অবসর ঘোষণার পর রুবেলের আক্ষেপ: সুযোগ পেলে আরও তিন বছর খেলতে পারতাম
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন রুবেল হোসেন; বললেন, ভালো সময়ে নিয়মিত সুযোগ পেলে ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘ হতো


এবিএনএ: বাংলাদেশ জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানান। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও ঘরোয়া আসরে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।
সবশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন রুবেল। এরপর জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি। দীর্ঘ বিরতির পরই তিনি ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।
কেন এখনই অবসর?
অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুবেল বলেন, বয়স ও ফিটনেসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় আসরগুলোতেও নিয়মিত না থাকায় মনে হয়েছে এটাই উপযুক্ত সময়।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তবে তরুণ পেসারদের উত্থান এবং নিজের বাস্তবতা বিবেচনায় অবসর নেওয়াই যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।
আক্ষেপ রয়ে গেল
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুবেল জানান, তার ভালো সময়েও নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। সুযোগ পেলে ম্যাচ সংখ্যা ও উইকেট দুটোই বাড়তে পারত বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ক্যারিয়ারের কিছু সময় ভালো পারফরম্যান্স থাকলেও ধারাবাহিকভাবে দলে জায়গা হয়নি। তাই মনে হয় আরও দুই-তিন বছর জাতীয় দলে খেলতে পারতেন। তবে এ নিয়ে ক্ষোভ না থাকলেও আক্ষেপ রয়ে গেছে বলে জানান এই পেসার।
সেরা মুহূর্তগুলো
রুবেলের কাছে ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত কিংবদন্তি ব্যাটারদের উইকেট পাওয়া। তিনি জানান, শচীন টেন্ডুলকার, এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলির উইকেট তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
এ ছাড়া ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচটিকেও ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ওই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
চ্যালেঞ্জিং সময়েও পারফরম্যান্স
২০১৫ বিশ্বকাপের সময় ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় পার করলেও মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পেরেছিলেন বলে জানান রুবেল। চাপের মধ্যেও দলের জন্য অবদান রাখতে পারাটা তার জন্য বিশেষ অর্জন ছিল।

নিদাহাস ট্রফির স্মৃতি এখনো কষ্ট দেয়
ক্যারিয়ারের কিছু হতাশার কথাও তুলে ধরেন এই পেসার। বিশেষ করে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ও ক্যারিয়ারের শুরুর একটি ম্যাচ তার কাছে এখনও কষ্টের স্মৃতি। তিনি মনে করেন, ওই সময় আরও পরিকল্পিত বোলিং করলে ফল ভিন্ন হতে পারত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রুবেল জানান, আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান। ভবিষ্যতে কোচিং বা ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
পেসার হান্ট চালুর আহ্বান
বাংলাদেশে নতুন পেসার তুলে আনতে আবারও পেসার হান্ট কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন রুবেল। তিনি বলেন, নিজেও এমন একটি কর্মসূচির মাধ্যমে উঠে এসেছিলেন। তাই নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ পেসার।




