Tag: আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ইইউজুড়ে কড়াকড়ি: তিন মাসে এক লাখের বেশি অভিবাসীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

    ইইউজুড়ে কড়াকড়ি: তিন মাসে এক লাখের বেশি অভিবাসীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

    এবিএনএ: ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ির চিত্র উঠে এসেছে নতুন পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশ থেকে মোট এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে সংশ্লিষ্ট দেশ ত্যাগের আইনি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানায়, অনিয়মিতভাবে অবস্থানের কারণেই এই বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর বিরুদ্ধে ‘দেশ ছাড়ার আদেশ’ জারি করা হয়। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিন শতাংশ বেড়েছে।

    জাতীয়তা অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি নোটিশ পেয়েছেন আলজেরিয়ার নাগরিকরা। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ১২ হাজারের বেশি আলজেরীয়কে ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর রয়েছেন মরক্কো ও তুরস্কের নাগরিকরা।

    দেশভিত্তিক হিসাবে বহিষ্কার আদেশ জারিতে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। শুধু তিন মাসেই দেশটি ৩৩ হাজারের বেশি অভিবাসীর বিরুদ্ধে এই আদেশ দিয়েছে। জার্মানি ও গ্রিস রয়েছে পরের অবস্থানে। এই তিন দেশ মিলেই ইইউতে জারি হওয়া মোট আদেশের প্রায় অর্ধেকের জন্য দায়ী।

    ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে প্রায় ৩৪ হাজার অভিবাসী নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ স্বেচ্ছায় ফিরলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে পুলিশি তত্ত্বাবধানে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

    প্রত্যাবাসন কার্যকর করার ক্ষেত্রে জার্মানি সবচেয়ে এগিয়ে। স্বেচ্ছা ও জোরপূর্বক—দুই প্রক্রিয়াতেই দেশটি শীর্ষে রয়েছে। বিপরীতে ইতালিতে প্রায় সব প্রত্যাবাসনই জোরপূর্বক হয়েছে, যেখানে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের নজির নেই বললেই চলে।

    তবে আলজেরীয় নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের হার তুলনামূলকভাবে খুব কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, কনস্যুলার নথি জটিলতা ও নিজ দেশের আইনি বিধিনিষেধ এর অন্যতম কারণ। ফ্রান্সে বসবাসরত বড় আলজেরীয় কমিউনিটির ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দীর্ঘদিনের।

    এরই মধ্যে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বিদেশে থাকা কিছু অনিয়মিত অভিবাসীর জন্য সাধারণ ক্ষমার ইঙ্গিত দিলেও, বিশ্লেষকদের মতে এর বাস্তব প্রভাব এখনই স্পষ্ট নয়। ফলে ইইউর অভিবাসন সংকটে স্বল্পমেয়াদে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

  • বরফ আর বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, তিন দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৬১ জনের

    বরফ আর বৃষ্টির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, তিন দিনে প্রাণ গেল অন্তত ৬১ জনের

    এবিএনএ: চরম আবহাওয়ার কবলে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান। টানা তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন দিনে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএনডিএমএ) জানায়, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১১০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে অন্তত ৪৫৮টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সম্পূর্ণ না হওয়ায় হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল থাকায় সঠিক তথ্য পেতে সময় লাগছে।

    এএনডিএমএর প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে আফগানিস্তানের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী তুষারপাতের কারণে রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।

    দুর্বল অবকাঠামো ও প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তানে প্রায়ই বন্যা, ভূমিধস, তুষারঝড় ও প্রবল বর্ষণে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এসব চরম আবহাওয়া দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • ভয়াবহ দুর্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়: পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ জন

    ভয়াবহ দুর্যোগ ইন্দোনেশিয়ায়: পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ৮২ জন

    এবিএনএ: ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮২ জন। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

    স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি এবং উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম ‘কম্পাস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে পশ্চিম বান্দুং জেলার পাসিরলাঙ্গু গ্রামে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে একাধিক বসতঘর ও অবকাঠামো মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পুরো এলাকাটি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৩০ হেক্টর বা ৭৪ একর। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ জুড়ে পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

  • ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে সতর্কতা! বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষ নির্দেশনা

    ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে সতর্কতা! বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষ নির্দেশনা

