Tag: নির্বাচন কমিশন

  • ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন বৃহস্পতিবার

    ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নির্বাচন বৃহস্পতিবার

    এবিএনএ:  অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। টানা ৩৩ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন।

    ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্র হল এবং ১০টি ছাত্রী হলে মোট ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। এ জন্য নিয়োজিত থাকবেন ৬৭ জন শিক্ষক পোলিং অফিসার ও সমসংখ্যক সহায়ক কর্মকর্তা।

    ভোট শেষে সিনেট হলে গণনা সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকছে ১৫০০ পুলিশ, ৭ প্লাটুন বিজিবি এবং ৫ প্লাটুন আনসার। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও আশপাশে টহলে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মীর মশরারফ হোসেন হল গেইট ও প্রান্তিক গেইট ছাড়া সব গেইট ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এছাড়া ভোটের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে হলের ভেতরের ক্যান্টিন ও দোকান খোলা থাকবে এবং পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    একই সময়ে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাকার স্টিকার ও নির্বাচন কমিশনের স্টিকারযুক্ত যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে।

    নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে বাস বন্ধ, ডিসি অফিস ঘেরাও করে উত্তাল বিক্ষোভ

    বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে বাস বন্ধ, ডিসি অফিস ঘেরাও করে উত্তাল বিক্ষোভ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই বাগেরহাট শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় ১৬টি রুটের সব ধরনের বাস চলাচল।

    আন্দোলনকারীরা সকালেই বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ডিসি অফিস ও জজ কোর্টের প্রবেশদ্বার অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া, জেলা নির্বাচন অফিসের মূল গেটেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, ফলে অফিস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

    এই হরতালে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। তারা একত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে, সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগানে মুখরিত করেন শহর।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, বাগেরহাট জেলার চারটি আসন দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশনের খসড়া অনুযায়ী একটি আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত এই জেলার মানুষের স্বার্থবিরোধী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে, আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    হরতালের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী ও রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের চিত্র ছিল স্পষ্ট।

  • ভাঙ্গা বিভক্তির সিদ্ধান্তে উত্তাল জনতা: দুই দফায় মহাসড়ক অবরোধ, তিন দিনের আলটিমেটাম

    ভাঙ্গা বিভক্তির সিদ্ধান্তে উত্তাল জনতা: দুই দফায় মহাসড়ক অবরোধ, তিন দিনের আলটিমেটাম

    এবিএনএ:  ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে ভাঙ্গা উপজেলাকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) উত্তাল হয়ে ওঠে ভাঙ্গা। ভোর থেকেই স্থানীয়রা দুই দফায় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে।

    প্রথম অবরোধ শুরু হয় সকাল ৮টার দিকে আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অল্প সময়ের মধ্যেই হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ, মাধবপুর ও পুকুরিয়া এলাকাতেও শত শত মানুষ রাস্তায় নামে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ অবরোধ প্রশাসনের অনুরোধে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও, জুমার নামাজের পর আবারো বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধে নামে বিক্ষুব্ধ জনতা।

    এ সময় হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে এবং ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙ্গার মানুষ দল-মত নির্বিশেষে আন্দোলনে যোগ দেন এবং শ্লোগান তোলেন, “আমরা ভাঙ্গার মানুষ, ভাঙ্গার সঙ্গেই থাকতে চাই।”

    ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন সেলিম তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, এর মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর বিরুদ্ধেই ভাঙ্গার মানুষ আন্দোলনে নেমেছে।

  • নির্বাচনে বড় পরিবর্তন: ফেরারি আসামি অযোগ্য, বাধ্যতামূলক হলো ‘না ভোট’

    নির্বাচনে বড় পরিবর্তন: ফেরারি আসামি অযোগ্য, বাধ্যতামূলক হলো ‘না ভোট’

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে। সংশোধনীটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন পেলে নতুন বিধান কার্যকর হবে।

    বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নতুন সংশোধনীতে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, আদালত কর্তৃক ঘোষিত ফেরারি আসামিরা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি প্রার্থী যদি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন বা তথ্য গোপন করেন, কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এমনকি নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে।

    এবার থেকে ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি চাইলে সরাসরি ভোটগ্রহণ বন্ধ বা চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হতো।

    আরেকটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হলো ‘না ভোট’ বাধ্যতামূলক করা। কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলেও তাকে সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করা যাবে না। প্রার্থীকে অবশ্যই ‘না ভোট’-এর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। যদি দেখা যায় ‘না ভোট’ বেশি পড়েছে, তবে পুনঃতফসিল ঘোষণা হবে।

    সংশোধনীতে আরও যুক্ত হয়েছে—

    • ইভিএম পুরোপুরি বাতিল এবং পোস্টাল ব্যালট চালু। এতে প্রবাসী ভোটার, সরকারি কাজে বাইরে থাকা কর্মকর্তা, কারাগারে থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

    • নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা বা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা (যেটি বেশি হবে)।

    • প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা

    • পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব প্রচার নিশ্চিতকরণ।

    • নির্বাচনি এজেন্টকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার হতে হবে।

    • প্রার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা সদস্য হলে নির্বাচন করতে পারবেন না।

    এছাড়া সাংবাদিকরা এবার থেকে ভোটগণনার সময় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত থাকতে পারবেন, তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের আশা, এসব সংশোধনী নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং জনগণের আস্থার উপযোগী করবে।

  • ডাকসু নির্বাচন সামনে: পূর্বঘোষিত ছুটি বাতিল, কেবল ভোটের দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    ডাকসু নির্বাচন সামনে: পূর্বঘোষিত ছুটি বাতিল, কেবল ভোটের দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে তিন দিনের পূর্বঘোষিত ছুটি বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটের দিন অর্থাৎ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

    বুধবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দীন।

    তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরুতে ৮, ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র ভোটের দিন অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে ৮ ও ১০ সেপ্টেম্বর যথারীতি সব ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।

    অধ্যাপক জসীম উদ্দীন আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

  • ডাকসু নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ডিএমপি কমিশনার

    ডাকসু নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ডিএমপি কমিশনার

    এবিএনএ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা ভণ্ডুলের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত ডাকসু নির্বাচন–২০২৫ উপলক্ষে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত। কেউ যদি নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    তিনি আরও জানান, একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। যৌথভাবে কাজ করলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সভায় শুরুতেই ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। পরে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম, হাসান মো. শওকত আলী, মো. মাসুদ করিম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. জিললুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ, ডাকসু নির্বাচন কমিশনের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

  • বাতিল হওয়া এনআইডি সংশোধন আবেদনকারীদের আবার সুযোগ দিল নির্বাচন কমিশন

    বাতিল হওয়া এনআইডি সংশোধন আবেদনকারীদের আবার সুযোগ দিল নির্বাচন কমিশন

    এবিএনএ:  জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন বাতিল হওয়া নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় যারা পূর্বে আবেদন করেও বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছেন, তারা আবারও ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, এনআইডি উইং-এর সহকারী পরিচালক (বৈধ ও সঠিকতা যাচাই) মুহা. সরওয়ার হোসেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।

    গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম ধাপে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। এছাড়া ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধাপের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

    যেসব কারণে আবেদন বাতিল হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    • নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়া

    • অসম্পূর্ণ আবেদন দাখিল

    • দলিলাদির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য জমা

    • সাক্ষাৎকারে ডাকা হলেও উপস্থিত না থাকা

    • ব্যক্তিগত অনুরোধে আবেদন বাতিল

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই ধরনের বাতিল আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিফলিত হয়নি। তাই পুনরায় আবেদন করলে তা নতুন ক্যাটাগরিতে না নিয়ে পূর্বের ক্যাটাগরিতেই যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    গত ছয় মাসে শুধুমাত্র ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় প্রায় ৯ লাখ এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে বিভ্রান্তিকর ও অপরিপক্ব বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতি আশা করেছিল আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু এখনো নির্বাচনের ধরন ও পদ্ধতি স্পষ্ট নয়।”

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনায় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হতো। এরপর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল।”

    জামায়াতের মতে, এভাবে অসম্পূর্ণ ও দ্ব্যর্থক পরিকল্পনা জনগণকে বিভ্রান্ত করবে এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করবে।

  • রোডম্যাপ ঘোষণা: ডিসেম্বরেই তফসিল, রোজার আগেই জাতীয় নির্বাচন

    রোডম্যাপ ঘোষণা: ডিসেম্বরেই তফসিল, রোজার আগেই জাতীয় নির্বাচন

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ২৪ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং রোজার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দল, অংশীজন, মিডিয়া এবং নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ সেপ্টেম্বরে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

    আখতার আহমেদ বলেন, “নির্বাচন নিয়ে আমরা ২৪টি পৃথক পরিকল্পনা তৈরি করেছি, যেখানে প্রতিটি কাজ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ, যা আগামী মাস থেকেই শুরু হবে।”

    ইসির এ কর্মপরিকল্পনায় নির্বাচনী পরিবেশ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও ভোটারদের আস্থা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।

  • ২৮ আসনের ৩০৯ আবেদনের শুনানি শেষ: সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে

    ২৮ আসনের ৩০৯ আবেদনের শুনানি শেষ: সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে

    এবিএনএ:  সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৃতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ঢাকা অঞ্চলের ২৮টি আসনের মোট ৩০৯টি আবেদন শোনা হয়।

    শুনানি শেষে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম জানান, এসব আবেদনের মধ্যে ২৫৯টি ছিল ইসির প্রকাশিত খসড়ার বিপক্ষে এবং ৫০টি পক্ষে।

    আগামীকাল বুধবার রংপুরের সাতটি, রাজশাহীর ২৩২টি, ময়মনসিংহের তিনটি, ফরিদপুরের ১৮টি এবং সিলেটের দুটি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সব দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ইসি সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে।

    ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৮৩টি আসন নিয়ে মোট ১ হাজার ৭৬০টি দাবি-আপত্তি জমা পড়ে। এগুলোই ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এর আগে ৩০ জুলাই ৩০০ আসনের নতুন খসড়া প্রকাশ করে ইসি। সেখানে ভোটার সংখ্যা ভারসাম্য আনার জন্য গাজীপুরে একটি আসন বাড়িয়ে মোট ছয়টি করা হয়, আর বাগেরহাটে চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    সর্বশেষ খসড়ায় ৩৯টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।

    আগে বাগেরহাটে চারটি আসন থাকলেও নতুন খসড়ায় সেটি তিনটিতে সীমিত করা হয়েছে। বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপালকে একত্র করে বাগেরহাট-২, আর মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন বাগেরহাট-৩ আসন। তবে বাগেরহাট-১ আসনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “দেশের ৬৪ জেলার গড় ভোটার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এই হিসাব মেনে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো হয়েছে, আর বাগেরহাটে একটি কমানো হয়েছে। এতে ভোটার সমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।”