Tag: পারমাণবিক ইস্যু

  • দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    এবিএনএ: আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য এই বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে অগ্রগতি হতে পারে। তিনি জানান, পাকিস্তানে আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় বা প্রতিনিধি পর্যায় নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

    এর আগে গত শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তবুও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

    এদিকে একই সময়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, মেলোনির অবস্থান তাকে বিস্মিত করেছে এবং তিনি ধারণা করেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর আরও দৃঢ় ভূমিকা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

    ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রশ্নে মতবিরোধ থেকেই এই সমালোচনা এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মেলোনি শুরু থেকেই সংঘাতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়েও দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পোপ সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি। পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প পাল্টা বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় আগে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনার সম্ভাবনা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    এবিএনএ:  ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনবে এবং শেষ পর্যন্ত সরে আসবে।

    সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, কেউ চাইলে বলতে পারেন—এই লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়ে গেছে।

    তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামরিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি করতে আরও কিছুদিন অভিযান চালানো হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র চায় ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

    এর আগে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশটি এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল কৌশল।

    যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি এটিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাদের মিশন শেষ করে ফিরবে।

    ভ্যান্স আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে দীর্ঘদিন অবস্থান করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং যত দ্রুত সম্ভব অভিযান গুছিয়ে নিয়ে দেশটি সরে আসবে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন সামরিক অর্জন নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপ এড়াতেও দ্রুত কৌশল বদল করছে।

  • ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের সময়কাল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

    রোববার টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—ইরানকে ঘিরে এই সামরিক অভিযান আর কতদিন চলতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি অনেকটাই পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর সঙ্গে তার নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে শেষ সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়েই তা জানানো হবে। সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

    এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আশা করছেন চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরদিনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেন, সংঘাত ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    ব্যর্থ কূটনীতি, শুরু সামরিক অভিযান

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময় ইসরায়েলও নিজস্ব সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম Operation Roaring Lion

    পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত প্রায় দশ দিন ধরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।

  • ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইউরেনিয়াম মজুদ শূন্য, মিসাইল শক্তিতেও লাগাম দাবি

    ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইউরেনিয়াম মজুদ শূন্য, মিসাইল শক্তিতেও লাগাম দাবি

    এবিএনএ: ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় সামরিক হামলার ঝুঁকি এড়ানো যাবে না।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করতে চায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং সেই সীমার বাইরে কোনো নতুন মিসাইল উৎপাদন নিষিদ্ধ করা। পাশাপাশি দেশটির ইউরেনিয়াম মজুদ সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবিগুলো নিয়ে বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে এসব শর্ত মেনে নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সম্মতির সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে।

    আলজাজিরা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যে শর্তগুলো দিচ্ছে, ইরান তা মানার কাছাকাছিও নেই। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে, যা সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো করছে।

    অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে প্রয়োজনে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও স্পষ্ট করেছে দেশটি।

  • ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    এবিএনএ: ইরানের চলমান বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারে। তখন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও বর্তমানে ইরানে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ নিশ্চিত নন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপেক্ষা ও অনুমানের মধ্যেই সময় কাটছে।

    রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি একাধিক কঠোর বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন। মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে তাকে বিস্তারিত অবহিত করবেন বলে জানা গেছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের ‘সাফল্য’ ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তিনি সেই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইরান প্রশ্নেও সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

    এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এবার সরাসরি হামলা, লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ কিংবা সাইবার ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী গোপন অভিযানের মতো বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হবে ইরানের শাসন কাঠামোকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করা। তবে ভেনেজুয়েলার মতো দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা ইরানের ক্ষেত্রে কম।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান ভেনেজুয়েলার মতো রাষ্ট্র নয়। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও সংকট সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একজন নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালালেই পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

    ট্রাম্প সম্প্রতি ১৯৮০ সালে ইরানে ব্যর্থ মার্কিন অভিযানের উদাহরণ টেনে সতর্কতার কথাও বলেছেন। সেই অভিযানের ব্যর্থতা শুধু সামরিক ক্ষতিই নয়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করেছিল। ওই অভিজ্ঞতা এখনো ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছায়া ফেলছে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক উইল টডম্যানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শাসন পরিবর্তনের চেয়ে ইরানের আচরণে প্রভাব ফেলতে চায়। এর মধ্যে পারমাণবিক আলোচনায় ছাড় আদায়, দমনপীড়ন বন্ধ এবং সংস্কারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ খোলার চেষ্টা থাকতে পারে।

    ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে আলোচনায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, প্রকাশ্য বক্তব্য ও গোপন বার্তার মধ্যে ফারাক রয়েছে। এ কারণে কূটনীতি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    তবে বিক্ষোভে রক্তপাত অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক উদ্যোগ দুর্বলতার বার্তা দিতে পারে বলেও মত রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, সীমিত সামরিক অভিযান বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগাতে পারে এবং শাসকদের জন্য কঠোর সতর্কতা হয়ে উঠবে। আবার একই সঙ্গে এটি শাসনব্যবস্থাকে আরও ঐক্যবদ্ধও করতে পারে।

    এই সব ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।