Tag: তারেক রহমান

  • ঢাকার ভয়াবহ যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি সভা, আসছে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নতুন পরিকল্পনা

    ঢাকার ভয়াবহ যানজট কমাতে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি সভা, আসছে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নতুন পরিকল্পনা

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ সভায় রাজধানীর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন শেখ রবিউল আলম রবি, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে এটি দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এর আগে অনুষ্ঠিত সভায়ও রাজধানীর পরিবহন সংকট ও নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

    এদিনের সভায় নগরীর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন এবং বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায়।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু এবং সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে নগরবাসীর ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

  • “দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে”—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    “দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে”—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    প্রতিবেদক: দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এ জন্য তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের নানা উদ্যোগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ অনেক পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখতে চায়। তবে ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। অস্থিরতা থাকলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, শুধু রাজপথের আন্দোলন বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দিয়ে দেশ গঠন সম্ভব নয়। সংসদীয় রাজনীতি, আলোচনা ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব প্ল্যাটফর্মে ইতিবাচক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

    ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত আরও একটি বিদেশি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এতে আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে বাংলাদেশি তরুণদের সুযোগ আরও বাড়বে।

    সাংস্কৃতিক বিকাশ প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া কোনো জাতির পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। সরকার শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। এসব উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগলেও আগামী এক দশকে এর ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মতবিনিময় সভায় একপর্যায়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা হওয়া সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য।

    এসময় তিনি অতীত সরকারের সময়ে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়েও শিক্ষার্থীদের সামনে আলোচনা করেন।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    এবিএনএ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এখন দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

    শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত বন্ধ কলকারখানা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মহীন শ্রমিকরা আবার কাজের সুযোগ পান। এ বিষয়ে অগ্রগতি তদারকিতে নিয়মিত বৈঠকও চলছে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করলেই বেকার সমস্যার সমাধান হবে না। দেশে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক রয়েছে, যাদের কর্মসংস্থানের জন্য দেশীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমবাজারও সম্প্রসারণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নতুন শিল্প স্থাপনে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, শিল্পায়ন বাড়লে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

    রাজধানীতে হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কে অনিয়ন্ত্রিত হকার বসার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল, তাই তাদের সরানো হয়েছে। তবে তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, সব হকারকে একসঙ্গে পুনর্বাসন করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

  • সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    এবিএনএ: কিছু রাজনৈতিক শক্তি সংস্কারের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা সংস্কারের কথা বলছে তারা নারীর স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। এসব কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও নারীবিষয়ক কমিশনও রয়েছে। কিন্তু একটি মহল শুধুমাত্র সংবিধান ইস্যু সামনে এনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা সহজ করা, ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা কিংবা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তারা কোনো বক্তব্য দেয় না।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অতীতেও বিভিন্ন সময় একই কৌশলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু মহল এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে দেশের উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। তখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার নিয়ে কথা বলতেও সাহস পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিছু বড় প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই বিএনপি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কমিশনের কাছে বিএনপি নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কোন বিষয়ে একমত আর কোন বিষয়ে মতভেদ রয়েছে—সবকিছুই স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর আগে সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছান তারেক রহমান। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে তিনি জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নামফলক উন্মোচন, গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধনের পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

  • বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    এবিএনএ: পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের আহ্বান জানান।

    শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব—বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান—দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট সব নৃগোষ্ঠীর মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাও জানান।

    জাতীয় সংস্কৃতির অংশ বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব উৎসব পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায় এবং সমাজে শান্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

    তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জাতীয় ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সমাজে সম্প্রীতির বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে।

    সমান অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

    শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিকের সমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাহাড় বা সমতল—যেখানেই বসবাস হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। এই ঐক্য ধরে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    সুখ-শান্তির প্রত্যাশা

    বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ দেশের মানুষের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করেন।

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রিয়জন হয়ে উঠছেন তারেক রহমান

    প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রিয়জন হয়ে উঠছেন তারেক রহমান

