Tag: আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট পালানোর পর সেনা অভ্যুত্থান, দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা

    মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট পালানোর পর সেনা অভ্যুত্থান, দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা

    এবিএনএ:  দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাপক জনবিক্ষোভের পর মাদাগাস্কারে ক্ষমতা দখল করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর সোমবার রাতে সেনারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে সরকারের পতনের দাবি তীব্র আকার ধারণ করেছিল। বিদ্যুৎ ও পানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামে হাজারো মানুষ। তাদের দাবি ছিল, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রির পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচনের ঘোষণা।

    গত শনিবার সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর একটি অংশ হঠাৎ করেই ব্যারাক থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়। এরপর সোমবার জানা যায়, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি ফ্রান্সগামী একটি সামরিক বিমানে করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের দেশত্যাগের খবর নিশ্চিত করে জানান, ‘জীবন রক্ষার স্বার্থে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছি।’

    এদিকে, তার অনুপস্থিতিতে মাদাগাস্কারের সংসদ সদস্যরা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে আন্দ্রি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও এমপিরা সেটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়ে অভিশংসন প্রস্তাব পাস করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা দেয়—তারা দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।

    সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর দুই বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
    উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে একই সেনা ইউনিটই প্রেসিডেন্ট আন্দ্রিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। এবার সেই একই ইউনিট তার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়ে ক্ষমতা দখল করল।

  • যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ফেরা শুরু: সেনা প্রত্যাহারে নতুন আশার আলো

    যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ফেরা শুরু: সেনা প্রত্যাহারে নতুন আশার আলো

    এবিএনএ: গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অবরুদ্ধ উপত্যকার কিছু এলাকায় সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকেই হাজারো ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপে পরিণত নিজের ঘরে ফেরার পথে পা বাড়িয়েছেন।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক অভিযানের শিকার হয়েছিল গাজা সিটি। আজ যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই শহরের দিকে বিশাল জনস্রোত ফিরে যেতে দেখা গেছে।

    শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জায়েদা বলেন, “আল্লাহকে ধন্যবাদ, আমার ঘরটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। তবে চারপাশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিবেশীদের ঘরবাড়ি নেই, পুরো এলাকা এক টুকরো ধ্বংসস্তূপ।”

    ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। এর আগে ভোরে ইসরায়েলি সরকার হামাসের সঙ্গে এই চুক্তি অনুমোদন দেয়। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আংশিক সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শুরু হয়।

    চুক্তি অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল কারাগার থেকে ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন আটক থাকা আরও ১৭০০ জনকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    যুদ্ধবিরতির পর গাজায় শত শত ট্রাকে করে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাচ্ছে। ঘরবাড়িহারা লাখো মানুষের জন্য এই সহায়তা এখন বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে গাজা সিটির বহু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনো উপত্যকার প্রায় অর্ধেক অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে বলেন, “ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা হবে এবং হামাসকে অস্ত্র ত্যাগে বাধ্য করা হবে। সহজ পথে না হলে কঠিন পথেই এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।”

    খান ইউনিস ও নুসিরাত ক্যাম্পের আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকেও ইসরায়েলি সেনা পিছু হটছে। তবে কিছু স্থানে এখনও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

    ৪০ বছর বয়সী মাহদি সাকলা বলেন, “আমরা শুনেছি যুদ্ধবিরতি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই গাজা সিটিতে ফিরতে প্রস্তুত হয়েছি। যদিও ঘর নেই, শুধু ধ্বংসস্তূপ, তবুও সেটাই আমাদের ঘর।”

    হামাসের নেতা খলিল আল-হায়া জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

    এই যুদ্ধের কারণে ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যুদ্ধ শেষ হলে গাজার শাসনভার কার হাতে যাবে, আর ইসরায়েলি বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ দাবি হামাস মানবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

  • নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ। এবছর নোবেল কমিটি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল প্রদান করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি উদ্যোগে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে আসছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে তার প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশাসন বেশ প্রচারণাও চালিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটির মন গলাতে পারেননি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে এবং বিশ্বে শান্তি আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মানবিকতা ও ইচ্ছাশক্তি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। কিন্তু নোবেল কমিটি রাজনীতিকে শান্তির চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”

    নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছে, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকার জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছে, মাচাদো বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতীক।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেন, ট্রাম্পের মতো নেতাই আসল শান্তির দূত। সম্প্রতি গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ভূমিকা রাখার দাবি করে ট্রাম্প নিজেকে শান্তির নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

    যদিও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলেননি, তবে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গাজা চুক্তি উদযাপনের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

    অতীতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার নেতৃত্বেই বিশ্বের আটটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে। তার ভাষায়, “নোবেল পুরস্কার আমার প্রাপ্য, কিন্তু তারা সেটি আমাকে দেবে না। তারা সবসময় এমন কাউকে পুরস্কৃত করে, যে আসলে কিছুই করেনি।”

    নোবেলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারি। ট্রাম্প জানুয়ারি মাসেই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন।

  • ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    এবিএনএ:  গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন খ্যাতনামা পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।

    বন্দিশিবিরে থুনবার্গকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া, জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো এবং শরীরে পতাকা জড়িয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছেন একাধিক মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মী।

    শনিবার (৪ অক্টোবর) ১৩৭ জন কর্মীকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠায় ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৩৬ জন তুরস্কের নাগরিক এবং বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মালয়েশিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, সুইজারল্যান্ড, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী।

    তুরস্কের সাংবাদিক এরসিন চেলিক জানান, “আমি নিজ চোখে দেখেছি—গ্রেটাকে জোর করে পতাকায় চুমু খাওয়ানো হচ্ছে, যেন তাকে অপমানের প্রতীক বানানো হয়।”

    মালয়েশীয় মানবাধিকার কর্মী হাজওয়ানি হেলমি বলেন, “আমাদের পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে, ঠেলে সরানো হয়েছে, কেউ কেউ তিনদিন না খেয়ে ছিলেন।”

    একই অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার—তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের খাবার, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

    ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন, “২২ বছরের সাহসী তরুণী গ্রেটাকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়—এ যেন এক ভয়ানক অবমাননা।”

    আরেক তুর্কি কর্মী ইকবাল গুরপিনার জানান, “তিন দিন আমাদের না খাইয়ে রাখা হয়েছিল, এমনকি টয়লেটের পানি খেতে বাধ্য করা হয়।”

    ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ জানায়, আটক কর্মীদের হাত পেছনে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, ওষুধ দেওয়া হয়নি, এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হয়।

    তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, দাবি করেছে আটককৃতদের যথাযথ খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা হলো গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ। ৪০টিরও বেশি নৌযানে ৪৪ দেশের ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
    এই বহরটি ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে তিউনিসিয়া, ইতালি ও গ্রিসের বিভিন্ন বন্দরে যোগ দেয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি প্রমাণ যুক্ত হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

  • দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনা গাড়িবহরে ভয়াবহ হামলা: পাকিস্তানি সেনাসহ নিহত ২৫

    দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনা গাড়িবহরে ভয়াবহ হামলা: পাকিস্তানি সেনাসহ নিহত ২৫

    এবিএনএ:  পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে আফগান সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১২ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। পাল্টাপাল্টি গোলাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৩ জঙ্গি। শনিবার ভোরে বদর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জঙ্গিদের আকস্মিক গুলিতে সেনাদের গাড়িবহর আক্রান্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা অভিযানে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়, যা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। এসময় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।

    তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা সেনাদের কাছ থেকে ড্রোনসহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র দখল করেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর আহত সেনাদের উদ্ধারে এবং জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে আকাশে একাধিক সামরিক হেলিকপ্টার টহল চালিয়েছে।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ভারত-সমর্থিত তেহরিক-ই-তালেবান এ হামলায় জড়িত। সেনাদের মিডিয়া শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, বাজাউর এলাকায় পরিচালিত এক গোয়েন্দা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ২২ জন ‘ভারতীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে।

    সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ। তারা সীমান্ত এলাকায় বহু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল।

    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে টিটিপিকে ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে। ওয়াজিরিস্তানের সর্বশেষ হামলা আবারও দেশটির সীমান্ত অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রকোপ স্পষ্ট করেছে।

  • ইউক্রেনের সরকারি ভবনে রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলা, নিহত নবজাতকসহ দুইজন

    ইউক্রেনের সরকারি ভবনে রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলা, নিহত নবজাতকসহ দুইজন

    এবিএনএ: ইউক্রেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী কিয়েভের প্রধান সরকারি ভবনে সরাসরি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

    ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই রাশিয়া অন্তত ৮০৫টি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৭৫১টি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও বাকি অংশ লক্ষ্যভেদ করে। হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক ভবন আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। এতে এক নবজাতকসহ দুইজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, ইউক্রেন থেকে ছোঁড়া ৬৯টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে ২১টি, ভোরোনেজে ১৩টি এবং বেলগোরোদ অঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

    এই হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “৮০০’র বেশি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমাদের দেশকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে প্যারিস চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের।” তিনি মিত্র দেশগুলোকে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

    সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে কিয়েভে এমন হামলা সচরাচর ঘটে না। তবে এবার হামলার মাত্রা ছিল ভয়াবহ।

