Tag: তারেক রহমান

  • ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খুলনাঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে এসব রুগ্ন শিল্পকে আবারও বিকশিত করা হবে। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে সেই সুযোগ এলে শিল্পাঞ্চল ঘুরে দাঁড়াবে।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী লুটপাটের মাধ্যমে শিল্পখাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

    সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও কথা বলেন। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যারা প্রতারণা করে, তারা কখনোই দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে না—এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। মত প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের। দীর্ঘদিন ধরে যে অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে, নির্ধারিত দিনে ইনশাআল্লাহ সেই অধিকার জনগণ প্রয়োগ করবে।

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এ সময় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন আসনের বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের হয়ে মাঠে কোকোর স্ত্রী

    ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের হয়ে মাঠে কোকোর স্ত্রী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেও সারাদেশের প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে নিজ এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি।

    এবিএনএ: শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় সুবাস্তু নজর ভ্যালি মার্কেটের সামনে থেকে তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ শুরু করেন শামিলা রহমান সিঁথি। এরপর তিনি গুলশান এলাকার ডিএনসিসি মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

    এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে তারেক রহমানের জন্য দোয়া ও ভোট কামনা করেন। গণসংযোগকালে শামিলা রহমান সিঁথি বলেন, তিনি ভাইয়ের পক্ষ থেকে ভোটারদের কাছে এসেছেন এবং সবাইকে তারেক রহমানের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

    এই প্রচারণায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিনের স্ত্রী ব্যারিস্টার মেহেনাজ মান্নানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    এদিকে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার।

  • “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”: জনাব তারেক রহমানের ভাষণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

    “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”: জনাব তারেক রহমানের ভাষণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

    এবিএনএ: ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আমেরিকার বর্ণবৈষম্য বিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে উচ্চারণ করেছিলেন “আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম।” এই উক্তিটি কেবল একটি আবেগঘন বাক্য ছিল না; এটি ছিল ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা, নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের এক চূড়ান্ত প্রকাশ।

    এই ভাষণের মাধ্যমে আমেরিকার সর্বজনীন মানবাধিকার ও সমতার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সেদেশের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট (১৯৬৪) ও ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট (১৯৬৫) প্রণয়নে। রাজনীতির ইতিহাসে এটি এমন একটি ভাষণ, যেখানে নৈতিক আবেদন ও রাজনৈতিক লক্ষ্যের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল।

    এই ঐতিহাসিক ঘটনার বাষট্টি বছর পর, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের উপস্থিতিতে নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উচ্চারণ করলেন “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।” অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বরণ অনুষ্ঠান—কোন প্রতিবাদ সভা বা রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। সঙ্গত কারণেই তিনি তাঁর এই “প্ল্যান”-এর বিস্তারিত বিবরণ এই ভাষণে দেননি। তবু তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ ও উচ্চারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে নতুন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক-নৈতিক রূপরেখার অভাস পাওয়া যায়।

    জনাব তারেক রহমান বেশ পরিষ্কার কন্ঠেই বলেছেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।” কোন রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে এমন কথা প্রত্যাশিত হলেও, তাঁর ভাষণের শব্দচয়ন ও ভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে, এই বক্তব্য নিছক আনুষ্ঠানিক নয়। তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণটির অন্তর্নিহিত দর্শন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর রাজনৈতিক-নৈতিক রূপরেখা অন্তত: দশটি মৌলিক স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো হল:

    ১/ অকর্তৃত্ববাদী মনস্তত্ত্ব: সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ ‘আমিত্বে’ ভরপুর কর্তৃত্ববাদী শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জনাব তারেক রহমানের ভাষণে এই আমিত্ব ছিল অনুপস্থিত। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তাঁর ভাষণে তিনি “আমরা” এবং “সকলে মিলে” – এ ধরনের শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব – যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।” লক্ষণীয় যে, “আমি” শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গায়, যেমন রাব্বুল অলামীনের অশেষ রহমতে আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি” বা “এখান থেকে আমি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব।” ভাষা ব্যবহারে আমিত্বের এই অনুপস্থিতি যুক্তিসঙ্গতভাবেই ইঙ্গিত দেয় যে, জনাব তারেক রহমান অকর্তৃত্ববাদী মনোভাব ধারণ করেন এবং সম্ভাব্য রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার বদলে সম্মিলিত মতামত এবং অংশগ্রহণমূল রাজনীতিকে গুরুত্ব দিতে চান।

    ২/ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণের প্রথম অংশেই বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন “আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।” স্বৈরতান্ত্রিক সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন “শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন।” অর্থাৎ বাকস্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশের মানুষের আকাঙ্খা ও আত্মত্যাগের বিষয়টিকে তিনি একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে দেখছেন। কাজেই, মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার একটি অঙ্গীকার তাঁর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় থাকবে – এই প্রত্যাশা খুবই যৌক্তিক।

    ৩/ গণতান্ত্রিক-অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ: এ বিষয়টি লক্ষ্ করার মত যে, জনাব তারেক রহমানের ভাষণে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসাবে আসেনি, বরং এ দু’টো বিষয় সবসময় একসাথে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি বলেছেন “এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। …গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।” এখান থেকে বোঝা যায়, তিনি যথার্থই উপলব্ধি করেছেন যে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ছাড়া কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে একসাথে বিবেচনা করার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর রাজনৈতিক রূপরেখাকে আরও বাস্তবমুখী করে তুলবে বলে আশা করা যায়।

    ৪/ নারীর অধিকার ও প্রত্যাশা সুপ্রতিষ্ঠিত করা: সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উগ্রবাদীর কর্মকাণ্ডের কারণে নারীর অধিকার ইস্যুটি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় খুবই জাজ্বল্যমান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আশার কথা হল, জনাব তারেক রহমানের ভাষণে নারীর অধিকার ইস্যুটি গতানুগতিক ধারায় আসেনি, বরং তিনি এর সাথে যুক্ত করেছেন চমৎকার একটি ধারণা ‘নারীর প্রত্যাশা’। তিনি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছেন, নারীর অধিকার ও উন্নয়ন হবে নারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী; নারীর অধিকার ও উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো নির্ধারিত হবে তাঁদের দ্বারাই – কোন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার দিয়ে নয়। এই প্রগতির ইঙ্গিতবাহী অভিনবত্ব খুবই আশা জাগানিয়া একটি বিষয়।

    ৫/ নাগরিকের সর্বজনীন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: স্বৈরতান্ত্রিক-ফ্যাসিস্ট শাসনামলের গুম-খুনের কথা উল্লেখ করে জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে সেই রক্তের ঋণ শোধ করতেই এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা-শ্রেণি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা যাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নিরাপত্তা হতে হবে এতটাই সার্বিক যতটা সার্বিক নিরাপত্তা একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য প্রত্যাশা করেন। কাজেই, জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণ থেকে আমরা এই প্রত্যাশা করতে পারি যে, তাঁর রাজনৈতিক রূপরেখায় নাগরিকের সর্বজনীন এবং সার্বিক নিরাপত্তা একটি মৌলিক ও আবশ্যিক বিষয় হিসাবে বিদ্যমান আছে।

    ৬/ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনায় উজ্জীবিত ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম: জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ এর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং বিশেষভাবে ২০২৪ এর গণঅভ্যূত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, এগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে আনার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশ ও এর জনগণকে রক্ষা করা। জনগণের এই রক্তাক্ত বিপ্লবসমূহ সম্পর্কে জনাব তারেক রহমানের দৃপ্ত উচ্চারণ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, যে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” – এর অবতারণা করেছেন, তাঁর ভিত্তিমূলে রয়েছে এই বিপ্লবসমূহের চেতনা যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে প্রেরণা যোগাবে।

    ৭/ ইসলামী মূল্যবোধ ও আধুনিক-উদারনৈতিক রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়: বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনসাধারণ একই সাথে ধর্মপ্রাণ এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ বিরোধী। তাঁরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সমতার ভিত্তিতে শান্তিতে বসবাসে আগ্রহী। তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণে এই জন-অভিপ্রায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শুরু করে এক পর্যায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমরা সকলে নবী করিম (সা.) -এর যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা করার এই প্রতিজ্ঞার পাশাপাশি তিনি এটিও নিশ্চিত করেছেন যে, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তিনি উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবেন না; বরং, সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমতা ও সম-অধিকারের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেছেন “এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন “যেকোন ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে – এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।” কাজেই, তাঁর ভাষণ থেকে এমন অনুমান করা যৌক্তিক যে, ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে সকল ধর্মমতের মানুষের সমতা ও সম-অধিকারের নিশ্চয়তার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও উদারনৈতিক রাষ্ট্র কায়েম করা তাঁর ‘প্ল্যান’-এর অংশ।

    ৮/ অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ভাবনা: জনাব তারেক রহমান তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন, সেখানে তিনি তাঁর ভাষায় “আরো যেসব জাতীয় নেতৃবৃন্দ আছেন” তাঁদেরকে নিয়েই সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা বলেছেন। কাজেই, তাঁর রাষ্ট্র ভাবনায় কেবল তিনি বা তাঁর দল নয়, বরং অন্তর্ভুক্ত আছে সকল দল। শুধুমাত্র যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলমতকেই তিনি তাঁর পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করছেন এমন নয়, তিনি চাইছেন সকল শ্রেণি-পেশা-ধর্মের মানুষকে এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করতে। তিনি যেমন রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের অর্ন্তভূক্তি ও অংশগ্রহণের কথা জোর দিয়ে বলেছেন, তেমনই তাঁর এই অর্ন্তভূক্তিমূলক পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি চল্লিশ লক্ষ প্রতিবন্ধী মানুষও। রাষ্ট্র গঠনে সকলের এই অন্তর্ভুক্তি প্রকারন্তরে রাষ্ট্রের উপর জনগণের মালিকানাকেই প্রতিফলিত করে।

    ৯/ রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা: জনাব তারেক রহমানের ভাষণে বারবার ধৈর্যধারণের কথা এসেছে। সকল সমস্যাকে তিনি ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করার পরামর্শ দিয়েছেন; উস্কানির মুখেও সকলকে ধীর এবং শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছেন। তাঁর ভাষণও ছিল সম্পূর্ণরূপে উস্কানিমুক্ত যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, এমনকি তাঁর ও তাঁর পরিবার যে শক্তির নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও তিনি কোন কঠোর শব্দচয়ন করেননি। এ থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় এমন একটি বাংলাদেশ থাকবে যেখানে পারস্পরিক হানাহানির বদলে রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা পাবে।

    ১০/ শান্তিই রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় লক্ষ্য: বাংলাদেশের জনগণের যত সংগ্রাম, যত ত্যাগ আছে, তার মূল লক্ষ্য শান্তিতে বসবাস করার চিরাচরিত প্রত্যাশা। আর জনগণের এই চিরাচরিত প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি করে জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে দৃপ্তভাবে উচ্চারণ করেন “আমরা দেশে শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই।” যে শান্তির কথা তিনি এখানে বলেছেন, তা নিরাপদ নাগরিক জীবনের প্রতিশ্রুতি বহন করে; এটি এমন এক সামাজিক অবস্থা, যেখানে নাগরিকগণ ভিন্নমত পোষণ করেও নিরাপদে থাকবেন এবং রাষ্ট্রকে ভয় নয়, বরং আস্থার জায়গা হিসাবে দেখবেন। এমন একটি শান্তিময় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক রূপরেখায় থাকবে, সেই ইঙ্গিতই তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণের কেন্দ্রীয় উপজীব্য বিষয়।

    দোদুল্যমানতা ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত ২০২৫ সাল শেষ হল দেশের সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব, দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, জাতির সর্বোচ্চ অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে ২০২৬ এর শুরুটা তাই কেবল বেদনা বিধুর নয়, ভয় এবং আশঙ্কারও বটে। সন্দেহ নেই, এই ভয় এবং আশঙ্কার সময়ে জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণটি খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে বারবার ফিরে আসবে। এ ধারণা অমূলক নয় যে, বাষট্টি বছর আগে দেয়া মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র -এর ভাষণটির মতই জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” খ্যাত ভাষণটিও ঐতিহাসিক এবং কালোত্তীর্ণ একটি ভাষণ হিসাবে ভবিষ্যতে বিবেচিত হবে।

    লেখক:- প্রফেসর ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর
    দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন? জামায়াতকে কড়া প্রশ্ন তারেক রহমানের

    এবিএনএ: বিএনপিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা আজ বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করছে, তাদেরই দুই নেতা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি যদি তখন এতটাই খারাপ হতো, তবে তারা কেন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে আসেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসকের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি কারণ তারা জানতেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিষয়ে ছিলেন আপসহীন। তিনি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলেই বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছিল, আর ২০০১ সালে খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অবস্থা থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, যারা আজ বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে তাদের মন্ত্রিত্ব বহাল থাকাই প্রমাণ করে তারা এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মিথ্যাচার করছে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে সকলে একসঙ্গে কেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ভোটের পর আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে। তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রেখে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বক্তারা নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশ প্রাঙ্গণ।

  • দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতি ও উন্নয়ন ভাবনার বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই নগরীকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তিনি অর্থনীতি, কৃষি, শিল্পায়ন ও পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

    রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে সমাবেশে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান।

    বক্তৃতায় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এবং এই শহরের সঙ্গেই তার পরিবার ও বিএনপির গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ আবারও পরিবর্তন চায়—যে পরিবর্তনে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

    দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত খাল খননের ওপর জোর দেন।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপির আমলেই চট্টগ্রামে ইপিজেড গড়ে উঠেছিল, যা লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। বিএনপি সরকারে এলে অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অতীতে যেমন দলের পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও তা হবে না।

    এর আগে সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, স্টুডেন্ট লোন চালু এবং পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর এই সফর ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • ২১ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান, পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ সিএমপির

    ২১ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান, পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ সিএমপির

    এবিএনএ: দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। জনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সময়ে নগর এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী প্রতীক, ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনও করা যাবে না।

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ধারার আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০ অনুসারে অননুমোদিত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি একদিন আগেই চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন।

    সবশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে এসে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর তার এই আগমনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও একটি চক্র আবারও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশে ব্যালট ছিনতাই, ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন এবং রাতের আঁধারে ভোট গ্রহণের মতো ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গত ১৬ বছরে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এই সময়কালে দেশের সার্বভৌমত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—দিল্লি হোক কিংবা অন্য কোনো রাজধানী, কারও কাছে নয়; সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে ভোট ও বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, তারাই বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নিখোঁজ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত।

    জনসভায় তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

  • দেশ বদলাতে হলে আগে গণতন্ত্র ফেরাতে হবে: তরুণদের সামনে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা

    দেশ বদলাতে হলে আগে গণতন্ত্র ফেরাতে হবে: তরুণদের সামনে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: রাষ্ট্র পরিচালনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত দুই দশকে দেশের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ‘দ্য প্ল্যান–ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তরুণদের নানা প্রশ্ন ও মতামতের উত্তর দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

    তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, “দেশকে পরিচ্ছন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হলে আগে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন কখনো স্থায়ী হতে পারে না।” বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তরুণ সমাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের চার কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানকে এই কার্ড দেওয়া হবে।

    এই কার্ডের আওতায় মাসিক দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য আলাদা সহায়তা কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশ নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা সরাসরি জানান।

  • নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় তারেক রহমান, সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে বিএনপির প্রচারণা

    নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় তারেক রহমান, সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে বিএনপির প্রচারণা

    এবিএনএ: আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশ নিতে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পথে রওনা হন।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহাদী আমীন জানান, রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তারেক রহমান সিলেটে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি গভীর রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

    সিলেট সফর শেষে পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব কর্মসূচি শেষে তিনি রাতেই ঢাকায় ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র।

    মাহাদী আমীন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই তাদের সফরসঙ্গী করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সফরগুলোতেও আরও ত্যাগী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    এই সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ একাধিক তরুণ নেতা।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই সফর তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গতি আনবে।

  • কড়াইল বস্তিবাসীর ভাগ্য বদলের প্রতিশ্রুতি: বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা তারেক রহমানের

    কড়াইল বস্তিবাসীর ভাগ্য বদলের প্রতিশ্রুতি: বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা তারেক রহমানের

    এবিএনএ: রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাসম্পন্ন আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানান, কড়াইল এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাসকারীদের জন্য ছোট আকারের ফ্ল্যাট তৈরি করে দেওয়া হবে।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে এবং অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার সময় দল মানুষের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তরিক চেষ্টা করেছে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কড়াইলের মানুষের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে ধাপে ধাপে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার বাসিন্দাদের নাম তালিকাভুক্ত করে তাদের প্রত্যেকের জন্য পৃথক ফ্ল্যাট নির্মাণ করে মালিকানা হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, যারা বছরের পর বছর ধরে কড়াইলে বসবাস করছেন—বিশেষ করে আদিবাসী ও পুরোনো বাসিন্দারা—তারাই এসব ফ্ল্যাটের অগ্রাধিকার পাবেন, যাতে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে তাদের স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত হয়।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কড়াইল এলাকার ভেতরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য।

    নারীদের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, অতীতে বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি নিজেও এই এলাকারই সন্তান এবং কড়াইলবাসীর সুখ-দুঃখের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই এলাকার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইব্রাহিম বিন আলী। এ সময় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।