মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের স্বপ্ন আপাতত থমকে গেছে। সময়সীমা নির্ধারণ না করায় এই অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক প্রবাসী বাংলাদেশি (নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি) জানান, বৈধভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও নতুন সিদ্ধান্ত মানসিক চাপ তৈরি করেছে। তার মতে, অতীতে কিছু বাংলাদেশির অবৈধ আশ্রয় আবেদন ও সরকারি সুবিধার অপব্যবহার এখন সবার জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী ও নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের পরিবারভিত্তিক স্পন্সরশিপ প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন অসুস্থ বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় যেসব অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—তাদের অভিবাসন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের ওপরও। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশাপাশি স্পন্সরদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও কঠোর যাচাই শুরু হবে।

তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—যেমন পর্যটন, ব্যবসা ও শিক্ষাভিসা—এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন—দুই ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *