকালীন সময়ে যাদের বিরুদ্ধে আদালত পলাতক ঘোষণা করে, তারা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না—এটাই নতুন বিধান। আর ‘পলাতক’ বলতে বোঝানো হয়েছে—যখন আদালত বিজ্ঞপ্তি ও সম্বোধন করে উপস্থিত হতে বললেও ব্যক্তি উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাকে পলাতক ঘোষণা করে।

    আইন উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের যে বিধান ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচনী অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাও শক্তিশালী করা হয়েছে—কোনো নির্বাচনী স্থানে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়লে পুরো এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে।

    প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে অ্যাফিডেভিটে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে আয়ের সম্পত্তির বিবরণ দিতে হবে। অনুদান-নিয়ন্ত্রণে একটি বিধান এলো—৫০ হাজার টাকার বেশি অনুদান ব্যাংকিং চ্যানেলে হতে হবে এবং দাতার ট্যাক্স রিটার্ন দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে এবং জেলা নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তার অধীন নির্ধারণ করা হবে।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, সন্দেহভাজন অনিয়ম হলে ভোটকেন্দ্রের ফল বাতিলের পাশাপাশি ইসি বড় পরিসরে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে যাতে ভোটের মর্যাদা রক্ষা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের এ সিদ্ধান্তগুলো সরকারি ও আইনগত কাঠামোতে নির্বাচনশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়ায়—এমন লক্ষ্য নিয়েই গৃহীত হয়েছে।

  • এই মাসেই বিএনপির ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা

    এই মাসেই বিএনপির ২০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এখন প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপে। দলটি চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করবে বলে জানা গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি আলাদা জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, যার ভিত্তিতে বেশিরভাগ আসনে একক প্রার্থী নির্ধারিত হয়েছে।

    তবে শতাধিক আসনে এখনো অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গ্রুপিং থাকায় সেখানে সমঝোতা গঠনের চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে প্রার্থীদের ডেকে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে একযোগে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।


    গোপনীয় প্রার্থী চূড়ান্ত প্রক্রিয়া

    স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা প্রস্তাব দিয়েছেন, মাঠে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে গ্রিন সিগন্যাল বা ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হচ্ছে একক প্রার্থীদের। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এ তথ্য না জানায় মাঠ পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ।

    দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে।


    ইসি’র সঙ্গে বৈঠক আজ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। দলের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকায় অনেক জামায়াতপন্থি কর্মকর্তা স্থান পাচ্ছেন। এ বিষয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আজ বুধবার বিএনপি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবে।

    বিএনপি দাবি করেছে, ভোটের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।


    প্রশাসনে ‘জামায়াতীকরণ’ নিয়ে উদ্বেগ

    বৈঠকে নেতারা প্রশাসনে সাম্প্রতিক রদবদল ও নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    এই উদ্বেগের বিষয়টি জানাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে।


    বিএনপির লক্ষ্য: নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন

    দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে দূরে থাকায় আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসতে পারে। সে কারণে বিএনপি মাঠে সংগঠিত শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। প্রার্থী নির্ধারণের মাধ্যমে তারা নির্বাচনকেন্দ্রিক শক্ত অবস্থান নিতে প্রস্তুত হচ্ছে।

  • একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব, ব্যয় ও সময় বাঁচাবে—সালাহউদ্দিন আহমদ

    একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব, ব্যয় ও সময় বাঁচাবে—সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করে বা আরপিও সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনকে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, আইনগতভাবে এমন কোনো বাধা নেই যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা যাবে না। বরং একই দিনে আয়োজন করলে প্রশাসনিক ব্যয়, সময় ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ অনেক কমে যাবে।

    সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আগামী নির্বাচন গুণমানসম্পন্ন ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক যুব ঐক্য এই আলোচনার আয়োজন করে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হলে ব্যয় কমবে, ভোটারদের জন্যও সুবিধা হবে। একই ব্যালট বক্স, একই ভোটকেন্দ্র, একই প্রশাসনিক ব্যবস্থা—সবকিছু একসঙ্গে ব্যবহৃত হতে পারে। আলাদা দিনে আয়োজন করলে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগবে।”

    তিনি আরও বলেন, “কেউ কেউ বলছেন আগে গণভোট, পরে নির্বাচন—এটি অপ্রয়োজনীয় জটিলতা। এসব অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন।”

    অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আগে যেখানে মানুষ নির্বাচনের বিষয়ে সন্দিহান ছিল, এখন তা কেটে গেছে। নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনেই সব পক্ষের নজর দেওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের কোনো আইনি বাধা নেই। মূল বিষয় হলো প্রার্থীদের নীতি, কর্মসূচি ও জনগণের আস্থা অর্জন করা। ভোটাররা এখন শুধু ‘মার্কা’ নয়, প্রার্থীর যোগ্যতাও বিবেচনা করছেন।”

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাইফুল হক, তানিয়া রব, মুজিবর রহমান মঞ্জু, রাশেদ খান ও হাসনাত কাইয়ুমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

  • দেশে ফিরেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন তারেক রহমান, বিএনপির মনোনয়ন তালিকা প্রায় চূড়ান্ত!

    দেশে ফিরেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন তারেক রহমান, বিএনপির মনোনয়ন তালিকা প্রায় চূড়ান্ত!

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রার্থী বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভোটের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, ৩০০ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত হয়েছে, আর এখন চলছে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া।

    জানা গেছে, বিএনপি এবার শরিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে শরিক দলগুলোর কাছ থেকে আসনবণ্টনের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি দল তাদের প্রার্থী তালিকাও বিএনপির হাইকমান্ডের হাতে তুলে দিয়েছে। সব তালিকা যাচাইয়ের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন। তবে তার আগেই যোগ্য প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান মনোনয়ন বাছাইয়ের জন্য পাঁচটি মূল মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন—

    1. এলাকায় ক্লিন ইমেজ: যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম, দখল বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই, তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

    2. জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা: সারা দেশে চালানো জরিপে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হবে।

    3. দল ও দেশের জন্য ত্যাগ: যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, কারাবরণ করেছেন বা পরিবার থেকে কেউ নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    4. সংগঠনে অবদান: দীর্ঘ সময় ধরে দলের সঙ্গে থেকে যারা সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন, তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

    5. কোন্দলমুক্ত নেতৃত্ব: যেসব প্রার্থী এলাকায় গ্রুপিং বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে দূরে ছিলেন, তারাও গুরুত্ব পাবেন।

    এই পাঁচটি মানদণ্ডে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল। তবে যেখানে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান নিজেই।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের মানদণ্ডই নির্ধারণ করবে বিএনপির মাঠপর্যায়ের শক্তি ও ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ।

  • সিইসির সাফ কথা: আরপিওতে পিআর নেই, ফেব্রুয়ারিতেই হবে নির্বাচন

    সিইসির সাফ কথা: আরপিওতে পিআর নেই, ফেব্রুয়ারিতেই হবে নির্বাচন

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী হবে। তিনি বলেন, আরপিওতে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির কোনো বিধান নেই। তাই পিআর কার্যকর করতে চাইলে আগে আইন পরিবর্তন করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রবাসী ভোটারদের এনআইডি কার্যক্রম চালু করতে সাম্প্রতিক কানাডা সফর নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    পিআর পদ্ধতির দাবিতে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আন্দোলন চলুক, ফয়সালা আসুক। সম্ভব কি না, সেটি রাজনৈতিক দলগুলো বুঝবে। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হবে, আশা করি কেউ ফাউল করতে নামবে না।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও কথায় চলে না; আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়।

    শাপলা প্রতীক নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থান প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “এটি ইসির সিদ্ধান্ত। ইসি কাউকে ব্যাখ্যা দেবে না, নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।”

    এদিকে, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ পিআর ব্যবস্থাকে ‘পার্মানেন্ট রেস্টলেসনেস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশে স্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করবে। বিদেশের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক দেশে পিআর ব্যবস্থায় সরকার গঠন জটিল হয়েছে এবং স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অন্যদিকে, এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, শাপলা প্রতীক না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। তবে ইসি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    সিইসি আরও জানান, নতুন দল নিবন্ধনের কাজ দ্রুত চলছে এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত থাকবে। কানাডায় প্রবাসীদের ভোটাধিকারে আগ্রহও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।

  • জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনের স্বপ্ন দেখছে এনসিপি, বিএনপিকে সীমিত আসনের পূর্বাভাস দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনের স্বপ্ন দেখছে এনসিপি, বিএনপিকে সীমিত আসনের পূর্বাভাস দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, বিএনপি সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ আসনের বেশি পাবে না।

    সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নিবন্ধন, প্রতীক ও প্রবাসী ভোটাধিকার নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, নির্বাচন কমিশন আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এবং শিগগির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

    তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “শাপলা প্রতীক আমাদের পরিচয়, সাদা শাপলা, লাল শাপলা—এ তিনটি প্রতীক নিয়েই নিবন্ধন চাই। এর বাইরে অন্যকিছু মানা হবে না। ষড়যন্ত্র চলছে, তবে ইসি আমাদের দাবি না মানলে কিভাবে আদায় করতে হয় তা আমরা জানি।”

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, জেলায় জেলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নারী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মীরা এনসিপির প্রার্থী হবেন। এ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।

    রাজনীতির মাঠে এনসিপির এমন আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • “বাগেরহাটে তিনদিনের আংশিক হরতাল, খোলা থাকবে দোকানপাট ও বাজার, চলবে রিকশাও”

    “বাগেরহাটে তিনদিনের আংশিক হরতাল, খোলা থাকবে দোকানপাট ও বাজার, চলবে রিকশাও”

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে পূর্বঘোষিত টানা তিন দিনের হরতাল কর্মসূচির পরিধি ও সময় আংশিক পরিবর্তন করে নতুন ঘোষণা দিয়েছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান কমিটির কো-কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ সালাম।

    তিনি বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনা করে হরতালের সময় ও আওতা সীমিত করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।”

    🔔 নতুন হরতাল সময়সূচি:

    • সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর): সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা

    • মঙ্গলবার ও বুধবার: সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত

    হরতালের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলবে। তবে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলবে না।

    সর্বদলীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় ছোট সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যান চলাচল হরতালের আওতায় পড়বে না। জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন যেমন—অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরীক্ষার্থীদের পরিবহন ইত্যাদিও থাকবে হরতালের বাইরে।

    🎤 কমিটির নেতাদের বক্তব্য:

    কমিটির সদস্য সচিব শেখ মো. ইউনুস বলেন, “এই আন্দোলন জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন। তাই আমরা তাদের দুর্ভোগ চাই না।”

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দীপু জানান, “আমরা উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে এবং জনগণের দাবির প্রতি সুবিচার হবে।”

    🔄 কর্মসূচির পরিবর্তন:

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় কমিটি হরতালের পাশাপাশি রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছিল। তবে ঘোষিত কর্মসূচির পরিবর্তে তারা ওই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী হরতাল ঘোষণা করেন।

    📜 আন্দোলনের পটভূমি:

    গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি বাদ দিয়ে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে, এলাকাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

    বাগেরহাটবাসী এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নেয়। এরপরও ৪ সেপ্টেম্বর কমিশন তিনটি আসন রেখে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

    🗺️ বর্তমান আসন বিন্যাস (চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী):

    • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট

    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    🗺️ আগের আসন বিন্যাস ছিল:

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনমতের স্পষ্ট অবহেলা, এবং এর বিরুদ্ধে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলমান থাকবে যতদিন না চারটি আসন পুনর্বহাল হয়।

  • অনিয়মের অভিযোগে জাকসু নির্বাচন কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ

    অনিয়মের অভিযোগে জাকসু নির্বাচন কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ

    এবিএনএ:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের কমিশনার অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেছেন।

    শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার জানান, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো পরিবেশ ছিল না। এছাড়া, পদত্যাগ না করতে তাকে নানা ধরনের চাপ দেওয়া হলেও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান থেকে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এদিকে জাকসুর হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হলেও কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা চলমান রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ভোট গণনার গতি বাড়াতে পোলিং অফিসারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং রাতের মধ্যেই ফল ঘোষণা করা হবে।

    জানা গেছে, এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ এবং জিএস পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

    ছাত্রীদের ১০টি হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী ছিলেন না। এছাড়া ৬৭টি পদে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে মাত্র ২৪টি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে এর মধ্যে ২টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচিত হন।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল ভোটের অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে।

  • বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    বিতর্কে ঘেরা জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জন, অনাস্থা আর অসংগতির অভিযোগে দিনশেষ

    এবিএনএ:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বৃহস্পতিবার নানা বিশৃঙ্খলা, অভিযোগ ও বিরোধিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার পরও বেশ কিছু হলে রাত পর্যন্ত ভোট চলে। বিশেষ করে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট হয়, যেখানে সর্বাধিক ভোটার সংখ্যা ৯৯১।

    তবে দুপুর গড়াতেই নির্বাচন ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানায়। অপরদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে।

    ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় ছবি নেই, কিছু হলে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, আবার মেয়েদের হলে একাধিকবার ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি একে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দেন।

    অন্যদিকে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী স্মরণ এহসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, “শুরু থেকেই প্রার্থিতা বাতিল থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত অনিয়ম চলেছে। আমরা এই নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।”

    এদিকে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি প্রার্থী আরিফুল্লাহ আদিব জানান, প্রশাসনের প্রস্তুতির অভাবে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি ও ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগও তাদের পক্ষ থেকে তোলা হয়।

    দিন শেষে ছাত্রদল ভোট বর্জন করলেও শিবির সমর্থিত জোটের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি করতে চাই। তারা ফিরলেও আমরা একসাথে থাকব।”

    ভোটগ্রহণ চলাকালে একাধিক হলে সাময়িক সময়ের জন্য ভোট বন্ধ হয়ে যায় বিশৃঙ্খলার কারণে। অভিযোগ ও প্রতিবাদে ঘেরা এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইন ধরে ভোট দিয়েছেন, তবে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।

  • বাগেরহাটে চার আসন বহালের দাবিতে হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বাগেরহাটে চার আসন বহালের দাবিতে হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    এবিএনএ,বাগেরহাট:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ৩৬ ঘণ্টা শেষে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক জরুরি সভায় কমিটির কো-কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী রোববার জেলার সব সরকারি অফিস-আদালতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি সোম, মঙ্গল ও বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা তিন দিনের হরতাল চলবে। তবে রাতের সময় হরতালের বাইরে থাকবে।

    সভায় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা মোজাফফর রহমান আলম, শেখ মোহাম্মদ ইউনুস আলীসহ কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    তাদের অভিযোগ, হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ একাধিক কর্মসূচি পালনের পরও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমএ সালাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কমিশন যদি চারটি আসন বহালের দাবি না মানে তবে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি আসন রক্ষায় আগামী সপ্তাহে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।

    হরতাল চলাকালে জেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি হওয়ায় বাগেরহাট কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যাত্রী ও স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বাড়তি ভাড়া, কখনও হেঁটে, কখনও ইজিবাইক বা ভ্যানে যাতায়াত করতে হয়েছে তাদের।

    এছাড়া রাতের বেলায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও সর্বদলীয় কমিটির নেতারা এসব ঘটনায় নিজেদের জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটিতে সীমিত করার প্রস্তাব দেয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এতে বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ নম্বর আসন রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চারটি আসনে নির্বাচন হয়ে আসলেও এবার একটি আসন সংকোচনকে গণমানুষের দাবির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় নেতারা।