Tag: আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • আঙ্কারার আকাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ব্যক্তিগত জেট বিধ্বস্ত হয়ে নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান

    আঙ্কারার আকাশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ব্যক্তিগত জেট বিধ্বস্ত হয়ে নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান

    এবিএনএ: তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর বহনকারী ব্যক্তিগত জেটটি বিধ্বস্ত হয়।

    দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন লিবিয়ার চারজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা ও তিনজন ক্রু সদস্য।

    আলজাজিরাকে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি। তাঁদের মতে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

    দুর্ঘটনায় নিহত অন্য সামরিক কর্মকর্তারা হলেন—লিবিয়ার স্থলবাহিনীর প্রধান জেনারেল আল-ফিতৌরি ঘারিবিব, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আল-কাতাউই, চিফ অব স্টাফের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাবি ডায়াব এবং কার্যালয়ের সামরিক আলোকচিত্রী মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

    লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবিবাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আল-হাদ্দাদ ও তাঁর প্রতিনিধি দল সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    প্রধানমন্ত্রী দবিবাহ বলেন, এই দুর্ঘটনা লিবিয়ার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশ এমন কিছু নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিকে হারাল, যাঁরা সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবা করে গেছেন।

    উল্লেখ্য, পশ্চিম লিবিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হিসেবে আল-হাদ্দাদ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিভক্ত লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হতো।

  • বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা ট্রাম্পের, ভিডিও সম্পাদনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক

    বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা ট্রাম্পের, ভিডিও সম্পাদনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার একটি ভাষণের সম্পাদিত ভিডিও প্রচার করে বিবিসি এমন ধারণা তৈরি করেছে, যেন তিনি সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে সহিংস হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    মামলায় ট্রাম্প দুটি অভিযোগ এনেছেন এবং প্রতিটির জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তার দাবি, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ভাষণের বিভিন্ন অংশ কৌশলগতভাবে জোড়া লাগিয়ে বিবিসি তার বক্তব্যকে বিকৃত করেছে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, এক অংশে ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটলের দিকে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন এবং অন্য অংশে ‘ফাইট লাইক হেল’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন। তবে যে অংশে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেটি ভিডিও থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    বিবিসি এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং স্বীকার করেছে যে, সম্পাদনার সিদ্ধান্তের কারণে দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে সংস্থাটির দাবি, এই মামলার কোনো শক্ত আইনি ভিত্তি নেই।

    রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিবিসি যুক্তরাজ্যে টিভি লাইসেন্স ফি থেকে অর্থ পায়। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে।

    নিজেদের ১০৩ বছরের ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকটের মুখে পড়ে বিবিসি জানিয়েছে, বিতর্কিত ওই তথ্যচিত্র আর কোনো প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করা হবে না। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ‘প্যানোরামা’ অনুষ্ঠানে ক্লিপটি প্রচারিত হয়, যার জেরে সংস্থাটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।

    ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, এই সম্প্রচারের ফলে তার সুনাম ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি একটি অভ্যন্তরীণ মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মেমো ফাঁস হওয়ার পর তথ্যচিত্রটির সম্পাদনা নিয়ে সমালোচনা আরও জোরদার হয়।

    এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা হয়েছে, কারণ ব্রিটেনে মানহানি মামলার সময়সীমা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে মার্কিন আইনে মামলায় সফল হতে হলে ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে যে, বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে বা বেপরোয়াভাবে দর্শকদের বিভ্রান্ত করেছে।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিবিসি যুক্তি দিতে পারে যে, তথ্যচিত্রটির সামগ্রিক উপস্থাপনা সত্যনিষ্ঠ ছিল এবং এতে ট্রাম্পের সুনামের ক্ষতি হয়নি।

    এর আগে সিবিএস ও এবিসিসহ একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্প সমঝোতায় পৌঁছান। তিনি নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং আইওয়ার একটি পত্রিকার বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছেন, যদিও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

  • সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    এবিএনএ: সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় পরিচালিত কাদুগলি লজিস্টিক বেসে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার শহীদ ও আহতদের পরিচয়সহ সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি জানিয়েছে।

    আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলা চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা (রাজবাড়ী), সৈনিক শান্ত মন্ডল (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা), সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), সৈনিক উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), সৈনিক চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।

    আইএসপিআর জানায়, আহত আটজনের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত।

    এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে, শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকারের গৌরবোজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

  • ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় নামার ঘোষণা পিটিআইয়ের—ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞায় তুমুল ক্ষোভ

    ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাস্তায় নামার ঘোষণা পিটিআইয়ের—ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞায় তুমুল ক্ষোভ

    এবিএনএ: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে নতুন করে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট চত্বর এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে দুই দফা কর্মসূচি পালন করবে তারা।

    এরই মধ্যে দুই এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই; আদালত হোক বা কারাগার এলাকা—সবখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার জানিয়েছেন, বিরোধী সংসদ সদস্যরা প্রথমে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। পরে তাঁরা আদিয়ালা কারাগারের সামনে গিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেবেন।

    তিনি আরও দাবি করেন, সংসদীয় কমিটি ইতোমধ্যে ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তাঁর পরিবারকে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে তারা মন্তব্য করেছে।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। যদিও সরকার ও পিটিআই উভয় পক্ষই জানাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।

    এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ইমরানের বোনদের কারাগারে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় পিটিআই নেতারা রাতেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, আর জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