    এবিএনএ: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা, জনসমাগম ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাজ্যের ফরেন অফিস জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও মিছিলের সংখ্যা বাড়তে পারে, যার ফলে বড় ধরনের জনসমাগম, নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ অবস্থায় ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে লন্ডন। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ভ্রমণ পরিকল্পনা রাখার কথাও বলা হয়েছে।

    নির্বাচনসংক্রান্ত সতর্কতার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। নিয়মিত সহিংসতা ও অপরাধমূলক ঘটনার প্রতিবেদনের কারণে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করলে ভ্রমণ বিমা বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ এলাকাগুলোতে ব্রিটিশ নাগরিকদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

  • কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: গিরিখাতে পড়ে প্রাণ গেল ১০ ভারতীয় সেনার

    কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: গিরিখাতে পড়ে প্রাণ গেল ১০ ভারতীয় সেনার

    এবিএনএ: ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০ জন সেনা সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দোদা জেলার পাহাড়ি এলাকায় একটি সামরিক যান সড়ক থেকে ছিটকে গভীর গিরিখাতে পড়ে যায়। নিহত ও আহত সবাই ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য।

    স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সেনারা একটি অভিযানের অংশ হিসেবে বুলেটপ্রুফ ক্যাসপির গাড়িতে করে দোদা জেলার দিকে যাচ্ছিলেন। ভাদেরওয়া-চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের খান্নি এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

    দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আহত সেনাদের দ্রুত বিমানে করে নিকটবর্তী সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মিরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহত সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  • খামেনিকে আঘাত মানেই ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ—কঠোর হুঁশিয়ারি পেজেশকিয়ানের

    খামেনিকে আঘাত মানেই ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ—কঠোর হুঁশিয়ারি পেজেশকিয়ানের

    এবিএনএ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অস্তিত্বের ওপর আঘাতের শামিল।

    রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ নেতার ওপর আক্রমণ মানেই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণা।” একই পোস্টে তিনি ইরানের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেন।

    এর আগে তেহরানে আয়োজিত এক সমাবেশে আয়াতুল্লাহ খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানি জাতিকে ‘ধ্বংসকারী ও হত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে উসকানি দিয়েছেন এবং পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছে।

    খামেনির দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোর কারণে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটিকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।

    একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান প্রসঙ্গে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন এবং খামেনির নেতৃত্বের অবসান হওয়া উচিত।

    উল্লেখ্য, গত মাসের শেষদিকে ইরানে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানি এবং গোয়েন্দা সহায়তায় দাঙ্গাকারীরা বিভিন্ন শহরে নাশকতা চালায়। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং সরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

  • মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের স্বপ্ন আপাতত থমকে গেছে। সময়সীমা নির্ধারণ না করায় এই অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

    তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক প্রবাসী বাংলাদেশি (নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি) জানান, বৈধভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও নতুন সিদ্ধান্ত মানসিক চাপ তৈরি করেছে। তার মতে, অতীতে কিছু বাংলাদেশির অবৈধ আশ্রয় আবেদন ও সরকারি সুবিধার অপব্যবহার এখন সবার জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী ও নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের পরিবারভিত্তিক স্পন্সরশিপ প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন অসুস্থ বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় যেসব অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—তাদের অভিবাসন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকবে।

    এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের ওপরও। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশাপাশি স্পন্সরদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও কঠোর যাচাই শুরু হবে।

    তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—যেমন পর্যটন, ব্যবসা ও শিক্ষাভিসা—এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন—দুই ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

  • ইরানে বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কী? সরকারের নীরবতায় ছড়াচ্ছে ভয়াবহ ‘প্রোপাগান্ডা’

    ইরানে বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কী? সরকারের নীরবতায় ছড়াচ্ছে ভয়াবহ ‘প্রোপাগান্ডা’

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিক্ষোভে প্রকৃত কতজন নিহত হয়েছেন—এ বিষয়ে ইরান সরকারের নীরবতা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    সরকারিভাবে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ধরনের দাবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে এবং সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইরানে চলমান সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি সরকারি কর্মকর্তার বরাত দেওয়া হলেও, তার পরিচয় বা পদবি উল্লেখ না থাকায় তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম একই সূত্রে খবরটি প্রচার শুরু করে। ফলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে আলোচনা আরও তীব্র হয়।

    এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ আরও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে ধরে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাতেই অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। পোর্টালটি দাবি করেছে, নিরাপত্তা সংস্থা, হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের পরিবারের বক্তব্য বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।

