Tag: ট্রাম্প প্রশাসন

  • ইরানে আগে আঘাত ইসরাইলের—তাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ? ট্রাম্প উপদেষ্টাদের কৌশল ফাঁস

    ইরানে আগে আঘাত ইসরাইলের—তাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ? ট্রাম্প উপদেষ্টাদের কৌশল ফাঁস

    এবিএনএ: ইরানকে লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইসরাইল যেন প্রথম আঘাত হানে—এমন কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ মহলে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-র বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি অংশ মনে করছে, ইসরাইল আগে হামলা করলে পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্র-এর জড়ানো রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক সুবিধাজনক হবে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। সে ক্ষেত্রে মিত্রদেশের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানে গেলে দেশটির ভেতরে জনসমর্থন আদায় সহজ হবে—এমন হিসাব কষছেন ট্রাম্প শিবিরের কিছু নীতিনির্ধারক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আগে ইসরাইল আঘাত হানলে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।

    পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান ইস্যুতে আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে আশঙ্কা—শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাত এড়ানো নাও যেতে পারে। সম্ভাব্য দৃশ্যপটে তেহরানে যৌথভাবে মার্কিন-ইসরাইল হামলার কথাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

    এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রসঙ্গে বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—ইরাক আক্রমণের পর থেকে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি মোতায়েন রয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন করে সংঘাত ছড়ালে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে।

    প্রতিবেদনে উদ্বেগের জায়গাটিও তুলে ধরা হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অস্ত্র ও মনোযোগ ব্যস্ত হয়ে পড়লে চীন সুযোগ নিয়ে তাইওয়ান ইস্যুতে আগ্রাসী অবস্থান নিতে পারে। পাশাপাশি, ইরানে বড় পরিসরে হামলা হলে তেহরান নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

    একাধিক সূত্র বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হলে তা শুধু ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। ফলে ট্রাম্প শিবিরের ভেতরে “আগে ইসরাইল, পরে যুক্তরাষ্ট্র”—এই কৌশল নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবতায় তা কতটা এগোয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

  • মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    মার্কিন ভিসা স্থগিতের ধাক্কা: পরিবার বিচ্ছিন্নতা থেকে গ্রিন কার্ড ঝুঁকি, কোন সংকটে বাংলাদেশিরা?

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের স্বপ্ন আপাতত থমকে গেছে। সময়সীমা নির্ধারণ না করায় এই অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

    তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক প্রবাসী বাংলাদেশি (নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি) জানান, বৈধভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও নতুন সিদ্ধান্ত মানসিক চাপ তৈরি করেছে। তার মতে, অতীতে কিছু বাংলাদেশির অবৈধ আশ্রয় আবেদন ও সরকারি সুবিধার অপব্যবহার এখন সবার জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী ও নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের পরিবারভিত্তিক স্পন্সরশিপ প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন অসুস্থ বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় যেসব অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—তাদের অভিবাসন ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকবে।

    এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের ওপরও। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশাপাশি স্পন্সরদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও কঠোর যাচাই শুরু হবে।

    তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—যেমন পর্যটন, ব্যবসা ও শিক্ষাভিসা—এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন—দুই ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

  • ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    ফিলিস্তিনসহ ৭ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ:  ফিলিস্তিনের পাসপোর্টধারী নাগরিকসহ আরও সাতটি দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস ও সিরিয়া। এর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক যাচাই, নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এবং তথ্য বিনিময়ে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় ও জননিরাপত্তা সুরক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এর আগেও গত নভেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। ওই তালিকায় আফগানিস্তান, মিয়ানমার, কিউবা, ইরান, হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    পরে ৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও সম্প্রসারণ করে অন্তত ৩২টি দেশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নতুন করে যুক্ত দেশগুলোর নাম তখন প্রকাশ করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং সাতটি দেশের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়, যা এখনো বহাল আছে। পাশাপাশি নতুন করে আরও ১৫টি দেশের ক্ষেত্রে আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যার মধ্যে নাইজেরিয়াও রয়েছে।

    ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর পর এসব সিদ্ধান্ত আরও কঠোর হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • এক বছরে রেকর্ড ৮৫ হাজার মার্কিন ভিসা বাতিল: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বেড়েছে

    এক বছরে রেকর্ড ৮৫ হাজার মার্কিন ভিসা বাতিল: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বেড়েছে

    এবিএনএ: চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নীতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোর হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৮৫ হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ স্টুডেন্ট ভিসা, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

    গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, গত বছরের তুলনায় ভিসা বাতিলের সংখ্যা এবার দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অন্তত আট হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রমুখী তরুণদের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে আরও জানানো হয়, গত এক বছরে যেসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে তার প্রায় অর্ধেকের পেছনে রয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা বা চুরির মতো অপরাধের অভিযোগ। তবে অবশিষ্ট ভিসা বাতিলের কারণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    অতিরিক্তভাবে, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি অথবা ‘সন্ত্রাসে সমর্থন’–সংক্রান্ত অভিযোগও কিছু ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    নতুন এই কঠোর নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন।

  • সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে বড় আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো তাকে একের পর এক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

    গত সপ্তাহে ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফেডারেল রিজার্ভের একজন গভর্নরকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। লিসা কুক নামে ওই গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মনোনয়ন পাওয়ার আগে বন্ধক-সংক্রান্ত কাগজে ভুয়া তথ্য জমা দিয়েছিলেন। তবে কুক অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হলেও এখনও রায় ঘোষণা হয়নি।

    অর্থনীতিতে ট্রাম্পের আরেকটি বড় পদক্ষেপ হলো নতুন শুল্ক আরোপ। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আমদানির ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর বসানোর পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো, ভারত ও চীনের পণ্যের ওপরও বিশেষ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। কিন্তু ফেডারেল আপিল আদালত এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে কর আরোপ করতে পারেন না।

    রবিবার ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি এই রায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবেন। আদালতের রায়কে তিনি ‘র‍্যাডিকাল লেফটের ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন, “শুল্ক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র টিকতে পারবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে।”

    এদিকে বিদেশি সহায়তা আটকে রাখার বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন জটিলতার মুখে পড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার প্রকৃত সীমা কোথায় নির্ধারণ হবে তা স্থির করা।

  • ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ক ‘বিপদসীমার নিচে’, সংঘর্ষ কি অবশ্যম্ভাবী?

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন আর আগের মতো উষ্ণ নেই। বরং রাশিয়ার এক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি মন্তব্য করেছে, দুই নেতা যেন মুখোমুখি আসা দুটি ট্রেন—কেউ থামছে না, কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে না।

    ‘মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস’ তাদের এক বিশ্লেষণে লিখেছে, ট্রাম্প ও পুতিনের কৌশলগত অবস্থান এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংঘর্ষ এড়ানো কঠিন। পুতিন পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন ইউক্রেনে তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এ, অন্যদিকে ট্রাম্প তার নতুন মেয়াদে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং সামরিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

    চুক্তির সূচনা, হতাশার পরিণতি

    ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। জাতিসংঘে ইউক্রেনবিরোধী প্রস্তাবে বিরোধিতা এবং পারস্পরিক সফরের পরিকল্পনাও হচ্ছিল। কিন্তু দ্রুত সেই উষ্ণতা মুছে যেতে থাকে। কারণ, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দেননি পুতিন। বরং রাশিয়া একের পর এক ইউক্রেনীয় শহরে হামলা চালাতে থাকে, যা ট্রাম্পের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দেন, পরে সেটি কমিয়ে ১০ দিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার অবস্থানে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ট্রাম্পের এসব সময়সীমাকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না পুতিন—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কি এখনও আছে?

    রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানে এখনও আশাবাদী ট্রাম্প। এজন্য তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আবারও মস্কো সফরে যাচ্ছেন। গত কয়েক মাসে চারবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। আলোচনায় এমনকি ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি উপহার পেয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে।

    তবে ট্রাম্পের প্রত্যাশা শুধু সম্পর্ক উন্নয়ন নয়, বরং যুদ্ধবিরতির জন্য পুতিনের একটি নিঃশর্ত স্বাক্ষরও। বিষয়টি নিয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক কোনো বার্তা না এলেও কিছু বিশ্লেষক বলছেন, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে পারে।

    পুতিন কি চাপের মুখে?

    রুশ প্রেসিডেন্টের দিক থেকে আপাতত কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নিনা ক্রুশ্চেভার মতে, “পুতিন হয়ত ভাবছেন তিনি রুশ ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠছেন। তিনি রাশিয়াকে পশ্চিমা আধিপত্য থেকে মুক্ত করতে চাচ্ছেন।”

    চূড়ান্ত বাস্তবতা

    সংঘর্ষ এড়াতে যতটুকু চেষ্টাই করা হোক না কেন, ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা বলে দেয়, ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি চাইছেন, কিন্তু পুতিন চাইছেন বিজয়। তাই আপাতত মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য না হলেও তা একেবারে অসম্ভবও নয়। যুদ্ধ থামাতে হলে শুধু কূটনীতি নয়, প্রয়োজন দু’পক্ষের কার্যকর সমঝোতা এবং আন্তরিকতা—যা এখনো দৃশ্যমান নয়।

  • বন্যায় বিপর্যস্ত টেক্সাসে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক সফর, নিখোঁজ শতাধিক

    বন্যায় বিপর্যস্ত টেক্সাসে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক সফর, নিখোঁজ শতাধিক

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্য ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে, এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৬১ জন। এমন দুর্যোগের মধ্যে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে হঠাৎ করেই টেক্সাসে হাজির হলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    শুক্রবার ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে তিনি পৌঁছান সান অ্যান্টোনিওর কাছের একটি বিমানঘাঁটিতে। সেখান থেকে সড়কপথে কেরভিল শহরে যান। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।

    গত এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারি বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এতে বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে শিশুদের সামার ক্যাম্প, যানবাহন এবং অসংখ্য মানুষ। উদ্ধার তৎপরতা এখনো চলছে।

    বন্যার শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। বিরোধীরা অভিযোগ করে, সরকারি তৎপরতা ছিল শ্লথ। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্টের এই সফর অনেকটাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনগণের আস্থা ফেরাতেই উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই এটি ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের আশ্বাস দেন।

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন সহায়তার আশায় তাকিয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। ট্রাম্পের এ সফর ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

  • ত্রাণ নিতে এসে প্রাণ গেল ৭৪৩ ফিলিস্তিনির: মার্কিন-ইসরায়েলি কেন্দ্রে নৃশংসতার অভিযোগ

    ত্রাণ নিতে এসে প্রাণ গেল ৭৪৩ ফিলিস্তিনির: মার্কিন-ইসরায়েলি কেন্দ্রে নৃশংসতার অভিযোগ

    এবিএনএ: গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই আরও এক মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলো ফিলিস্তিনিরা। মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থিত ত্রাণ সংস্থা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ পরিচালিত কেন্দ্রে ত্রাণ নিতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৪৩ জন ফিলিস্তিনি। এই ঘটনার সময় আরও প্রায় ৪ হাজার ৯০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

    গত মে মাসের শেষদিক থেকে জিএইচএফ গাজায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই কেন্দ্রগুলোই হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুকূপ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ত্রাণ নেওয়ার জন্য জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও স্ট্যান গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

    এক ফিলিস্তিনি আহত ব্যক্তি, মজিদ আবু লাবান, যিনি খাবারের সন্ধানে কেন্দ্রটিতে গিয়েছিলেন, বলেন, “আমার সন্তানরা টানা তিন দিন না খেয়ে ছিল। বাধ্য হয়েই আমি খাবার নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যা দেখেছি, তা ভয়াবহ।”

    এই ঘটনার পর জিএইচএফ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই সংস্থাটিকে একটি “সামরিকীকৃত অমানবিক কর্মসূচি” হিসেবে অভিহিত করে এর বহিস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, জিএইচএফ মূলত আন্তর্জাতিক সমাজের উদ্বেগ প্রশমনের একটি ছদ্মবেশ মাত্র, যা আসলে ইসরায়েলের দমননীতি বাস্তবায়নের অংশ।

    এরই মাঝে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারে মধ্যস্থতা আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠালেও, গাজায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র আজ রোববার ভোরেই ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ২৭ জন ফিলিস্তিনি। গাজার তুফা এলাকাখান ইউনিসে ড্রোন হামলায় মৃত্যু ঘটে অনেকের।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি জিএইচএফকে ৩ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা নিয়েও উঠেছে নতুন বিতর্ক।

    আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ, গাজা থেকে বলেন, “এই মানুষগুলো কেবল একমুঠো খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল। তাদের কেউই জানত না, ত্রাণের আশায় গিয়ে তারা আর ফিরে আসবে না।”

    স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃষ্টিপাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো সম্পর্ক নেই এই মৃত্যুর সঙ্গে—এটি মানবসৃষ্ট সহিংসতার নির্মম এক চিত্র

    গাজায় যুদ্ধ চলছে ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই মানবিক বিপর্যয়ের শেষ কোথায়?

  • ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন ইলন মাস্ক, ফিরছেন কর্পোরেট জগতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে

    ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন ইলন মাস্ক, ফিরছেন কর্পোরেট জগতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে

    এবিএনএ :

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গঠিত প্রশাসনের অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক এখন সেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    বিশ্বখ্যাত টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের পুনর্গঠিত প্রশাসনে ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগে’ বিশেষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত হন। প্রশাসনের সংস্কার ও বাজেট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতেই গঠিত হয় এই বিভাগ। তবে এটি সরকারের মূল কাঠামোর অংশ ছিল না।

    এই দায়িত্বে তার ম্যান্ডেট ছিল ১৩০ দিনের, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ মে। তবে কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান, তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

    তার এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের বাজেট ও কর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মাস্ক। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। তারা চান মাস্ক যেন ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে টেসলা ও স্পেসএক্সে আরও সরাসরি মনোযোগ দেন।

    রয়টার্সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, মাস্ক ও ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ডিওজিই’ (সরকারি দক্ষতা বিভাগ) ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বেসামরিক কর্মী বাহিনীর ১২ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে সক্ষম হয়েছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে ইলন মাস্কের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে তার ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট অগ্রাধিকার পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি ব্যয় হ্রাস ও পুনর্গঠনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

    ইলন মাস্কের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তার ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বিলে ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক: ‘বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে’

    ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বিলে ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক: ‘বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে’

    এবিএনএ :

    মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক বিল নিয়ে প্রকাশ্য অসন্তোষ জানালেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত এই বিলটি স্বল্প ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে, যা এখন সিনেটের অপেক্ষায় রয়েছে।

    বিলটিতে বিপুল পরিমাণ কর ছাড় এবং প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই বিল বাজেট ঘাটতি কমানোর পরিবর্তে তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আমি খুব হতাশ।”

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ৬০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মাস্কের ভাষায়, “একটি বিল বড় এবং সুন্দর হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে দুটো নয়।”

    ইলন মাস্ক পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডিওজিই (ডোজ)-এর প্রধান ছিলেন। এই সংস্থার লক্ষ্য ছিল সরকারি ব্যয় কমানো ও প্রশাসনিক খরচে সাশ্রয় আনা। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন বিল সেই উদ্যোগকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন মাস্ক।

    তিনি জানান, তিনি ইতোমধ্যেই ডিওজিই থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার নেতৃত্বে এ প্রকল্প প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করলেও, কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

    মাস্ক বলেন, “আমি যা করেছি, সেটি প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সরকারের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ধরে রাখতে হলে এখনকার বিল সম্পূর্ণ বিপরীত দিকেই যাচ্ছে।”

    এছাড়া মাস্ক ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অনুদান কমিয়ে দেওয়ার এবং অন্তত আরও পাঁচ বছর টেসলার নেতৃত্বে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

    ডিওজিই-তে কাজ করার সময় মাস্ক সমালোচনার মুখে পড়েন—বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাসের সিদ্ধান্তের কারণে। এ সময় টেসলার বিক্রিতে ধস নামে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়।

    তবুও মাস্কের দাবি, “এই সংস্কারগুলি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এখন যে বিলটি পাস হয়েছে, তা সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত।”