    এদিকে জেলেনস্কির জন্মস্থান ক্রিভি রিহ শহরের তিনটি অবকাঠামোতেও আঘাত হানে রাশিয়া। যুদ্ধবিরতির পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা শক্তিকে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী না পাঠানোর সতর্কবার্তা দেওয়ার পরপরই এ হামলা চালানো হয়।

  • চার দিন পর জামিনে মুক্ত শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে

    চার দিন পর জামিনে মুক্ত শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে

    এবিএনএ:  রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের মামলায় গ্রেপ্তারের চার দিন পর জামিনে মুক্তি পেলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। মঙ্গলবার কলম্বোর ফোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিলুপুলি লঙ্কাপুরা ৫০ লাখ রুপি (প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার) বন্ডের শর্তে তাকে জামিন দেন।

    গত শুক্রবার কলম্বোর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও কিউবার হাভানায় জি-৭৭ সম্মেলন শেষে তিনি ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। সেই সফরে সরকারি তহবিল থেকে ৫৫ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়।

    আদালতে জামিন শুনানি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কড়া। বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয় যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে। এ সময় আদালতের বাইরে কয়েকশ’ সমর্থক বিক্রমাসিংহের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী তাদের সরিয়ে দেয়।

    গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং গ্রেপ্তারের সময় তীব্র পানিশূন্যতায় আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

    মঙ্গলবার জামিন শুনানিতে তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে অংশ নেন। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে।

  • আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    এবিএনএ:  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত শুক্রবার আলাস্কার একটি হোটেলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি শর্ত দেন— ইউক্রেন যদি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়, তবে সম্মুখসারির যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন ট্রাম্পকে জানান, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক রাশিয়ার হাতে গেলে তিনি দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আর অগ্রসর হবেন না। বর্তমানে এই দুই অঞ্চলের বড় অংশ রুশ সেনাদের দখলে রয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররাও বলেছেন, বলপ্রয়োগে সীমান্ত পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।

    এদিকে বৈঠককে ঘিরে এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর জানিয়েছে, আলাস্কার ক্যাপ্টেন কুক নামের চার তারকা হোটেলের প্রিন্টারে পাওয়া গেছে বৈঠক সংক্রান্ত আট পৃষ্ঠার গোপন নথি। এতে ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার স্থান, সময় এবং মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ ছিল। অতিথিদের হাতে পাওয়া এই নথির ছবি এনপিআর যাচাই করেছে।

    এই নথি ফাঁসের ঘটনা বৈঠককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে পুতিনের এই শর্ত শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ভূরাজনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টির কৌশল।

  • পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা: ইউক্রেন নয়, লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা

    এবিএনএ:  প্রায় চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আলাস্কায়। আজ স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় অ্যাঙ্কারেজের এলমেনডর্ফ–রিচার্ডসন যৌথ বিমানঘাঁটিতে বসবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প বিকেলের বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ওয়াশিংটনে ফিরবেন। বৈঠকের আগে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি নিয়ে আসছেন না, বরং উদ্দেশ্য পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসানো। তাঁর মতে, ইউক্রেন ইস্যুতে নেতৃত্ব দেবে ইউরোপ, এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং বহু মানুষের জীবন রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে সতর্ক করে দেন—পুতিন যদি যুদ্ধ থামাতে রাজি না হন, তবে রাশিয়াকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

    আলাস্কায় যাওয়ার পথে ট্রাম্প জানান, পুতিন সঙ্গে রুশ ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি তিনি ইতিবাচক মনে করছেন। তবে যুদ্ধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া স্বাভাবিক বাণিজ্য সুবিধা পাবে না। আলোচনায় অগ্রগতি হলে বাণিজ্যের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, বৈঠকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান উপস্থাপন করবে, তবে ফলাফল নিয়ে আগে থেকে কিছু বলবেন না। পুতিন ইতোমধ্যে আলাস্কায় পৌঁছেছেন, এর আগে তিনি রাশিয়ার মাগাদান শহরে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও একটি শিল্প কারখানা পরিদর্শন করেছেন।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বৈঠক শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া–ইউক্রেন ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখছি।”

  • সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, জানাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার, জানাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    এবিএনএ:  সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা অভিযানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ৩১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে মোট ২২ হাজার ৭২ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি দেশব্যাপী পরিচালিত বৃহত্তর নিরাপত্তা অভিযানের অংশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩৩ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক হয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৪ হাজার ৬২৪ জন এবং শ্রম আইন অমান্যের জন্য ৩ হাজার ৬১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যারা দেশের আইন ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।