    ড. মো. শওকত হোসেন
    ইংরেজিতে যাকে সাবঅল্টার্ন (Subaltern)  বলা হয়, বাংলায় তাকে সত্যিকারভারে কোনো একক শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা মুসকিল। এর কাছাকাছি বাংলা শব্দ হতে পারে: প্রান্তিক মানুষ, অবহেলিত জনতা, শোষিত ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি। এরা এমন ধরনের মানুষ যাদের কেউ পাত্তা দেয় না, তাদের কোনো ভালোলাগা মন্দ লাগায় সমাজ বা রাষ্ট্রের কিছু আসে যায় না। কেউ তাদের কথা মন দিয়ে বা গুরুত্ব দিনে শুনতে চায় না। ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নানা সময়ে তাদের ব্যবহার করে, কিন্তু উপলক্ষ ফুরালে অদের দূরে ঠেলে দেয়। তারা থাকেন বরাবরের মতো উপেক্ষিত। সব ক্ষমতাধর পক্ষকেই তাদের সন্তুষ্টি বিধান করে চলতে হয়, এবং এতে করে তাদেরকে অনেকক্ষেত্রে পারিচয়ের ঘাটতি বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস-এও পরতে হয়। অনেক সময় সন্দেহ বসত কোনো পক্ষের কোপে পড়ে তাদের পোয়াতে হয় নানারকম দুর্ভোগ। জনবহুল গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে  বাংলাদেশের অস্থান অস্টম বলে ধরা হয়। দেশটি আবার অর্থনৈতিকভাবে উন্নত নয়। তাছাড়া সম্পদের অসম বণ্টন, মুদ্রাস্ফীতি এবং সর্বোপরি দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কবলে পরে একশ্রেণির মানুষ হয়ে পারছে অসহায়, কেউ কেউ ছিন্নমূল, এলাকা ছাড়া, বেকার, সহায়-সম্বলহীন। এইসকল মানুষদের অনেকেই বা বেশিরভাগই হয়ে ওঠে সাবঅল্টার্ন। অসহায়ত্ব ও দারিদ্রের সমস্যা এদের যাই থাকুন না কেন এদের সর্বাপেক্ষা বড় কষ্টের একটি হলো এদের কথা কেউ শুনতে চান না, কোনো কোনো বিশেষ সময়ে শুনে থাকলেও কেউ কথা রাখেন না।
    জ্ঞানচর্চার ইতিহাসের সমকালীন অধ্যায়ে ‘সাবঅল্টার্ন’ শব্দটি বেশ গুণত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভারতীর স্কলার গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক (Gayatri Chakravonty Spivak, 1942) ১৯৮৮ সালে “ক্যান দ্যা সাবঅল্টার্ন স্পিক? (Can the Subalterin Speak?)  নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। পোস্ট কলোনিয়াল, নারীবাদী ও বিনির্মাণবাদী চিত্তক হিসেবে তার পরিচিতি থাকলেও তার এই প্রবন্ধটি উত্তরাধুনিক কিংবা বর্তমান সময়ের সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতিবিদ্যা এবং সামগ্রিকভাবে দার্শনিক মহলে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। স্পিভাক মূলত দেখাতে চান যে, উপনিবেশিক বা যেকোনো ক্ষমাসীন শাসকগোষ্ঠী সমাজের দরিদ্র, প্রান্তিক, ক্ষমতাহীন মানুষ তথা সাবঅল্টার্নদের এমনভাবে নিস্পেসন করে রাখে যে, তারা নিজেদের প্রয়োজনে কোনো কথা বলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকেন। একশ্রেণির রাজনীতিবিদ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিবর্গ নানা মতলবে তাদের হয়ে কথা বলতে চান বা বলার ভান করেন সেটা মূলত তাদেরই কায়েমী স্বার্থে নিজেদের মতো করে সম্পাদনা করে বলা। এটা কখনও পিওরভাবে ঐ শ্রেণির কথা হয়ে ওঠে না। এতেকরে প্রকৃত প্রস্তাবে ঐসকল মানুষের ভাগ্যের কোনো টেকসই উন্নতি হয় না।
    স্পিভাকের তত্তে¡র জটিল বিশ্লেষণে না গিয়ে আমরা যদি তার মূল ভাবটি নিয়ে চিরায়ত বাংলাদেশের ঐসকল আহেলিত মানুষের দিকে তাকাই, তাহলে এই জনগোষ্ঠীর কথা বলতে না পারার বাস্তবতাটি অনেকভাবেই আমাদের চোখে পড়তে পারে। আর এটা বুঝতে হলে তাদের সাথে সরাসরি সংযোগ সাধন করতে হবে। কোনো সৌখিন দরিদ্রপ্রেমি, ধান্ধাবাজ বাজনীতিবিদ বা সমাজ-উন্নয়ন সংস্থার চোখ দিয়ে নয়, একেবারে নিজের মত করে তাদের কাছে যেতে হবে, তাহলেই তাদের কথা বোঝা যাবে। তাদের মুখের ভাষা চোখ মুখের অভিব্যক্তিও অনেক সময় তাদের আনন্দ-বেদনার কাব্য বলে দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি তেমনটি দেখতে বা শুনতে পাচ্ছেন? তিনি কি অবহেলিত বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের ভাষা উপলদ্ধি করতে পারছেন? মনে হচ্ছে পারতে শুরু করেছেন এবং অগ্রগতি বেশ আশা জাগানোরই মতো। তাঁর হয়তো সুন্দর কিছু পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্প রয়েছে। এমনই প্লান ও ডিটারমিনিশনের কথাই হয়তো তিনি দীর্ঘ নির্বাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশে ফিরে প্রথম দিনই প্রকাশ করেছিলেন। যদিও বিস্তারিত বলেননি। আর এই না বলার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের ইস্তেহারে কিছু কিছু পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করছেন। সেসব পরিকল্পনাও সমালোচকদের নিন্দা থেকে রেহাই পায়নি। তার ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ কেউ ভীশন মন্দভাবে রিঅ্যান্ট করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ প্রদান শুরু হয়ে গিয়েছে। সাবঅল্টার্ন বা আহেলিত প্রান্তিক মানুষের সাথে সংযোগের এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। যেহেতু এই কার্ড সবচেয়ে অবহেলিত অভাবগ্রস্থদের থেকে শুরু হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল সংসারের নারী প্রধানের নিকট পৌঁছানোর কথা, সেহেতু এই কর্মসূচির মাধ্যমে কথা বলতে না পারা জনতার এক বিরাট অংশই তাদের প্রাণের দাবীর কিছুটা হলেও মিটাতে পারবেন। তারা আসলে কী বলতে চায়? তারা মূলত অনেক কিছুই বলতে চায়। তারা মানুষ হিসেবে নূন্যতম মর্যাদা চান। ভাত-কাপড় ও নিরাপদ আশ্রয় চায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অধিকার চান। এরকম ব্যাসিক পর্যারের চাহিদার মধ্যে কিছুটা নিশ্চিত প্রাপ্তির বাহক এই ফ্যামিলি কার্ড। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, ক্ষমতাহীন অবহেলিত নাগরিকের একটি বিরাট অংশই নারী। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে আসা হলো। একটি অভাবী পরিবারে একজন নারীকে সংসার পরিচালনার জন্য স্বামী বা সক্ষম পুরুষের আয় দিয়ে অনেক কষ্ট করে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাদের হাতে প্রতিমাসে একটি নগদ টাকা আশা তাদেরকে বেঁচে থাকার সংগ্রামে বেশ খানিকটা সাহসী করে তুলবে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রথম দিনেই অনেক গ্রাহক বিভিন্নভাবে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে, এমনকি আনন্দে কেউ কেউ কান্না করে দিয়েছে, দু’হাত তুলে তারেক রহমানকে দোয়া করেছে; এইসব দৃশ্যে কোনো কৃত্তিমতা ছিলনা। মানুষের হৃদয়ের নিবিড় প্রান্ত থেকে উঠে আশা এইসব অভিব্যক্তি একজন নেতাকে স্পষ্টত প্রান্তিক মানুষের কাছে এমনভাবে আপন করে তোলে যা রাজনৈতিক বক্তৃতা, ক্ষমতার মহড়া, ন্যারেটিভ নির্মাণ ইত্যাদি সকল উদ্যোগকে ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করার জন্য অসাধারণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
    এ্যারিস্টটল গণতন্ত্রের মন্দ রূপের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, এটা শেষ পর্যন্ত কতিপয় ধনীক শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিভিন্ন সময়ে আমরা এর প্রমাণও দেখেছি। ক্ষমতায় গিয়ে দলীয় ধনীক শ্রেণিদের খেলাপি ক্ষণ নেওয়ার-হিড়িক পরে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নানারকম সরকারি সুযোগ চলে যায় এক ধরনের পোষ্য বুর্জোয়া শ্রেণির কাছে। কিন্তু তারেক রহমান এলিট শ্রেণির দিকে নজর না দিয়ে ব্যাংকিং খাতে প্রথম সুবিধাটি দিলেন ক্ষণগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকদেরকে, তাদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ সুদসহ মৌসুফ করে দিলেন। তাছাড়া ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কৃষক কার্ডের। সবই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের না বলতে পারা অনেক অনেক সমস্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। এই মানুষগুলো হয়তো সংগঠিত হয়ে কোনো দিন আন্দোলন করে হয়তো অধিকার বা দাবী আদায় করতে পারতো না। কিন্তু তাদের ঐ সমস্যা বুঝতে পারা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনকারী রাজনৈতিক দল ও নেত্রীত্বের সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্টগুণের প্রমাণ বহন করে। তারেক রহমান সরকার প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরার বিভিন্ন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়েছে। এই বিষয়টি একেবারে নিম্নবিত্ত মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত মানুষের একেবারেই দৈনন্দিন সমস্যা। বাজার ব্যবস্থার কাছে সবাই সমবেশি জিম্মি হয়ে পড়ে। কিন্তু এবছরের রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য যেভাবে অন্য মাসের চাইতে কমিয়ে আনা হয়েছে তা সত্যিই বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য।
    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলাফেরা সাধারণ বা প্রান্তিক মানুষের সাথে সহজভাবে মেশা, তাদের সম্মান দেওয়া এসবকিছুই রাজনীতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং অবহেলিত মানুষের সুবিধা অর্জনের পথ সুগম হচ্ছে। তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরো উপকৃত হবেন যদি তারেক রহমানের নাম ব্যবহারকারী দলীয় নেতাকর্মীগণ তাঁর মত জনবান্ধব হন। এখনও অনেক স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী পুরোনো ধাঁচের কর্তৃত্ববাদী ভয়ের সংস্কৃতি চালু রেখেই দল চালাচ্ছেন। যার ফলে প্রান্তিক জনগণের অনেকেই সরকারের সকল ভালো উদ্যোগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার যারা সুবিধা পাচ্ছেন তারাও কেউ কেউ স্থানীয় নেতাদের ব্যবহারের কারণে অসন্তুষ্টই থেকে যাচ্ছে। তারেক রহমান ক্রমশঃ তাঁর নিজগুণকে তাঁর দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে সঞ্চালন করতে পারলেই কেবল প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে সবার কাছে তাঁর ইমেজ ভালো রাখতে পারবেন।
    লেখক: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  • স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা—ভোরেই শুরু রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

    স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা—ভোরেই শুরু রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ভোরেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে তিনি সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীতে ফেরার পথে সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে সম্মান জানাবেন তিনি।

    এরপর দিনের আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় উদযাপন আরও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, দিনব্যাপী কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • ঈদের চাঁদ উঠতেই প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা: সবার মাঝে আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান

    ঈদের চাঁদ উঠতেই প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা: সবার মাঝে আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশবাসীকে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রচারিত ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঈদ মোবারক। প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম।” তিনি উল্লেখ করেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর পবিত্র মাহে রমজান বিদায় নিয়েছে, যা মানুষকে ত্যাগ, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার বার্তা। এই উৎসব যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সে আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারে ঈদের আনন্দ পৌঁছে যাক—এই কামনা সবার। রমজানের শিক্ষা ধারণ করে সবাই যেন একে অপরের পাশে দাঁড়ায় এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়, সেটিই হওয়া উচিত ঈদের মূল বার্তা।

    বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

  • লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা, ইবাদতে মনোযোগের আহ্বা

    লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা, ইবাদতে মনোযোগের আহ্বা

    এবিএনএ: পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    রোববার (১৬ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, লাইলাতুল কদর ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। এই মহিমান্বিত রাতেই পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয় এবং মহান আল্লাহ এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পবিত্র রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস মানুষের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ধৈর্যের শিক্ষা দেয় এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে।

    তিনি আরও বলেন, লাইলাতুল কদরের তাৎপর্য আমাদের ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ন্যায়, শান্তি এবং মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই এই রাতের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে সবাইকে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পবিত্র রাতের বরকত মানুষের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনবে এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

  • হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি:সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি:সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে ।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।

    একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি। ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন।

    তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

    বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।

    এই সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করছি।