Tag: পেসার

  • জাতীয় দলে ফিরেই আবেগঘন বার্তা রিপন মণ্ডলের—“সমালোচনাই আমাকে আরও শক্ত করে”

    জাতীয় দলে ফিরেই আবেগঘন বার্তা রিপন মণ্ডলের—“সমালোচনাই আমাকে আরও শক্ত করে”

    এবিএনএ: দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও জাতীয় দলে জায়গা পেলেন ডানহাতি পেসার রিপন মণ্ডল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।

    ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথমবার জাতীয় দলের ডাক পেলেও একাদশে সুযোগ হয়নি রিপনের। এরপর দীর্ঘ সময় দলে জায়গা না পাওয়ার পর এবার নতুন করে সুযোগ পেলেন এই পেসার। দলে ফেরার খবর পেয়ে নিজের সন্তানের একটি ছবি শেয়ার করে আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি।

    পোস্টে রিপন লেখেন, সন্তানের হাসিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। পরিবারের মুখে এই আনন্দ সবসময় দেখতে চান তিনি। আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলতে পারা পর্যন্ত যেন পরিবারের মুখে এমন হাসি বজায় থাকে।

    সমর্থকদের উদ্দেশে রিপন জানান, প্রশংসা তাকে অনুপ্রাণিত করে, তবে সমালোচনাও তার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সমালোচনা থেকে নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারেন এবং সেগুলো শুধরে নিতে আরও বেশি পরিশ্রম করেন। তার অর্জনের পেছনে সমর্থকদের অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    রিপন আরও বলেন, ভালো খেললে যেমন প্রশংসা করা হয়, খারাপ খেললে তেমনি যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। এতে নিজের ভুল বুঝে উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়। পরিবারের মতো সমর্থকরাও তাকে পথ দেখান—এমন বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন এই পেসার।

    জাতীয় দলে ফিরে নতুন উদ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রিপন মণ্ডল। সমর্থকদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সামনে সুযোগ পেলে দলের জন্য সেরাটা দিতে পারবেন।

  • অবসর ঘোষণার পর রুবেলের আক্ষেপ: সুযোগ পেলে আরও তিন বছর খেলতে পারতাম

    অবসর ঘোষণার পর রুবেলের আক্ষেপ: সুযোগ পেলে আরও তিন বছর খেলতে পারতাম

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানান। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও ঘরোয়া আসরে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।

    সবশেষ ২০২১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন রুবেল। এরপর জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি। দীর্ঘ বিরতির পরই তিনি ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন।

    কেন এখনই অবসর?

    অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুবেল বলেন, বয়স ও ফিটনেসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় আসরগুলোতেও নিয়মিত না থাকায় মনে হয়েছে এটাই উপযুক্ত সময়।

    তিনি জানান, দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তবে তরুণ পেসারদের উত্থান এবং নিজের বাস্তবতা বিবেচনায় অবসর নেওয়াই যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।

    আক্ষেপ রয়ে গেল

    আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুবেল জানান, তার ভালো সময়েও নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। সুযোগ পেলে ম্যাচ সংখ্যা ও উইকেট দুটোই বাড়তে পারত বলে মনে করেন তিনি।

    তার ভাষ্য, ক্যারিয়ারের কিছু সময় ভালো পারফরম্যান্স থাকলেও ধারাবাহিকভাবে দলে জায়গা হয়নি। তাই মনে হয় আরও দুই-তিন বছর জাতীয় দলে খেলতে পারতেন। তবে এ নিয়ে ক্ষোভ না থাকলেও আক্ষেপ রয়ে গেছে বলে জানান এই পেসার।

    সেরা মুহূর্তগুলো

    রুবেলের কাছে ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত কিংবদন্তি ব্যাটারদের উইকেট পাওয়া। তিনি জানান, শচীন টেন্ডুলকার, এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলির উইকেট তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

    এ ছাড়া ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচটিকেও ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ওই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

    চ্যালেঞ্জিং সময়েও পারফরম্যান্স

    ২০১৫ বিশ্বকাপের সময় ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় পার করলেও মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পেরেছিলেন বলে জানান রুবেল। চাপের মধ্যেও দলের জন্য অবদান রাখতে পারাটা তার জন্য বিশেষ অর্জন ছিল।

    নিদাহাস ট্রফির স্মৃতি এখনো কষ্ট দেয়

    ক্যারিয়ারের কিছু হতাশার কথাও তুলে ধরেন এই পেসার। বিশেষ করে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ও ক্যারিয়ারের শুরুর একটি ম্যাচ তার কাছে এখনও কষ্টের স্মৃতি। তিনি মনে করেন, ওই সময় আরও পরিকল্পিত বোলিং করলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    রুবেল জানান, আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান। ভবিষ্যতে কোচিং বা ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পেসার হান্ট চালুর আহ্বান

    বাংলাদেশে নতুন পেসার তুলে আনতে আবারও পেসার হান্ট কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন রুবেল। তিনি বলেন, নিজেও এমন একটি কর্মসূচির মাধ্যমে উঠে এসেছিলেন। তাই নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ পেসার।

  • জোরে বল করে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ, লঙ্কানদের সুইং থেকে নিতে চায় শিক্ষা

    জোরে বল করে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ, লঙ্কানদের সুইং থেকে নিতে চায় শিক্ষা

    এবিএনএ,স্পোর্টস ডেস্ক:
    বৃষ্টির বিরতির পর লঙ্কান পেসারদের দাপটে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৬১ রানের মধ্যে ৫টি মূল্যবান উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা, যার মধ্যে শেষ বেলার ২৬ রানের সময়েই পড়েছে ৫টি উইকেট। বিশেষ করে মিলান রত্নায়েকে দুর্দান্ত সুইং বোলিং করে তুলে নেন ৩টি উইকেট।

    এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানালেন, কীভাবে লঙ্কানদের বোলিং থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের বোলিং বিভাগে উন্নতি ঘটাতে চান তারা। তার মতে, বাংলাদেশের পেসাররা—বিশেষত হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা—দ্রুতগতিতে বল করতে পারেন এবং যদি তারা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন, তবে ম্যাচে ফায়দা তুলতে পারবেন।

    সালাউদ্দিনের ভাষায়:
    “লঙ্কানরা যেভাবে নতুন বল সুইং করিয়েছে ও বলের মেইনটেন্যান্স করেছে, তা আমাদের শেখার জায়গা। আমাদের পেসাররা যদি একইরকমভাবে বল পরিচালনা করতে পারে, তাহলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা সম্ভব।”

    তিনি আরও বলেন, গল টেস্টের উইকেট তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে স্পিন সহায়ক হয়ে উঠবে, যা স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করবে।

    কোচের পর্যবেক্ষণ:
    “উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য উপযোগী। আমাদের ফিল্ডারদের দারুণ পরিশ্রম করতে হবে। পরিকল্পনামাফিক বল করতে হবে। তারা (লঙ্কানরা) যেমন করেছে, তেমনি আমাদেরও একই মানের বল করতে হবে। তাহলেই ফল আসবে।”

    নতুন বলে রিভার্স সুইং আদায়ের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন সালাউদ্দিন। তার মতে, বল ঠিকভাবে রিভার্স হলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

    শেষ কথা:
    লঙ্কান সুইং আক্রমণের বিপরীতে এখন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ—জোরে এবং সঠিক লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। তরুণ পেসারদের হাতে সেই সুযোগ এখন।