খরা কাটাতে তেলের বিনিময়ে পানি কিনছে ইরাক, দজলা–ফোরাত সংকটে নতুন চুক্তি

এবিএনএ: দজলা ও ফোরাত—এই দুই ঐতিহাসিক নদীর দেশ ইরাক বর্তমানে নজিরবিহীন পানি সংকটে পড়েছে। উজানে বাঁধ নির্মাণ, কম বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তুরস্কের সঙ্গে ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ সহযোগিতা চুক্তিতে গেছে ইরাক।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৩ সালের পর এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ শুষ্ক সময় পার করছে দেশটি। দজলা ও ফোরাত নদীর পানির স্তর আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক ও সিরিয়ার উজানে নির্মিত বাঁধ, যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতা সংকটকে আরও গভীর করেছে।

ইরাকের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষি খাত ব্যাপকভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল। অথচ দেশের মোট পানির ৮০ শতাংশের বেশি কৃষিতে ব্যবহৃত হলেও সরবরাহ ক্রমেই কমছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় স্বস্তি মিললেও বড় বাঁধগুলোর পানির ঘাটতি পূরণ হয়নি।

গত নভেম্বরে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরাকে পানি শোধন ও সংরক্ষণের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করবে। এর বিপরীতে ইরাক প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সেই অর্থে প্রকল্পের ব্যয় পরিশোধ করবে। সরকার এটিকে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেখলেও নীতিনির্ধারক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পানি মৌলিক মানবাধিকার—একে তেলের মতো বাণিজ্যিক পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে পানি সংকট ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, খরা ও পরিবেশগত দুর্যোগে দেড় লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানির অভাবে বহু কৃষক পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ দোকানে কাজ করছেন, কেউ ট্যাক্সি চালাচ্ছেন। তবু অনেকের আশা, এই চুক্তি হয়তো আবার মাঠে পানি ফেরাবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *