ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের সময়কাল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

রোববার টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—ইরানকে ঘিরে এই সামরিক অভিযান আর কতদিন চলতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি অনেকটাই পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর সঙ্গে তার নিয়মিত আলোচনা চলছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে শেষ সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়েই তা জানানো হবে। সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আশা করছেন চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরদিনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেন, সংঘাত ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ব্যর্থ কূটনীতি, শুরু সামরিক অভিযান

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময় ইসরায়েলও নিজস্ব সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম Operation Roaring Lion

পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত প্রায় দশ দিন ধরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *