Tag: অভিবাসন নীতি

  • অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উত্তাল রাজপথ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

    অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উত্তাল রাজপথ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। মঙ্গলবার দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অভিবাসনপন্থি সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে তার অভিবাসন দমননীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে এক মার্কিন নারীকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামানো এবং ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়াও নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলের মতো ছোট শহরগুলোতেও শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘নো আইসিই, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের বিষয়ে তারা ভোটারদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট সমর্থন পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক।

    ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ‘নো হেইট, নো ফিয়ার, রিফিউজিস আর ওয়েলকাম হিয়ার’ স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফেতে হাই স্কুল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘স্টপ আইসিই টেরর’ সমাবেশে অংশ নেন।

    ইন্ডিভিজিবল, ৫০৫০১সহ বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও তৃণমূল আন্দোলনকারীরা এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। টেক্সাসের এল পাসোর একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রে ছয় সপ্তাহে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এই বিক্ষোভ এখন সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলের মতো পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

  • মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের স্বপ্ন আপাতত থমকে গেছে। সময়সীমা নির্ধারণ না করায় এই অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

    তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক প্রবাসী বাংলাদেশি (নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি) জানান, বৈধভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও নতুন সিদ্ধান্ত মানসিক চাপ তৈরি করেছে। তার মতে, অতীতে কিছু বাংলাদেশির অবৈধ আশ্রয় আবেদন ও সরকারি সুবিধার অপব্যবহার এখন সবার জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী ও নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের পরিবারভিত্তিক স্পন্সরশিপ প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন অসুস্থ বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় যেসব অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—তাদের অভিবাসন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকবে।

    এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের ওপরও। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশাপাশি স্পন্সরদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও কঠোর যাচাই শুরু হবে।

    তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—যেমন পর্যটন, ব্যবসা ও শিক্ষাভিসা—এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন—দুই ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

  • মানবিক সিদ্ধান্ত জার্মানির: পাকিস্তানে আটকে থাকা ৫৩৫ আফগান শরণার্থী পাচ্ছেন আশ্রয়

    মানবিক সিদ্ধান্ত জার্মানির: পাকিস্তানে আটকে থাকা ৫৩৫ আফগান শরণার্থী পাচ্ছেন আশ্রয়

    এবিএনএ: পাকিস্তানে আটকে থাকা ৫৩৫ জন আফগান শরণার্থীকে জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা এসব শরণার্থীর জন্য আশার আলো দেখলো মানবিক আশ্রয় প্রক্রিয়া।

    জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট স্থানীয় সময় ১৮ ডিসেম্বর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থায়ীভাবে ভর্তির অনুমোদন পাওয়া আফগান শরণার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব জার্মানিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই অধিকাংশ মামলার প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, এই শরণার্থীরা পূর্ববর্তী সরকারের একটি বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে কর্মসূচি স্থগিত থাকায় তারা পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

    এর আগে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রায় ৬৫০ জনকে জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে বসবাসের দাবি প্রত্যাহারের বিনিময়ে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যদিও অল্পসংখ্যক মানুষ এতে সম্মতি জানান।

    এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ২৫০টির বেশি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৮০০ আফগান নাগরিক এখনো পাকিস্তানে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন। এসব সংস্থা দ্রুত তাদের জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ:  ফিলিস্তিনের পাসপোর্টধারী নাগরিকসহ আরও সাতটি দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক যাচাই, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং তথ্য বিনিময়ে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় ও জননিরাপত্তা সুরক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এর আগেও গত নভেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। ওই তালিকায় আফগানিস্তান, মিয়ানমার, কিউবা, ইরান, হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    পরে ৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও সম্প্রসারণ করে অন্তত ৩২টি দেশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নতুন করে যুক্ত দেশগুলোর নাম তখন প্রকাশ করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং সাতটি দেশের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়, যা এখনো বহাল আছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১৫টি দেশের ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে নাইজেরিয়াও রয়েছে।

    ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর পর এসব সিদ্ধান্ত আরও কঠোর হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা ট্রাম্পের: তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

    অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা ট্রাম্পের: তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অভিবাসন নীতিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হতে পারে। শুধু তাই নয়, যারা এখনো মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেনি, তাদের জন্য ফেডারেল সুবিধা ও সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনাতেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তবে কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে বা কোন প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়িত হবে— সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। ট্রাম্পের পূর্বে করা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আদালত এবং কংগ্রেসে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।

    এর আগে হোয়াইট হাউসের নিকটবর্তী এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পরই অভিবাসন স্থগিতের বিষয়ে নতুন বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনবিসি জানায়, তাঁর পোস্টে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো কোনগুলো তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণ ধারণায় ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে দরিদ্র, অস্থিতিশীল ও কম মানব উন্নয়ন সূচকসম্পন্ন দেশগুলোকে বোঝানো হয়।

    ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, মানব উন্নয়ন সূচকে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ ও নাইজার। এ তালিকায় উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    হোয়াইট হাউসের ঘটনার পর আটক হয়েছেন একজন আফগান নাগরিক। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে বিশেষ সুবিধায় দেশে প্রবেশ করা আফগান নাগরিকদের অভিবাসন আবেদনও ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, “যারা আমাদের দেশের জন্য কল্যাণকর নয়, তাদের দেশ ছাড়তে হবে।”

    গ্রিন কার্ড পুনর্বিবেচনায় ১৯ দেশ
    বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের দেওয়া গ্রিন কার্ডগুলো পুনরায় কঠোরভাবে পর্যালোচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার প্রধান জোসেফ এডলো জানিয়েছেন, উদ্বেগজনক দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড যাচাই করতে প্রেসিডেন্ট বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

    অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, গত জুনে হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় যে দেশগুলোর নাম উল্লেখ ছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ।

  • হোয়াইট হাউসের পাশেই গুলিবর্ষণ, আফগান নাগরিক আটক—স্থগিত সব অভিবাসন প্রক্রিয়া!

    হোয়াইট হাউসের পাশেই গুলিবর্ষণ, আফগান নাগরিক আটক—স্থগিত সব অভিবাসন প্রক্রিয়া!

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কয়েক ব্লক দূরে ঘটে গেলো গুলির ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে ফ্যারাগাট ওয়েস্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে এক সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালালে ন্যাশনাল গার্ডের দু’জন সদস্য আহত হন। দ্রুতই ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীকে আটক করে। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে আফগান নাগরিক হিসেবে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছেন, আটক হামলাকারী রাহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকে আগত সব অভিবাসীর বসবাসের আবেদন পুনর্মূল্যায়ন করারও নির্দেশ দেন তিনি।

    ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে সব আফগান নাগরিকের অভিবাসন প্রক্রিয়া। যদিও হামলাকারীর অভিবাসন স্ট্যাটাস এখনো পরিষ্কার নয়, তবু তার নাম নিশ্চিত করা হয়েছে—রাহমানুল্লাহ লাখানওয়াল।

    ঘটনা ঘটার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডায় অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের অতিরিক্ত ৫০০ সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। আগে থেকেই ২ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন ছিল, যা নিয়ে বিতর্ক চলছিল।

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলি করার পর হামলাকারী নিজেও আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফ্যারাগাট ওয়েস্ট মেট্রো স্টেশন থেকে হোয়াইট হাউসের দূরত্ব মাত্র কয়েক ব্লক, যা ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    শহরের মেয়র একে ‘টার্গেটেড শুটিং’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি কোনো এলোমেলো হামলা নয়—বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী, বাড়ানো হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।

    ঘটনার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি চালুর ঘোষণা

    অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি চালুর ঘোষণা

    এবিএনএ: যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো বাধ্যতামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন। তার দাবি, এই পদক্ষেপ অবৈধ অভিবাসন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে কাজের সুযোগ বন্ধ করবে।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিজিটাল আইডিতে থাকবে নাগরিক বা বাসিন্দার নাম, জন্মতারিখ, ছবি, জাতীয়তা এবং বসবাসের বিস্তারিত তথ্য। এটি মূলত মোবাইলে সংরক্ষিত থাকবে, তবে চাকরিতে যোগদানের সময় ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়া কর রেকর্ড, শিশু ভাতা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সরকারি সেবাগুলো আরও সহজলভ্য হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, “ডিজিটাল আইডি যুক্তরাজ্যের জন্য এক বড় সুযোগ। এটি নাগরিকদের জীবন সহজ করবে এবং সীমান্তকে আরও নিরাপদ করবে।”