  • রাতভর ভয়াবহ রুশ হামলায় থমকে ইউক্রেন, বিদ্যুৎহীন লাখো পরিবার

    রাতভর ভয়াবহ রুশ হামলায় থমকে ইউক্রেন, বিদ্যুৎহীন লাখো পরিবার

    এবিএনএ: ইউক্রেনে রাতভর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। হামলার মাত্রা এতটাই ব্যাপক ছিল যে, বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস হয়ে প্রায় ছয় লাখেরও বেশি পরিবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও সেই সময়ই রাশিয়ার এই নতুন হামলা সংঘটিত হয়। হামলার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, “যখন সবাই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে, ঠিক তখনই রাশিয়া হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।”

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় রাশিয়া অন্তত ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে টার্গেট করছে।

    ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্রিডলাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। ফলে শহরের বিদ্যুৎব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার বর্তমানে দিনে মাত্র আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে।

    এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    এবিএনএ: লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক হামলা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও থামেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। সংস্থাটির মতে, গত এক বছরে এসব হামলায় অন্তত ১২৭ জন নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র থামিন আল-খাতিন বলেন, “যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুধু বেসামরিক মানুষই নয়, লেবাননের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।”

    তিনি আরও জানান, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া ১২৭ জন নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। অনেক ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। সংস্থাটি এই হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করে এবং যুদ্ধবিরতি রক্ষা করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি কঠোর আহ্বান জানায়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা থেমে নেই। এ ধরনের হামলা শুধু সংঘাত বৃদ্ধি করবে না, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।

  • ট্রাম্পের হুমকি ‘অনিবার্য’ হলেও পিছিয়ে যাব না: নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি

    ট্রাম্পের হুমকি ‘অনিবার্য’ হলেও পিছিয়ে যাব না: নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি

    এবিএনএ: নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নগরী থেকে সাশ্রয়ী মূল্যের শহরে রূপান্তর করাই তার প্রধান লক্ষ্য। বুধবার এবিসি নিউজকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বিজয় জনগণের কাছ থেকে পাওয়া এক “স্পষ্ট ম্যান্ডেট”—যা নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বহন করছে।

    মামদানি জানান, “উচ্চাকাঙ্ক্ষী সাশ্রয়ী নীতি” বাস্তবায়নে তিনি কর বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প দেখছেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সাধারণ নাগরিকদের নয়, নিউ ইয়র্কের শীর্ষ এক শতাংশ ধনী শ্রেণির ওপর বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনা তার।

    প্রতি বছর এক মিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের ব্যক্তিদের জন্য দুই শতাংশ অতিরিক্ত কর এবং কর্পোরেট কর ১১.৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন তিনি। এতে বছরে প্রায় নয় বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হবে বলে ধারণা তার।

    ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের শহর ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, “শিশু যত্ন ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই কর্মীদের শহর ছাড়তে বাধ্য করছে। কর বৃদ্ধি নয়, বরং মানবিক জীবনযাত্রাই প্রতিভা ধরে রাখার উপায়।”

    নির্বাচনের আগে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, মামদানি জিতলে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মামদানি বলেন, “যদি প্রেসিডেন্ট শহরের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেন, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের হুমকি ‘অনিবার্য’, কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”

    নিউ ইয়র্কের নাগরিকরা আশা করছেন, মামদানির নেতৃত্বে শহরটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করবে—যেখানে সমতা, সুযোগ এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা অগ্রাধিকার পাবে।

  • ইরাক আগ্রাসনের নেপথ্যের স্থপতি ডিক চেনি আর নেই

    ইরাক আগ্রাসনের নেপথ্যের স্থপতি ডিক চেনি আর নেই

    এবিএনএ: ইরাক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি আর নেই। দীর্ঘদিন নিউমোনিয়া ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগে সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চেনি দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যা ও ফুসফুসজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

    ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডিক চেনি। তার আগে, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জর্জ বুশ সিনিয়রের অধীনে প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

    রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে চেনি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া, তিনি দীর্ঘ সময় হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    নাইন-ইলেভেন হামলার পর চেনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অন্যতম নকশাকার। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের পেছনেও ছিল তাঁর দৃঢ় সমর্থন ও কৌশলগত ভূমিকা।

    ডিক চেনির মৃত্যুতে মার্কিন রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটল। বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর বিতর্কিত কিন্তু প্রভাবশালী ভূমিকা আজও আলোচিত।

  • ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, ট্রাম্প সেই গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “আমরা দেশের মাদক সন্ত্রাস বন্ধ করতে মার্কিন শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।”

    গত সপ্তাহে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক নিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    তবে ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, “না, আমরা কোনো সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না,”— এমন উত্তরই দেন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, যখন তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে যাত্রা করছিলেন।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য এটি বড় হুমকি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “মিয়ামি হেরাল্ডে প্রকাশিত তথাকথিত সূত্রভিত্তিক সংবাদ সম্পূর্ণ ভুয়া।”

    এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়া দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত।”

  • ইসরায়েল ফেরত দিল আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ, মোট সংখ্যা এখন ৯০

    ইসরায়েল ফেরত দিল আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ, মোট সংখ্যা এখন ৯০

    এবিএনএ:  দখলদার ইসরায়েল গাজায় আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত মোট ৯০ জনের মরদেহ ফিলিস্তিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই মরদেহ বিনিময় সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলকে ফেরত দেওয়া প্রতিজন নাগরিকের মরদেহের বিনিময়ে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করতে হবে।

    এর আগে সোমবার হামাস তিনজন ইসরায়েলি নাগরিক এবং একজন নেপালির মরদেহ হস্তান্তর করে। পরদিন মঙ্গলবার আরও তিনজন ইসরায়েলি ও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ফেরত দেয়।

    এই মরদেহ বিনিময় প্রক্রিয়াকে চলমান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজার মানবিক সংকটের মধ্যে এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।