    এর আগে মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’ এক প্রতিবেদনে জানায়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইরানি চিকিৎসক দাবি করেছেন—এক রাতেই তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরান সরকার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, বিক্ষোভকারীরা ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ করেছে। তার দাবি, কোনো প্রকৃত ইরানি নাগরিক কখনও মসজিদে হামলা চালাতে পারে না।

    ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ইসফাহান প্রদেশেই ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন প্রাদেশিক গভর্নর আলী আহমাদি।

    তিনি আরও জানান, সশস্ত্র দাঙ্গায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুও নিহত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহানের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি মসজিদে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    এছাড়া পার্শ্ববর্তী ফার্স প্রদেশে দাঙ্গায় অন্তত ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহীদ ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা। পুলিশ স্পেশাল ইউনিট কমান্ডার জেনারেল মাসুদ মোদাক্কও জানিয়েছেন, সংঘর্ষে তার ইউনিটের আটজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারি নীরবতা ও বিপরীতমুখী আন্তর্জাতিক দাবির কারণে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যযুদ্ধ ও প্রোপাগান্ডার অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে।

  • কলকাতা থেকে গোপন বাসায় ফেরানো হলো ওবায়দুল কাদেরকে—কেমন আছে তাঁর শারীরিক অবস্থা?

    কলকাতা থেকে গোপন বাসায় ফেরানো হলো ওবায়দুল কাদেরকে—কেমন আছে তাঁর শারীরিক অবস্থা?

    এবিএনএ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন তথ্য জানা গেছে। বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভোগা এই রাজনৈতিক নেতাকে সম্প্রতি কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বর্তমানে তিনি হাসপাতালে নেই।

    সোমবার দুপুরে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে কলকাতার নিউটাউনের একটি গোপন বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, হাসপাতালে থাকার সময় তিনি স্বস্তিবোধ করছিলেন না। সে কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে বাসায় রেখেই চিকিৎসা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কাদেরকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল। কয়েকদিনের চিকিৎসায় শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে সোমবার তাকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    জানা গেছে, নিউটাউনের বাসায় থাকাকালীনও তাকে নিয়মিত অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে বাসায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে থাকার দাবি করেছিলেন ওবায়দুল কাদের। পরবর্তীতে একই বছরের নভেম্বরে তিনি ভারতে চলে যান বলে এক সাক্ষাৎকারে জানান।

  • খরা কাটাতে তেলের বিনিময়ে পানি কিনছে ইরাক, দজলা–ফোরাত সংকটে নতুন চুক্তি

    খরা কাটাতে তেলের বিনিময়ে পানি কিনছে ইরাক, দজলা–ফোরাত সংকটে নতুন চুক্তি

    এবিএনএ: দজলা ও ফোরাত—এই দুই ঐতিহাসিক নদীর দেশ ইরাক বর্তমানে নজিরবিহীন পানি সংকটে পড়েছে। উজানে বাঁধ নির্মাণ, কম বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তুরস্কের সঙ্গে ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ সহযোগিতা চুক্তিতে গেছে ইরাক।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৩ সালের পর এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ শুষ্ক সময় পার করছে দেশটি। দজলা ও ফোরাত নদীর পানির স্তর আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক ও সিরিয়ার উজানে নির্মিত বাঁধ, যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতা সংকটকে আরও গভীর করেছে।

    ইরাকের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষি খাত ব্যাপকভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল। অথচ দেশের মোট পানির ৮০ শতাংশের বেশি কৃষিতে ব্যবহৃত হলেও সরবরাহ ক্রমেই কমছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় স্বস্তি মিললেও বড় বাঁধগুলোর পানির ঘাটতি পূরণ হয়নি।

    গত নভেম্বরে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরাকে পানি শোধন ও সংরক্ষণের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করবে। এর বিপরীতে ইরাক প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সেই অর্থে প্রকল্পের ব্যয় পরিশোধ করবে। সরকার এটিকে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেখলেও নীতিনির্ধারক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পানি মৌলিক মানবাধিকার—একে তেলের মতো বাণিজ্যিক পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে পানি সংকট ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, খরা ও পরিবেশগত দুর্যোগে দেড় লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানির অভাবে বহু কৃষক পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ দোকানে কাজ করছেন, কেউ ট্যাক্সি চালাচ্ছেন। তবু অনেকের আশা, এই চুক্তি হয়তো আবার মাঠে পানি ফেরাবে।