    তবে এই ঘোষণার পর থেকেই দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক একে “হতাশার নাটক” আখ্যা দিয়ে সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, নাগরিকরা প্রতিনিয়ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে বাধ্য হবে। আর রিফর্ম ইউকে পার্টির দাবি, এটি মোটেই অভিবাসন সমস্যার কার্যকর সমাধান নয়।

    জাতীয় আইডি কার্ড ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ জনগণের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং টনি ব্লেয়ারের আমলেও একই উদ্যোগ তীব্র বিরোধিতার মুখে ব্যর্থ হয়।

    যদিও এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জনগণের একটি বড় অংশ ডিজিটাল আইডির পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রায় পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অনলাইনে এক পিটিশনে এর বিরোধিতা করেছে।

    লেবার সরকারের আশা, জনমতের চাপ এবং অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে বাড়তে থাকা পপুলিস্ট রাজনীতির কারণে এইবার ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়নের পথ আগের চেয়ে সহজ হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটক কেন্দ্র

    যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটক কেন্দ্র

    এবিএনএ:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার টেক্সাসে একটি সামরিক ঘাঁটিতে গড়ে তোলা হবে দেশের সবচেয়ে বড় ফেডারেল অভিবাসী আটক কেন্দ্র।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোর্ট ব্লিস নামক সামরিক ঘাঁটিতে প্রাথমিকভাবে এক হাজার অভিবাসীকে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন নীতিরই অংশ।

    পেন্টাগনের দেওয়া তথ্যমতে, অভিবাসীদের আটক করার জন্য সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করার বিষয়টি এই প্রথম নয়, তবে এবার এটি আরও বৃহৎ আকারে বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে।

    ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন। সীমান্তে নজরদারি জোরদার হয়েছে, অনেকে তাদের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা হারিয়েছেন, এবং কিছু অভিবাসীকে গুয়ান্তানামো বে-তে স্থানান্তরও করা হয়েছে।

    তবে পরিকল্পনার তুলনায় বাস্তবে পাঠানো ব্যক্তির সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

    নতুন এই পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

  • লস অ্যাঞ্জেলেসকে ‘মুক্ত করার’ ঘোষণা ট্রাম্পের, কারফিউ-সহ উত্তাল শহরজুড়ে সংঘর্ষ

    লস অ্যাঞ্জেলেসকে ‘মুক্ত করার’ ঘোষণা ট্রাম্পের, কারফিউ-সহ উত্তাল শহরজুড়ে সংঘর্ষ

    এবিএনএ:

    যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরজুড়ে আবারও উত্তাল পরিস্থিতি। অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে গণবিক্ষোভ, গণগ্রেফতার ও কারফিউ জারি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ময়কর মন্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি ‘লস অ্যাঞ্জেলেসকে স্বাধীন’ করবেন।

    বিক্ষোভের পঞ্চম দিনেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। শহরের মেয়র কারেন বাস ডাউনটাউনের একটি অংশে রাতভর কারফিউ ঘোষণা করেছেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”

    এদিকে, ন্যাশনাল গার্ড এবং মেরিন সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ফেডারেল বাহিনী এখন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সহায়তায় কাজ করছে। সীমান্ত নিরাপত্তায় মোতায়েন এসব সেনাদের হাতে গ্রেফতারের ক্ষমতা না থাকলেও, তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র ফেডারেল স্থাপনা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “ট্রাম্প আবারও উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছেন, যা রাজ্যগুলোর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।”

    মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে কারফিউ কার্যকর হতেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এরপরও বহু বিক্ষোভকারী ডাউনটাউনে অবস্থান করে।

    ট্রাম্পের ভাষায়, “লস অ্যাঞ্জেলেস যেন বিদেশি শত্রুদের কবলে চলে গেছে। আমি এ শহরকে উদ্ধার করব।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তেজনা ছড়ানোর কৌশল।