Tag: প্রবাসী বাংলাদেশি

  • লস অ্যাঞ্জেলেসে হানিফ সংকেতকে ঘিরে উচ্ছ্বাস: স্বাধীনতা পদক ২০২৬ উদ্‌যাপন

    লস অ্যাঞ্জেলেসে হানিফ সংকেতকে ঘিরে উচ্ছ্বাস: স্বাধীনতা পদক ২০২৬ উদ্‌যাপন

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করা হয়েছে টেলিভিশনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নির্মাতা হানিফ সংকেতের ‘স্বাধীনতা পদক ২০২৬’ অর্জন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।

    শনিবার স্থানীয় সাইন্টোলজি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে শত শত প্রবাসী বাঙালি অংশ নিয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    আন্তর্জাতিক অতিথির প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক ড. উইলিয়াম ডি ফিংকেল। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

    হানিফ সংকেতের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে হানিফ সংকেত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার জনপ্রিয়তা তিনি মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সম্মাননা ও বিশেষ আয়োজন

    অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে হানিফ সংকেতকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তার অনুপস্থিতিতে সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতিনিধি।

    এ দিনের মূল আকর্ষণ ছিল ‘নানা-নাতি’ ধারার অনুকরণে নির্মিত বিশেষ মঞ্চনাটক ‘হলিউডে নানা নাতি’। প্রবাস জীবনের নানা বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত এই নাটক দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। অভিনয়শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

    সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর সন্ধ্যা

    অনুষ্ঠানের শুরুতে হানিফ সংকেতের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন প্রবাসী শিল্পীরা। দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হন।

    পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও সমন্বয়ে কাজ করেন প্রবাসী বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সংগঠকরা। উপস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও ছিল নজরকাড়া।

    প্রবাসীদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

    আয়োজকরা জানান, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়াকে প্রবাসে উদ্‌যাপন করা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। গতানুগতিক আয়োজনের বাইরে সৃজনশীল এই অনুষ্ঠান দর্শকদের কাছেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    প্রবাসে থেকেও দেশের সংস্কৃতি ও গর্বের মুহূর্তকে উদ্‌যাপনের মাধ্যমে এমন আয়োজন বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য ও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

  • মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের স্বপ্ন আপাতত থমকে গেছে। সময়সীমা নির্ধারণ না করায় এই অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

    তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক প্রবাসী বাংলাদেশি (নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি) জানান, বৈধভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও নতুন সিদ্ধান্ত মানসিক চাপ তৈরি করেছে। তার মতে, অতীতে কিছু বাংলাদেশির অবৈধ আশ্রয় আবেদন ও সরকারি সুবিধার অপব্যবহার এখন সবার জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী ও নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের পরিবারভিত্তিক স্পন্সরশিপ প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন অসুস্থ বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় যেসব অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—তাদের অভিবাসন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকবে।

    এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের ওপরও। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশাপাশি স্পন্সরদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও কঠোর যাচাই শুরু হবে।

    তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—যেমন পর্যটন, ব্যবসা ও শিক্ষাভিসা—এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন—দুই ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

  • ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    এবিএনএ:  জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “মানুষ তার বাসস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সম্মান দিতে চাই, সেই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকেও সম্মান আশা করি।”

    স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় দেশ। তাদের ভূখণ্ড, জনসংখ্যা ও সম্পদ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা সেই বাস্তবতা মেনে চলি এবং তাদের অবস্থান অনুযায়ী সম্মান জানাতে চাই। তবে আমাদের ১৮ কোটি মানুষের একটি ছোট ভূখণ্ডকেও ভারতের উচিত সম্মানের সঙ্গে দেখা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকলে দুই দেশই উপকৃত হবে এবং একে অপরের কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানিত হবে।”

    ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “গত ১৫ মাসে আমাদের অবস্থান ও কার্যক্রমই তার প্রমাণ। আমরা জোরপূর্বক কিছু সমর্থন করি না এবং কাউকে দেশ ছাড়তেও বাধ্য করতে চাই না। কেউ যদি অবৈধভাবে কারও সম্পত্তি দখল করে থাকে এবং তার প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষেই আমরা আছি।”

    সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোনো মার্কিন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, “এই প্রশ্নটি বৃহত্তর স্বার্থে আপাতত এড়িয়ে যাচ্ছি।”

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ: কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    এবিএনএ:  মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

    মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সভায় তিনি প্রবাসীদের অর্থনীতিতে অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “আপনাদের শ্রম ও রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সমস্যাগুলো শুনেছি এবং সমাধানে কাজ করছি।”

    পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা প্রবাসীদের হাতে পৌঁছে দিতে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকতে পারেন।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করছি, এ নির্বাচনে আপনাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।”

    সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, দূতাবাসে জনবল বৃদ্ধি, গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা, অনিয়মিত প্রবাসীদের নিয়মিতকরণ এবং বাণিজ্য-শিল্প ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রবাসীরা অংশ নেন এবং সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।